ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য


মূর্তি আর ভাস্কর্যের মূল পার্থক্য হচ্ছে, ভাস্কর্যের সামনে উপাসনা কিংবা পূজা করা যায় না কেবল মাত্র সেটাকে একটা প্রতিকী হিসাবেই মেনে টিকেয়ে রাখা হয় এবং কোন ধর্মের কোন ঈশ্বরের প্রতি ভাস্কর্য নিবেদিত নয়।অন্যদিকে,মূর্তি কেবলমাত্র প্রতিকী না এটাকে বিধি অনুযায়ী পূজাও করা হয়।


মূর্তি বলতে দেবতার প্রতিমাকে বোঝায়। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল “অবয়ব”। মূর্তি দেবতার প্রতিনিধি। সাধারণত পাথর, কাঠ, ধাতু অথবা মাটি দিয়ে মূর্তি নির্মাণ করা হয়।হিন্দুরা মূর্তির মাধ্যমে দেবতার পূজা করে থাকেন। মূর্তিতে দেবতার আবাহন ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা করার পরই হিন্দুরা সেই মূর্তিকে পূজার যোগ্য মনে করেন। ধর্মীয় সংস্কার বা শাস্ত্রের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দেবতার মূর্তি নির্মিত হয়ে থাকে।অর্থাৎ প্রতিমা হল মানুষ যার প্রতিকীকে সামনে রেখে আরাধনা উপাসনা করে, ইহকালে-পরকালে মঙ্গল চায়, ধর্মীয় বিধি মেনে পূজা করে ইত্যাদি।

ভাস্কর্য (ইংরেজি ভাষায়: Sculpture) ত্রি-মাত্রিক শিল্পকর্মকে ভাস্কর্য বলে।অর্থাৎ, জ্যামিতিশাস্ত্রের ঘণকের ন্যায় ভাস্কর্যকে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা সহ ত্রি-মাত্রিক হতে হবে। ভারত, বাংলাদেশ এবং চীনের ন্যায় বিশ্বের সর্বত্র বিভিন্ন ধরনের, বহুমূখী আকৃতির ভাস্কর্য দেখতে পাওয়া যায়। রেনেসাঁ এবং আধুনিককালে এটি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে। পুতুল, মুখোশ, মাটির জিনিসপত্র ভাস্কর্যের উদাহরণ। কিন্তু প্রায় চারশত বছর পূর্বে তুরস্কে ইসলামপন্থী দলের বিধি-নিষেধের কবলে পড়ে সেখানে ভাস্কর্য শিল্পকলার তেমন উন্মেষ ঘটেনি।

মূর্তি আর ভাস্কর্যের মূল পার্থক্য হচ্ছে, ভাস্কর্যের সামনে উপাসনা কিংবা পূজা করা যায় না কেবল মাত্র সেটাকে একটা প্রতিকী হিসাবেই মেনে টিকেয়ে রাখা হয় এবং কোন ধর্মের কোন ঈশ্বরের প্রতি ভাস্কর্য নিবেদিত নয়।অন্যদিকে,মূর্তি কেবলমাত্র প্রতিকী না এটাকে বিধি অনুযায়ী পূজাও করা হয়।

ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে কোর’আনে কোথাও নিষেধ নাই,যা আছে তা মূর্তি পূজার বিপক্ষে এবং মূর্তি পূজা শেরক।তাই ভাস্কর্য কে মূর্তি হিসাবে গুলিয়ে শরবত বানিয়ে খেয়ে ফেলার কোন মানেই হয় না এবং অবৈধ ফতোয়া দেওয়ার কোন যুক্তি নেই। একটি সরল সত্য হলো, ইসলামের বৈধ-অবৈধ নির্দ্ধারণের বেলায় মানদণ্ড হচ্ছে কোর’আন।অথচ আজ আল্লামা ,পীর আরো ইসলামিক টাইটেল লেবাস ধারী ধর্ম ব্যবসায়ীরাই অন্যায় ভাবে ফতোয়া জারি করে।আর তাতে সাধারন ইসলাম ধর্মের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের কথা সায় দিয়ে মাথায় তুলে রাখে নিজেরা নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে না ঘেটে।আর যখনই কেও এসব ভুল ব্যাখ্যার প্রতিবাদ করে সত্যতা যাচাই করে বলবে তখনই তাকে নাস্তিক,ইহুদীদের পেইড এজেন্ট,ইসলাম বিদ্বেষী ইত্যাদি বলে ট্যাগ দেওয়া শুরু করবে এবং তার কল্লার মূল্য নির্ধারণ করে চাপাতি নিয়ে পিছন থেকে আঘাত করে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না।আসল কথা এবং অপ্রিয় সত্য হলো বৃহত্তর মুসলিম ধর্ম বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী ধর্ম ইজারা দিয়ে রাখছে লেবাসধারী ধর্ম ব্যবসায়ীদের মগজের নিকট।আজ আমি বিধর্মী/নাস্তিক/মূরতাদ হয়েও লিখতে হচ্ছে সাধারন ইসলাম ধর্মের মানুষের পক্ষ নিয়ে।এর থেকে বড় ব্যার্থতা আপনাদের জন্য আর কিছু হতে পারেনা!

যাই হোক,লেবাস ধারী ধর্ম ব্যবসায়ীরা যেভাবে সাধারন মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বোকা বানিয়ে নিজেদের সার্থ সফল করে এবং যে রেফারেন্স ব্যবহার করে সেই দিক থেকেই আগে প্রমান হোক করা হোক মূর্তি এবং ভাস্কর্য একই না ভিন্ন।কিন্তু সেই কথায় আসতে হলে নবীর মক্কা বিজয় থেকেই আলোচনা আসতে হবে বলে আমার ধারনা।কারন মক্কা বিজয়ের পর থেকে মূলত মূর্তি বিরোধীতা পাওয়া যায় কোরআন এবং হাদীস থেকে।তাই নিজের ব্যক্তিগত মতামত দীর্ঘায়িত না করে মূল প্রসঙ্গে চলে আসে এবার,-

হুবাল মক্কা নগরীতে পূজিত দেবতা ছিলেন। কাবা শরীফের হুবালের একটি ছবিকে পূজা করা হতো। কারেন আর্মস্ট্রংয়ের মতানুসারে, উপাসনাগৃহটি হুবালের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত ছিলো এবং কাবা শরীফে রক্ষিত ৩৬০ টি মূর্তির মধ্যে হুবালকে প্রধান দেবতা হিসেবে পূজা করা হতো।

হুবালের উপাসনা এবং রক্ষনাবেক্ষণের ভার ছিলো মক্কার কুরাইশ বংশের উপর্। কাবা ঘরের দেয়ালে যে কাল পাথর আছে , যার নাম হজরে আসওয়াদ , সেটাকে প্রাক ইসলামী যুগ থেকে কুরাইশরা অতি পবিত্র জ্ঞান করত। কাবা ঘরে যে ৩৬০ টা মুর্তি ছিল , সেগুলো ছিল কুরাইশদের দেব দেবী।তাদের মধ্যে অন্যতম আরো ৩টা বেদবতার নাম পাওয়া যায় যা,কোরানেও উল্লেখ রয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান দেবী ছিল তিনটা – লাত, উজ্জা আর মানাত।

# তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। (সূরা আন নাজম-৫৩ঃ১৯)

# এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? (সূরা আন নাজম-৫৩ঃ২০)

কুরাইশ ও অন্যান্য প্যাগানরা যখন কাবা ঘরে আসত , প্রথমেই তারা কাবা ঘরকে ঘিরে সাতটা পাক খেত, তারপর কাল পাথরকে চুম্বন করত। তারা বিশ্বাস করত , কাল পাথরকে চুম্বন করলে তাদের সব পাপ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। অর্থাৎ কুরাইশদের কাছে উক্ত কাল পাথর ছিল তাদের ঈশ্বরের মত, যে আসলে কাল পাথরের অবয়বে কাবায় অবস্থান করত।

