আব্রাহাম খান জয় ও কিছু কথা-

সবকিছু মিলে সাধারণ মানুষের অন্তহীন জিজ্ঞাসা বিনোদন জগতের ‘স্টার’-দের প্রতি। এজন্যই এই স্টাররা হয়ত নিজেদের ব্যক্তিজীবনকে যতটা সম্ভব আলাদা করতে চান পেশাগত জীবন থেকে। ব্যক্তিজীবনকে আড়াল করতে চান ক্যামেরা থেকে।

তারপরেও সবসময় তারা নিস্তার পাননা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘পাপারাজ্জি’-দের হাত থেকে। প্রকাশ হয়ে যায় তাদের অন্তর্বাসের রঙ থেকে শুরু করে বেডরুমের গোপনীয়তা পর্যন্ত।
/ALTERNATES/w640/Opu+Biswas_10042017_000016.jpg” width=”512″ />

মুভিস্টারদের জীবন বরাবরই সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যেঘেরা। ক্যামেরার পেছনে কেমন তাদের জীবনযাত্রা, তারা কখন কোথায় গেলেন, কে কার সাথে মিশছেন, কোথায় আড্ডা দিচ্ছেন এমনকি কোন রেস্টুরেন্টে বসে কী খাচ্ছেন সেগুলো রীতিমত খবরে পরিণত হয়।

/ALTERNATES/w640/Opu+Biswas_10042017_000016.jpg” width=”512″ />

আর ক্যামেরার সামনে-পেছনে তাদের এই রহস্যেভরা জীবনকাহিনীকে উন্মোচিত করতে, তাদের সম্পর্কে জানতে-জানাতে মুখিয়ে থাকেন সংবাদকর্মীরা। সাধারণ মানুষের মনে উশখুশ করতে থাকা বিভিন্ন প্রশ্ন আর চটকদার গুজবের হালে হাওয়া লাগে তাদের সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদে।

কেউ বায়ুত্যাগ করলেও খবর হয়, জন্মদিনে গরীবদের খাওয়ালেও খবর হয়। পেশাগত জীবনে তাদের সাফল্যও মানুষ খবর হিসেবে নেয় আবার তাদের ব্যর্থতাও সেই খবরের কাগজেই আসে।

সবকিছু মিলে সাধারণ মানুষের অন্তহীন জিজ্ঞাসা বিনোদন জগতের ‘স্টার’-দের প্রতি। এজন্যই এই স্টাররা হয়ত নিজেদের ব্যক্তিজীবনকে যতটা সম্ভব আলাদা করতে চান পেশাগত জীবন থেকে। ব্যক্তিজীবনকে আড়াল করতে চান ক্যামেরা থেকে।

তারপরেও সবসময় তারা নিস্তার পাননা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘পাপারাজ্জি’-দের হাত থেকে। প্রকাশ হয়ে যায় তাদের অন্তর্বাসের রঙ থেকে শুরু করে বেডরুমের গোপনীয়তা পর্যন্ত।

বিশ্বজুড়ে বিনোদন জগতের এইসব সুপারস্টারদের সম্পর্কে আমরা সবাই-ই হয়ত কমবেশি জানি। তবে পরিস্থিতিটা ভিন্ন হলিউড-বলিউড থেকে ভিন্ন ঢালিউডে। ‘রক্ষণশীল’ ঘরানার এদেশী সমাজে বিনোদন জগতে পা ফেলাই একটা মেয়ের জন্য সমাজের ভ্রুকুটিতে পড়া। সেখানে বড়পর্দার নানা গুজবকে পাশ কাটিয়ে দিনের পর দিন কাজ করে যাওয়া, সেই কাজের ফাঁকে সহকর্মী-বন্ধুর সাথে ভালবাসায় জড়ানো এবং তাকে চূড়ান্ত রূপ দেয়া নিঃসন্দেহে এদেশি একটা মেয়ের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের কঠিন কাজ।

