“সুষুপ্ত পাঠক”দের নাস্তিকতা – যেখানে যুক্তি আছে – বিজ্ঞান আছে, নেই সত্যনিষ্ঠা, নেই ইতিহাসনিষ্ঠা ! – পর্ব ১

ধর্মের বিরুদ্ধে, ধর্মের অন্ধকারাচ্ছন্নতা – বর্বরতা নিয়ে যে কয়েকজন ব্লগার সাম্প্রতিক সময়ে নিরলস ভাবে লিখে যাচ্ছেন, সুষুপ্ত পাঠক তাঁদের একজন। সেইজন্যে তিনি আমাদের ধন্যবাদ পাবার দাবী রাখেন। জরুরী কাজটি তিনি করছেন ক্লান্তিহীন ভাবেই। সুষুপ্ত পাঠক ধর্মের বিভিন্ন প্রামান্য গ্রন্থ থেকে যথাযথ রেফারেন্স সহ তুলে ধরছেন ধর্মের ভয়াবহ প্রভাব আর ধর্মের অযৌক্তিকতাকে। কোনও সন্দেহ নেই, এই সময়ে, তিনি বাংলা ভাষাভাষি অঞ্চলে আমাদের নাস্তিকতাবাদী আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট প্রদায়ক।

আমাদের কালে, বাংলাদেশের নাস্তিকতাবাদী আন্দোলনের প্রধান প্রেরণা হচ্ছে পশ্চিমের নিউ এথিস্টরা বা নিউ এথিজম ধারা (প্রখ্যাত লেখক অভিজিৎ রায় তার অবিশ্বাসের দর্শন পুস্তকে নিউ এথিজমের বাংলা হিসাবে লিখেছিলেন “নব্য নাস্তিকতা”) । যে সকল পাঠক আন্তর্জাতিক নাস্তিকতাবাদী আন্দোলনের খোঁজ খবর রাখেন, তাঁরা জানেন নিউ এথিজম এখন এক ধরনের “ব্র্যান্ড’, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিউ এথিজমেরই তো জয় জয়কার। আমি ভুলও হতে পারি তবে সুষুপ্ত পাঠকের অনেক গুলো লেখা পড়ে আমার মনে হয়েছে, জনাব শুষুপ্ত পাঠক নাস্তিকতার এই নতুন পশ্চিমা ধারা “নিউ এথিজম” এর একজন বাঙ্গালী প্রতিনিধি। এই ধারার দুটি প্রধান বৈশিষ্ঠ্য, এরা দুটি বিষয়কে দুনিয়ার সবচাইতে বড় সমস্যা বলে মনে করেন, এগুলো হলো –

১) ইসলাম এবং ইসলামই বর্তমান দুনিয়ার যাবতীয় দুর্দশার জন্যে দায়ী। এরা খ্রিস্টিয়ানিটি কিম্বা হিন্দুত্ব নিয়েও মাঝে মাঝে লেখেন বটে, কিন্তু এঁদের লেখার মূলধারাটি হচ্ছে ইসলাম বিষয়ক, দুনিয়ার সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে ধর্ম হিসাবে ইসলামের ঐতিহাসিক ভুমিকা নিয়ে।

২) আর এঁদের চোখে দ্বিতীয় সমস্যাটি হচ্ছে বামপন্থা বা কমিউনিজম। বামপন্থীরা বা কমিউনিস্টদের এরা মনে করেন বিরোধী শিবিরের মানুষ। এরা মনে করেন, বামপন্থীরা নানান ধরনের “হাবিজাবি” যুক্তি সামনে এনে আসলে ইসলামী জঙ্গিবাদেরই পরোক্ষ সমর্থক হিসাবে কাজ করেন।

(নিউ এথিস্টদের এই দৃষ্টিভঙ্গি আরো বিস্তারিত জানার জন্যে, আগ্রহী পাঠকেরা ইউটিউবে স্যাম হ্যারিস কিম্বা ডেভ রুবিন এর ভিডিও, পোডকাস্ট গুলো শুনে দেখতে পারেন।)

আমার বোঝাপড়ায়, সুষুপ্ত পাঠক নব্য নাস্তিকতাবাদ বা নিউ এথিজমের একজন সার্থক প্রতিনিধি তিনি তার অসংখ্য লেখায় অনেক যুক্তি, রেফারেন্স সহ লিখেছেন, ইসলামের বর্বরতার দিক গুলো, ধর্মের অযৌক্তিকতা, নিষ্ঠুরতার কথা নিয়ে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইস্টীশন ব্লগে একটি ব্লগপোস্ট করেছেন, ইসলামী জঙ্গীবাদ এবং বামপন্থিদের ভুমিকা নিয়ে। আগ্রহী পাঠকেরা সুষুপ্ত’র লেখাটি পড়ে নিতে পারেন এখানে

সুষুপ্ত’র লেখাটি প্রথমত তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, কিন্তু তাঁর এই লেখাটি এক অর্থে আমাদের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের “নব্য নাস্তিকতাবাদী” বয়ান। এবার আসুন সুষুপ্ত পাঠকের লেখাটিকে ব্যবচ্ছেদ করা যাক। কোনও রকমের ভুমিকা – ব্যাখ্যা – বিশ্লেষণ ছাড়াই, সুষুপ্ত লিখছেন এভাবেঃ

“বাংলাদেশের বামপন্থিরাই কেবল নয়, নিকট অতিতের সব আন্তর্জাতিক বামপন্থি বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতা ইসলামী টেরোরিস্টদের প্রতি পরোক্ষ সহানুভূতি দেখিয়ে হাবিজাবি কারণ সামনে এনে তাদের আইডিওলজিকে আড়াল করতে আগ্রহী হতে দেখা গেছে”।

কোনও প্রমান আছে আপনার কাছে জনাব সুষুপ্ত পাঠক? যদি থেকে থাকে, তাহলে সেই প্রমান হাজির করলেন না কেনও এই লেখায়? নিদেন পক্ষে দুচারজনের লেখা থেকে কোটেশন? কোনও বামপন্থি আজ পর্যন্ত লিখেছেন তাঁরা ইসলামী জঙ্গীবাদ কে সমর্থন করেন? সুষুপ্ত পাঠক তার লেখায় খুব যত্ন করে কুরআন হাদিসের রেফারেন্স দেন, ইবনে কাথির থেকে দেয়া তার অসংখ্য রেফারেন্স আমরা দেখেছি, এই লেখাতেও আছে। রেফারেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ মানুষ সুষুপ্ত পাঠকের এই লেখটিতে তার প্রধান অভিযোগ বামপন্থিদের বিরুদ্ধে, অথচ তারই কোনও রেফারেন্স নেই, কোনও কোটেশন নেই, কোনও অডীও বা ভিডিও লিংক নেই। কেন? কোনও রকমের রেফারেন্স, প্রমান ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা কি সত্যনিষ্ঠার লক্ষন?

আমি জানি সুষুপ্ত পাঠক নিবেদিত প্রাণ লেখক, তিনি নিশ্চয়ই আমার লেখার বিপরীতে তার মতামত প্রকাশ করবেন, অন্তত আশা করছি। তাই তার প্রতি আমার তিনখানা প্রশ্নঃ

১। বাংলাদেশের কোন কোন “বামপন্থী” কিম্বা বামপন্থী দল ইস্লামিস্টদের প্রতি “পরোক্ষ” সহানুভূতি দেখিয়েছেন? (আপনি নিশ্চয় পিনাকী মার্কা বামপন্থিদের কথা লিখবেননা আশা করছি, কিংবা আমাদের বন্ধু ব্লগার পারভেজ আলমকে বলির পাঁঠা করবেন না)। যদি করেনও, তাহলে তাঁদের লেখা থেকে সরাসরি কোট – আনকোট করে ব্যাখ্যা করবেন প্লিজ। এবং দয়া করে কি একটু বলবেন, ব্যক্তি পর্যায়ের বাইরে, রাজনৈতিক ভাবে, কোন কোন বামপন্থী দল ইসলামী জঙ্গীদেরকে সমর্থন করেছেন?

