ডা: জাকির নায়েক যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদেরকে জঙ্গি বানাচ্ছে


ডা: জাকির নায়েক কি কখনও কাউকে বলেছে সন্ত্রাস করতে ? কাউকে হত্যা করতে ? না বলে নি। তাহলে জাকির নায়েক কিভাবে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদেরকে জঙ্গি বানাচ্ছে ? যৌক্তিক প্রশ্ন। জাকির নায়েক যেটা করে , সেটা হলো – সে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের মধ্যে খাটি মুমিন হওয়ার আকাংখাটা খুব সুন্দরভাবে ঢুকিয়ে দেয়। অত:পর একজন খাটি মুমিনকে কোরান ও হাদিসে যা যা করতে বলা হয়েছে , সেটাই তারা অনুসরন করে মাত্র , আর সেটা করতে গিয়েই তারা হচ্ছে ভয়ংকর সন্ত্রাসী , জঙ্গি , মানব অস্ত্র। কিভাবে ? সেটাই বলা হবে এখন।



ডা: জাকির নায়েক কি কখনও কাউকে বলেছে সন্ত্রাস করতে ? কাউকে হত্যা করতে ? না বলে নি। তাহলে জাকির নায়েক কিভাবে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদেরকে জঙ্গি বানাচ্ছে ? যৌক্তিক প্রশ্ন। জাকির নায়েক যেটা করে , সেটা হলো – সে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের মধ্যে খাটি মুমিন হওয়ার আকাংখাটা খুব সুন্দরভাবে ঢুকিয়ে দেয়। অত:পর একজন খাটি মুমিনকে কোরান ও হাদিসে যা যা করতে বলা হয়েছে , সেটাই তারা অনুসরন করে মাত্র , আর সেটা করতে গিয়েই তারা হচ্ছে ভয়ংকর সন্ত্রাসী , জঙ্গি , মানব অস্ত্র। কিভাবে ? সেটাই বলা হবে এখন।

সবাই জানে , জাকির নায়েক কোরানের মধ্যে অনুবীক্ষন ও দুরবীক্ষন যন্ত্র বসিয়ে তার ভিতর থেকে দুনিয়ার সব বিজ্ঞানের তত্ত্ব ও তথ্য আবিস্কার করে , তার পিস টিভির কল্যানে মুসলিম দুনিয়াতে প্রচার করে থাকে। বিগ ব্যাং , স্মল ব্যাং , ব্লাক হোল, হোয়াইট হোল, উটের ডিমের আকৃতির পৃথিবী সহ হেন কিছু নাই যা সে কোরানের মধ্যে খুজে পায় নি। তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল ? সেই ১৪০০ বছর আগে , দুনিয়ার কেউই কিন্তু এইসব বিগ ব্যাং বা ব্লাক হোলের খবর জানত না। সুতরাং , জাকির নায়েক যখন কোরানের মধ্যে এসব খুজে বের করল , সেটা যৌক্তিকভাবে বের করেছে কি না ,সেটার ধার কেউ না ধেরেই , শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা সেটাকে স্বত:স্ফুর্তভাবেই সত্য বলে গ্রহন করল। কারন এসব ছেলে মেয়েদের মাথায় সেই শৈশবেই তাদের মা বাবারা ঢুকিয়ে দিয়েছে মুহাম্মদ হলো শ্রেষ্ট মানব ও নবী , ইসলাম হলো একমাত্র ধর্ম আর সারাক্ষন আল্লাহকে ভয় করতে হবে, না হলে সে দোজখের আগুনে পোড়াবে।শিশুদের মনে এই ভয় জিনিসটা দারুনভাবে কাজ করে। সেই যে দোজখের ভয় তাদের মাথায় শৈশবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে , সেই ভয় থেকে সে আর বের হতে পারে না।

প্রশ্ন হলো – তাকে তো ভুত প্রেত , দৈত্য দানো ইত্যাদির ভয়ও শৈশবে দেখান হতো , কিন্তু বড় হয়ে এদের ভয় থেকে মুক্ত হলো কিভাবে ? বড় হয়ে এরা জেনেছে , এইসব দৈত্য দানোর কিচ্ছা শুধুই কিচ্ছা , এসবের কোন সত্যতা নেই। সব প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষই সেটা বুঝেছে আর সেটা প্রকাশও করে থাকে। কিন্তু দোজখের আগুনকে তো অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করে , খুব দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করে। রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা সেটা টিভিতে প্রচার করা হয় , মাদ্রাসা , মসজিদ , ওয়াজ মাহফিলে নিয়মিত এই দোজখের আগুনের ভয় দেখান হয়। সুতরাং শৈশবের সেই আগুনের ভয় দিনে দিনে আরও গভীরভাবে তাদের মনে গেথে যায়। সেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা কথাও সে কখনও শোনে না। বরং দিনে দিনে , সেই বিশ্বাসটাাই আরও বেশী সত্য বলে বিশ্বাস করতে শেখে।

