ভারতের সঙ্গে চুক্তি করায় বিএনপি-নেতাদের এখন ঘন-ঘন স্বপ্নদোষ হচ্ছে!

বিএনপি’র জন্ম পাকিস্তানী-জেনারেলদের অতিবিশ্বস্ত এক নফরের হাত ধরে। পাকবাহিনীর সেনাছাউনি থেকে এরা বাংলাদেশ-আর্মির পোশাক গায়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতাদখল করেছে। আসলে, এদের জন্ম হয়েছে একাত্তরের পরাজিতগোষ্ঠী-পাকিস্তানের চিরগোলাম ‘জামায়েতে ইসলামী পাকিস্তানে’র পকেট থেকে। আর এদের মুখে এখন শুনি ‘দেশটা ভারত হয়ে গেল’! ‘দেশটা ভারত হয়ে গেল’! ‘দেশটা ভারত হয়ে গেল’!
বিএনপি’র জন্মদাতা-বাপ হলো—জিয়া আর গোলাম আজম। এরা আমৃত্যু ছিল পাকিস্তানের একনিষ্ঠ সেবক আর চিরবিশ্বস্ত গোলাম। এরা ছিল গোলামে পাকিস্তান। বিএনপি’র বর্তমান নেতৃগোষ্ঠীও সেই একই সিলসিলাহ অনুসরণ করে আজ পাকিস্তানের ‘বশংবদ-পুত্রে’ পরিণত হয়েছে। আর এই বিএনপিই এখন দেশটা ভারত হয়ে যাওয়ার নগ্ন ও সস্তা শ্লোগান শোনাচ্ছে জাতিকে। এদের লজ্জাশরম না থাকতে পারে। কিন্তু এই জাতির তো লজ্জাশরম আছে।

ভারতের সঙ্গে চুক্তি করায় বিএনপি-নেতাদের এখন ঘন-ঘন স্বপ্নদোষ হচ্ছে!
সাইয়িদ রফিকুল হক

বাংলাদেশে বিএনপি’র জন্ম নিয়ে নানারকম সংকটসৃষ্টি হয়েছে। আর এইরকম একটি অপদলের জন্ম নিয়ে জাতির ইতিহাসে রয়েছে নানারকম ঘোরতর সন্দেহ। মানুষের মনে এখনও বিরাট প্রশ্ন—বিএনপি কি আসলেই একটি রাজনৈতিক দল? কালের বিচারে যেকোনো নিরপেক্ষ-ব্যক্তি কিংবা সুধীমহলের যে-কেউ একটুখানি চিন্তাভাবনা করে যখন-তখন বলে দিতে পারবেন—কালের বিচারে আর রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়—বরং এটি একটি দেশবিরোধী-জঙ্গিগোষ্ঠী। এরাই বাংলাদেশে জঙ্গির মদদদাতা আর জঙ্গিবাদের ও পাপাচারের বীজমন্ত্র জামায়াত-শিবিরের প্রধান পৃষ্ঠপোষকও এরা। বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতেই বাংলাদেশে বিএনপি’র মতো একটি দেশবিরোধী-জঙ্গিগোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে।

বিএনপি’র জন্ম পাকিস্তানী-জেনারেলদের অতিবিশ্বস্ত এক নফরের হাত ধরে। পাকবাহিনীর সেনাছাউনি থেকে এরা বাংলাদেশ-আর্মির পোশাক গায়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতাদখল করেছে। আসলে, এদের জন্ম হয়েছে একাত্তরের পরাজিতগোষ্ঠী-পাকিস্তানের চিরগোলাম ‘জামায়েতে ইসলামী পাকিস্তানে’র পকেট থেকে। আর এদের মুখে এখন শুনি ‘দেশটা ভারত হয়ে গেল’! ‘দেশটা ভারত হয়ে গেল’! ‘দেশটা ভারত হয়ে গেল’!
বিএনপি’র জন্মদাতা-বাপ হলো—জিয়া আর গোলাম আজম। এরা আমৃত্যু ছিল পাকিস্তানের একনিষ্ঠ সেবক আর চিরবিশ্বস্ত গোলাম। এরা ছিল গোলামে পাকিস্তান। বিএনপি’র বর্তমান নেতৃগোষ্ঠীও সেই একই সিলসিলাহ অনুসরণ করে আজ পাকিস্তানের ‘বশংবদ-পুত্রে’ পরিণত হয়েছে। আর এই বিএনপিই এখন দেশটা ভারত হয়ে যাওয়ার নগ্ন ও সস্তা শ্লোগান শোনাচ্ছে জাতিকে। এদের লজ্জাশরম না থাকতে পারে। কিন্তু এই জাতির তো লজ্জাশরম আছে।