৬২৪ খিস্টাব্দে বদরের যুদ্ধে মূর্তিপূজারীগণ মুহাম্মদ (সঃ) এর অনুসারী দের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ৬৩০ খিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ (সঃ) কাবাঘরের রক্ষিত হুবাল সহ ৩৬০টি মূর্তি সরিয়ে ফেলেন।কারণ,এই মূর্তিগুলিকে তারা দেবতার আসনে বসিয়েছিল এবং এই বিশ্বাস স্থাপন করেছিল যে, এই মূর্তিগুলি তাদেরকে স্রষ্টার সান্নিধ্য এনে দেবে, স্রষ্টার কাছে সুপারিশ করবে এবং ভাগ্য বদলে দেবে তাদের বিশ্বাস ছিলো।

আচ্ছা এবার দেখা যাক,হাদিস কোরআনে এসম্পর্কে কি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে,

অতঃপর তিনি মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন এবং হাতের মাথা বাঁকানো লাঠি দ্বারা হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করেন। অতঃপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন।[2] এ সময় কা‘বাগৃহের ভিতরে ও বাইরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হাতের লাঠি দ্বারা এগুলি ভাঙতে থাকেন এবং কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়তে থাকেন। وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوْقًا ‘তুমি বল, হক এসে গেছে, বাতিল দূরীভূত হয়েছে। নিশ্চয়ই বাতিল দূরীভূত হয়েই থাকে’ (বনু ইসরাঈল ১৭/৮১)। তিনি আরও পড়েন, قُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيْدُ ‘তুমি বল হক এসে গেছে এবং বাতিল আর না শুরু হবে, না ফিরে আসবে’ (সাবা ৩৪/৪৯)। অর্থাৎ সত্যের মুকাবিলায় মিথ্যা এমনভাবে পর্যুদস্ত হয় যে, তা কোন বিষয়ের সূচনা বা পুনরাবৃত্তির যোগ্য থাকে না।’ (বুখারী হা/৪২৮৭)

ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী অতঃপর তিনি ওছমান বিন ত্বালহাকে ডেকে তাকে ভিতর থেকে সমস্ত মূর্তি-প্রতিকৃতি বের করার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি তার মধ্যে ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর দু’টি প্রতিকৃতি দেখেন। যাদের হাতে ভাগ্য নির্ধারণী তীর দেখে তিনি বলে ওঠেন, قَاتَلَهُمُ اللهُ لَقَدْ عَلِمُوا مَا اسْتَقْسَمَا بِهَا قَطُّ ‘মুশরিকদের আল্লাহ ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! তারা জানে যে, তাঁরা কখনোই এ ধরনের ভাগ্যতীর ব্যবহার করেননি’। তিনি বলেন,مَا كانَ إِبْراهِيمُ يَهُودِيًّا وَلا نَصْرانِيًّا، وَلكِنْ كانَ حَنِيفاً مُسْلِماً، وَما كانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ‘ইবরাহীম কখনো ইহূদী বা নাছারা ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না’ (আলে ইমরান ৩/৬৭)। ইবনু আববাসের অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, সেখানে মারিয়ামের ছবিও ছিল (বুখারী হা/৩৩৫১)। এভাবে সমস্ত ছবি-মূর্তি দূর হওয়ার পর তিনি কা‘বাগৃহে প্রবেশ করেন ও ঘরের চারিদিকে তাকবীর দেন। (বুখারী হা/৪২৮৮)

আচ্ছা এখন দেখা যাক,নবী মুহাম্মদ কেন মূর্তিগুলা ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছিলো তা কোরআনে স্পষ্ট করেই বলা আছে।

# ‘স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বললেন, তুমি কি প্রতিমা সমূহকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছ।’ (আন‘আম-৬/৭৪)

# ‘তুমি এই কিতাবে ইবরাহীমের কথা বর্ণনা কর। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী’। ‘যখন তিনি তার পিতাকে বললেন, হে আমার পিতা! তুমি তার পূজা কেন কর, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না?। ‘হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। অতএব তুমি আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাকে সরল পথ দেখাব’। ‘হে আমার পিতা! শয়তানের পূজা করো না। নিশ্চয়ই শয়তান দয়াময়ের অবাধ্য’। ‘হে আমার পিতা! আমি আশংকা করছি যে, দয়াময়ের একটি আযাব তোমাকে স্পর্শ করবে, অতঃপর তুমি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাবে।’ (মারিয়াম-১৯/৪১-৪৫)