এরপর কোন এক দিন তারা জাকির নায়েকের এই কোরানিক বিজ্ঞানের বয়ান শোনে। বিজ্ঞান পড়ুয়া বা শোনা এসব ছাত্র ছাত্রীদের মন তো আগ থেকেই প্রস্তুত, তাই সাথে সাথেই তারা এই বিষয়টা বিনা প্রশ্নেই বিশ্বাস ও গ্রহন করে। আর কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই বিশ্বাস করে যে কোরান অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহর বানী আর মুহাম্মদ তার প্রেরিত নবী। অত:পর তার কি কর্তব্য হয়ে দাড়ায় ? তখন তার একটাই কর্তব্য হয়ে দাড়ায় যে , যে বানী স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহর , তার আদেশ নিষেধ ১০০% ই পালন করতে হবে। যে নবী সেই আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত , তারও আদেশ নিষেধ ১০০% পালন করতে হবে , আর তা হলেই দোজখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এমন কি মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদের চাইতেও তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়। সে হয় আরও বেশী নিবেদিতপ্রান। কারন মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্ররা বিজ্ঞানের এত কিছু জানে না। তাই তারা কোরান যে কি মারাত্মকভাবে আল্লাহর কিতাব সেটা তারা উপলব্ধি করে না। অত:পর সে কোরানের নিচের বানী ও মুহাম্মদের হাদিসগুলো পড়ে – বা কেউ তাদেরকে পড়ে শুনায় ——

সুরা আল ইমরান- ৩: ২৮: মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

সুরা মায়দা- ৫: ৫১: হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

কোরানের নির্দেশ অমুসলিমদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহন করা যাবে না। এরপর সে কোরান থেকেই পড়ে আর আল্লাহ বলছে —-

সুরা আল বায়ইনাহ – ৯৮:৬: আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম প্রানী।

অর্থাৎ অমুসিলমরা হলো কুত্তা বিড়াল শুকরের চাইতেও নিকৃষ্ট প্রানী। আর তখনই তাদের মনের মধ্যে তৈরী হয় অমুসিলমদের প্রতি তীব্র ঘৃণা। এই ঘৃণার মাত্রাটা এত বেশী যে , সেটা তাদের কথা বার্তা , চাল চলন ও আচার আচরনে ফুটে ওঠে। তারা ভিতরে ভিতরে হয়ে ওঠে কঠিন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এক একটা খাটি মুমিন। এরপর তাদের সামনে প্রচার করা হয় , সারা দুনিয়ায় কিভাবে অমুসলিমরা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করছে। এসবের পিছনে আসলে কারা দায়ী, সেটা বিচার করা হয় না। আফগানিস্তান , ইরাক , সিরিয়া , প্যালেস্টাইন ইত্যাদি দেশের ঘটনা তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। তখন এইসব ছেলে মেয়েদের মনের মধ্যে জেগে ওঠে তীব্র প্রতিশোধের নেশা। তারা পরিনত হয় এক একটা মানব অস্ত্র। সর্বশেষে এইসব অমুসলিমদের প্রতি কি আচরন করতে হবে , সেটা দেখান হয় কোরান থেকে , যেমন —

সুরা তাওবা – ৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সুরা তাওবা – ৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

এরপর দেখান হয় স্বয়ং মুহাম্মদ কি বলে গেছে —-

কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩৩
আবু গাসসান-আল মিসমাঈ মালিক ইবন আবদুল ওয়াহিদ (র)……আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় । যদি এগুলো করে তাহলে আমা থেকে তারা জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারন ছাড়া । আর তাদের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

এরপর দেখান হয় কিভাবে অমুসলিমদেরকে হত্যা করতে হবে —

সুরা আনফাল- ৮: ১২: যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

এরপর কোরান থেকে দেখান হয় , উক্ত জিহাদের বিধান যারা অনুসরন করবে , তারাই হবে প্রকৃত মুমিন আর তারা জিহাদ করতে গিয়ে বাঁচলে গাজী , আর মরলে শহিদ হয়ে সোজা বেহেস্তে গমন করবে , তাদের আর দোজখের আগুনে পুড়তে হবে না, —

সুরা নিসা -৪: ৯৫: গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

সুতরাং এর পরে কি আর বুঝতে বাকি থাকে , কিভাবে ডা: জাকির নায়েক আমাদের শিক্ষিত প্রান চঞ্চল তরুনদেরকে বানাচ্ছে এক একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী , জঙ্গি , জীবন্ত মানব বোমা !

অনেকেই এখন এসে বলবে , তারা তো মুসলমানদেরকেও হত্যা করছে। এটাই একটা চরম ভুল কথা। উপরে কোরান ও হাদিসের যে বিধান দেয়া হলো , বাংলাদেশের কয়টা মুসলমান সেটা অনুসরন ও বাস্তবায়ন করতে যায় ? তারা এসব বাস্তবায়ন না করে , নিজেদের মনগড়া ধ্যান ধারনাকে ইসলাম বলে চালায়। তারা বলে জিহাদ হল নিজের আত্মার পরিশুদ্ধির যুদ্ধ , তরবারি দিয়ে যুদ্ধ না। বলা বাহুল্য , প্রকৃত মুমিনের কাছে , এইসব কথিত মুসলমানরা চিহ্নিত হয় মুনাফিক হিসাবে। আর ইসলামে মুনাফিকের শাস্তি কি ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ডা: জাকির নায়েক যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদেরকে জঙ্গি বানাচ্ছে

  1. ১০০% ঠিক আল্লাহ এবং তাঁর রসল
    ১০০% ঠিক আল্লাহ এবং তাঁর রসল সঃ যা বলছেন তাই সত্য তিনি যদি আমাদের কে মালাউনদেরকে মেরে তাদের মাংস খাওয়ারও নির্দেশ দিতেন তাহলে আমরা অবশ্য তাই করতাম,আল্লাহ পাকের নির্দেশ পালনে আমরা কোন নিন্দুকের নিন্দার পরওয়া করি না!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + = 5