বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাদকাসক্তি ও কারন কী!

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে অাসা শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত কেন হয়? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন কখনও।সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নিবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে অাসা প্রতিটি শিক্ষার্থী মেধাবী।কিন্তু এখানে অাসার পর বিভিন্ন কারনে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।অনেকে সেটা থেকে বের হয়ে অাসতে পারেনা অাবার অনেকেই নিজেকে টেনে-হেচড়ে বের করে সাইন করে।অাসুন একটু বিশ্লেশণ করার চেষ্টা করি।

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত কিনবা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে অাসে।বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এতটাই দূর্বল;যে বয়সে একজন তরুন যুবক ছেলে-মেয়ের পয়সা উপার্জন করে পরিবার দেখাশুনা করার কথা সেই বয়সে সে অক্ষম।নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন ছেলে যখন এই চব্বিশ বছর বয়সে বাবার উপর নির্ভর করে চলতে হয় তখন তার কষ্টটা সে ছাড়া কেউ বুঝবে না।চেষ্টান্তরও অসংগতি। পারিবারিক তাড়না ও অত্যাধিক মানসিক চাপ তাকে মাদকদ্রব্যের দিকে ঠেলে দেয়।এখন হয়ত অাপনি বলবেন টাকা পায় কোথেকে? এ প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতে চায়।কারণ বেশিরভাগ নিম্নবিত্ত পরিবারের থেকে উঠে অাসা শিক্ষার্থীর প্রধান মাদক গাঁজা এবং ক্যাম্পাসগুলোতে এগুলো সহজলভ্য।

বিভিন্ন মেডিকেল হেলথকেয়ার সেন্টারের তথ্য বলছে বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ শতাংশ রোগীই আসেন হেরোইন, গাঁজা এবং ফেনসিডিলে আসক্তি সংক্রান্ত মাদকাসক্ত জটিলতার কারনে।এদের মাদকাসক্তের কতিপয় কারণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণটি হচ্ছে সমবয়সীদের (একই শ্রেণী বা পেশা) উৎসাহ ও চাপ সৃষ্টি। গবেষনার মাধ্যমে প্রাপ্ত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: নেশার কৌতুহল এবং উৎসাহ, কাজের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, হতাশা ও অবসাদগ্রস্ততা, আর্থিক অস্বচ্ছলতা ইত্যাদি। অনেকেই আবার আসক্ত হয়ে পড়ছে পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসরন এবং বিলাসবহুল আনন্দময় জীবনযাপনের মাধ্যমে(যা বড়লোক সন্তানের বিলাসিতা)। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্যতা, মাদকের সহজলভ্যতা, প্রেম-ভালোবাসার প্রত্যাখান, পারিবারিক কারনে মানসিক চাপ।দারিদ্র্যতার চরম অাঘৎ, প্রেমেজর্জরিত হৃদয়,পড়াশুনারচাপ অন্যদিকে বিভিন্ন সংগঠনের চাপ তাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যা তাকে মাদকাসক্তির দিকে ধাবিত করে।(কেউ কেউ বেরিয়ে অাসতে সক্ষম হয়)।

অামি নিজেও এ ছোবল থেকে এড়াতে পারিনি নিজেকে। পারিবারিক, ব্যক্তিগত, সংগঠন, লেখাপড়া সাথে সঙ্গীহীন দিনযাপন। যা অামাকেও মাদকের দিকে টেনে নিয়ে গেছে।
মাদকাসক্তর অারো কিছু কারন অাছে সেগুলো ক্রমান্বয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করলাম-
১)বাবা-মায়ের মধ্যে মনমালিন্য সন্তানের দুশ্চিন্তায় অন্যতম কারন।সময় পালটপ বাবা-মা’র ডিভোর্স হলে সন্তান হতাশা ভুলতে মাদকে আসক্ত হয়।
২)প্রেমের ব্যর্থতা কিংবা কাছের বন্ধুর আচরণে কষ্ট ভুলতে একটি ছেলে বা মেয়ে মাদকাসক্ত হয়।
৩)কথায় বলে -“সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে”।তাই বিলাসবহুল বন্ধুদের সাথা মিশতে মিশতে মাদকাসক্ত হয়ে যায়।(এটা একটু ব্যতিক্রমী।উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।নিম্নবিত্তের অধিকাংস এদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে কিনবা মিশতে অানইজি ফিল করে)
৪)অনেক মর্ডান ছেলে-মেয়ে(১৮-২৮/৩০ স্যোসাল মিডিয়া(ইউটিউব)কিংবা সিনেমা দেখে সেটাকে ফ্যাশন মনে করে মাদকাসক্ত হয়।
৫)ধর্মীয় অনুশাসনের অবক্ষয় এর একটা কারন।

তবে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তের অধিকাংশ মানসিক অতিরিক্ত চাপের কারনে মাদকাসক্ত হয়।

বহির্বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশ একটি বৃহৎ সম্ভাবনাময় দেশ।বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা দেশের আগামীর কর্ণধার।দেশ পরিচালনার সূত্রধর।তরুণ প্রজন্মকে ছাড়া বাংলাদেশের সফলতা ভাবা আকাশকুসুম কল্পনা। জীবন সুন্দর, অনাবীল আনন্দ আর উল্লাসের এই অনুভূতি সৃষ্টি করতে তাদের হৃদয় মাঝে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে হবে।মাদকমুক্ত সমাজই পারে একটি সুন্দর ও সুগঠিত জাতি গঠন করতে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠিত দেশ এগিয়ে যাবে অনেকাংশে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক স্বপ্নের পথে তারুণ্যের হাতে হাত রেখে আগামীর ঐ দূর দিগন্ত পথে আর গঠিত হউক একটি সুস্থ ও সুন্দর মাদকমুক্ত সমাজ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 − = 74