২০০৮ সালে বিয়ে করে সেটাকে এতোদিন ধরে গোপন রেখে আসছিলেন অপু বিশ্বাস। শুধুমাত্র শাকিবের ভালোর জন্য, শাকিবকে ভালোবেসে করেছিলেন চূড়ান্ত মাত্রার ত্যাগস্বীকার।

এখানে ছোট্ট একটা ঘটনা না বললেই নয়- বাসে করে অফিসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম সেদিন। পাশের সিটে বসা প্রায় সমবয়সী ছেলেটা মোবাইল ফোনে তুমুল ঝগড়া করছিলো গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে। একপর্যায়ে সে বলে ওঠে, “তোরে আমি খাইছি না? তোর লগে আমার সবকিছু হইছে না? এইবার তুই যা আরেক পোলার লগে যা। তোরে ছাইড়া দিলাম….”পরিস্থিতি হয়ত তাকে ঐ কথাগুলো বলতে বাধ্য করেছিলো। কিন্তু আমাদের সমাজে “খাইয়া ছাইড়া দেওয়ার” মতো সুপুরুষের যে অভাব নেই!

তখন অপু নিশ্চয়ই জানতেন, তাদের এই ‘গোপন’ বিয়ে, সম্পর্ক, (মাতৃত্বকালীন) তার হঠাৎ আড়ালে চলে যাওয়া- এসবের জন্যই তিনি একদিন খবরের শিরোনাম হবেন, খাইয়া ছাইড়া দেওয়া সমাজের প্রতিনিধি শাকিব খান নাম্বার ওয়ান-ই থাকবেন। পাশাপাশি অপুকে হতে হবে নিউজের হেডলাইন, সামাজিক হেনস্থা আর কুরুচিপূর্ণ ব্যঙ্গের শিকার।

তবুও তিনি কেনো এত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন? কেনো তিনি নিজের ধর্ম ত্যাগ করে শাকিবের ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন? কেনো নিজের ক্যারিয়ারের থেকে শাকিবের ক্যারিয়ারকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শাকিবের কথা শুনেছিলেন? কেনোইবা তিনি আজ তার সন্তানকে নিয়ে হাজির হলেন টিভির পর্দায়?

কারণ যথাক্রমে তিনি একজন প্রেমিকা, তিনি একজন মা আর তিনি নির্যাতিত-নিপীড়িত এদেশের নারী সমাজের একজন প্রতিনিধি মাত্র। আজ অপুর এই সাহসী পদক্ষেপকে স্যালুট জানাই।

পুরুষশাসিত এই সমাজে নারীর স্বাবলম্বনের বড় বাঁধা এই সমাজই। অপু যেমন শাকিবের নির্লজ্জ চেহারা গোটা দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত করেছেন, তেমন করেই উচিত দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা নির্যাতিত নারীদের রুখে দাঁড়াতে শুরু করা। “খাইয়া ছাইড়া দেওয়া” লম্পটদের সমুচিত জবাব দেওয়া।

অপু বলেছেন, ‘সন্তানকে স্বীকৃতি দিতে পেরেছি, এখন শান্তি’; আমি অনুরোধ করবো- শান্তি কিংবা প্রশান্তি নয় অপু বিশ্বাস। আজকের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে আপনি যে সাহসী ভূমিকার সূচনা করলেন তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও আপনারই।

অপুর প্রতি অনুরোধ রইল, শাকিবের মতো লম্পটদের মুখোশ উন্মোচনে আপনি একজন অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আব্রাহাম খান জয় ও কিছু কথা-

  1. পিতার স্বীকৃতিটা কি খুব জরুরী
    পিতার স্বীকৃতিটা কি খুব জরুরী ছিল?
    শাকিবের মত একজন লম্পটকে পিতা হিসেবে জানার চাইতে পিতৃপরিচয় না থাকাটাই কি বাচ্চাটার জন্য বেটার নয়?

    1. আমাদের সমাজে ‘পিতৃপরিচয়’ খুব
      আমাদের সমাজে ‘পিতৃপরিচয়’ খুব বড় একটি ব্যাপার। যদিও ব্যাপারটা আমার কাছে অহেতুকই মনে হয়।

সার্জিন শরীফ শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =