কেন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয় । (পর্ব ২)

বিশ্বজগতে যা কিছু আছে তার সব কিছুই পদার্থ এবং শক্তি হিসেবে বিরাজমান রয়েছে। আরেকটি অবস্থা ধরে নেওয়া যায় আর সেটা হলো শুন্যতা। অর্থাৎ বিশ্বজগতের সব কিছুই পদার্থ, শক্তি এবং শুন্যতায় পরিপূর্ণ। এর বাইরে কোন কিছুই নেই। থাকা সম্ভবও নয়।

তাহলে কথা হচ্ছে যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থেকেই থাকে তবে তাকে এই তিনটি অবস্থার মধ্যেই থাকতে হবে। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা হয় পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়ে থাকবে, সেটা না হলে সৃষ্টিকর্তাকে শক্তি দিয়ে তৈরী হতে হবে। আর যদি সৃষ্টিকর্তা এই দুটির কোনটি দিয়েই বিরাজমান না হয়ে থাকে তবে নিরুপায় হয়ে সৃষ্টিকর্তাকে শুন্যতায় পরিণত হতে হবে। অর্থাৎ তখন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব হবে শুন্যতা। আবার আমরা খুব ভালো ভাবেই জানি যে শুত্যতা হলো অস্তিত্বহীনতা। তার মানে দাড়াচ্ছে সৃষ্টিকর্তার কোনই অস্তিত্ব নেই্।
কিন্তু যদি ধরে নেই যে সৃষ্টিকর্তা শুন্যতা নয় তবে অবশ্যই তাকে অস্তিত্বশীল হতে হলে হয় শক্তি অথবা পদার্থে আশ্রয় খুজতে হবে। এক্ষেত্রেও সৃষ্টিকর্তার বাস্তবতার হাত থেকে মুক্তি থাকবে না।

কারণটি বলার আগে আমরা একটু শক্তি এবং পদার্থ নিয়ে কিছু প্রাথমিক আলোচনা সেড়ে নেই।
আমরা জানি মহাবিশ্বের সবকিছুই হয় শক্তি না হয় পদার্থ। আবার পদার্থ হলো সেই উপাদানটি যেটার ভর আছে এবং সেটার উপর বল প্রয়োগ করলে সেটাও সমান পরিমানে বিপরীত বল প্রয়োগ করে। অর্থাৎ কোন পদার্থকে যদি ধাক্কা মারা হয় তবে পদার্থটিও পাল্টা ধাক্কা মারবে। অর্থাৎ পদার্থ তার উপর প্রয়োগকৃত বলকে ফিরিয়ে দিতে পারে যেটা নিউটনের গতির তৃতীয় সুত্রের সাহায্যে বুঝা যায়।
আবার প্রক্ষান্তরে শক্তির এই গুনটা নেই। কিন্তু শক্তির একটা পরীক্ষাশীল অস্তিত্ব আছে। যেমন তাপ শক্তি; আমরা জানি তাপের উপস্থিতি সনাক্ত এবং পরিমাপ করা যায়, কিন্তু তাপ পদার্থের মতো পাল্টা ধাক্কা দিতে পারে না। কিন্তু তাপ পদার্থকে গতিশীল করার ক্ষমতা রাখে। যেমন পানিকে তাপ দিলে এটার আয়তন বেড়ে যায় এবং এটি গতিশীল হতে পারে।