(অবশ্য আপনি যদি “বুশ ডকট্রিন” দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করা মানেই হচ্ছে সাদ্দাম হোসাইন কে সমর্থন করা, কিম্বা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতা করাই হচ্ছে ইসলামী জঙ্গীদের “পরোক্ষ” ভাবে সমর্থন করা, তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু সেটা বললেও, প্লিজ একটু ঝেড়ে কাশবেন, তাতে অন্তত আপনার পাঠকদের আপনাকে বুঝতে আরো সুবিধা হবে।)

২। কোন কোন আন্তর্জাতিক বামপন্থী ইসলামী জঙ্গীদের “পরোক্ষ” ভাবে সহানুভুতি জানিয়েছেন? আপনি দাবী করেছেন, “সব আন্তর্জাতিক বুদ্ধিজীবি” এই কাজটি করেছেন, আপনি কি এই রকমের দশজনের নাম বলতে পারবেন? আমি জানি, আপনি হয়তো নোয়াম চমস্কির নাম বলবেন, তাহলে বাকী নয়জনের নাম জানাবেন কি? সম্ভব হলে তাঁদের সংশ্লিষ্ট লেখা থেকে কোটেশন ও রেফারেন্স সহ?

৩। আপনি লিখেছেন – “হাবিজাবি কারণ” এর কথা। সেই হাবিজাবি কারণ গুলো কি কি একটু দয়া করে বলবেন? আর কেনইবা সেই সকল কারণ হাবিজাবি সেটা কি ব্যাখ্যা করবেন?

বামপন্থিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তিটি হচ্ছে – বামপন্থিরা আমেরিকার বিদেশ নীতির ঘোর বিরোধী। আর আমাদের নাস্তিক বন্ধুদের “ভাশুর” হচ্ছেন আমেরিকা। ধর্ম মতে ভাশুরের নাম নেয়াটা অনুচিত। আমাদের নব্য নাস্তিক বন্ধুরা ধর্ম না মানলেও, ধর্মের সংস্কৃতিটা দারুন ভাবে মেনে চলেন। তাই “ভাশুর” আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়ে কথা বলাটা তাঁদের কাছে “হাবিজাবি” মনে হয়। সারা দুনিয়াব্যাপী ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থানের পেছনের কারণ বিষয়ে তাই নব্য নাস্তিকরা আলোচনা করতে চান না। তারা মনে এই সকল আলোচনাকে বলেন “হাবিজাবি”।

অথচ এই নাস্তিকেরাই নিজেদেরকে দাবী করে “র‍্যাশনাল” মানুষ হিসাবে। “র‍্যাশনাল” মানুষেরা কি পৃথিবীকে কার্যকারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন নাকি উপরওয়ালার বয়ান দিয়ে ব্যাখ্যা করেন? র‍্যাশনাল মানুষ কি মধ্যপ্রাচ্যের অব্যাহত সন্ত্রাসবাদকে তার লক্ষন থেকেই ব্যাখ্যা করবেন? নাকি তার মূল কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন? সুষুপ্ত পাঠক নিশ্চয়ই নিজেকে র‍্যাশনাল মানুষ বলে দাবী করবেন, আফটার অল তিনি নাস্তিক এবং মুক্তচিন্তক। দেখুন সুষুপ্ত’র র‍্যাশনালিজমঃ

“কারণটা সবাই জানে এখন। ইসলামী টেরোরিস্ট বা জিহাদীদের একটা অংশ আমেরিকা-ইউরোপীয়ানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে। বামদেরও কমন শত্রু আমেরিকা ও তার মিত্ররা। এই সূত্রে ইসলামের লাগানো আগুনে বামরা আলু পোড়া দিয়ে খেতে চাইছে”।

প্রথমে সুষুপ্ত বর্ণিত “জিহাদ” প্রসঙ্গে লিখি। পরে না হয় বামপন্থিদের “আলুপোড়া” খাওয়া নিয়ে লিখবো।

“জিহাদ” এর নানান সংজ্ঞা আছে, মডারেট মুসলমানেরা জিহাদ বলতে যা বলতে চায়, আইসিস এর জিহাদ তার থেকে অনেক আলাদা। আমরা ইতিহাস থেকে জানি, প্রচলিত সাদামাটা অর্থে, জিহাদ মানে হচ্ছে কাফের – বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ইসলামের সম্প্রসারনবাদী যুদ্ধ। মুহাম্মদের হাত ধরে যে জিহাদের শুরু হয়েছিলো, অন্তত নবম শতক পর্যন্ত চালু ছিলো সেই সকল রক্তক্ষয়ী জিহাদ। আর সুষুপ্ত পাঠক লিখছেন একবিংশ শতকের “জিহাদ” নিয়ে। তাই আমার সংশয়বাদী মনে প্রশ্ন জাগছে – সুষুপ্ত আপনি কি দয়া করে বলবেন ইসলামী টেরোরিস্ট বা জিহাদীরা আসলে কোথায় এবং কিভাবে আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে “জিহাদ” করছে? কোথায় বলতে আমি জিজ্ঞাসা করছি ভৌগলিক ভাবে পৃথিবীর কোথায় ইসলামী জিহাদীরা আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে? বলবেন? বিগত দুই-তিনশো বছরে কবে কোথায় ইসলামের নামে দেশ দখল করেছে মুসলমান দেশগুলো? গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে অনেক দেশ দখল করতে দেখেছি আমরা, সেগুলো কারা করেছে তা আপনিও জানেন, আমরাও জানি, কিন্তু ইসলামী জিহাদ দিয়ে কয়টি দেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলবেন? হয়তো আপনি মাদ্রিদ, লন্ডন, প্যারিস, বার্লিনে আর সাম্প্রতিক সময়ে স্টকহোম এ হামলার কথা উল্লেখ করবেন। কিন্তু এই সকল হামলা কি জিহাদ? এই হামলাগুলোর পেছনে কি ইসলামী সম্প্রসারনবাদ জড়িত? এই হামলাগুলো কেবলই কিছু মুসলমান নামের জঙ্গীর কাজ? নাকি এর সাথে চলমান বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কিত? আর এই সকল হামলা যদি জিহাদ হয়, তাহলে সারা দুনিয়া জুড়ে পশ্চিমা দেশগুলো যে যুদ্ধের দামামা চালু রেখেছে, তাদের কে আপনি কি বলবেন? ইসলামী “জিহাদ” এর তুলনায় পশ্চিমা বড়ভাইদের চালু করা – জারি রাখা যুদ্ধগুলোর আকৃতি – ধ্বংসযজ্ঞের কোনও তুলনামুলক ইতিহাস আপনার জানা আছে?

