মালাউনের বৈশাখ

ধরেন কেউ একটা বাচ্চার ছবি পোস্ট করে বললো,একদম পুতুলের মতো লাগছে।
হঠাৎ কইরা কোন এক হ্যাডার ওইখানে আবির্ভাব ঘটবে আর বলবে,মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।আল্লাহর তৈরী মানুষের সাথে তুলনা!!নাঊযুবিল্লাহ।

আমার মাঝে মাঝে মন খারাপ থাকলে আমি নুসরাত ফারিয়ার পোস্টগুলার কমেন্ট পড়ি।কই থেকে যেন একদল হুজুরের আবির্ভাব ঘটে পেজে আর তারা তাদের মহান বাণীগুলা সূচাঢ়ুভাবে লিপিবদ্ধ করে।সেই পেজ থেকে যত বিনোদন নেয়া যায়,কোন ট্রলপেজ হয়তো এত মজা দিতে পারে না।
তাদের কথা হইলো তারা ওই ছবি দেইখা মজাও লুটবে,সাথে যাওয়ার সময় একখানা বাণীও দিয়ে যাবে।

মূল কথায় আসি।আগামী ১৪ তারিখ ১লা বৈশাখ।এই সময়েও ফেসবুকের পাতায় পাতায় পোস্টে পোস্টে কিছু হুজুরের আবির্ভাব ঘটবে।যারা সারা দিন টিএসসি সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মজা লুটবে,আর মজা শেষে বলবে এই হিন্দু সংস্কৃতি বর্জন কর।
আরও বলবে আমি আজকে সকাল বেলায় বের হয়ে রিকশায় এইটা দেখছি,পাশের ফ্ল্যাটে উকি মারতেছিলাম,ওইখানে মিয়া খলিফার শ্যুটিং চলতেছিল,আমাজান বনে গা ঘেষাঘেষি কইরা বসছিল দুইজন আরও কত কি!

ভাই আপনাদের বলি,আপনারা যদি এত হুজুরই হন,তাইলে ক্যান বেগানা(!) নারীর দিকে তাকান।বৈশাখের দিন ক্যান এইসব মালাউনের(!) সংস্কৃতির প্রাঙ্গনে ঘোরাফেরা করেন?
বাংলাদেশে অধিকাংশ মুসলমানই বাঙালি কিন্তু সব বাঙালিই মুসলমান না।
ধর্মের বিধি নিষেধ সবাই-ই জানে।কিন্তু কেউ যদি সেটা পালন করতে না চায় তাইলে আপনি জোর করে তার উপর সেটা চাপায় দেয়ার কোন ক্ষমতা রাখেন না।আপনার যদি বৈশাখ ভাল না লাগে তাহলে খুবই ভাল।বয়কট করুন।

অন্য কে কী করতেছে সেটা দেখার তো কোন দরকার নাই ভাই।আপনি ঠিক থাকলেই হবে।কেউ যদি ধর্মীয় বিধি নিষেধ জেনে তা না মানতে চান,তাইলে সেটা তার ব্যাপার।আপনার এতো চুল্কানি ক্যান?

আজকে নিউজে দেখলাম চারুকলার স্টুডেন্টদের আঁকা দেয়ালচিত্রের উপর মবিল ঢেলে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
আমার মনে হয় এই জিনিসটা চিত্রগুলাকে আরও অর্থবহ করেছে।এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় যে পূর্বে যেমন একদল কাপুরুষ বাঙালি সংস্কৃতিকে মেনে নিতে পারে নি,তারা এখনও আমাদের মধ্যে বিরাজ করছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 1 =