# ‘তোমার উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক! আমি আমার পালনকর্তার নিকটে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি মেহেরবান’। ‘আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং আল্লাহ ব্যতীত যাদের তোমরা পূজা কর তাদেরকে। আমি আমার পালনকর্তাকে আহবান করব। আশা করি আমার পালনকর্তাকে আহবান করে আমি বঞ্চিত হব না।’ (মারিয়াম ১৯/৪৭-৪৮)

# ’ ইবরাহীম স্বীয় পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, ‘এই মূর্তিগুলি কী যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ’? ‘তারা বলল, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এরূপ পূজা করতে দেখেছি’।‘সে বলল, তোমরা প্রকাশ্য গুমরাহীতে লিপ্ত আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও’ । ‘তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ এসেছ, না কেবল কৌতুক করছ’? ‘সে বলল, না। তিনিই তোমাদের পালনকর্তা, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং আমি এ বিষয়ে তোমাদের উপর অন্যতম সাক্ষ্যদাতা’। ‘আল্লাহর কসম! যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা কিছু করে ফেলব।’ (আম্বিয়া-২১/৫২-৫৭)

# ‘এটা শ্রবনযোগ্য।আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার নিকট তা তার জন্য উত্তম।উল্লেখিত ব্যতিক্রমগুলো ছাড়া তোমাদের জন্য চতুস্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে।সুতরাং তোমরা মূর্তিদের থেকে বেচে থাক এবং মিথ্যা কথন থেকে দূরে সরে থাক।‘ (হাজ্জ্ব-২২/৩০)

# ‘আর তাদেরকে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন’। ‘যখন সে স্বীয় পিতা ও সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, তোমরা কিসের পূজা কর’। তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সর্বদা এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি’।‘সে বলল, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি’? ‘অথবা তারা তোমাদের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে কি’? ‘তারা বলল, না। তবে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’।‘ইবরাহীম বলল, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের তোমরা পূজা করে আসছ’?‘তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা’। ‘তারা সবাই আমার শত্রু, বিশ্ব পালনকর্তা ব্যতীত’। ‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন’ । ‘যিনি আমাকে আহার দেশ ও পানীয় দান করেন’ । ‘যখন আমি পীড়িত হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন’। ‘যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন’ । ‘আশা করি শেষ বিচারের দিন তিনি আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিবেন’ । ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর’। ‘এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর’ । ‘তুমি আমাকে নে‘মতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর’। (হে প্রভু) ‘তুমি আমার পিতাকে ক্ষমা কর। তিনি তো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত’। (হে আল্লাহ) ‘পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে লাঞ্ছিত কর না’ । ‘যে দিনে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না’। ‘কিন্তু যে ব্যক্তি সরল হৃদয় নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে’ ।‘জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে’। ‘এবং জাহান্নাম বিপথগামীদের সামনে উন্মোচিত করা হবে’।‘তাদেরকে বলা হবে, তারা কোথায় যাদেরকে তোমরা পূজা করতে’? ‘আল্লাহর পরিবর্তে তারা কি (আজ) তোমাদের সাহায্য করতে পারে কিংবা তারা কি কোনরূপ প্রতিশোধ নিতে পারে’? । ‘অতঃপর তাদেরকে এবং (তাদের মাধ্যমে) পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে’। ‘এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে’ । ‘তারা সেখানে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে বলবে’। ‘আল্লাহর কসম! আমরা প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে ছিলাম’। ‘যখন আমরা তোমাদেরকে (অর্থাৎ কথিত উপাস্যদেরকে) বিশ্বপালকের সমতুল্য গণ্য করতাম’।‘আসলে আমাদেরকে পাপাচারীরাই পথভ্রষ্ট করেছিল’ । ‘ফলে (আজ) আমাদের কোন সুফারিশকারী নেই’ । ‘এবং কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই’। ‘হায়! যদি কোনরূপে আমরা পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ পেতাম, তাহ’লে আমরা ঈমানদারগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম’।‘নিশ্চয়ই এ ঘটনার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। বস্ত্ততঃ তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না’ ।‘নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা পরাক্রান্ত ও দয়ালু।’ (শো‘আরা-২৬/৬৯-১০৪)

