বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারাতে সুইডেন আওয়ামী লীগ সম্মেলন ২০১৭ কেন সম্পূর্ণ বৈধ

শ্রী অনিল দাস গুপ্ত ও জনাব আনোয়ার গনি, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের দুই গুরুজন বা বলতে পারেন এই দুইজনের উপরই নির্ভর করছে প্রবাসীদের জন্যে আওয়ামীলীগ রাজনীতির সার্টিফিকেট, প্রবাসী আওয়ামীলীগের যত বড়ই বোদ্ধা হউন না কেন, খুবই সুকৌশলে এই দুই নেতার কাছ থেকে সার্টিফিকেট হাতিয়ে নিতে না পারলে জীবনের ১৬ আনাই মিছে, যেটা বলতে যাচ্ছিলাম মানে শ্রদ্ধেয় অনিল দাস গুপ্ত ও জনাব আনোয়ার গনি নির্ধারণ করবেন ইউরোপে আপনার বা আমার আওয়ামী লীগ করার যোগ্যতা আছে কি না, এর একটা বৃহৎ কারণ হচ্ছে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবাসে শাখা থাকলেও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর দাখিল-কৃত গঠনতন্ত্রে প্রবাসে তাদের কোনই শাখা, সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন কার্যত নাই |
বর্তমান সময়ে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের মাঝে ধরে নেয়া যায় যে ইউরোপে তথা প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মাঝে সুস্থ সমন্বয় করাই হচ্ছে তাদের কাজ, তারপরও সর্ব ইউরোপ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের চিঠি চালাচালিতে বিভাজনটা সাধারণের দৃষ্টিতে প্রকট ভাবেই ধরা দেয় | বিষয়গুলো আমরা জেনেও না জানার ভান করছি, দেখেও না দেখার ভান করছি কিন্তু মুখ ফুটে কেউই কিছুই বলছি না, অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকতে পারে বিষয়টি কি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয়দের অজানা ?
এবার আমি যে বিষয়টার উপর আলোকপাত করতে চাইছি সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ গঠনতন্ত্রে ২৫(১) ধারাতে খুবই পরিষ্কার ভাবেই বিষয়টি উল্লেখ করা আছে |
“ক” তে বলা আছে যে শুধু মাত্র সহযোগী সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ তাঁতি লীগ, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন হিসাবে গণ্য হবে, বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্র লীগ স্ব স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হবে | কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ বা প্রবাসে কোন দেশেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোন শাখা সংগঠন না থাকলেও এই মহান ও শ্রদ্ধেয় দুই জন যথাক্রমে শ্রী অনিল দাস গুপ্ত ও জনাব আনোয়ার গনি বিষয়টি মানতে নারাজ |
বহির্বিশ্বে যখনই আওয়ামীলীগের নেতা, মন্ত্রী বা নেতৃস্থানীয়দের আগমন ঘটে ঠিক তখনই বিরোধী শক্তি বি এন পি/জামাতের সমর্থকদের তর্জন গর্জনকে প্রতিহত করার জন্যে আওয়ামীলীগের বা বঙ্গবন্ধু সমর্থকদের সমাগম ঘটে আর ঠিক এই কারণেই বিভিন্ন দেশে আওয়ামীলীগের নামে সংগঠিত দেশ প্রেমিকদের মাঝে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বিভাজনের সৃষ্টি হয়। এই বিভাজন দেশের ও আওয়ামীলীগের সম্মানকে অনেকাংশেই ভূলুণ্ঠিত করে, কিন্তু এর প্রতিকারের পথ এখন পর্যন্ত খোলা নেই, কারণ কেন্দ্রীয় ভাবে এ বিষিয়ে হস্তক্ষেপ বা প্রতিকারে কেউই এগিয়ে আসে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখনি ইউরোপে আসেন ঠিক তখনি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ প্রত্যাশী ইউরোপের প্রায় সব দেশ থেকেই নেতা কর্মীদের আগমন ঘটে প্রধানমন্ত্রীর আগমন স্থলে, ইউরোপের নেতা কর্মীদের দৌড়ঝাঁপের কোনই কমতি নাই, প্রতিবারই এ ধরনের ঘটনা যুগের পর যুগ ঘটেই যাচ্ছে আর তা চলতে থাকবে অনন্তকাল, এতে এই নেতা কর্মীদের রাজনীতির উৎকর্ষতা ঘটুক বা নাই ঘটুক সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের দুই মহারথী যথাক্রমে শ্রী অনিল দাস গুপ্ত ও জনাব আনোয়ার গনি সাহেবের বসন্তকাল তাতে কোনই সন্দেহ নাই, প্রধানমন্ত্রীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে এই দুইজনকে একত্রে দেখা গেলেও সমঝোতার ক্ষেত্রে এই দুইজন যে পৃথিবীর দুই মেরুতে অবস্থান করছেন তাতে কোনই সন্দেহ নাই এবং তা ইউরোপের সকল দেশের নেতা কর্মীদের বেশ ভালো ভাবেই জানা কিন্তু কেউই মুখ খুলতে বা সত্য কথাটা বলতে নারাজ, পাছে যে কোন একজনের বা দুজনার কাছেই তারা অপ্রিয় হয়ে পরেন, আর যদি হয়েই পরেন তবে ছোট ছোট কর্মীদের আম আর বস্তা দুটিই চলে যাবে |
এখন পর্যন্ত সর্ব ইউরোপের প্রবীণ এই দুই নেতার চিঠি চালাচালির মাঝে আমাদের অনেকেরই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ইনাদের মাঝে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান গঠনতন্ত্রের উপর ধারণা কিঞ্চিত কম, কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬২ ধারাটি কোন ভাবেই তিনাদের দৃষ্টি গোচর হয় না, কারণ সেটা মেনে চললেই এই দুইজনের ছড়ি ঘুরিয়ে মাস্টারি করার দিন শেষ হয়ে যাবে | এই ধারাতে স্পষ্ট ভাবেই উল্লেখ করা আছে যে, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে, আদর্শ এবং নীতিতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়া বিভিন্ন দেশে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভাবে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী সংগঠন করিতে পারিবে” |
কাজেই সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ সংগঠনটিকেও ইউরোপের আইন মানিয়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং এই কথাটি বর্তমান আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সূর্যের মতই স্বচ্ছ |
পরিশেষে একটা বিষয়ে স্বচ্ছ মতামত দিয়ে শেষ করবো, যতদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেতরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় সুবিধা ভোগ ও তোষামদির রাজনীতি নিরসন না হবে ততদিন প্রবাসে কেন সর্বক্ষেত্রেই দলের ভেতর বিভাজন থেকেই যাবে | একজন অপরজনকে দোষারোপ করার মানেই হচ্ছে নিজেদের দুর্নীতিকে আড়াল করার প্রচেষ্টা মাত্র |
আসুন এইবার সবাই একত্রে ইউরোপে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা |
/// মাহবুব আরিফ (কিন্তু)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 69 = 76