শৈশবে শুধু মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হয়না, কিছু ইয়ং তরুনী দ্বারা ছেলে শিশুরাও যৌনাক্রমের শিকার হয়!



অনেকদিন আগের কথা। তখন ক্লাস ফোরে পড়তাম। নয় বছর বয়স। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শহরে মেঝ মামার বাসায় বেড়াতে আসার জন্য মাকে রীতিমত জ্বালাচ্ছি। মা আর না পেরে বাড়ির এক কাকুর সাথে শহরে মামার কাছে পাঠিয়ে দেন। তো এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মামার বাসায় আসা। যেখানে মামারা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন, বাড়িটা দৌতলা। নিচের তলা মামার ফ্যামিলি আর অন্য একটা ভাড়াটিয়া থাকতেন। উপরের তলায় জমিদারের ফ্যামিলি থাকতেন। জমিদারের তিন কন্যা। রোমি, আলিশা, পাপড়ি (ছদ্দনাম)। সবার বড় রোমি, তারপর আলিশা, এবং সবচেয়ে ছোট পাপড়ি। তবে রোমি আর আলিশাকে দেখে সমান বয়সী মনে হতো। রোমি, আলিশা, তখন কলেজ নাকি ভার্সিটিতে পড়তো ঠিক মনে পড়ছে না। কিন্তু পাপড়ি আমার সম বয়সী ছিল।

আমি ছোট বেলায় খুব নাদান ছিলাম। কেউ চকলেট চিপ আঁচাড় বা দুই পাঁচ টাকা দেবে বললে খুশিতে যে যা বলে করে দিতাম। জেঠুদের মাথার পাকনা চুল তুলে দিতাম, হাতের আঙ্গুল টেনে দিতাম। গ্রামের বাড়িতে কেউ বাজারে যেতে বললে, যেতাম। শহরে সেদিন এক বিকেলে মামার বাসার পাশে একটা ছোট মাঠে কিছু অচেনা ছেলের সাথে প্লাস্টিকের বল দিয়ে ক্রিকেট খেলছিলাম। হঠাৎ আলিশা আপু আমাকে ডাকে-
-অপ্রিয়! এই অপ্রিয়!
আমি দৌঁড়ে এসে বললাম, -কি আপু?
-চল আমাদের বাসায় চল।
-এখন খেলছি তো…
-চল চল। চিপ দেব। আমের আঁচাড় দেব।
মনে মনে খুশি হয়ে বললাম, – আচ্ছা চলো।

আলিশা আপু আমাকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। ঘরে আন্টি, আংকেল, রোমি আপুকে দেখিনি। পাপড়িকে পাশের রুমে পড়াচ্ছে তার বিকেল বেলার টিচার। আলিশা আপু আমার হাতে একটা মিস্টার টুইস চিপস দিলেন। তারপর তিনি খাটে শুয়ে পড়লেন। বলবেন,
-অপ্রিয় এদিকে আমার মাথার কাছে আয়। আমার কপালটা একটু টিপে দে।
আমি চিপ খেতে খেতে আপুর মাথার কাছে গেলাম। চিপ রেখে কপাল টিপতে লাগলাম। কিছুক্ষন পর আপু আমার হাতটা তার বুকের কাছে নিয়ে বললেন,
-এখানে টিপে দে।
আমি মিনিট দুয়েক টিপার পর বললাম, -আপু আমি এবার যায়?
আপু বলল, -তোকে দশ টাকা দেব। কিছুক্ষন টিপে দে।

তখন দশ টাকা মানে বিশাল টাকা। আমি তখন আগ্রহ নিয়ে তার বুক টিপতে লাগলাম। কিছুক্ষন পর আপু আমাকে তার পাশে শুয়ে ফেলেন। তিনি আমার উপর পা তুলে দিয়ে দুহাতে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। মোচড়া মুচড়ি করছেন। যেন আমি একটা কোল বালিশ! তিনি আমার গালে কপালে নাকে চিবুকে চুমু দিতে থাকেন। আর বড় বড় শ্বাস ছাড়েন! তখন আপুকে আমার অসহ্য রকম বিরক্ত লাগছিল। আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছিলাম নিজেকে আপুর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে। কিন্তু আপুর যেন ডাইনীর মত শক্তি! খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি অনেকটা চিৎকার দিয়ে বললাম, -ছাড়ো!
আপু আমার মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরলেন। তিনি চাপাস্বরে বললেন, -চুপ!

