কোরান যে আল্লাহর বানী তার প্রমান এবং আল্লাহর কসম কাটা

ইসলাম যে মুমিনদের লজিক বোঝার ক্ষমতা লোপ করেছে , সেটা বোঝা যায় যদি তাদেরকে কোরান যে আল্লাহর বানীবা মুহাম্মদ যে নবী সেটা যদি প্রমান করতে বলা হয়। তারা সার্কুলার লজিকের মধ্যে ঘোরে কিন্তু সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারে না। এছাড়াও কোরানের সর্বশক্তিমান আল্লাহ কেন জড়বস্তুর নামে বার বার শপথ করে , সেটাও এখানে বলা হবে ।

ইসলাম যে মুমিনদের লজিক বোঝার ক্ষমতা লোপ করেছে , সেটা বোঝা যায় যদি তাদেরকে কোরান যে আল্লাহর বানীবা মুহাম্মদ যে নবী সেটা যদি প্রমান করতে বলা হয়। তারা সার্কুলার লজিকের মধ্যে ঘোরে কিন্তু সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারে না। এছাড়াও কোরানের সর্বশক্তিমান আল্লাহ কেন জড়বস্তুর নামে বার বার শপথ করে , সেটাও এখানে বলা হবে ।

প্রশ্ন : কোরান যে আল্লাহর বানী তার প্রমান কি ?
মুমিন: আল্লাহর নবী মুহাম্মদ বলেছেন কোরান আল্লাহর বানী।
প্রশ্ন : মুহাম্মদ যে আল্লাহর নবী সেটা কে বলেছে ?
মুমিন: কোরানই বলেছে মুহাম্মদ আল্লাহর নবী ।

তাহলে সমীকরনটা এরকম হবে ——

মুহাম্মদ আল্লাহর নবী= কোরান বলেছে = মুহাম্মদই বলেছে কোরান আল্লাহর বানী = মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করেছে

তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল ?তার মানে মুহাম্মদ নিজেই নিজেকে নবী দাবী করছে, কোন দ্বিতীয় সাক্ষী নেই। মুহাম্মদই একমাত্র সাক্ষী যে দাবী করেছে কোরান আল্লাহর বানী। দ্বিতীয় কোন সাক্ষী নেই।

মুমিনরা ঠিক এই যায়গাতে এসে আর বুঝতে পারে না। তারা বুঝতে পারে না , কোরান যে আল্লাহর বানী সেটা মুহাম্মদেরই দাবী মাত্র , আর কোন প্রমান নেই। তারা যদি কোনভাবে মুহাম্মদকে নবী প্রমান করতে পারে , তাহলেই কোরান হবে আল্লাহর বানী। কিন্তু তারা প্রমান করতে পারে না মুহাম্মদ আল্লাহর নবী।

বিষয়টা ভালমত বুঝতে , ধরা যাক , বিজ্ঞানী নিউটন প্রস্তাব করলেন – আপেল ফল যে মাটিতে পড়ে তার কারন হলো মহাকর্ষ বল। কিন্তু এটা বললেই মহাকর্ষ বল তত্ত্ব প্রমানিত হয় না।আর সেটা কেউ মানবেও না। তখন তাকে দ্বিতীয় সাক্ষী হাজির করতে হবে। সেই দ্বিতীয সাক্ষীটা কি জিনিস ? সেটা হলো পরীক্ষা নিরীক্ষা ও লব্ধ ফল। তখনই নিউটন কিভাবে সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে , বা কিভাবে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে , সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গানিতিকভাবে তার তত্ত্ব প্রনয়ন করেন। পরে দেখা যায় , সেই তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের সকল বস্তুর গতিকে ব্যখ্যা করা যায়। এই তত্ত্ব থেকে গননা করেই অত:পর বলা যায় , কবে সূর্যগ্রহন হবে , কবে চন্দ্র গ্রহন হবে ইত্যাদি। আর এসবই হলো দ্বিতীয় সাক্ষি বা প্রমান। এই দ্বিতীয় সাক্ষীই প্রমান করে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র সত্য।

মুমিনদের মাথায় লজিক কাজ করে না। তাই তারা এই বিষয়টা আর বুঝতে পারে না। যদি জিজ্ঞেস করা হয় , কোরানের বানী যে আল্লাহর বানী সেটার প্রমান কি ? তাদের উত্তর : কোরানেই আল্লাহ বলেছে সেটা আল্লাহর বানী। —- এটা বলেই তারা ভাব করে , মহা যৌক্তিক উত্তর দিয়ে ফেলল। তারা বোঝে না , কোন ব্যাক্তি কোন বিষয়ে নিজেই সাক্ষী দিলে সেটা সত্য হয় না। যেমন বিষয়টা আর একটা উদারন দিয়ে বুঝান যেতে পারে ।

