দেশে আসছে ভারতীয় বিনিয়োগ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি, লজিস্টিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার (প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের আশ্বাস মিলেছে। বাংলাদেশ-ভারত ব্যবসায়ী সম্মেলনে বেসরকারি খাতে ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। স্বাক্ষরিত চুক্তি ও এমওইউগুলো হলো—১. বাংলাদেশের রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড এবং এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মধ্যে ফ্যাসিলিটি চুক্তি, ২. মেঘনা ঘাটে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রথম পর্যায়ে ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ে ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বাস্তবায়ন ও ক্রয় চুক্তি, ৩. ত্রিপুরা থেকে আরো ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভেপার নিগম লিমিটেড এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সম্পূরক চুক্তি, ৪. নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ভারতের এনটিপিসির সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সমঝোতা স্মারক, ৫. ঝাড়খণ্ডে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেড এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে ক্রয় চুক্তি, ৬. ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার মধ্যে ‘হেডস অব আন্ডারস্যান্ডিং’, ৭. কুতুবদিয়া দ্বীপে ৫০০ এমএমএসসিএফডি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে রিলায়েন্স পাওয়ার ও পেট্রোবাংলার মধ্যে এমওইউ, ৮. এলএনজি সহযোগিতার লক্ষ্যে ইন্ডিয়া অয়েল করপোরেশন লিমিটেড এবং বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার মধ্যে এমওইউ, ৯. ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ডিজেল বিক্রি ও ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি, ১০. কনটেইনার পরিবহনে কনটেইনার কম্পানি অব বাংলাদেশ এবং কনটেইনার করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার মধ্যে এমওইউ ১১. চেন্নাইয়ের তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটি এবং চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক, ১২. ভারতের বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতন ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশের খুলনায় অবস্থিত নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে এমওইউ এবং ভারতের টাটা মেডিক্যাল সেন্টার ও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব মেডিক্যাল সার্ভিসেসের মধ্যে এমওইউ। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে উভয় দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বোঝাপড়ার বিষয়টিও এবার অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। তবে বাংলাদেশে শিল্প ও বাণিজ্য বিকাশে যেসব সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে তার সফল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে একাধিক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এটা এই সফরের সবচেয়ে সফল দিক। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আস্থার সৃষ্টি করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “দেশে আসছে ভারতীয় বিনিয়োগ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 5 =