বাংলা নববর্ষ এবং কাওমি আলেমদের বিরোধিতা

ছোটবেলায় মফস্বলের পাব্লিক লাইব্রেরিতে একটা ইসলামি মাসিক ম্যাগাজিন দেখতাম।সেখানে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ইসলাম শাসনব্যবস্থা বিষয়ক বিভিন্ন বক্তব্য থাকত এবং ইরানি সংস্কৃতিকে মুসলিম সংস্কৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা হত।এছাড়া ইরানের বর্ষবরণ উৎসব ‘নওরোজ’ কে সেই পত্রিকায় বিশাল গুরুত্ব দিয়ে , উদযাপনের নানা ছবি দিয়ে স্বাগত জানিয়ে বিশাল বিশাল কলাম লেখা হতো।অথচ বাংলা নববর্ষকে হিন্দুয়ানি উৎসব আখ্যা দিয়ে সব সময় আলেম সমাজ তার বিরোধিতা করে এসেছেন।

আসলে উর্দু-ফার্সি ভাষাকে এদেশের প্রবীণ কাওমিপন্থি আলেমরা ইসলামি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন কারণ তাদের ছাত্রাবস্থায় তাদের ইসলামি হুকুম – আহকাম সংক্রান্ত নিয়ম – কানুন উর্দু অথবা ফার্সি ভাষায় লেখা হত। অথচ ফার্সি ভাষার উতপত্তি অগ্নি উপাসকদের হাতে আর উর্দু এসেছে হিন্দি বা সংস্কৃত থেকে।খুব দুক্ষ হয়, এখনো এদেশের কাওমি মাদ্রাসায় উর্দু-ফার্সি ভাষা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হয় অথচ বাংলা নয়।এদেশের কাওমি আলেমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা তারা বাংলা ভাষাকে নিজেদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন নি এবং ইসলামি হুকুম সংক্রান্ত বই-পুস্তক আর্বি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে পাঠ্যক্রম সাজান নি।তারা এখনো সেই উর্দু-ফার্সি বলয় থেকে বের হতে পারেন নি।

তাদের কাছে ইরানের বর্ষবরণ জায়েজ কিন্তু বাংলা নববর্ষ নয়। ঠিক যেভাবে ১২ রবিউল আওয়ালে রাসূল স: এর জন্মদিন পালন করতে পারব কিন্তু অন্য কোন মুসলিমের জন্মদিন কখনওই না।ধর্ম আর লোকজ সংস্কৃতির পার্থক্য কেউ ন বুঝলে কি আর করা।জানি,তারা এখন বলবেন, মংগল শোভাযাত্রা বের না করলে টিএসসির নারী লাঞ্ছনা ঘটতো না।কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখে তারা উৎসব বন্ধ করতে চান।তবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন মানেই শুধু মংগল শোভাযাত্রা নয়।

বাংগালি যতদিন আছে,শত অপচেষ্টা, নারী লাঞ্ছনা করে উতসব বন্ধের চেষ্টা, বোমা বিস্ফারণ যাই করা হোক না কেন পহেলা বৈশাখে বাংগালি তার উতসবে মাতবেই।শেকড় কে তোমরা উপড়াতে পারবেনা। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংগালি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

56 + = 66