স্বপ্নিক ভালবাসা

অদ্ভুত এক স্বপ্নে ঘুম ভাঙলো আসাদের।
স্বপ্নটাকে দুঃস্বপ্নও বলা চলে না।
উঠে বসলো আসাদ।পাশেই আধ ময়লা গ্লাসে পানি ছিল।
ঢক ঢক করে গিললো সে।
বালিশটা ভিজে গেছে ঘামে।ফ্যানটা বন্ধই ছিল।
আর থাকবে নাই বা কেন!
এই দুর্দিনে ফ্যান চালানোতো রীতিমতো বিলাসিতা।
তবুও ফ্যান দেয় সে।আজ আর কোন বাধা মানবে না সে।
গ্রাম থেকে চিঠি এসেছে।টুকটুকির পরীক্ষা সামনে।টাকা দরকার তার।এই নির্দয় সমাজে টাকা কারই বা লাগবে না।এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না সে।
আজ সে কোন অশুভ চিন্তা মাথায় আনবে না।
বারান্দায় যায় আসাদ।
এটাকে ঠিক বারান্দা বলা চলে না।অসম্ভব ছোট একটা জায়গা।তার একপাশে জঞ্জালের স্তুপ।আর আরেক পাশে এক পা ভাঙা একটা মলিন চেয়ার।
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।ফোটায় ফোটায়।সুন্দর দেখাচ্ছে চারপাশ।আকাশে তেমন মেঘ নেই।বেশিরভাগই নীল।
নীল!নীলিমা।
তাই তো!আজ প্রায় এক মাস হয়ে গেল নীলিমার সাথে দেখা হয় না।নীলিমা হয়তো তাকে ভুলে গেছে।কিন্তু সে কিভাবে ভোলে।
আজকের মতো এরকম একটা দিনেই তাদের প্রথম দেখা।
তবে আকাশে সেদিন মেঘ থাকলেও বৃষ্টি ছিল না।
প্রচুর বাতাস ছিল সেদিন।
সেই বাতাসে নীলিমার কালো চুলগুলো উড়ছিল অসম্ভব সুন্দর ভাবে।
পথ হারিয়ে ফেলছিল নীলিমা।কিন্তু সেই হারানো পথেই পথ খুজে নিতে ভুল করে নি আসাদ।
তারপর রোজ তাদের কথা হতো।
সেই বটগাছের তলায়।
নীলিমা মেয়েটা অবশ্য বড্ড চুপচাপ।মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যেত আসাদ।
তবে কন্ঠটা ভারী মিষ্টি।বিধাতা হয়তো এ কারনেই সকল সুন্দরকে সকলের আড়াল করে রাখে হয়তো।যাতে কখনো পুরাতন না হয়।
মাঝে মাঝে তারা সেই ছোট্ট পুকুর পাড়ে হাটতে যেত।হঠাত অকারণেই হেসে উঠতো নীলিমা।অদ্ভুত সুন্দর সেই হাসি।
শিরদাড়া বেয়ে রক্তের স্রোত বয়ে যেত আসাদের।
একবার আসাদ নীলিমাকে জন্মদিনে একজোড়া কানের দুল দিয়েছিল।ওগুলো দেখে নীলিমার চোখ মুখে যে আনন্দের ছায়া দেখেছিল আসাদ,
আজও মনে পড়ে তার।
বৃষ্টি থেমে গেছে।ভাবনায় ছেদ পড়ে আসাদের।
জামা পড়ে সে।
তারপর যায় রজতপুর কবরস্থানে।নীলিমাকে দেখবে সে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 1