আপনি নিশ্চয়ই জানেন দুনিয়ার কতটি দেশে আমেরিকা আর তাঁর মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ঘাটী আছে? আপনি কি আসলেই জানেন? আমার ধারণা আপনি জানেন, তবুও একটু মনে করিয়ে দেই, পৃথিবীর ৬৩ টি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাটি আছে। আপনি কি সামরিক ঘাটির মানে বোঝেন? তাহলে আরেকটু খোলাসা করে বলি – পৃথিবীতে নানান ভাবে মোট ১৫৬ টি দেশে আমেরিকার সৈনিক বসানো আছে। পৃথিবীতে দেশ কয়টি আছে জানেন? মোট ১৯৫ টি দেশ। এই ১৯৫ টি দেশের মধ্যে ১৫৬ টি দেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সেই সরকারগুলোকে বাধ্য করা হয়েছে। সারা দুনিয়া জুড়ে আমেরিকার মোট ৭৭৩টি সামরিক স্থাপনা বা মিলিটারী বেইস আছে। বলুন তো, নিজের দেশের বাইরে সারা দুনিয়াতে এই বিপুল পরিমানে সামরিক ঘাটি আর সামরিক স্থাপনা আমেরিকার কি কাজে লাগে? এতো গেলো শুধু আমেরিকা। এর সাথে যদি ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড আর রাশিয়াকে জুড়ে দেয়া যায়, তাহলে পৃথিবীর এমন কোনও দেশ পাওয়া যাবেনা যেখানে এই ছয়টি পশ্চিমা দেশের কোনও না কোনও সামরিক ঘাঁটি আছে। মাত্র ছয়টি দেশ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের সরকারকে বাধ্য করেছে তাঁদের বশ্যতা স্বীকার করবার জন্যে। শুধুমাত্র ইরান সহ চার – পাচটি দেশ মার্কিন আর তাঁর মিত্রদের বিরুদ্ধে এখনও লড়ে যাচ্ছে রাজনীতির ময়দানে। আর একেই সুষুপ্ত পাঠকেরা বলছেন ইসলামী জিহাদ। আমেরিকার আর ইউরোপের শহরগুলোতে ইসলামী সন্ত্রাসবাদীদের বোমাবাজিকে যদি আপনি পশ্চিমের বিরুদ্ধে ইসলামিষ্টদের “জিহাদ” বলেন, তাহলে সারা দুনিয়ার প্রায় সকল সার্বভৌম জাতি ও দেশকে যারা নিজের সামরিক ঘাটিতে পরিনত করেছেন, তাদেরকে কি বলবেন? সুষুপ্ত পাঠক কিম্বা তাঁর মতো বন্ধুদের কাছে এই সকল আলোচনা হচ্ছে “হাবিজাবি”, কেননা এই সকল আলোচনা তাঁর এবং হয়তো আমাদের সকলের “ভাশুর” কে বিব্রত করে, ইসলামী জঙ্গীবাদের দায় তখন আর কেবল ইসলাম ও মুহাম্মদের উপরে চাপানো যায়না । (মার্কিন সামরিক বিস্তার সম্পর্কে আগ্রহীরারা এখানে দেখে নিতে পারেন এখানে)


(এটা হচ্ছে পৃথিবীর মানচিত্রে আমেরিকার সামরিক মহড়ার বাস্তব চিত্র, এই ছবিটি হাল নাগাদ করা হলে অন্তত ১১ টি নতুন দেশ এটাতে যুক্ত হবে। এটাকে অবশ্য খ্রিষ্টান জিহাদ বলা যাবেনা। এটা কে কোন ধরনের “জিহাদ” বলা যাবে?)

পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা মেশিনের তোতাপাখি না হয়ে, নিজের বুদ্ধি বিবেচনাবোধ খাটানোটা জরুরী। সন্দেহাতীত ভাবে, ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠী ছড়িয়ে পড়েছে সারা ইউরোপে, তারা এখানকার জনজীবনকে আতংকগ্রস্থ করে তুলছে। ইউরোপের জনগন এবং সরকারকে আতংকের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু একজন র‍্যাশনাল মানুষ কখনও শুধু রোগের লক্ষণটাই দেখেনা, তিনি রোগের কারণটি দেখেন। যেকোনো সমস্যাকে বোঝার মূল পদ্ধতি হচ্ছে সমস্যাটির কার্যকারণ বোঝার চেষ্টা করা, সমস্যা বা কোনও রোগের চিকিৎসার মূল পদ্ধতি হচ্ছে রোগের কারণটি দূর করা, শুধুমাত্র লক্ষন দূর করা নয়। এখানেই আমাদের সুষুপ্ত পাঠকের মতো নাস্তিক মুক্তমনাদের সমস্যার জায়গাটি। এরা রোগের কারণগুলোকে মনে করে “হাবিজাবি” কথা, আর লক্ষন গুলো নিয়ে দিনরাত হাহাকার করে চলেন। আপনি আমার বাড়ীর পাশে সামরিক ঘাঁটি বানাবেন এবং আমার কোনও প্রতিক্রিয়া হবেনা, এটা র‍্যাশনাল প্রত্যাশা নয়, বরং বাস্তবতা হচ্ছে, আমার বাড়ীর পাশে সামরিক ঘাঁটি বানালে আমি আতংকিত বোধ করি, যদি আমার ক্ষমতা থাকে তাহলে আমি তার প্রতিবাদ করি, যদি আমি অক্ষম হই প্রতিবাদে, সেই অক্ষমতা থেকে তৈরী হয় চাপা ঘৃণা, যা প্রতিদিন গুনোত্তর ধারায় বেড়ে চলে। সারা মধ্যপ্রাচ্যের জনগোষ্ঠীতে যে ঘৃণার জন্ম হয়েছে, তা কতটা ধর্মতাড়িত আর কতটা উপনিবেশিক বঞ্চনায় ফলাফল, সেই বিষয়টির সিরিয়াস অনুসন্ধান জরুরী। এই অনুসন্ধান ইসলামী মোল্লা বা মডারেটদের দিয়ে হয়নি, হচ্ছে না, আর দুঃখজনক হচ্ছে, এই অনুসন্ধানের কাজটি “মুক্তচিন্তক” বলে দাবীদার নাস্তিকদের দিয়েও হচ্ছেনা।

সারা দুনিয়া জুড়ে চলমান জঙ্গী সন্ত্রাসবাদের “র‍্যাশনাল ইনকোয়ারী” বা বাস্তবমুখী – যৌক্তিক অনুসন্ধান দরকার। এই অনুসন্ধানে, সৎ বিবেচনাবোধ খুব জরুরী, সত্যনিষ্ঠা খুব জরুরী, ইতিহাসনিষ্ঠা খুব জরূরী আর সবচাইতে জরুরী যেটা দরকার তা হলো খোলা মন। ইসলামী জঙ্গীবাদের পেছনে কুরআনের আক্রমণাত্মক বানীগুলোর প্রতি মুমিনদের যে একনিষ্ঠতা সেটা যেমন বলা দরকার ঠিক তেমনি, বিগত পঞ্চাশ বছরে মার্কিন আর তাঁর মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে যে সন্ত্রাসবাদের বীজ বপন করেছে, সার – পানি নিয়ে তার ফলন নিশ্চিত করেছে, সেটাও বলা দরকার। কুরআন আর মুহাম্মদের বানীগুলো যেমন মুমিন মুসলমানদের কাফের হত্যার প্ররোচনা দেয়, তেমনি চোখের সামনে নিজের শহর কিংবা দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিনত হতে দেখলেও মানুষ “শত্রু” নিধনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। দুটি কারণই জরুরী, কোনটাই “হাবিজাবি” কারণ নয়।

আধুনিক বিজ্ঞানের দর্শন রচিত হয়েছে স্যার কার্ল পপার এর হাত ধরে। দেখুন জনাব কার্ল পপার “র‍্যাশনালিটি” বা যুক্তি সহবাদ সম্পর্কে কি বলছেন।

“র‍্যাশনালিজম হচ্ছে সেই দৃষ্টিভঙ্গি যা ভিন্নমতগুলোকে শোনে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং মেনে নিতে তৈরী থাকে যে – আমি হয়তো ভুল হতে পারি, আপনি হয়তো সঠিক হতে পারেন, আর এভাবেই আমাদের প্রচেস্টা দিয়েই আমরা হয়তো সত্যের কাছাকাছি যেতে পারি।”

সত্য কঠিন, কঠিনকেই তো ভালোবেসেছি আমরা তাই না?