এক ব্যাক্তি দাবী করল – তার এক কোটি টাকা আছে। এই দাবী করলেই প্রমানিত হবে না যে সত্যি সত্যি তার এক কোটি টাকা আছে। তবে তার এই দাবীটা হলো প্রথম সাক্ষী। তার দাবী সত্য প্রমানিত হবে যদি সে দ্বিতীয় সাক্ষি হাজির করতে পারে। তাকে যখন প্রশ্ন করা হবে -তোমার যে এক কোটি টাকা আছে , তার প্রমান কি ? যদি সে বার বার কসম খেয়েও বলতে থাকে , তার এক কোটি টাকা আছে , তাহলেও সেটা প্রমানিত হবে না। কিন্তু সে যদি সাথে সাথে দ্বিতীয় সাক্ষী যেমন – কোন স্বীকৃত ব্যাংকের একটা লেটেস্ট বৈধ স্টেটমেন্ট হাজির করে , আর তাতে দেখা যায় যে তার নামে এক কোটি টাাকা ব্যালেন্স আছে , তাহলে তার দাবী সত্য বলে প্রমানিত হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্টই হলো এখানে দ্বিতীয় সাক্ষী।

সাধারনত: সমাজে দেখা যায় , যারা মিথ্যাবাদী , তারা কোন বিষয়কে অন্য মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্যে বার বার কসম কাটে। যেহেতু মানুষ তাকে বিশ্বাস করে না , সে নিজেও সেটা জানে , তাই বার বার কসম কেটে সে বুঝাতে চেষ্টা করে , যে সে সত্য কথা বলছে। কিন্তু বার বার কসম কাটলেই কি তার বক্তব্য সত্য বলে প্রমানিত হবে ? বিস্ময়করভাবে আমরা দেখি , কোরান যে আল্লাহর বানী , সেটা প্রমানের জন্যে কোরান( আসলে মুহাম্মদ) নিজেই বার বার জড় বস্তুর কসম কাটছে। যেমন —-

সুরা আত তুর – ৫২: ১: কসম তূরপর্বতের,
২: এবং লিখিত কিতাবের,
৩:প্রশস্ত পত্রে
৪:কসম বায়তুল-মামুর তথা আবাদ গৃহের,
৫:এবং সমুন্নত ছাদের,
৬:এবং উত্তাল সমুদ্রের,

সুরা আন নাজম- ৫৩: ১: নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।
সুরা আল ওয়াক্কিয়া- ৫৬: ৭৫: অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,
সুরা আল মুদাস্সির- ৭৪: ৩২: কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,
৩৩:শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়,
৩৪:শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়,

সুরা আল মুরসালাত- ৭৭: ১:কল্যাণের জন্যে প্রেরিত বায়ুর শপথ,
২:সজোরে প্রবাহিত ঝটিকার শপথ
৩:মেঘবিস্তৃতকারী বায়ুর শপথ
৪:মেঘপুঞ্জ বিতরণকারী বায়ুর শপথ এবং
৫:ওহী নিয়ে অবতরণকারী ফেরেশতাগণের শপথ

সুরা তাকবির- ৮১: ১৫: আমি শপথ করি যেসব নক্ষত্রগুলো পশ্চাতে সরে যায়।
১৬: চলমান হয় ও অদৃশ্য হয়,
১৭:শপথ নিশাবসান ও
১৮:প্রভাত আগমন কালের,

সুরা আল বুরুজ- ৮৫: ১:শপথ গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশের,
২:এবং প্রতিশ্রুত দিবসের

এরকম আরও বহু উদাহরন দেয়া যাবে। আরও বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এইসব শপথের মাত্র দুই একটা ছাড়া বাকী সবই মাক্কি সুরার অন্তর্গত। এটার কি অর্থ বহন করে ? যদি প্রেক্ষাপট চিন্তা করা হয় , তাহলে এর অর্থ পরিস্কার বোঝা যায়। সেটা হলো – মক্কাতে মুহাম্মদ দুর্বল ছিল , লোকজন তাকে পাগল ও উন্মাদ, মিথ্যাবাদী বলত, কেউ তার কথা বিশ্বাস করত না যখন থেকে সে নিজেকে নবী দাবী করে। তার কোন ক্ষমতা ছিল না। তাই মানুষকে তার নিজের বানীকে আল্লাহর বানী বলে চালাতে , সেই আল্লাহর নামে বার বার কসম বা শপথ করে কথা বলা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। কিন্তু মদিনায় গিয়ে অবস্থা পাল্টে যায়। সেখানে সে ধীরে ধীরে ক্ষমতার অধিকারী হয় , ক্ষমতাশালী হয় , একটা বড় দল গঠন করে , তখন আর তার আল্লাহর কোন কসম বা শপথ করে কোন কিছু বলে মানুষকে বিশ্বাস করানোর দরকার পড়ত না। তখন সোজা বিধান চালু হলো – যারাই তার কথা বিশ্বাস করবে না , তারা কাফির মুনাফিক মুর্তাদ , আর তাদের বিরুদ্ধে চিরকালীন জিহাদ বা যুদ্ধ জারি করা হলো ,তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হত্যা করতে হবে।

কোরানের আল্লাহ যদি সর্বজ্ঞানী ও সর্বময় ক্ষমতাশালী সৃষ্টিকর্তাই হয় , তার বানী মানুষকে বিশ্বাস করাতে কেন জড়বস্তুর কসম করতে হবে মিথ্যাবাদীর স্বভাবের মত ? আর কেনই বা অসভ্য ও বর্বর হিংস্র জন্তুর মত তাকে বলতে হবে , যারাই মুহাম্মদের কথা বিশ্বাস করবে না , তাদের ওপর চিরকাল আক্রমন করে তাদেরকে হত্যা করতে হবে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1