# ‘স্মরণ কর ইবরাহীমকে, যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁকে ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ’। ‘তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করছ, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর নিকটে রিযিক তালাশ কর। তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই নিকটে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (আনকাবূত-২৯/১৬-১৭)

# ‘তারা বলেছিল, তোমরা কখনো পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদেরকে এবং কখনো পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে।’ (সূরা নূহ-৭১/২৩)

উপরের আয়াতে উল্লেখিত মূর্তিগুলো সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, এগুলো হচ্ছে নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের কিছু পুণ্যবান লোকের নাম। তারা যখন মৃত্যুবরণ করেছে তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়কে এই কুমন্ত্রনা দিয়েছে যে, তাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে মূর্তি স্থাপন করা হোক এবং তাদের নামে সেগুলোকে নামকরণ করা হোক। লোকেরা এমনই করল। ওই প্রজন্ম যদিও এই সব মূর্তির পূজা করেনি কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত বিষয় অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূজায় লিপ্ত হল। -সহীহ বুখারী হাদীস : ৪৯২০

# ‘আর তারা বলেছিল, তোমরা পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদের এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ সুওয়াকে, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ এগুলো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে।’ (সূরা নূহ- ৭১/২৩-২৪)

আসুন দেখি তাহলে হাদিস কি বলে,

হাদীস শরীফেও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ সম্পর্কে পরিষ্কার বিধান দান করেছেন।

১. হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। -সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২

২. আবুল হাইয়াজ আসাদী বলেন, আলী ইবনে আবী তালেব রা. আমাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে ওই কাজের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা এই যে, তুমি সকল প্রাণীর মূর্তি বিলুপ্ত করবে এবং সকল সমাধি-সৌধ ভূমিসাৎ করে দিবে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে,… এবং সকল চিত্র মুছে ফেলবে।’ -সহীহ মুসলিম হা. ৯৬৯

৩. আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্ত্তত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ -মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭

এবার আসুন তাহলে দেখি,নবী মুহাম্মদ কেন মূর্তিগুলা ভেঙ্গে ফেলতে বলছেন,

‘তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করছ, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর নিকটে রিযিক তালাশ কর। তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই নিকটে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আনকাবুত-২৯/১৭)

উপরের এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে সহজেই বলা যায় ইসলামে মূর্তি পুজা নিষেধ রয়েছে যা কিনা স্পষ্টভাবে বলাও আছে।

হে মুমিনগণ,এই যে মদ,জুয়া,প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়।অতএব,এগুলা থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমার কল্যাণপ্রাপ্ত হও।(সুরা আল মায়িদাহ-৫/৯০)

# জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত।যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহন করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের এবাদত এ জন্যেই করি,যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।নিশ্চয় তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন।আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (আল-যুমার-৩৯/৩)

অর্থাৎ কোরানের নিষেধ মূর্তিপূজা, উপাসনা-আরাধনা-ইবাদত সম্পর্কে। কারণ, মূর্তি স্রষ্টার অংশীদার অর্থাৎ শরিক হয়ে দাঁড়ায়। এটাই মানুষকে মুশরিক বানায়। তাহলে যে ভাস্কর্যকে আরাধনা বা আল্লাহর সাথে শরীক করে না সে সম্পর্কে কোরআনে সুস্পষ্টভাবে কি বলা আছে এবার তাই দেখা যাক,

# তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (সুরা সাবা-৩৪/১৩)

# আপনি বলুনঃ আল্লাহ সাজ-সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে যারা বুঝে।(আ’রাফ-৭/৩২)

সহি মুসলিম – বুক ০০৮, নং ৩৩১১:
আয়েশা (রা.) বলিয়াছেন যে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁহাকে সাত বৎসর বয়সে বিবাহ করিয়াছিলেন (যদিও অন্য রেওয়াতে আমরা পাই ছয় বছর: হাসান মাহমুদ) এবং তাঁহাকে নয় বৎসর বয়সে কনে হিসেবে তাঁহার বাসায় লইয়া যাওয়া হয়, এবং তাঁহার পুতুলগুলি তাঁহার সাথে ছিল এবং যখন তিনি দেহত্যাগ করিলেন তখন তাঁহার বয়স ছিল আঠারো।