(চলবে)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on ““সুষুপ্ত পাঠক”দের নাস্তিকতা – যেখানে যুক্তি আছে – বিজ্ঞান আছে, নেই সত্যনিষ্ঠা, নেই ইতিহাসনিষ্ঠা ! – পর্ব ১

  1. এটা প্রায় বলা মুশকিল কোন কোন
    এটা প্রায় বলা মুশকিল কোন কোন বাম জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে প্রকাশ্যে দাবী করেছেন কিংবা জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। যেমন আমরা কোন ‘মডারেট মুসলমানকে’ দেখাতে পারবো না তারা জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেছেন সরাসরি কিছু বলে। এরকম দাবী করলেই তাই আমাদের হাসিহাসির পাত্র ‘মডারেট মুসলমানরা’ জোর গলায় কৈফিয়ত দাবী করতে পারেন, জঙ্গিদের আমরা সমর্থন করছি এটা কোথায় বলেছি সেটা দেখান…। ‘চাপাতী দিয়ে কোপানোও ঠিক হয় নাই- ব্লগারদের লেখালেখিও ঠিক হয় নাই’- এরকম মতামতে আসলে আপনি আমি কেউ দেখাতে পারবো না, অন্তত এইখানে পরিস্কার কোথাও বলা নেই জঙ্গিদের কাজটাকে ঠিক বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা সকলেই বুঝতে পারি আসলে এখানে চাপাতী বাহিনীকে ডিফেন্স করা হচ্ছে। আমি অন্তত আনু স্যার, আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারদের কোন একটা বক্তব্য, কোন একটা লাইন কোট করে দেখাতে পারবো না যেখানে উনারা লিখেছেন জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেন কিংবা তাদের প্রতি সহানুভূতি আছে। এমনকি সারোয়ার ভাই পোস্টে লিখেছেন “আমি জানি, আপনি হয়তো নোয়াম চমস্কির নাম বলবেন”– কি করে এই পাপ মুখে এতবড় নাম নেই বলুন তো? আমার সীমিত পড়াশোনায় জানা নেই চমস্কি ইসলামী জিহাদীদের সমর্থন জানিয়ে কিছু লিখেছিলেন কিনা! সারোয়ার ভাই জানলে সেটা শেয়ার করতে পারেন।

    সারওয়ার ভাই তো ব্লগের “বামাতী” কিংবা “ভামপন্থি” বলতে একটা প্রজাতীর কথা জানেন। আমরা এইরকম ট্রল অনেককে নিয়ে করেছি। বেশি করেছি এক শ্রেণীর বামপন্থিদের ইসলামী জিহাদীদের আইডিওলজিকে বিলকুল এড়িয়ে গিয়ে তার মধ্যে তেল-গ্যাস আর সাম্রাজ্যবাদকে একমাত্র ও প্রধান কারণ হিসেবে চিহৃত করার প্রয়াস থেকে। সারওয়ার ভাই দাবী অনুযায়ী উনি যদি অনেকদিন থেকে আমার লেখা পড়ে থাকেন উনার অজানা নয় আমি মূলত ধর্মীয় রচনার লেখক। এবং ইসলামী জিহাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লিখছি। স্টিফিন কিং ভূতের গল্প লিখেন। তাকে জীবনেও শুনতে হয়নি ‘ভূত ছাড়া কিংবা জগতের হাজার হাজার সমস্যা থাকতে ভূতের গল্প কেন লিখেন’? কিন্তু আমাকে কিংবা আমার মত ‘নব্য নাস্তিক্যবাদীদের’ এটা শুনতে হয়। পৃথিবীর কোথাও জিহাদের বোমা ফুটলে সেই বোমার নেপথ্য কারণ কি তার বিশ্লেষণ শুরু হয়ে যায়। কারণগুলো এরকম: (ক) অমুক ইরাক যুদ্ধে সৈন্য পাঠিয়েছিল এটা তাই তমুকদের প্রতিশোধ, (খ) এটা তমুকদেশের ভেতর যে চাপা বর্ণবাদী আচরণ বিদ্যমাণ সেই ক্ষোভ থেকে শরণার্থীদের একটি বর্হিপ্রকাশ, (গ) যে এ্ই ঘটনা ঘটিয়েছে সে সহি মুসলমান না, (ঘ) সে মানসিক সমস্যায় ভুগছিল, (ঙ) সাংস্কৃতিক নিঃসঙ্গতা থেকে কখনো কখনো মানুষ তার চারপাশের ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে নিজের অস্বস্তির বিপন্ন জন্য দায়ী মনে করে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে পড়ে…ইত্যাদি। মডারেট, ধার্মীক, বাম, সুশীল, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী সকলেই যার যার অবস্থান থেকে অপরাধীর অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠার কারণ নির্ণয় করে থাকেন। আমার মত অধম ধর্মীয় রচনা লেখা ব্লগারের কাজ হচ্ছে যে যুবকটি ‘আল্লাহো আকবর’ বলে ইসলামের জিহাদের দিক নির্দেশা মেনে এবং তার হামলাকে যখন বিশেষ জিহাদী পার্টি দায় স্বীকার করে তার পেছনে যে ধর্মীয় আইডোলজি বিদ্যমান সেটিকে দেখানো। এখন এই দেখাতে গিয়ে, লাগাতার দেখাতে গিয়ে সারওয়ার ভাইদের মত বিপ্লবীদের মনে হয়েছে জগতের সব কিছুর জন্য আমরা ইসলামকে দায়ী করি…। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাচ্ছেন সারওয়ার ভাই! বাথরুম কষা হলেও যারা সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র বলে দাবী করে তাদের সেই দায় তিনি নরকের কীট নাস্তেকদের উপর চাপাচ্ছেন…।

    যাক এবার সরওয়ার ভাইয়ের লেখার কিছু জবাব দেয়ার চেষ্টা করি। সারওয়ার ভাই তিনটি প্রশ্ন করেছেন আমার কাছে। তিনটি প্রশ্নই প্রায় একই রকম। তিনটির উত্তর আমি একসাথেই দিবো। উনার প্রথম প্রশ্নটি ছিল এরকম:

    “আমি জানি সুষুপ্ত পাঠক নিবেদিত প্রাণ লেখক, তিনি নিশ্চয়ই আমার লেখার বিপরীতে তার মতামত প্রকাশ করবেন, অন্তত আশা করছি। তাই তার প্রতি আমার তিনখানা প্রশ্নঃ
    ১। বাংলাদেশের কোন কোন “বামপন্থী” কিম্বা বামপন্থী দল ইস্লামিস্টদের প্রতি “পরোক্ষ” সহানুভূতি দেখিয়েছেন? (আপনি নিশ্চয় পিনাকী মার্কা বামপন্থিদের কথা লিখবেনা আশা করছি, কিংবা আমাদের বন্ধু ব্লগার পারভেজ আলমকে বলির পাঁঠা করবেন না)। যদি করেনও, তাহলে তাঁদের লেখা থেকে সরাসরি কোট – আনকোট করে ব্যাখ্যা করবেন প্লিজ। এবং দয়া করে কি একটু বলবেন, ব্যক্তি পর্যায়ের বাইরে, রাজনৈতিক ভাবে, কোন কোন বামপন্থী দল ইসলামী জঙ্গীদেরকে সমর্থন করেছেন?”

