বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ

প্রতিবেশী দেশ এবং বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ যেমন হওয়ার কথা নানা কারণেই তা হয়নি। যা কিছু বিনিয়োগ সেটাও পোশাকশিল্প কিংবা কৃষিনির্ভর শিল্পে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতিও দিন দিন বাড়ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর দিয়ে বিনিয়োগের সেই স্থবিরতা কেটে যাবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ভারতীয় বিনিয়োগের জন্য মোংলা ও ভেড়ামারায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখানোর কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের সুযোগ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক হাজার ৫৪ একর জমি চেয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতায় দেশের আটটি ইপিজেডে এই মুহূর্তে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ১১১.৫৫ মিলিয়ন ডলার বা ৮৯২ কোটি টাকা। বিনিয়োগের দিক থেকে ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে ভারতের অবস্থান নবম। বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এমনকি মালয়েশিয়াও এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে ইপিজেডে। ২২টি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। এসব কারখানায় ২১ হাজার ৫৫১ জন বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও আদমজী ইপিজেডে ২৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আরো দুটি কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে। তবে চট্টগ্রাম ও ঢাকা ইপিজেডে কয়েকটি পোশাক কারখানা বাদে ভারতের বেশির ভাগ কারখানা খুলনার মোংলা ইপিজেডে। এই ইপিজেডে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠিত সাতটি কারখানার প্রায় সবই কৃষিনির্ভর ছোট বিনিয়োগের। এই কারখানাগুলোতে মূলত সুপারি, নারিকেল, ধানের তুষ থেকে তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কারণে পদ্মা সেতু এবং মোংলা ও পায়রা বন্দর পুরোপুরি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ইপিজেডগুলোতে ভারতীয় বিনিয়োগ আরো বাড়বে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৮৯ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সমপরিমাণ। একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৫২ মিলিয়ন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭৯১ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণের একটি বড় সুযোগ হয়ে আসছে বর্তমান সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। বেজা ইতিমধ্যে দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ৭৬টি জায়গা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে মোংলা ও ভেড়ামারায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি বিশেষ জায়গা নির্বাচন করেছে ভারত। মোংলা এবং ভেড়ামারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে ভারতীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের সন্নিকটে হওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল।‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। যেসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হচ্ছে তাতে নিশ্চয়ই দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উৎসাহ পাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ

  1. প্রধানমন্ত্রীর সফল উদ্যোগে
    প্রধানমন্ত্রীর সফল উদ্যোগে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে ও বাণ্যিজিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 − 34 =