সহি মুসলিম – বুক ০৩১ নং ৫৯৮১:
আয়েশা (রা.) বলিয়াছেন যে তিনি আল্লাহর রাসুলের (সা.) উপস্থিতিতে পুতুল লইয়া খেলিতেন এবং যখন তাঁহার সঙ্গিনীরা তাঁহার কাছে আসিত তখন তাহারা চলিয়া যাইত। কারণ তাহারা আল্লাহর রাসুলের (সা.) জন্য লজ্জা পাইত। যদিও আল্লাহর রাসুল (সা.) তাহাদিগকে তাঁহার কাছে পাঠাইয়া দিতেন।

অর্থাৎ, এথেকেও বুঝা যায় যে,নবী মুহাম্মদ মূর্তি পূজারী নিষেধ করেছে ঠিকই কিন্তু ভাস্কর্যকে নিষেধ করলে অবশ্যই নিজের ঘরের স্ত্রী আয়েশাকে পুতুল খেলতে এবং পুতুল গুলোকে সাথে রাখতে দিতো না।

আজ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়,এই আলেম-ওলামারা জঙ্গিবাদ নিয়ে কোন প্রতিবাদ না করে, সুপ্রিম কোর্টের সামনের গ্রীক দেবীর ভাস্কর্যসহ এখন দেশের সকল ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে,সরকার পতনের ডাক দেয়, রাস্তায় নির্মিত স্থাপনার বিরুদ্ধে মিছিল, ওয়াজ-নসীহত, বিক্ষোভ ইত্যাদি কত বড় মূর্খতা, কত বড় অজ্ঞতা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জন্যই এই বিকৃত ইসলামের আলেমদের প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষকে বোঝান মুশকিল যে তোমরা এই ধর্ম ব্যবসায়ী না নিজের জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে,জানো,চিন্তা করতে শিখেন এবং এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন।

উল্লিখিত কোরান-হাদিসের এই নির্দেশে পরিষ্কার বোঝা গেল যে, আল্লাহ ঈশ্বরত্ব আরোপ করার উদ্দেশ্যে, উপাসনা করার উদ্দেশ্যে যে কোন মূর্তি নির্মাণ নিষিদ্ধ করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞা গুলির কারণে মানুষ ধরেই নিয়েছে যে, ভাস্কর্য নিষিদ্ধ এবং এই লেবাসধারী টাইটেল যুক্ত ধর্মব্যবসায়ীরা যা করছে তাই ঠিক আর যারা ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তারাই ইহুদী নাসারাদের পেইড এজেন্ট/নাস্তিক/ইসলাম বিদ্বেষী ইত্যাদি ইত্যাদি।তারপরেও আবার বলবো,দয়া করে অন্ধতা থেকে বের হয়ে আসুন এবং দেশকে এবং নিজেরা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাচান আপনাদের মতই সহজ সরল ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের।আপনাদের এরকম অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে চুপ করে থাকা দেখে আপনাদের প্রতি আমার করুনা হচ্ছে যে, এইভেবে আমার মত একজন ধর্মবিরুধী/প্রথা বিরুধী/নাস্তিকেরও আপনাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে লিখতে হয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধান্ধা দেখিয়ে দিবার জন্য।জানি,তারপরেও আপনাদের হয়তো বিশ্বাস হবে না যে,এই গুলাই অপ্রিয় সত্য কথা এবং ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেটভারী করার জন্যই এসব ফয়দা লুটে।বিশ্বাস না হলে তাদের আয়ের উৎস এবং সম্পত্তির পরিমান দেখুন উত্তর পেয়ে যাবেন।

রেফারেন্সঃ
উইকিপিডিয়া
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মক্কায় প্রবেশ
ইসলামে মূর্তি ও ভাস্কর্য
মূর্তি বিড়ম্বনার ইসলামি আঙ্গিক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য

  1. চমৎকার দাদা
    চমৎকার দাদা

    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 + = 84