    -এই বিষয়ে উপরে অনেকটাই বলে ফেলেছি। এবার তাই একই কথা বার বার না বলে কেবল সারওয়ার ভাইয়ের কাছে আমার পাল্টা প্রশ্ন, যে পিনাকীর প্রসঙ্গ তিনি উঠালেন তার চরিত্র এবং তিনি কাদের হয়ে কথা বলেন সবটাই তিনি আমি জানি এবং অতিতে আমরা এই বিষয়ে একমত হয়েছি। কিন্তু তিনি কি পিনাকীর অন্তত একটি ফেইসবুক পোস্ট বা কোন লেখা দেখাতে পারবেন যেখানে তিনি ইসলামী জঙ্গিদের সরাসরি সমর্থন করেছে? বলেছে ইসলামী জিহাদীদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন আছে? পিনাকীর পোস্টে অনেক আগে যখন কমেন্টস করতাম তখন সে বার বার একটা চ্যালেঞ্জই আমাদের করত- কোথায় আমি জঙ্গিদের প্রতি সাফাই গাইছি দেখান- কিংবা আমি জঙ্গিদের সমর্থন করেছি দেখান…। এই চুতিয়াগিরি সম্পর্কে সারওয়ার ভাইয়ের তো অজানা নয়। কিংবা উনার বন্ধু পারভেজ আলমের কথাই ধরা যাক, ভদ্রলোককে ‘বরবাদ মজহার’ ‘বামাতী’ নামে ভর্ৎসনা করা হয়। তিনি কিন্তু সেই একই থিউরী মত চ্যালেঞ্জ করেন- কোথায় আমি এটা লিখেছি দেখান, কোথায় আমি সহানুভূতি দেখিয়েছি প্রমাণ করুন…। ইস্টিশনের লেখা পারভেজ আলমের এই লেখাটির কথা মনে আছে সারওয়ার ভাই (https://www.istishon.com/?q=node/14275)? বণু কুরাইজা গণহত্যা নিয়ে পারভেজ তার চুড়ান্ত ভেল্কিবাজি দেখিয়েছিল। আপনার সেই পোস্টে করা কমেন্টসগুলো আপনি আবার একটু পড়ে দেখেন। সঙ্গে পড়ে দেখেন আপনার বন্ধুর বার বার একই চ্যালেঞ্জ, “এই লেখায় কোথাও কি ‘সহিহ’ ইসলাম অথবা ‘ষড়যন্ত্র’ বিষয়ে কিছু বলা আছে? যা নাই তার দায়ভার কেনো চাপাতে চাচ্ছেন বুঝতে পারছি না” আসলেই সত্য যে পারভেজ ঐ লেখায় কোথাও একবারও লিখেনি বণু কুরাইজা ইহুদী হত্যা সহি ইসলাম নহে কিংবা ইহা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র- পারভেজ এই রকম লাইন লেখায় কোথাও লিখেনি। কিন্তু লেখার “ভাব” কোথায় যাবে? একটি লেখার মূলই হচ্ছে “ভাব” যেটি পাঠক অনুভব করেন, কিন্তু সেই “ভাব” দিয়ে তো আদালতে জেতা যাবে না। বিচারক চান প্রমাণ! এতকাল সারওয়ার ভাই পিনাকী, পারভেজে আলমদের লেখার ভাবটিকে নিয়ে এত সোচ্চার হলেন, আর আজ তিনি নিজেই সেই বিচারকের চেয়ারে বসে তাদের হয়েই প্রমাণ চাইছেন?

    সারওয়ার ভাইয়ের তিন নং প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ,

    ““হাবিজাবি কারণ” এর কথা। সেই হাবিজাবি কারণ গুলো কি কি একটু দয়া করে বলবেন? আর কেনইবা সেই সকল কারণ হাবিজাবি সেটা কি ব্যাখ্যা করবেন?
    বামপন্থিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তিটি হচ্ছে – বামপন্থিরা আমেরিকার বিদেশ নীতির ঘোর বিরোধী। আর আমাদের নাস্তিক বন্ধুদের “ভাশুর” হচ্ছেন আমেরিকা। ধর্ম মতে ভাশুরের নাম নেয়াটা অনুচিত। আমাদের নব্য নাস্তিক বন্ধুরা ধর্ম না মানলেও, ধর্মের সংস্কৃতিটা দারুন ভাবে মেনে চলেন। তাই “ভাশুর” আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়ে কথা বলাটা তাঁদের কাছে “হাবিজাবি” মনে হয়। সারা দুনিয়াব্যাপী ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থানের পেছনের কারণ বিষয়ে তাই নব্য নাস্তিকরা আলোচনা করতে চান না। তারা মনে এই সকল আলোচনাকে বলেন “হাবিজাবি”।“

    -এই প্রশ্নের উত্তরও উপরে আছে মনে করি। আরেকটু যোগ করি, নাস্তিকরা আমেরিকাকে “ভাসুর” মনে করে না। তারা খুব ভাল করেই জানে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির ইতিহাস। ইরাকে, আফগানিস্থানে তাদের ভূমিকার কথা। এমনকি তালেবান, আইএসের পৃষ্টপোষকতার কথা এখন কেউ আর দ্বিমত করে না। কিন্তু এটি বলতে গিয়ে যখন কোন বামপন্থি বুঝাতে চান তালেবান-আইএসসহ সমস্ত জিহাদীদের তৈরি করেছে আমেরিকা- ব্যস! এখানেই তারা থামতে চান। এই জিহাদী জঙ্গিদের দার্শনিক একটি অবস্থান যে আছে সেটিকে কৌশলে এড়িয়ে যান। এড়িয়ে যেতে চান ইসলাম নামের তাদের “ভাসুরটির’ কথা। বামদের মধ্যে যারা বলতে চান, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রসন বন্ধ হলেই এইসব জঙ্গি জিহাদও বন্ধ হয়ে যাবে। এসবের সঙ্গে খামখাই ইসলামকে বিরাট দানব হিসেবে দেখানোর কোন মানে নাই। ইসলামের ১৪০০ বছর আগে থেকেই তো জিহাদের কথা লেখা আছে, তাহলে সেটা কেন মধ্যপ্রাচ্যে তেল পাবার পর থেকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এতকাল কেন জিহাদ ছড়িয়ে পড়েনি?… সারওয়ার ভাই কি এ ধরণের প্রশ্ন বা বিশ্লেষণ সম্পর্কে একদমই অপরিচিত? তিনি নিজে এরকম মতামতে একমতে হলে আমার কিছু আসে যায় না। তবে তারপর আর আপনার ইসলাম ধর্মে জিহাদ নিয়ে লেখালেখির কোন অর্থও থাকে না। তবে আমি যেহেতু ভিণ্নমত প্রসন করি তাই এই ধরণর বামাতী মতামতের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিখে চলি। জঙ্গিবাদ যে বিগত ২০-২৫ বছরের কোন ভূইফোড় আমেরিকারর যুদ্ধবাজ নীতির কারণে জেগে উঠেনি সেটা লেখার চেষ্টা করেছি। ছোট পরিসরের এই লেখাটি সময় থাকলে সারওয়ার ভাই পড়তে পারেন (https://www.facebook.com/pathoksusupto/posts/644809669057773)।

    সমস্যা কি জানেন সারওয়ার ভাই? ফিলিস্তিনী ইজরাইল সমস্যাকে আপনারা নিপীড়িত ফিলিস্তিনীদের উপর বর্বর ইজরাইলদের দমন পীড়ন বলেই শেষ করতে চান। তারপর মধ্যপ্রাচ্য থেকে পারলে ইজরাইলদের খেদিতে দিতে পারলেই মনে করেন এই সমস্যার একটা সমাধান হয়ে যাবে। আমার মত ‘উগ্র নাস্তিক’ (নিউ এথিজমের বাংলা উগ্র নাস্তেকও পড়তে পারেন! *yes3* ) এইসব মতমাতকে শ্রদ্ধা জানিয়েই বলতে চায় এখানে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ জিইয়ে রেখেছে এবং তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এবং সরাসরি বলতে চাইলে সেই ধর্মটির নাম “ইসলাম”! (দেখলেন সারওয়ার ভাই, আপনার কথাই সত্য ফলে গেলে, আমরা সব কিছুর মধ্যেই ইসলামকে টেনে আনি!) কেন ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝামেলা তৈরি করেছে আপনাকে দেখাই। এই হাদিসটি পড়ুন :

    “হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কালো পতাকাগুলো পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে বের হবে, তখন কোন বস্তু তাদেরকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না। এমনকি এই পতাকাকে ইলিয়ায় (বাইতুল মুকাদ্দাসে) উত্তোলন করা হবে (খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে)”। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬৯;মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮৭৬০)”।

