ইসলাম রক্ষার আন্দোলন বাস্তবে কতটুকু ইসলাম সম্মত?

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, প্রকৃত পক্ষে রাজনীতিকে কলুষিত করে নাকি ধর্মকেই কলুষিত করে আজ অবদি কোন গবেষনালব্দ বিশ্লেষন কেউ করেছে কিনা জানি না, তবে এটুকু বলতে পারি এই দুটির(ধর্ম এবং রাজনীতি) সংমিশ্রন বাস্তবে দুটোকেই কলুষিত করে এবং করবে ।বাংলাদেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনেকগুলি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল রয়েছে ।এসব দলগুলো কোন কোনটি স্বতন্ত্রভাবে থাকলেও বেশিরভাগ দলই ক্ষমতার লিপ্সায় বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সাথে জোট বেধে নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ।এসব রাজনৈতিক দলের বাহিরেও রয়েছে অনেকগুলো অরাজনৈতিক ধর্মীয় সঃগঠন ।এসব অরাজনৈতিক সংগঠন আবার ক্ষেত্রবিশেষে আদর্শিক মিলে হোক অথবা নিজ স্বার্থেই হোক ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে থাকে ।সম্প্রতি ইসলাম নিয়ে ব্লগে একটি আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশিত হবার পর থেকে এসব ইসলামী দলগুলো ও তাদের সহযোগী অরাজনৈতিক সংগঠনগুলি ইসলাম রক্ষার আন্দোলনের নামে যে সহিংসতা দেখিয়েছে তা এক কথায় সম্পুর্ন অনৈসলামিক ও জঘন্য পর্যায়ের।তাদের এই সহিংসতায় অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মত রসদ যুগিয়েছে বিতর্কিত সাংবাদিক, উত্তরা ষয়যন্ত্রের হোতা, বিএনপির সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, দৈনিক আমারদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও তার আমারদেশ পত্রিকা।দৈনিক আমারদেশে প্রকাশিত মিথ্যা প্রপাগান্ডায় প্রলুবদ্ধ হয়ে হেফাজতে ইসলাম নামে অরাজনৈতিক একটি উগ্র ধর্মীয় সংগঠন জামাত বিএনপির সৃষ্ট সহিংসতায় অংশ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক অরাজকতার সৃষ্টি করে ।এখানে বলে নেয়া ভাল যে, ধর্ম ভিত্তিক দল না হয়েও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের অন্য উদ্দেশ্যে(ক্ষমতার লিপ্সা ও যুদ্ধাপরাধীদের বাচাঁনো) প্রথম থেকেই এসব উগ্রবাদিতাকে লিড বা প্রটোকল দিয়ে আসছে ।যাইহোক,তাদের সম্মিলিত সহিংসতা রোধ করতে সরকার বাধ্য হয়ে অবশেষে আমারদেশের প্রকাশনা সাময়িক বন্ধ করে দেয় ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মাহমুদুর কে গ্রেফতার করে ।কিন্তু এরপর ও সহিংসতা থামানো যায়নি ।সর্বশেষ জামাত বিএনপির উস্কানিতে ও সহযোগিতায় ঢাকা অবরোধের নাম করে উগ্র হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালায়, এমন কি বেশকটি বইয়ের দোকানে অগ্নিসংযোগ করে কয়েক হাজার কপি কোরান শরীফ ও পুড়িয়ে দেয়।এ সহিংসতা সৃষ্টিতে আমারদেশ পত্রিকা ও মাহমুদুরের অবর্তমানে নতুন করে রসদ যোগায় ফেসবুকের ‘বাঁশের কেল্লা’ সহ কয়েকটি জামাতি পেজ, দিগন্তটিভি ও ইসলামিক টিভি ।অবশেষে সরকার আবারো হার্ডলাইনে যেতে বাধ্য হয় এবং সফলতার সহিত হেফাজতকে ঢাকা থেকে আপাতত বিতাড়ন করে ও ঐ দুটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয় ।

যুগে যুগে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করতে ও বিতর্কিত করতে ইসলামের দুশমনরা নানা প্রপাগান্ডা চালিয়েছে এবং এখন ও চালাচ্ছে ।প্রতিবারই ধর্মভীরু মুসলিম সৈনিকরা শান্তিপুর্নভাবে এসবের প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং জানাচ্ছে ।দুশমনদের হাত থেকে ইসলামের হেফাজতের শান্তিপুর্ন অনেক দিক নির্দেশনা আল – কোরআনেই দেয়া আছে ।নিম্ন উল্লেখিত আল-কোরানের কয়েকটি নির্দেশনার আলোকে জামাত বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক ইসলাম রক্ষার পদ্ধতিটি কতটুকু ইসলাম সম্মত হয়েছে তা বিবেচনা করার দায়িত্ব আপনার বিবেকের উপরই ছেড়ে দিলাম ।

আল-কোরআন যা বলছে….

