শেখ হাসিনার হিপোক্রেসি

একনজরে শেখ হাসিনা‘র হিপোক্রেসিঃ

-ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ই এপ্রিল, ২০১৭) আলেম-ওলামা মহাসম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার খুব কষ্ট হয় যখন দেখি বিভিন্ন দেশে মুসলমানেরা মুসলমানদের হত্যা করছে”।

অথচ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে মুসলমানদের উপর আক্রমণ করার জন্য সৌদি আরবের সাথে বাঙলাদেশ রাষ্ট্রও সমর্থন জানিয়েছে। (৩০ মার্চ, ২০১৫)

-২০১৩ সালে জঙ্গিনেতা আল্লামা আহমদ শফী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং একদা একচেটিয়া ধর্মব্যবসায়ের মালিক খালেদা জিয়ার কট্টর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “মহিলাদের সম্পর্কে এই যে নোংরা কথা বলা, উনি (উনি মানে, আহমদ শফি) কি মায়ের পেট থেকে জন্মান নাই? তো, মায়ের সম্মানটুকু উনি রাখবেন না? ওনার কি বোন নেই? নিজের স্ত্রী নেই? তাঁদের সম্মান রাখবেন না? এরকম নোংরা জঘন্য কথা বলবেন! উনি যে নেতাটির (মানে, খালেদা জিয়ার) পাশে বসেছেন, তাঁকে যদি উনি তেঁতুল মনে করেন এবং তাঁর জিভে পানি আসে তাহলে আমার কিছু বলার নাই।”১৩ জুলাই,২০১৩

অথচ, বর্তমানে জঙ্গিনেতা আল্লামা শফীর সাথে শেখ হাসিনার সখ্যতা অতীতে খালেদার সাথে ফালুর সম্পর্ককেও পরাজিত করতে বাধ্য। জঙ্গিনেতার আদর্শে মুগ্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের সূচিপত্র থেকে হুমায়ুন আজাদ, গোলাম মোস্তফা, কাজী নজরুল ইসলাম, সানাউল হোক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, জ্ঞানদাস, লালন শাহ, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, সত্যেন সেন, রনেশ দাশগুপ্ত, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এস ওয়াজেদ আলি প্রমুখের সৃষ্টিশীল কর্ম বাতিল করেন, ব্লগার হত্যায় ইন্ধন দিয়েছেন।

২০১৩ সালে শেখ হাসিনার বক্তব্য বর্তমানে পর্যালোচনা করলে বলা যেতে পারে- আল্লামা শফীর চোখে সকল নারী তেঁতুল, চেটে খাওয়ার জন্য। এখন তো প্রায়ই আল্লামা শফীর সাথে শেখ হাসিনাকে দেখা যায়, তাহলে তো শেখ হাসিনাও আল্লামা শফীর চোখে তেঁতুল। এবার কি তাহলে শেখ হাসিনাকে চেখে দেখা হবে?

-সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য ভাস্কর্যটির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিৎ না”। (১১এপ্রিল, ২০১৭)

শেখ হাসিনা সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্যটিকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে হেফাজতে ইসলামের অযৌক্তিক আবদারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাঁর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। অর্থাৎ শেখ হাসিনাও ধর্মান্ধ, মূর্খ মুসলমানদের মতো মূর্তি ও ভাস্কর্যের পার্থক্যটুকু জানেন না। তাহলে প্রশ্ন উঠবে, শেখ মুজিবের যত ভাস্কর্য নামক মূর্তি স্থাপনা করা আছে তা কি অচিরেই তিনি অপসারণ করবেন? ভাস্কর্যটি ন্যায়ের প্রতীক, তাকে মূর্তির সাথে তুলনা করা বড়ই হাস্যকর বটে। এই ন্যায়ের প্রতীকের সাথে শেখ হাসিনা ধর্মের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

অথচ আজকে ( ১২ এপ্রিল,২০১৭) শেখ হাসিনা বলেন, “বর্ষবরণের সঙ্গে ধর্মকে টেনে আনা অযৌক্তিক”।
ন্যায় বিচারের একটি প্রতীকের সাথে তিনি ধর্মের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন অথচ বাঙালি সংস্কৃতির সাথে ধর্মের এতদিনের বিরোধ তিনি দেখতে পান না, দেখতে চান না। শেখ হাসি দোটানায়; তিনি না হতে পারছেন বাঙালি, না হতে পারছেন মুসলমান।

এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক নৌকা ছাড়া কিছুই নয়। শুধু গলদ একটা জায়গায় রয়ে গিয়েছে। আগামী নির্বাচনে হাসিনার উচিত শুধু একটা নয়, একই সাথে দুই দুইটা নৌকা চিহ্ন সহকারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। কারণ দুই নৌকায় পা দিয়ে হিপোক্রেট একনায়কের ভূমিকা এই মুহূর্তে ওনার চাইতে সুষ্ঠভাবে আর কেউ সম্পন্ন করছেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 3