বিএনপি’র জন্ম হয়েছে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে। এরা রাতের আঁধারে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে রক্তপাতের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করেছে। এরা রাতের আঁধারে গণতন্ত্রসহ বাংলাদেশের “রাষ্ট্রীয় চার-মূলনীতিকে” কবর দিয়েছে। আর পাকিস্তানের গুণগান করেছে। এখন এই বিএনপি কিনা আমাদের দেশ ভারত হয়ে যাওয়ার ভয় দেখাচ্ছে! কী নির্লজ্জ এই চিহ্নিত ও কুখ্যাত অপরাজনৈতিকগোষ্ঠী।

বিএনপি ও তাদের চিরদোসর জামায়াত কখনও ভোটে বা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি। এরা সবসময় নির্বাচনকে হাইজ্যাক করে রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করেছে নিজেদের বাদশাহীশাসনপ্রতিষ্ঠা করার জন্য। এদের প্রথম বাপ পাকিস্তান, আর দ্বিতীয় বাপ চীন, আর তৃতীয় বাপ সৌদিআরব। এরা এই দেশে সৌদিআরবের মতো রাজতন্ত্র-কায়েম করতে চায় বলেই এরা এখনও বিশ্ব-স্বীকৃত পশুগোষ্ঠী জামায়াত-শিবিরকে নিজেদের সঙ্গে রেখেছে।

অতিসম্প্রতি আমাদের দেশে ভারতের সঙ্গে ছত্রিশটির মতো সমঝোতা-চুক্তি, স্মারক, ঐকমতভিত্তিক সমঝোতা ইত্যাদি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশরাষ্ট্র তার স্বার্থসংশ্লিষ্টবিষয়ে সবসময় চুক্তি করতে পারে। আর এসব যেকোনো রাষ্ট্রই তার প্রয়োজনে করে থাকে। কিন্তু এই নিয়ে রাজাকারদের দুর্গ ও প্ল্যাটফর্ম বিএনপি কিছুদিন যাবৎ দেশবিরোধী ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় নানারকম আজেবাজে মন্তব্য ও বিষোদগার করছে। তাদের এসব আস্ফালন দেশবিরোধীকর্মকাণ্ডের আওতায় পড়ে। ভারতের সঙ্গে আমাদের দেশের কতিপয় চুক্তি নিয়ে বিএনপিরা বলেছে:

১. ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে!
(জন্মলগ্ন থেকে বিএনপিরা এসব বলে আসছে।)

২. দেশ ভারত হয়ে যাবে!

৩. ভারতের স্বার্থে সব চুক্তি করা হয়েছে!

৪. আওয়ামীলীগের ক্ষমতারক্ষার জন্য এসব চুক্তি করা হয়েছে!

৫. এই চুক্তি করে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে!

৬. শুধু ভারতের স্বার্থে এসব চুক্তি করা হয়েছে!

৭. এগুলো ভারতের গোলামি-চুক্তি!

৮. সব চুক্তিই দেশবিরোধী! ইত্যাদি-ইত্যাদি।

সরকারে থাকলে বিএনপি-জামায়াতরা ভারতকে সবসময় সাষ্টাঙ্গপ্রণাম করে থাকে। আর ভারতের সরকারপ্রধান-রাষ্ট্রপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পা ধরে চুমা খায়। আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য বিএনপি-জামায়াত ভারতের মূত্র কিংবা গোমূত্রও পান করতে রাজী। আর ক্ষমতার বাইরে গেলেই এদের কাছে ‘দেশ ভারত হয়ে গেল!’ আরে হারামজাদা, এদেশ কখনও ভারত হবে না। আর ভারত হতে পারে না। আর দেশ ভারত হলে তোদের কী? তোরা কে? তোরা তো পাকিস্তানের চিরসেবাদাস আর চিরগোলাম আর গোলামে পাকিস্তান। তোদের পিতা জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান তো তোদের এই শিক্ষাই দিয়েছে।

আসল রহস্য কী?

বিএনপি-জামায়াতের আসল দেশ পাকিস্তান। ওদের রক্ত-মাংস-বীর্য সবই পাকিস্তানের জন্য সংগৃহীত হচ্ছে। এরা পাকিস্তানের সন্তান। বাংলাদেশ নিয়ে এদের না ভাবলেও চলবে। আসলে, এই এইসব চুক্তির ফলে বিএনপি-জামায়াতের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। তার কয়েকটি নমুনা:

১. বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গিবাদী-অপতৎপরতা চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়বে। ওদের জঙ্গিবাদীআস্তানা যৌথপ্রয়াসে ও যৌথমহড়ায় ধীরে-ধীরে ধ্বংস হবে। ওদের রাজনৈতিক-অপশক্তির মূল উৎস জঙ্গিউৎপাদন। এটি এখন কমে আসবে।
২. এই চুক্তির ফলে বিএনপি-জামায়াতের দ্বিতীয় বাপ চীনের আধিপত্য খর্ব হবে। আমাদের দেশের নির্বাচনে পাকিস্তানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে চীনের হস্তক্ষেপ করার আর কোনো সুযোগ থাকছে না। আর এতেই বিএনপিদের আঁতে বিরাট ঘা লেগেছে।
৩. বিএনপি’র রাজনৈতিক শক্তির প্রধান উৎস সামরিকজান্তারা। আর এরা এখন জোরপূর্বক বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করতে উৎসাহিত হবে না।
৪. ভারতের তালিকায় জঙ্গিবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে জামায়াত-শিবিরের নাম রয়েছে। আর জামায়াত-শিবিরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মদদদাতা হিসাবে বিএনপি এখন ভারতের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না। এতে তাদের বুকের ব্যথা আরও বেড়ে গেছে।

ভোটে কখনও বিএনপি এই দেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়নি—আর যেতেও পারবে না। তাই, দেশবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের একমাত্র ভরসা হলো—জঙ্গিউৎপাদন, সামরিক-ক্যু, ভোটডাকাতি, আর জঙ্গিবাদের আশ্রয়গ্রহণ। কিন্তু এইসব চুক্তির ফলে বিএনপি-জামায়াতের স্বার্থ এখন হুমকির সম্মুখীন। আর তাই, বিএনপি-জামায়াতীরা দেশপ্রেমের নাটক করে সাম্প্রতিক-চুক্তিবিরোধী নানারকম অসংলগ্ন-কথাবার্তা বলে নিজেদের পাগলামি আরও বেশি প্রকাশ করছে।

বিএনপিদের দেশপ্রেম হচ্ছে একটি নাটক কিংবা প্রহসন। এ-কে মাছের মা’র পুত্রশোকও বলা চলে। আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি এ-কে বলি কুম্ভীরাশ্রুবর্ষণ।

বিএনপি’র ক্ষমতাদখলের স্বপ্ন ক্রমশঃ দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে চলেছে। আর এসব ভেবে-ভেবে এখন বিএনপি-নেতাদের রাতে ঘুম হয় না। প্রচণ্ড অনিদ্রায় ভুগছে বিএনপি’র শীর্ষনেতারা। আর ঘুম হয় না বলেই অনিদ্রায় বিএনপি-নেতাদের এখন ঘন-ঘন স্বপ্নদোষ হচ্ছে।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৯/০৪/২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2