“…তোমরা জেনে শুনে সত্য গোপন কর না আর সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রন কর না “।
-আল কোরআন (সুরা বাকারা আয়াত নং ৪২)
“…যারা ধর্ম সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন কাজের দায়িত্ব তোমার নেই, তাদের বিষয় আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত”।
–আল কোরআন (সুরা আনআমঃ১৫৯)
“…ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। সৎ পথভ্রান্তপথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে।…” –আল কোরআন (সুরা বাকারাঃ২৫৬)
“…(ধর্ম সম্পর্কে) বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই (আল্লাহ) আপনার জন্য
যথেষ্ট…” –আল কোরআন (সুরা হিজরঃ৯৫)
“…যদি তারা আত্মসমর্পণ (আল্লাহর কাছে) করে তবে নিশ্চয়ই তারা পথপাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কাজ তো কেবল প্রচার করা। আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।”–আল কোরআন
(সুরা আল ইমরানঃ২০)
“…তারপর ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার কর্তব্য তো শুধুমাত্র স্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া…”–আল কোরআন (সুরা নাহলঃ৮২)
“…তুমি মানুষকে হিকমত ও সৎ উপদেশ দিয়ে তোমার প্রতিপালকের (আল্লাহর)পথে ডাক এবং তাদের সাথে ভালভাবে আলোচনা কর। তাঁর (আল্লাহর) পথ ছেড়ে যে বিপথে যায় তার সম্পর্কে আল্লাহ্ই ভাল জানেন,আর যে সৎ পথে আছে তা-ও তিনিই ভাল করে জানেন”
– আল কোরআন (সুরা নাহলঃ১২৫)
“…তোমাদের কাজ তো কেবল প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমারকাজ…” –আল কোরআন (সুরা রাদঃ৪০)
“…আর তোমাদের এই যে জাতি (মানবজাতি), এ তো একই জাতি। আর আমিই (আল্লাহ্) তোমাদের প্রতিপালক।তাই আমাকেই ভয় কর। কিন্তু তারা (মানুষ) নিজেদের বহু ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট। সুতরাং ওদেরকে কিছু কালের জন্য বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও।” –আল কোরআন (সুরা মুমিনুনঃ৫২-৫৪)
“…আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এবাদতের নিয়ম কানুন নির্ধারিত করে দিয়েছি যা ওরা পালন করে… তুমি ওদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক… ওরা যদি তোমার সাথে তর্ক করে তবে বল, ‘তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ্ ভাল করেই জানেন। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন…” –আল কোরআন (সুরা হজঃ৬৭-৬৯)
*প্রাসঙ্গিক একটি হাদীস:
নবীজী (সঃ) বলেছেন,’তোমরা ধর্ম নিয়ে অহেতু বাড়াবাড়ি করো না, কেননা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে তোমাদের পূর্বের অনেক সম্প্রদায় ধ্বংশ হয়ে গিয়েছে’ ।

পরিশেষে :
আল্লাহ সবাইকে সত্য ন্যায় ও হক পথে থাকার তৌফিক দান করুন ।আমীন ।
(আমি ধর্ম বিশেষজ্ঞ নই ।ভুলভ্রান্তি হতেই পারে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “ইসলাম রক্ষার আন্দোলন বাস্তবে কতটুকু ইসলাম সম্মত?

  1. হেফাজতের আন্দোলন যে পুরাই
    হেফাজতের আন্দোলন যে পুরাই জামাতের সাজানো নাটক, এটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। যারা এখনও এটা মানতে চায় না, তারা জীবনেও মানবে না। কারন তাদের চোখ থাকতেও তারা অন্ধ।

  2. “তারা বধির বোবা ও অন্ধ
    “তারা বধির বোবা ও অন্ধ ।সুতরাং তারা আর ফিরবে না”।
    -(আল-কোরআন, সুরা বাকারা,২য় রুকু, আয়াত নং ১৮ )

  3. হেফাজতে জামাতের ছাগলামি যদি
    হেফাজতে জামাতের ছাগলামি যদি এইরকম চলতে থাকে তাইলে আমরাও আমাদের মতো ওদের পুটু মারতে থাকুম, চুপ কৈরা তো আর বইসা থাকতে পারি না

  4. হেফাজতি-জামাতিরা যুগে যুগে
    হেফাজতি-জামাতিরা যুগে যুগে ধরাই খাইবো ! এরা যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, তাতে অতীতেও কোন লাভ হয়নি একনও হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও হবে না…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1