তারপর আপু আমাকে ছেড়ে দেন। এমন শীতকালেও আপু অনেক ঘেমে যান। আমাকে বসতে বলে তিনি রুমের বাইরে যান। আমি দৌঁড় দিয়ে চলে আসি। পরদিন বিকেলে আমাকে আবার ডেকেছিলেন। আমি যাইনি। আমি মামীর কড়া শাসন আর চোখ রাঙানীকে খুব ভয় পেতাম। এর পরদিন বিকেলে আমাকে মামী বলল,
-তোকে আলিশা ডেকে পাঠিয়েছে, একটু উপরে যা তো।
আমি অনেকটা অনিচ্ছা থাকা স্বত্তেও বললাম, -আচ্ছা যাচ্ছি।

আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠছি, এমন সময় আলিশা আপু উপর থেকে নেমে এসে আমার হাত ধরে বললেন, অপ্রিয় পরশু টাকা না নিয়ে চলে এলি যে?
আমি দাঁতে দাঁত চেপে মুখ নিচু করে বললাম, -না আমার টাকা লাগবে না!
-এই নে দশ টাকা। চল উপরে চল।
আমি টাকাটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলি, -না আমি যাব না!
-চিপস দুটো দেব।
-তোমার চিপ আমি খাবো না বলে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে আমি খেলার মাঠে চলে যায়।

ছোট বেলায় একটু নাদুস নুদুস গুল্টু টাইপের আদুরে ছিলাম। গায়ের রঙ ফর্সা, গোলগাল মুখ আর একটু স্বাস্থ্যবান ছিলাম। ছোট বেলার জীবনে শুধু আলিশা নয়, রোমি আপুও আমাকে দিয়ে তার বুক টিপিয়েছিল। প্রচণ্ড অনিচ্ছা স্বত্তেও তাদের আবদার রেখেছি। কিন্তু কিছু আবদার আমার অনিচ্ছার সীমা অতিক্রম করে ফেলতো! একি কাজ আমার বড় মামার দু মেয়েও করেছিল। মা বড় মামার বাড়িতে যেতে চাইলে, আমি কান্না জুঁড়ে দিতাম না যাওয়ার জন্য। আজ এগুলো বর্ণনা দিয়ে লিখলে আট দশ ফর্মার কয়েকটি বই হয়ে যাবে। অতো ধৈর্য্য নাই লেখার।

তবে যা বলছিলাম, ছোট বেলায় শুধু মেয়েরা না, ছেলে শিশুরাও ইয়ং তরুনী দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ভাগ্যিস ছোট বেলায় ছেলেদের (আমার দৃষ্টিকোন থেকে বলছি) ছোট শিন্ন অনেকটা অপরিপক্ক ও নিষ্ক্রিয় থাকে, বা মনে কোনো যৌন চঞ্চলতা উদ্রেক করে না। নাহলে ছেলে শিশুটি নির্ঘাত ধর্ষনের শিকার হয়ে মারা যেত, বা ভয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যেত।

-মনের মিল ও সমঝোতার মাধ্যমে সঙ্গম করলে সমস্যা নেই। তাদের আমি বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে স্বাগত জানাবো। কিন্তু কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কচলা কচলি করা, বা সঙ্গমে বাধ্য করা এটা যৌন নির্যাতন! এটা ধর্ষন! এটা ঘোরতোর অপরাধ! এটা মানব সভ্যতার লজ্জা! হোক সেটা কোনো বুড়ো দ্বারা কোনো কন্যা শিশু যৌন হয়রানি, কিংবা কোনো সুন্দরি তরুনী দ্বারা ছেলে শিশুকে যৌনাক্রম, কিংবা স্বামী দ্বারা স্ত্রী, স্ত্রী দ্বারা স্বামী….. এটা অন্যায়, চরম অন্যায়। এটা সভ্যতার যুগে মোটেও কাম্য নয়।

২২–৫–১৫

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “শৈশবে শুধু মেয়েরা যৌন হয়রানির শিকার হয়না, কিছু ইয়ং তরুনী দ্বারা ছেলে শিশুরাও যৌনাক্রমের শিকার হয়!

  1. মেয়েরা তো শুধু টিপায় রক্তাক্ত

    মেয়েরা তো শুধু টিপায় রক্তাক্ত করে না, ছেলেদের মোটা শিন্ন আর ছ’সাত ইঞ্চি পুরাটাই ছোট বাচ্ছার যৌনিতে ঢুকিয়ে দেয়। এখনে নারী অপেক্ষা পুরুষ বেশি বর্বর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + = 23