অর্থাৎ শক্তি এবং পদার্থের বৈশিষ্ট্য আমাদের বাস্তব জগতে প্রদর্শন যোগ্য এবং এরা প্রতিনিয়ত নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে থাকে।
সুতরাং যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থেকে থাকে তবে তাকে এই শক্তি এবং পদার্থের মধ্যেই থাকতে হবে এবং তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব যদি থেকে থাকে তবে তার অস্তিত্ব প্রমাণ করা যাবে।
এর মানে হলো যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ কোন ভাবেই পাওয়া না যায় তাহলে প্রমাণিত হবে যে সৃষ্টিকর্তা শক্তি বা পদার্থ নয়। ফলে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব কেবল এবং কেবলমাত্র শুন্যতা বা শুন্য হয়ে যাবে। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ থাকবে না। কিন্তু আমরা জানি আধুনিক বিজ্ঞানের মতে শক্তি এবং পদার্থ হলো একই উপাদানের দুটি ভিন্ন রুপ। আমরা জানি যে শক্তি পদার্থে পরিনত হতে পারে এবং হয়, আবার পদার্থ শক্তিতে রুপান্তর হতে পারে এবং হয়। এর প্রমাণ আমরা পাই নিউক্লিয়ার বোমা এবং সূর্য্যের মধ্যে ঘটমান ফিউশন বিক্রিয়া পর্যবেক্ষন করে। নিউক্লিয়ার বোমায় একটি ভারি পদার্থ অপেক্ষাকৃত কম ভারি পদার্থে পরিনত হয় এবং বিপুল পরিমান শক্তি নির্গত করে। আবার সূর্যের অভ্যন্তরে দুটি হাইড্রোজেন পরস্পর মিলিত হয়ে হিলিয়ামে রুপান্তর হয় এবং অবশিষ্টাংশ শক্তিতে পরিনত হয় যেটা সূর্যতাপ এবং আলো হিসেবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

অর্থাৎ পদার্থ পরিবর্তিত হয়ে শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। আর এর ফলে এটা প্রমাণিত হয় যে অতীতে এই শক্তিটুকু দিয়েই সেই পদার্থটি উৎপন্ন হয়েছিল।
আবার কোয়ান্টাম ফিজিক্সের জ্ঞান থেকে আমরা জানি যে শক্তি থেকে পদার্থের মৌলিক কণিকাগুলো তৈরী হয় যা আবার পদার্থ তৈরী করে।
অর্থাৎ শক্তি দিয়েই পদার্থের তৈরী এবং পদার্থই শক্তির একটি ভিন্ন রুপ।

তাহলে সৃষ্টিকর্তাকেও অস্তিত্বশীল হতে হলে শক্তির উপরেই প্রধানত নির্ভরশীল হতে হবে। ফলে হয় তাকে শক্তিরুপে বিরাজ করতে হবে নয়তো পদার্থরুপে। আর আমরা তার অস্তিত্বের প্রমাণ নির্ণয় করতে পারবো। কারণ মানুষ শক্তি এবং পদার্থের অস্তিত্ব নির্ণয় করতে পারে।

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান বলছে বিশ্বজগতে দুই প্রকারের শক্তি এবং পদার্থ রয়েছে। শক্তির ক্ষেত্রে ধনাত্বক শক্তি ও ঋনাত্বক শক্তি এবং পদার্থের ক্ষেত্রে পদার্থ ও প্রতিপদার্থ।
বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন এমনকি পরিক্ষা করেও দেখেছেন যে পদার্থ এবং প্রতিপদার্থ পরস্পরের সাথে মিলিত হলে ধ্বংস হয়ে যায় এবং শক্তিতে পরিনত হয়। পক্ষান্তরে ধনাত্বক শক্তি এবং ঋনাত্বক শক্তি মিলে ধ্বংস হয়ে শুন্যতায় পরিনত হবে।
বিশ্বজগতের সব পদার্থই তৈরী হয়েছে ধনাত্বক শক্তি দিয়ে। এবং বিজ্ঞানীরা বলেন যে মহাকর্ষ বল তৈরী হয়েছে ঋনাত্বক শক্তি দিয়ে। ফলে আমরা অনুমান করতে পারি যে বিশ্বজগতের পদার্থগুলো যদি শক্তিতে রুপান্তরিত হয়ে যায় তবে আমরা অবশিষ্ট হিসেবে শুধু ঋনাত্বক এবং ধনাত্বক শক্তিকে দেখতে পাবো। আবার কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সুত্র অনুযায়ী এই ধনাত্বক এবং ঋনাত্বক শক্তিগুলো পরস্পরকে ধ্বংস করে দিয়ে শুন্যতায় পরিনত হবে। স্ফিতি তত্ব, স্ট্রিং তত্ব এবং এম তত্ব অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে বিশ্বজগত শুন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনুমান করা যায় যে বিশ্বজগত আবার শুন্যতায় মিলিয়ে যাবে। ফলে থাকবে শুধু শুন্যতা। আবার এই শুন্যতা শুধু পদার্থ বা শক্তিহীনতার শুন্যতা নয় এমনকি এই শুন্যতা স্থান এবং কালেরও শুন্যতা। অর্থাৎ শুন্যতাই হলো বিশ্বজগতের আরেকটি পরিনতি।

সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকে তবে তাকে শক্তি রুপে বিরাজমান থাকতে হবে নয়তো পদার্থরুপে। আর এদুটোর কোনটিই যদি না হয় তবে ধরে নেওয়া যায় যে সৃষ্টিকর্তা হলো পরম শুন্যতা অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব না থাকা।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তিতে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকাটা অসম্ভব ব্যাপার। আর যদি থেকে থাকে তবে তার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যেতো, যা পাওয়া যায়নি। এ থেকে ধরে নেওয়া যায় যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বলে, সময় এবং স্থান (স্পেস) সব সময় ছিল না। শক্তি এবং পদার্থ সৃষ্টি হবার মতো সময় এবং স্থানকেও তৈরী হতে হয়েছে। অর্থাৎ স্থান (স্পেস) এবং সময় (টাইম) কে যেমন অনন্ত এবং সৃষ্টিশীলতার বাইরে বলে ধারনা করা হয়েছিল সেটি সত্যি নয়। পদার্থ (ম্যাটার) এবং শক্তি (এনার্জি) তৈরী হবার মতোই সময় এবং স্থানকেও তৈরী হতে হয়েছে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পদার্থ এবং শক্তি এই সবগুলোই সৃষ্টি হয়েছে। যার মানে হলো পদার্থ এবং শক্তির মতোই স্থান এবং কাল চিরদিন ছিল না।

তাই স্থান এবং কাল সৃষ্টি হবার পূর্বে ছিল স্থান কাল শুন্য এক শুন্যতার জগত। আর এই শুন্যতার মধ্যে কোন কিছুই বিরাজ করতে পারবে না। কারণ কোন কিছুকে অস্তিত্বশীল হতে হলে তাকে স্থান এবং কালের মধ্যেই বিরাজমান থাকতে হবে। স্থান কালের বাইরে কেবল পরম শুন্যতাই (যেখানে শুধু শুন্যতাই থাকবে) বিরাজ করতে পারে। পরম শুন্যতার মধ্যে কেবল পরম শুন্যতাই থাকতে পারে। কোন অস্তিত্বশীল কিছু পরম শুন্যতায় থাকতে পারবে না। কারণ যখনই কোন অস্তিত্বশীল কিছুকে থাকতে হবে তখন সেটা আর পরম শুন্যতা থাকবে না। সেটা তখন অস্তিত্বশীল হয়ে যাবে। আর তাই সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেও থেকে থাকে তবে সেটা আর পরম শুন্যতার পর্যায়ে থাকলো না, সেটা অস্তিত্বশীল হয়ে গেলো।

কিন্তু যেহেতু আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বলছে পদার্থ, শক্তি, স্থান এবং কাল এগুলোর সব কিছুই সৃষ্টি হয়েছে, তাই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব যদি থেকে থাকে তবে বিশ্বজগত সৃষ্টির আগে তার অস্তিত্ব থাকা তত্বগত ভাবে অসম্ভব।
যেহেতু আস্তিকরা দাবী করে থাকে যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা অস্তিত্বশীল সুতরাং আস্তিকদের দাবী অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই স্থান কালের মধ্যেই থাকতে হবে। যেহেতু স্থান কালের বাইরে অস্তিত্বশীল কোন কিছুই থাকতে পারে না তাই সৃষ্টিকর্তাও স্থান কালের বাইরে থাকতে পারবে না যদি সে অস্তিত্বশীল কিছু হয়ে থাকে।

অস্তিত্বশীল কোন কিছুকে অবশ্যই স্থান কালের ভিতরেই বিরাজমান থাকতে হবে। স্থান কালের বাইরে কেবল পরম শুন্যতাই বিরাজ করতে পারবে।
যেহেতু সৃষ্টিকর্তাকে আস্তিকরা অস্তিত্বশীল কিছু বলে দাবী করে থাকে, আর তাই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকতে হলে তাকে স্থান কালের মধ্যেই থাকতে হবে।
আবার যেহেতু স্থান কালের মধ্যে কেবল এবং কেবলমাত্র শক্তি, পদার্থ এবং শুন্যতা বিরাজমান থাকে সুতরাং বলা যায় সৃষ্টিকর্তাকে হয় শক্তি অথবা পদার্থ রুপে থাকতে হবে। আর যদি সেটা না হয় তবে সৃষ্টিকর্তার পক্ষে শুধু একটি সুযোগই (অপশন) থাকবে আর সেটা হলো শুন্যতা।

সৃষ্টিকর্তা যদি শক্তি হয়ে থাকে তবে তার অস্তিত্বের প্রমাণ মানুষ নির্ণয় করতে পারবে। কারণ মানুষ সব ধরণের শক্তিকেই নির্ণয় করতে পেরেছে। আর গুপ্ত শক্তি বা ডার্ক এনার্জির অস্তিত্বও (যা মানুষের ধরা ছোয়ার বাইরে) নির্ণয় করতে পেরেছে। আর পদার্থ এবং গুপ্ত পদার্থ বা ডার্ক এনার্জির অস্তিত্বও বিজ্ঞানীরা নির্ণয় করতে পেরেছে। যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব হয় শক্তি বা গুপ্ত শক্তি অথবা পদার্থ বা গুপ্ত পদার্থ তবে এই শক্তি এবং পদার্থকে যেমন নির্ণয় করা যায় ঠিক তেমনি এগুলোকে সৃষ্টি হতে হয়েছে। সুতরাং যদি সৃষ্টিকর্তা শক্তি এবং পদার্থে বিরাজমান হতো তবে তাকে সৃষ্টি হতে হতো। ফলে সে আর সৃষ্টিকর্তা হতে পারতো না। তখন তাকে অস্তিত্বশীল প্রকৃতি হতে হতো। আর আমরা জানি প্রকৃতির অস্তিত্ব বাস্তব সত্য কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। প্রকৃতির সৃষ্টি হওয়া যুক্তিযুক্ত এবং এটাই ঘটেছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি হওয়া সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে অর্থহীন করে দেয়। এবং সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব শক্তি এবং পদার্থের মধ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে সৃষ্টিকর্তার হাতে একটি সুযোগই অবশিষ্ট্য আছে আর সেটা হলো শুন্যতা।
যেহেতু শুন্যতা মানে অস্তিত্বহীনতা তাই সৃষ্টিকর্তার ধারণার পরিনতি হবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব না থাকা।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের ধারণা দেয় সময় এবং স্থান, শক্তি এবং পদার্থ সৃষ্টি হবার মাধ্যমে আমাদের এই বিশ্বজগত সৃষ্টি হয়েছে। আর এর পূর্বে যে অবস্থা বিরাজ করেছে সেটি হলো স্থান কাল বিহীন এক পরম শুন্যতা। আর এই পরম শুন্যতার জগতে শুধুমাত্র পরম শুন্যতাই বিরাজ করেছে। যেহেতু পরম শুন্যতার জগতে পরম শুন্যতার বাইরে কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়, ফলে বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বে কেবল পরম শুন্যতাই বিরাজমান ছিল। যেখানে শক্তি বা পদার্থ থাকার মতো পর্যাপ্ত স্থান এবং কাল বিরাজমান ছিল না। সেই পরম শুন্যতা থেকে প্রথমে স্থান এবং কাল এবং তার থেকে শক্তি এবং পদার্থ তৈরী হয়েছে। আর এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়েছে।
যেহেতু বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বে কেবল মাত্র অনস্তিত্বশীল পরম শুন্যতাই থাকা সম্ভব অন্য কোন অবস্থা বা অন্য কোন অস্তিত্বশীল কিছুই থাকা সম্ভব নয় তাই বিশ্বজগত সৃষ্টির জন্য কোন অস্তিত্বশীল সৃষ্টিকর্তারও অস্তিত্ব থাকা একেবারে অসম্ভব। কারণ পরম শুন্যতার জগতে কেবলমাত্র অনস্তিত্বশীল পরম শুন্যতাই থাকতে পারে, কোন অস্তিত্বশীল সৃষ্টিকর্তা থাকা অসম্ভব এবং কাল্পনিক ব্যাপার।

প্রাচীণ কালের মানুষ বিশ্বজগতের ব্যাখ্যা করতে যে কাল্পনিক অস্তিত্বশীল সৃষ্টিকর্তার কল্পনা করেছিল, আধুনিক বিজ্ঞান এসে সেই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বহীনতার প্রমাণ হাজির করেছে অপেক্ষাকৃত বাস্তব এবং সম্ভবপর শুন্যতা থেকে বিশ্বজগত সৃষ্টির ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে। প্রাচীন কালের মানুষ বিশ্বজগতের রহস্য বের করতে সৃষ্টিকর্তার মতো এক বৃহৎ রহস্যের আমদানী করেছিল। (এক রহস্য বের করতে আরেক অপেক্ষাকৃত বড় রহস্যের আমদানীর মাধ্যমে।) এর ফলে বিশ্বজগতের ব্যাখ্যা আগের চেয়েও রহস্যময় হয়েছিল। আর সৃষ্টিকর্তার মতো এক কুসংস্কারের ধারণা মানুষের মাঝে স্থান করে নিয়েছিল এমনকি মানুষকে নিয়ন্ত্রনও করেছে সেই কুসংস্কারের সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু যখন বিজ্ঞানের সত্য মানুষ বুঝতে শিখেছে তখন বিশ্বজগতকে বাস্তবতার নিরিখে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে মানুষ। ফলে কাল্পনিক রহস্যময় সৃষ্টিকর্তা বিদায় নিয়েছে একে একে। আধুনিক বিজ্ঞান যখন বিশ্বজগত সৃষ্টির সম্পূর্ণ রহস্য বেদ করতে পেরেছে তখনই সৃষ্টিকর্তা নামের কাল্পনিক রহস্যটি বিদায় নিতে শুরু করেছে।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের ব্যাখ্যা করে দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে বিশ্বজগত শুন্য থেকে বা পরম শুন্যতা থেকে স্থান কাল সৃষ্টির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। আর তাই বিশ্বজগতের ব্যাখ্যায় সৃষ্টিকর্তার মতো কাল্পনিক রহস্যের আর কোন দরকার নেই। পরম শুন্যতা যেহেতু চিরদিন (এখানে সময় অর্থে নয় বরং চিরদিন বলতে জগতের চির অবস্থা বুঝানো হয়েছে।) ধরে বিরাজ করতে পারে, (কারণ সেটা পরম শুন্যতা বা অস্তিত্বহীনতা) আর তাই শুন্যতা থেকে বিশ্বজগত সৃষ্টি হবার ব্যাখ্যাতে আর কোন রহস্য থাকে না। ফলে সৃষ্টিকর্তার মতো কাল্পনিক রহস্যের চির বিদায় ঘটে।

আধুনিক বিজ্ঞান অথবা বাস্তবতা যেহেতু বলে যে শক্তি, পদার্থ, স্থান এবং কাল সৃষ্টি হয়েছে অর্থাৎ শক্তি, পদার্থ, স্থান এবং কালের সৃষ্টির পূর্বে শুধুই পরম শুন্যতা বিরাজমান ছিল তাই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বলে শুন্যতা ছাড়া আর কিছু থাকে না। আর পরম শুন্যতা মানেই অস্তিত্বহীনতা। মানে সৃষ্টিকর্তার অস্তিহীনতা।
অর্থাৎ বাস্তব জগতে সৃষ্টিকর্তা বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 4 =