    এই হাদিসটি তো হাদিস বইতে থেকেই যাবে তাই না সারওয়ার ভাই? আপনাদের বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই তো মাদ্রাসার শিক্ষাকে তথাকথিত আধুনিকায়ন করে তাকে রেখে দেয়ার পক্ষে। তো এইসব হাদিস যেখানে স্পষ্ট করে ইহুদীদের ধর্মীয় অস্তিত্ব বাইতুল মোক্কাদেসকে দখল করার ঈমানী দায়িত্ব মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, ইসলাম যেটা ভবিষ্যবাণী বলে দাবী করছে, ধরা যাক, সারওয়ার ভাই, আমেরিকার তার সাম্রাজ্যবাদ গুটিয়ে নিজের দেশে চলে গেলো। ইজরাইল স্বাধীন ফিলিস্তিনীদের সব দাবী মেনে সজ্জন প্রতিবেশী হিসেবে থেকে গেলো- তখন কি শান্তি নেমে আসবে? এই যে হাদিসটিকে রেখে আপনারা শান্তি স্থাপন করলেন, এই হাদিসটি পাঠ করার মত পাঠক বা তালেবর কি পৃথিবীতে নিশ্চিহৃ হয়ে যাবে? যাবে না, বরং একজন শায়েখ আবদুল্লাহ আযম কিংবা জসিমউদ্দিন রাহমানিয়ার মত বক্তা, যাদের নেতৃত্বগুণে হাজার হাজার মানুষ নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়, তারা কি আপনাদের সেই কল্পিত শান্তির দিনে বাইতুল মোক্কাদেশ দখল করতে জিহাদী মুজাহিদ বাহিনী তৈরি করবে না?

    হ্যাঁ, আমার লেখালেখির মূল দিকটি হচ্ছে এটিই। আমি এই দিকগুলোকে দেখাই। আমি বলতে চাই, এইসব জিইয়ে রেখে কখনই সফল হওয়া যাবে না। আপনার বন্ধু পারভেজ আলম দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা করে যাচ্ছে এই ধরণের হাদিসকে দুর্বল জাল রসূলের কাছ থেকে সরাসরি আসেনি বলে প্রচার করতে। এতে কোন কাজই হয় না উল্টো ‘সহি ইসলাম নহে’ বিতর্ক ছাড়া। কারণ যারা এইসব হাদিসকে স্বয়ং ‘আল্লার রসূলের’ মুখের জবান বলে বিশ্বাস করে, তাদেরকে কে রুখবে?

    সারওয়ার ভাইয়ের পোস্টের একটি অংশ-

    ““জিহাদ” এর নানান সংজ্ঞা আছে, মডারেট মুসলমানেরা জিহাদ বলতে যা বলতে চায়, আইসিস এর জিহাদ তার থেকে অনেক আলাদা। আমরা ইতিহাস থেকে জানি, প্রচলিত সাদামাটা অর্থে, জিহাদ মানে হচ্ছে কাফের – বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ইসলামের সম্প্রসারনবাদী যুদ্ধ। মুহাম্মদের হাত ধরে যে জিহাদের শুরু হয়েছিলো, অন্তত নবম শতক পর্যন্ত চালু ছিলো সেই সকল রক্তক্ষয়ী জিহাদ। আর সুষুপ্ত পাঠক লিখছেন একবিংশ শতকের “জিহাদ” নিয়ে। তাই আমার সংশয়বাদী মনে প্রশ্ন জাগছে – সুষুপ্ত আপনি কি দয়া করে বলবেন ইসলামী টেরোরিস্ট বা জিহাদীরা আসলে কোথায় এবং কিভাবে আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে “জিহাদ” করছে? কোথায় বলতে আমি জিজ্ঞাসা করছি ভৌগলিক ভাবে পৃথিবীর কোথায় ইসলামী জিহাদীরা আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে? বলবেন? বিগত দুই-তিনশো বছরে কবে কোথায় ইসলামের নামে দেশ দখল করেছে মুসলমান দেশগুলো? গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে অনেক দেশ দখল করতে দেখেছি আমরা, সেগুলো কারা করেছে তা আপনিও জানেন, আমরাও জানি, কিন্তু ইসলামী জিহাদ দিয়ে কয়টি দেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলবেন? হয়তো আপনি মাদ্রিদ, লন্ডন, প্যারিস, বার্লিনে আর সাম্প্রতিক সময়ে স্টকহোম এ হামলার কথা উল্লেখ করবেন। কিন্তু এই সকল হামলা কি জিহাদ? এই হামলাগুলোর পেছনে কি ইসলামী সম্প্রসারনবাদ জড়িত? এই হামলাগুলো কেবলই কিছু মুসলমান নামের জঙ্গীর কাজ? নাকি এর সাথে চলমান বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কিত? আর এই সকল হামলা যদি জিহাদ হয়, তাহলে সারা দুনিয়া জুড়ে পশ্চিমা দেশগুলো যে যুদ্ধের দামামা চালু রেখেছে, তাদের কে আপনি কি বলবেন? ইসলামী “জিহাদ” এর তুলনায় পশ্চিমা বড়ভাইদের চালু করা – জারি রাখা যুদ্ধগুলোর আকৃতি – ধ্বংসযজ্ঞের কোনও তুলনামুলক ইতিহাস আপনার জানা আছে?”

    -কি চমৎকার বাণী! বার্লিনে, ফান্সে, ইতালিতে, লন্ডনে এমনকি ঢাকার গুলশানে জিহাদী আক্রমনের ধর্মীয় দার্শনিক অনুপ্রেরণা খতিয়ে দেখতে গেলে যে আমেরিকা বেশি দেশ দখল করেছে নাকি ইসলাম বেশি দেশ দখল করেছে চিন্তা করতে হবে জানা ছিল না। আপনি যে এখনো আপনার বন্ধুবান্ধবদের মত পুরোপুরি ইলামের সাম্রাজ্যবাদকে অস্বীকার করেন না তার জন্য অবশ্য ধন্যবাদ। ব্রিটিশ, পুর্তগিজ, ফরাসী এই সাম্রাজ্যবাদীদের যুগের আগে যে ইসলামই ছিল এক সাম্রাজ্যবাদী দানব সেটি অস্বীকার করেননি। তবে যেদি অস্বীকার করেছেন সেটি হলো সৌদির ইসলামী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকে। উপমাহদেশের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের কথাই যদি শুধু ধরি, সৌদিদের এই বলয় মতিঝিলের হেফাজতের সমাবেশ, হাটহাজারীর গুরুত্ব আমার কাছে আমেরিকার বাংলাদেশের উপর প্রভাব নিয়ে আপনার চিন্তার মতই সমান চিন্তার কারণ। সারওয়ার ভাই লিখেছেন

    “সুষুপ্ত আপনি কি দয়া করে বলবেন ইসলামী টেরোরিস্ট বা জিহাদীরা আসলে কোথায় এবং কিভাবে আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে “জিহাদ” করছে? কোথায় বলতে আমি জিজ্ঞাসা করছি ভৌগলিক ভাবে পৃথিবীর কোথায় ইসলামী জিহাদীরা আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে? বলবেন? বিগত দুই-তিনশো বছরে কবে কোথায় ইসলামের নামে দেশ দখল করেছে মুসলমান দেশগুলো?”

