‘সেদিন কবিগুরুর সাথে দেখা হয়েছিলো’

সাজিদ একদিকে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলো। আজ পাবলিক হলে প্রচুর মানুষ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটা প্রোগ্রাম হচ্ছে। স্টেজে গান হচ্ছে। শিশুতোষ গান। কবিগুরু শিশুদের জন্য ভালো গান লিখেছেন। এই গান এখন বড়রাও শুনে। আচ্ছা রবীন্দ্রনাথ বড়দের নিয়ে যেসব গান লিখেছেন তা কি শিশুদের নাগাল থেকে দূরে রাখতে হবে। সাজিদ চায়ে চুমুক দেয়ার পর খেয়াল করলো এক অতিবৃদ্ধ লোক গেইট দিয়ে ঢুকছে। তিনি ঝুঁকে হাঁটছেন। প্রচুর মানুষের ভীড়েও লোকটি অতি স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাচ্ছে। লোকটি এরপর একদিকে গিয়ে বসলো। সাজিদ সিগেরেটটা ফেলে দিয়ে লোকটির দিকে এগিয়ে গেলো।

সাজিদ অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করছে তার সামনে রবীন্দ্রনাথ বসে আছে। যে সে রবীন্দ্রনাথ না, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিগুরু খুব শান্ত হয়ে গান শুনছেন। মাঝে মাঝে মাথাও নাড়াচ্ছেন। চোখ খুব আবেশে বন্ধ করছেন আবার খুলছেন। মাঝে মাঝে আবার মুচকি মুচকি হাসছেনও। সাজিদ আর থাকতে না পেরে বলে উঠলো,

আপনি রবীন্দ্রনাথ না?

কেন আমাকে চিনতে পারছোনা?

না মানে আপনিতো মারা গেছেন সেই কবে।

তাতে কী? মৃত্যু মানে কি একেবারে নাই হয়ে যাওয়া।

সাজিদ পকেট থেকে সিগেরেট বের করলো।

রবীন্দ্রনাথ সিগেরেট দেখে বলে উঠলেন,

সাহেবদের এই জিনিস তুমি কোথায় পেলে?

সাজিদ সিগেরেট ধরাতে ধরাতে বললো, গুরু, আমিও এখন সাহেব।

কবিগুরু মনে হয় বিরক্ত হলেন। তিনি আবার গান শুনছেন। তবে মনযোগ দিতে পারছেন না। সিগেরেট ধোঁয়া তাঁর খুব জঘন্য লাগছে।
.
.
.
.
.
সাজিদ রবীন্দ্রনাথের সাথে বসে চা পান করছে। কবিগুরু সমানে সিগেরেট টানছে। সাজিদ কিছুটা সন্দেহগ্রস্ত। আসলেই কি সে রবীন্দ্রনাথের সাথে বসে চা-সিগেরেট খাচ্ছে। এ কী করে সম্ভব! নাকি রবীন্দ্রনাথ বেঁচে আছেন? সে হাল্কা কেশে বললো,

কবিগুরু তুমি কি বেঁচে আছো নাকি?

না রে। আমিতো অনেক আগেই মারা গেছি।

তাহলে এখানে কীভাবে এলে।

তুই তখন আমাকে নিয়ে ভাবছিলি। ওই যে বিকেল বেলা গানের অনুষ্ঠানে। আমাকে নিয়ে এত গভীরভাবে কেউ ভাবলে আমি তার সাথে দেখা করি। তবে এই একবারই দেখা করলাম। আমি কিন্তু আর আসবো না।

এই কথা বলে কবিগুরু মুচকি হাসলেন আর খুব আয়েশ করে ধোঁয়া ছাড়লেন।

সাজিদ চা-সিগেরেটের বিল মিটিয়ে কবিগুরুকে নিয়ে হাঁটতে বেরুলো।
.
.
.
.
.
আকাশে খুব সুন্দর চাঁদ উঠেছে। কবিগুরু খুব আস্তে আস্তে হাঁটছেন। রাস্তাঘাটে লোকজনও কম। চাঁদের আলো গলে পড়ছে। সাজিদ চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললো,

এই কবিগুরু একটা গান ধরোনা।

কবিগুরু সাজিদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গেয়ে উঠলেন,

যেতে যেতে পথে পূর্ণিমা রাতে, চাঁদ উঠেছিল গগনে।

এতটুকু গেয়ে কবিগুরু চাঁদের দিকে হাত তুলে দেখালেন।

সাজিদ চাঁদের দিকে তাকিয়েই আছে।

কবিগুরু আবারো গেয়ে উঠলেন,

দেখা হয়েছিল তোমাতে আমাতে কী জানি কী মহা লগনে, চাঁদ উঠেছিল গগনে।

আহ! কবিগুরুর গানের গলাটা বেশ। সাজিদ হঠাৎ খেয়াল করে কবিগুরু তার পাশে নেই। সে এদিকওদিক তাকাচ্ছে। কিন্তু কবিগুরুকে দেখা যাচ্ছেনা। সে ডেকে উঠলো কবিগুরু, এই কবিগুরু, কোথায় গেলে?
.
.
.
.
.
সাজিদ একা একা রাস্তায় হাঁটছে। কবিগুরু এভাবে উধাও হয়ে গেলো ভেবে খুব খারাপ লাগছে। সে গুন গুন করে কবিগুরুর গাওয়া গানটার সুর ভাজতে লাগলো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =