ব্রেকিং সংবাদঃ হাসিনার জন্য ভেটকি, মোদিকে বেগুনভাজা

৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মিডিয়ার আকর্ষণ খালি খাবার আর পানিতে। কী চুক্তি হইলো, কী ফায়দা হইলো দেশের, এইসব নিয়া আলোচনা কই? সামরিক সহযোগিতা চুক্তি লইয়া এত আলাপ প্রলাপ, ওইটার ভিত্রে কি কি আছে তার তথ্য কই? তিস্তায় নাকি পানি নাই, আসলেই নাই নাকি তা নিয়া ওইভাবে পর্যালোচনা কই?

– বাংলাদেশে গিয়ে পেট ভরে ভাত খাব (মমতা),

– হাসিনার জন্য ভেটকি, মোদিকে বেগুনভাজা।

– দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনার) মেনুতে ইলিশ নেই।

– ডিনারে মমতা খেলেন মুড়ি চানাচুর।

– উত্তর ভারতের রাজভোগ থাকছেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য।

– তিস্তায় পানি নেই, বিকল্প ভাবা হচ্ছে।

৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মিডিয়ার আকর্ষণ খালি খাবার আর পানিতে। কী চুক্তি হইলো, কী ফায়দা হইলো দেশের, এইসব নিয়া আলোচনা কই? সামরিক সহযোগিতা চুক্তি লইয়া এত আলাপ প্রলাপ, ওইটার ভিত্রে কি কি আছে তার তথ্য কই? তিস্তায় নাকি পানি নাই, আসলেই নাই নাকি তা নিয়া ওইভাবে পর্যালোচনা কই?

আমার ধারণা তিস্তার পানি বাংলাদেশ পাবে না, আর পাইলেও যা পাবে তা দিয়া লুঙ্গি ভিজবে, কিন্তু গোসল হবে না। স্মৃতি দূর্বল, কিন্তু ঝাপসা মনে আছে যে পড়ছিলাম ভারতের কোন কোন রাজ্যের মধ্যে পানি লইয়া গ্যাঞ্জাম। সুপ্রীম কোর্টের রায়ের পরেও এক রাজ্য অন্য রাজ্যরে পানি নাই বইলা পানি দেয় না। সম্ভবত কাবেরী নদী নিয়া গ্যাঞ্জাম এখনো চলে। কর্ণাটক রাজ্য তামিলনাড়ু রাজ্যের জন্য পানি ছাড়তে নারাজ। দেশের ভিতরেই যদি পানি নিয়া সমস্যার সমাধান এত কঠিন হয়, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সমাধান আরও জটিল ব্যাপার। নিজের স্বার্থটা সবাই দেখে, শক্তিশালী রাষ্ট্র হইলে স্বার্থের সর্বোচ্চটা দেখা তাদের স্বভাব হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এইখানে মমতারে বাদ দিয়া কিছু করতে পারবে না। এই বেটি কিংবা এরপর যেই ক্ষমতায় আসুক বাংলা রাজ্যে, অবস্থা একইভাবে ঝুলায় রাখবে বইলাই মনে হয়। ইলেকশনের আগে অবশ্য কিছু হইতেও পারে, ভারত অবশ্যই চাবে তাদের মিত্র আওয়ামী সরকার থাকুক, তাদের সুবিধার দিকে নজর দিতে গিয়া যদি কিছুর ইন্তেজাম হয়।

ভারতের সাথে সামরিক সহযোগিতা চুক্তির স্বপক্ষে আমি। অবশ্য চুক্তির ধারা উপধারাগুলা জানার অধিকার জনতার আছে। ওইসব জানলে বোঝা যাবে চুক্তিটা কতটাই বন্ধুত্বের, আর কতটা দেশ বিক্রির। এখনো সেইটাই জানতে পারলাম না, কোথাও কি কোনো প্রতিবেদন ছাপা হইছে এই ব্যাপারে?

যাইহোক, খাদ্য গ্রহণ এবং বর্জ্য হিসেবে ত্যাগ মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য ব্যাপার। নাহ, টয়লেটে কোন ব্র্যান্ডের টয়লেট পেপার রাখা হইছিলো এইটা নিয়াও কেউ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে অবাক হবো না। খাবারপানি পেটে যাওয়ার পরের প্রকৃত ফলোআপে এইটাও আসতে পারে। কারণ, মিডিয়া সব পারে, আজাইরা ব্যাপারগুলারে অতিকায় ভাইবা হাইলাইট করতে আরও বেশি পারে।

আবার কোনো খাবার খাইয়া কারো পেট খারাপ হইছিলো নাকি তা নিয়াও কারো আগ্রহ থাকতে পারে, সেইরকম পরিস্থিতি যদি সত্যিই কারো হইয়া থাকে, তাইলে সেইসব নিয়াও লিখুক মিডিয়া। জনতার বিরাট অংশ নিশ্চিতভাবেই আনন্দ লইয়া পড়বে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 62 = 72