    এখানে কি আপনি একটু চালাকি করলেন না? আমি তো ইসলামের সন্ত্রাসী, সাম্রাজ্যবাদী দর্শন নিয়ে লেখালেখি করি। আজকের বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় ইসলামের স্বীকৃত কোন খেলাফত নেই। তুরস্কে ইসলামের শেষ খিলাফতের পতন হবার প্রাক্কালে ভারতে মুসলমানরা সেই খেলাফতকে টিকিয়ে রাখতে খিলাফতী আন্দোলন শুরু করেছিল। ইসলামের সাম্রাজ্য শক্তি হিসেবে পতন হবার পর বিশ্ব রাজনীতির ধরণ ধারণ পাল্টে গিয়ে বিগত দুইশো বছর ইসলামী কোন দেশ জিহাদ করতে কোন অমুসলিম দেশকে দখল করেনি। কিন্তু তাতে কি ইসলামের সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও নিদের্শনা মিথ্যে হয়ে যায়? লক্ষ লক্ষ জিহাদী যুবকের নায়ক শায়েখ আবদুল্লাহ আযম যখন বলেন, আমরা কি আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু প্রাণকে কি সামান্য ভূখন্ডের জন্য উৎসর্গ করব? ফিলিস্তিনের মাটি আর ফুজাইরার মাটির মুল্য তো একই। ঘর তো আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে নির্মাণ করা সম্ভব। ব্যাপার তো জমি আর মাটির নয়। ব্যাপার হচ্ছে দ্বীনের, আকীদার, পবিত্র ভূমির, মসজিদুল আকসার ও সে সব লোকদের, যারা হুর ও জান্নাত লাভের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। যদি জান্নাত ও হুর না পাই, তাহলে কেন আমি নিজের প্রাণ উৎসর্গ করব?”– তখন তাকে কি করে মোকাবেলা করা যায় সেটি ভাবাই আমার কাছে বেশি জরুরী। দেশের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-ব্যাংকার স্বপরিবারে সিরিয়াতে জিহাদ করতে, বিশ্বব্যাপী ইসলামী খেলাফত করতে যখন ভোজবাজীর মত হাওয়া হয়ে যায়- সেই সমস্যার সামনে আপনার এইসব পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ইতিহাস আমাদের হাই উঠাতেই সাহায্য করবে মাত্র। আমরা ভাবতে বসব, আমরা আসলে একটা দড়িকে সাপ ভেবে মিছেই ভয় পাচ্ছি। সারওয়ার এটাই বলতে চান? এই বিষয়গুলো নিয়ে ছোট পরিসরে লিখেছিলাম, সময় হলে পড়বেন (https://www.facebook.com/pathoksusupto/posts/571556516383089)।

    সময় সল্পতার কারণে সবটা লেখা গেলো না। তেমন ইচ্ছাও ছিল না কমেন্টস করার। ইসলামের টিকে যাবার অনেকগুলোর কারণের মধ্যে এটিও একটি কারণ যে- তাকে লঘু করে সবার দৃষ্টি অন্যদিকে সরানো। ইসলামী জিহাদের ধারণা ইসলামে নেই আমেরিকাতে আছে- এরকম অবস্থান থেকে জিহাদকে মোকাবেলা কঠিন। সেটাই বার বার বলতে চাইছি। আর যেসব বামপন্থিরা সেকথা ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চায় তাদেরকে নিয়ে লিখেছি। সারওয়ার ভাইয়ের সবচেয়ে বড় ভুল এবং মুর্খামী হচ্ছে তিনি ব্যক্তির হয়ে এখানে লড়তে এসেছেন! তত্ত্ব বা রাজনীতি হিসেবে বামধারা বা কমিউনিজমকে যেহেতু আমি কখনই প্রশ্নবিদ্ধ করি না, কখনই সমাজতন্ত্রের সমালোচনা করি না কিন্তু বামপন্থিদের তীব্র সমালোচনা করি- কাজেই এই পোস্টের অর্থ হচ্ছে বামদের নিয়ে সমালোচনাকে সারওয়ার ভাই বামপন্থাকেই সমালোচনা বলেই মনে করেন! আহমদ শফীর সমালোচনাকে যেমন হেফাজতীরা ইসলামের সমালোচনা মনে করেন!… যাই হোক, আপাতত বিদায়, সময় পেলে আরো আলোচনা হতে পারে…।

  2. সুষুপ্ত পাঠক, আপনাকে ধন্যবাদ,
    সুষুপ্ত পাঠক, আপনাকে ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্যে। আপনার বড় কমেন্টটির বিপরীতে আমার মন্তব্য গুলো হচ্ছে এরকমেরঃ

    ১। আপনি দেখাতে পারবেন না কোনও একজন বামপন্থি যিনি ইসলামী জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেছেন, অথচ আপনি সেই দাবীটিই লিখে ফেললেন আপনার লেখার শুরুতেই? এটা কি লেখকের এথিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড এর মধ্যে পড়ে? আপনি যা ব্যাখ্যা করতে পারবেন না, যা প্রমান করতে পারবেন না সেই রকমের দাবীর সাথে ধর্মবাদীদের দাবীর মধ্যে পার্থক্য কতটুকু? আপনি বলছেন, বাংলাদেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের “সব বামপন্থিই” ইসলামী জঙ্গীদের পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করেছেন আর একটি প্রমাণও দিতে পারছেন না, এটাকে আপনার দায়িত্তহীনতা মনে হয়না?

    ২। আপনাকে কেউ দিব্যি দেয়নি যে আপনাকে মার্কিন আগ্রাসন নিয়ে লিখতেই হবে, বরং অই সকল বিষয়ে না লেখাই ভালো। আপনার বোঝাপড়ার দৌড় কুরআন হাদিস পর্যন্তই, সুতরাং আপনি ওখানে থাকাই ভালো। বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে লিখতে গেলে কি রকমের লেজেগোবরে হয়ে যান আপনি তাঁর প্রমান আপনার এই ব্লগটিই।

    ৩। আপনার লেখাটির প্রতি প্রধান সমালোচনা এই নয় যে আপনি বামপন্থি নাকি বামপন্থার সমালোচনা করেছেন। বামপন্থি বা বামপন্থা কোনও কিছুই সমালোচনার বাইরে নয়। আপনার লেখাটির দারিদ্র হচ্ছে, এতে সত্যনিষ্ঠা নেই, ইতিহাস নিষ্ঠা নেই। শিরোনামেই লিখেছি তা, আরো বিস্তারিত পরের পর্বে লিখবো। আপনাকে সত্যনিষ্ঠ হতেই হবে এমন কোনও কথা নেই, দুনিয়াতে হাজার হাজার লেখক আছেন যাদের কোনও দায় নেই সত্যনিষ্ঠ হবার। আপনি লিখুন, আমি বা আমরাও লিখবো কেনও আপনার লেখায় সত্য গোপনের ধান্দা থাকে।

    ৪। বার্লিনে বা লন্ডনের হামলা নিয়ে বলতে গেলে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে বলতে হবে এমনটা বলিনি। ভালো করে পড়ে দেখুন। আমি লিখেছি, দুনিয়ার কোথায় কোথায় জিহাদ হচ্ছে দেখান। ব্যাখ্যা করুণ কেনও এই সকল হামলা আপনার বর্ণিত “জিহাদ” এর অংশ। এই হামলা গুলো কি একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত? যদি হয়, তাহলে ব্যাখ্যা করুণ কিভাবে সম্পৃক্ত। আর বলেছি, এই হামলা গুলো যদি জিহাদ হয় তাহলে সারা দুনিয়াকে নিজের সামরিক ব্যারাক বানানোর বিষয়টিকে আপনি কি বলবেন? জানি ভাশুরের বিষয়ে কোনও উত্তর দিতে আপনার দ্বিধা আছে। যদি দ্বিধা না থাকে, তাহলে ঝেড়ে কাশুন।

    ৫। আপনার ইসলামী “সাম্রাজ্যবাদ” সেটা কোন কাঁঠালের আমসত্ত্ব সেটাও ব্যাখ্যা করুণ। আমি বলিনি ইসলামী সাম্রাজ্যবাদ ছিলোনা, আমি বরং আপনাকেই প্রশ্ন করেছি, ইসলামী সাম্রাজ্যবাদ জিনিসটা কি তা আমাদের কে ব্যাখ্যা করুন, আমি আপনার কাছ থেকে শিখি, আলোকিত হই। এই জানতে চাওয়ার মধ্যে কোনও চালাকি নেই, তবে আপনার উত্তরের মধ্যে চালাকি আছে, কারণ আপনি কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েও প্রায় আরেকটি ব্লগের সমান কমেন্ট করে ফেলেছেন।

    ৬। প্যালেস্টাইন সংকট নিয়ে অনেক ভালো ভালো একাডেমিক আরটিকেল আছে, পুস্তক আছে। শুধু গুগোল করা জ্ঞান নিয়ে সেই বিতর্কে ঝাপ দেয়া আগুনের হলদে শিখায় পতঙ্গের ঝাপ দেয়ার মতোই বোকামী। বরং পড়াশুনা করে, প্যালেস্টাইন সংকট নিয়ে লিখুন, আমি দারুন আগ্রহী হবো, সেই বিতর্কে অংশ নিতে। প্যালেস্টাইন সংকট আমার আগ্রহের বিষয় এবং আমার খুব সামান্য কিছু পড়াশুনাও আছে।

    ৭। “ইসলামের ১৪০০ বছর আগে থেকেই তো জিহাদের কথা লেখা আছে, তাহলে সেটা কেন মধ্যপ্রাচ্যে তেল পাবার পর থেকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এতকাল কেন জিহাদ ছড়িয়ে পড়েনি?”

    বাই দা ওয়ে, আমি সত্যিই আগ্রহী আপনার মতামত জানার জন্যে এই বিষয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে যদি আপনার ন্যূনতম ধারণা থাকে, তাহলে একটু ব্যাখ্যা করবেন, কেনও মধ্যপ্রাচ্যে ২০০১ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদ রকেটের গতিতে বেড়ে চলেছে? কেনও তাঁর আগে নয়? এই গ্রাফটির উৎস যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ড্যাটাবেইজ থেকে নেয়া। বলাই বাহুল্য এটাই পৃথিবীর সবচাইতে বড় সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত ড্যাটাবেইজ। গ্রাফটিকে একটু ব্যাখ্যা করে দিতে পারবেন?

    ৭। সবশেষে আবার বলি, আপনি কুরআন হাদিস নিয়ে ভালোই লেখেন, সেসব লেখায় রেফারেন্স থাকে, চটক থাকে, সুতরাং ওটাই চালিয়ে যান। রাজনৈতিক লেখার জন্যে যে পরিনত মস্তিস্ক থাকা দরকার দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আপনি সেটা আয়ত্ত করে উঠতে পারেন নি। তবে পারবেন না এটা বলছিনা। কিপ ট্রাইং।

    ভালো থাকবেন।

    1. আমার কমেন্টেসের উত্তর পাইনি
      আমার কমেন্টেসের উত্তর পাইনি ব্যক্তি আক্রমন ছাড়া। আমাকে অন্যের আর্টিকেল কলাম না দেখিয়ে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আমার বক্তব্য যুক্তিহীন সেটা দেখাতে হবে। আমার সাথে একমত হতে হবে না। আমি যা বলেছি সেটা কেন “সত্যনিষ্ঠ নয়” “ইতিহাসনিষ্ঠ নয়” সেভাবেই প্রমাণ করতে হবে। আপনি আরো কি সব পর্ব লিখবেন, আগে সেসব লিখুন। আমি কাউকে ব্যক্তি পর্যায়ে টেনে এনে সমালোচনা করি না যদি না বাধ্য হই। সেটা ঘটতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছে। সিরিজ শেষ করুন আগে…।

      1. ব্যক্তি আক্রমন কোথায় করলাম?
        ব্যক্তি আক্রমন কোথায় করলাম? আপনাকে তো মূর্খ বলিনি, বলেছি কি? বলেছি আপনি কুরআন হাদিস নিয়ে ভালো লেখেন কিন্তু রাজনীতি নিয়ে লিখতে গেলে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলেন, এটা তো পাঠক হিসাবে আমি বলতে পারি, পারিনা? আর আপনি একটা কোটেশনও দিতে পারলেন না, কোথায় বামপন্থিরা ইসলামী জঙ্গীবাদ কে সমর্থন করেছে, তারপরেও বলছেন আপনার লেখা সত্যনিষ্ঠ? সত্যনিষ্ঠার মানে জানেন? যেটা লিখেছেন সেটাকে এভিডেন্স দিয়ে প্রমান করুণ, সেটাই সত্যনিষ্ঠা, আপনার লেখায় দাবী আছে কিন্তু তাঁর স্বপক্ষে এভিডেন্স নেই। আর আপনার দীর্ঘ কমেন্টস টি পড়ে দেখুন আবার, সেখানে ব্যক্তি আক্রমন আছে কিনা, নিজের গায়ের গন্ধটা অবশ্য আমরা অনেকেই পাইনা, আরেকজন বলে দিলেও পাইনা।

        1. আরে আপনি কি কি প্রসব করবেন
          আরে আপনি কি কি প্রসব করবেন আগে করেন না! এত তাড়া কিসের? আমাকে নিয়ে পোস্ট লিখছেন, আগেও লিখেছেন, আরো অনেকেই লিখে- নিজেকে আমি মূর্খই ভাবি- আপনারা ভাবলে আমাকে নিয়ে নিয়ে আপনাদের এত মাথা ব্যথা হতো না! আবারো বলছি, আগে আমার কমেন্টের পয়েন্ট বাই পয়েন্ট উত্তর চাই। পিছলাইলে চলবে না কিন্তু!

          আপনি কুরআন হাদিস নিয়ে ভালো লেখেন কিন্তু রাজনীতি নিয়ে লিখতে গেলে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলেন, এটা তো পাঠক হিসাবে আমি বলতে পারি, পারিনা?

          হা হা হা… এটা প্রমাণ করতে পারবেন? আপনার কাছে লেজে গোবরে মনে হচ্ছে আরেকজনের কাছে মনে হচ্ছে সঠিক বিশ্লেষণ- যেমন বামাতীদের লেখা বক্তব্য আমাদের কাছে জঙ্গি সহানুভূতি মনে হয়। কেন মনে হয় সেটা বলেছি। কোন ধোয়াশা নাই। বামাতীরা জঙ্গিবাদের আগুনে আলু পোড়া দিয়ে খেতে চায়। সেটার প্রমাণ ইরানের বামপন্থিরা নিজেদের চরম মূল্য দিয়ে বুঝেছে। পশ্চিমবঙ্গের বামরা দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরো অনেকেই দিবো।…

  3. হা হা হা !
    হা হা হা !
    কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা বলেছে- আমি হেফাজতকে কখন সমর্থন দিলাম?

    তাই তো তিনি মুখ দিয়ে বা কাগজে লিখিত দিয়ে হেফাজতকে সমর্থন দিয়েছেন তার প্রমান নেয় । তিনি
    সরাসরি বলেন নি কখনো আজ থেকে আমি হেফাজতকে সমর্থন দিলাম। প্রমানিত হল
    শেখ হাসিনা হেফাজতিদের আদর্শে বিশ্বাস করেন না।

    প্রফেসর এমাজ উদ্দিন নাকি বিএনপি’র কোন পদে নাই, এমন কি কোন সদস্যও না, কখনো
    ছিলেন না। প্রমানিত হল তিনি বিএনপি মাইন্ডেট না। তিনি বিএনপি পছন্দ করেন না।

    আল্লাহু আকবার।

    1. ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে। আপনার যুক্তি কাঠামোটা বেশ ভালো। শেখ হাসিনা হেফাজতিদের আদর্শে বিশ্বাস করলে কি তিনি আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন? বিএনপি মাইন্ডেড হতে হলে বিএনপির পদে থাকতে হবে কেনও? বাংলাদেশের ৪০% মানুষ বিএনপি মাইন্ডেড, তাঁরা সবাই কি বিএনপির কমিটিতে আছে? তাঁরা সবাই কি বিএনপির সদস্য?

      আল্লাহ্‌ আপনার মাথায় আরো ঘিলু দান করুন যেনো আপনি আরো সৃজনশীল ভাবে চিন্তা করতে শিখতে পারেন।

      আমিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =