ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞান রঙ্গ। পৃথিবীর অখ্যাত ধর্মের বিজ্ঞানময় কিতাবগুলোর বিজ্ঞানময় বর্ণনা।

সে যেহেতু বিশ্বাস করে তার বিশ্বাসটাই সত্য তাই সে ধরেই নিলো তার ধর্মের কথাগুলো বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে যাবে না। এই অন্ধবিশ্বাসে সে তার প্রভু পাগলা বাবার নামে রচিত লেখাগুলো ভালো করে দেখতে লাগলো। পড়তে পড়তে তার মনে হলো যে পাগলা বাবার বাণীগুলোর মধ্যে বিজ্ঞানের কথা গুলো লেখা আছে। সে উত্তেজিত হয়ে একটি বই লিখে ফেললো তার ধর্মগ্রন্থটি কতটা বিজ্ঞানময় এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কারের কথা কিভাবে সেই দুই হাজার বছর আগের তার ধর্মগুরুর লেখাগুলোর সাথে মিলে যাচ্ছে সেটা দেখিয়ে।

ঘটনার সুত্রপাত আজ থেকে দুই বা আড়াই হাজার বছর আগে। এক বস্ত্রহীন পাগল রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ একটি বুনো হাতি দৌড়িয়ে যাবার সময় সেই পাগলটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সাথে সাথেই পাগলটা উঠে সেই হাতিটিকে গালাগাল দিতে শুরু করে। সেখানে এক ভাবুক কবি বসে পুথি লেখার চেষ্টা করছিল। তার নজর পড়লো সেই পাগলের উপর। কি এক খেয়াল হলো তার সে পাগলটির গালাগালগুলো চট করে লিখে নিলো। এবং সুন্দর করে সেগুলোকে ছন্দের আকৃতি দিল। সেটি অনেকটা এরকম-

“তুই এতো মোটা, মাথায় বুদ্ধি নেই এক ফোটা।”
“দেখতে তুই বলদের মতো, তুই গাধা।
দেখতে বড়, বুদ্ধি নেই এক ফোটা।”
“মেরে হাত ভেঙ্গে দেবো।
পিটিয়ে ছাল তুলে নিবো।
আবার করে চামরাটা তোর
গজিয়ে দেবো।”
“গোল মাথাটা তোর এত্তো বড়; গোটা পৃথিবীর
সমান।”
“সারাদিন ডাকাডাকি করস জানুয়ার কোথাকার?”
“এমন ঘুষি দিবো সারাদিন খালি কাটবি চক্কর।”
“লাত্থি দিবো পেটে, দুধ হবে না তোর।”
“বুকের মধ্যে বুদ্ধি তোর দিবো করে বের।”
“এমন ঘুষি খাবি,
সব রক্ত বের করবো, বাচ্চা কোথাও না পাবি।”
“ভাবছিস কি শক্তি বেশী পাবো না তোর সাথে।
একদিন আমি শক্তি পাবো শাসন করবো তোকে।”
“এমন জিনিস বানাবো যে তোর মাথাটা নত হবে।
জগতে আর আমার মতো কাউকে না আর পাবি!”
“পুরো পৃথিবী মুঠোয় নিয়ে
দেখবো আমি উকি দিয়ে।
লুকালি তুই কোথায় গিয়ে?”
“বুঝবি তখন আমি কি না করতে পারি।
তোর জন্ম মৃত্যু বেঁচে থাকা
বশ্ করতে না ছাড়ি।”

দিনে দিনে পাগলটির অনেক ভক্ত জুটে গেলো। ভূল করে সেই পাগলটির ভক্তদের হাতে একদিন সেই কবির লেখাটি পৌছে গেল। এরপর কালে কালে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেলো। কিন্তু সেই পাগলের ভক্তরা বংশ পরম্পরায় বেঁচে থাকলো।

তার দুই হাজার বছর পরের কথা।
একবিংশ শতাব্দিতে এসে সেই পাগলের ভক্তদের কাছে এখন সেই পাগলটি ভগবান তুল্য হয়ে গেছে। তারা তাকে দেবতার আসনে তুলে দিয়েছে। দিনরাত তার পুঁজা করা হয়। কিছু বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ তাদের কাজগুলো দেখে হাসাহাসি শুরু করে দিলো। তারা পাগলটির ভক্তদেরকে উপহাস করে বলতে লাগলো এই বিজ্ঞানময় জগতে এসেও এরা কুসংস্কারকে আকড়ে ধরে বসে আছে। শুনতে শুনতে পাগলের অন্ধভক্তকুল বিরক্ত হয়ে গেলো। আবার মনের ভেতর থেকে কিছুতেই তারা তাদের অন্ধবিশ্বাসকে বের করতে পারছিল না। অপরদিকে বিজ্ঞানমনস্ক মানুষদেরকে কোন জবাবও দিতে পারলো না। এমন পরিবেশের মধ্যেই সময় অতিবাহিত হতে লাগলো। একদিন সেই পাগলের ভক্তকুলে একটি বাচ্চার আবির্ভাব হলো। সে পড়াশুনা করে অনেক জ্ঞান অর্জন করলো। কিন্তু মনের মধ্য থেকে সেই কুসংস্কারগুলো দুর হলো না। তাই সে তার অশান্ত মনকে শান্ত করার জন্য সে বিজ্ঞানের সাথে তার অন্ধবিশ্বাসের মিল খুজতে লাগলো। সে যেহেতু বিশ্বাস করে তার বিশ্বাসটাই সত্য তাই সে ধরেই নিলো তার ধর্মের কথাগুলো বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে যাবে না। এই অন্ধবিশ্বাসে সে তার প্রভু পাগলা বাবার নামে রচিত লেখাগুলো ভালো করে দেখতে লাগলো। পড়তে পড়তে তার মনে হলো যে পাগলা বাবার বাণীগুলোর মধ্যে বিজ্ঞানের কথা গুলো লেখা আছে। সে উত্তেজিত হয়ে একটি বই লিখে ফেললো তার ধর্মগ্রন্থটি কতটা বিজ্ঞানময় এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কারের কথা কিভাবে সেই দুই হাজার বছর আগের তার ধর্মগুরুর লেখাগুলোর সাথে মিলে যাচ্ছে সেটা দেখিয়ে।
সে একটা একটা করে প্রমাণ দেখাতে থাকলো কিভাবে তার ধর্মগুরুর রচনার সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের অতিসাম্প্রতিক কালের আবিষ্কারগুলোর ধারণা মিলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় সে টিভি, রেডিও এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে দাবী করলো, যেহেতু দুই হাজার বছর পুরোনো তার ধর্মগুরুর লেখার সাথে বিজ্ঞানের অভূতপূর্ণ মিল আছে তাই তার ধর্মগুরু সত্য এবং তার ধর্মটিও সত্য। এ নিয়ে আস্তিককুলের মধ্যে বিরাট হইচই পরে গেলো। বছরের পর বছর ধরে প্রচার হতে লাগলো (মানে সেই পাগল বাবার ভক্তকুল প্রচার করতে থাকলো) সেই ধর্মগ্রন্থে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর কথা মিলে গেছে। তারা নানা রকমের যুক্তি উপস্থাপন করে করে বিজ্ঞানীদেরকে দাঁত-মুখ-কান ভাঙ্গা জবাব দিতে থাকলো। তারা দাবী করলো যদি সেই পাগলা বাবা দেবতাই না হবে তবে তার বাণীর সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের কিভাবে মিল থাকে?
এমন কঠিন প্রশ্ন থেকে বাঁচার তাগিদে সমগ্র বিজ্ঞানীগন আদজল খেয়ে মাঠে নামলেন ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য। তারা সেই পাগলা বাবার বাণী খুলে যা পেলেন এবং তার সাথে বিজ্ঞানের মিল দেখানোর নিয়মগুলো দেখে যা পেলেন তা মোটামুটি এরকম-

প্রমান ১
পাগলা বাবা তার লেখায় বলেছে প্রাণীদের আকৃতি যত বড়ই হোক না কেন তারা মানুষের চেয়ে কম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন। যদি পাগলা বাবা দেবতাই না হবে তবে সে দুই হাজার বছর আগে কিভাবে জানলো যে মানুষই সবচেয়ে বুদ্ধিমান? সে কি সব প্রাণীদেরকে পরীক্ষা করে দেখেছে যে তাদের বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেয়ে বেশী নাকি কম? আমাদের গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা বলেছেন,
“তুই এতো মোটা, মাথায় বুদ্ধি নেই এক ফোটা।”
এখানে “তুই” বলতে মানুষ বাদে সমস্ত প্রাণীজগতকে বুঝানো হয়েছে। আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষায় তুই শব্দটির একটি বিশেষ অর্থ আছে। এটি দিয়ে পশুকে ডাকা হয়। আর তুই শব্দটি “তু” থেকে এসেছে যার অর্থ পশু বা বুদ্ধিহীন প্রাণী। আবার বলা হয়েছে মাথায় বুদ্ধি নেই এক ফোঁটা। বুদ্ধিমত্তা যে মানুষের মাথায় থাকে এটা দুই হাজার বছর আগের এক সাধারণ মানুষ কিভাবে জানলো? জ্ঞানবান দেবতা ছাড়া এটা কেউ বলতে পারে?

প্রমাণ ২
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে, প্রাণী দেহের আকৃতি যত বড়ই হোক না কেন সেই প্রানীর বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে প্রাণীটির মস্তিষ্ক কতটুকু তার উপর। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় মানুষের মস্তিষ্কের আকৃতি সব প্রাণীর থেকে বড়। আর তাই মানুষই পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। অপরদিকে তিমি মাছের আকৃতি বিশাল হওয়া সত্যেও এর মস্তিষ্কের আকৃতি ছোট বলে তিমি মাছের বুদ্ধিমত্তা অনেক কম। দা গ্রট দেবতা “পাগলা বাবা” বলেছেন,
“দেখতে তুই বলদের মতো, তুই গাধা।
দেখতে বড়, বুদ্ধি নেই এক ফোটা।”
এই বাণীটিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে তুই অর্থাৎ পশু এবং মাছেরা হলো বলদের মতো। এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা গাধা নামক প্রাণীটির মতো। এই বাণিটিতে পশুদেরকে আকার আকৃতিতে বিশাল বুঝাতে “বলদ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা যেহেতু অনেক নিচের স্তরের তাই তাদেরকে গাধার মতো বুদ্ধিহীন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষা অনুযায়ী গাধা শব্দটি এসেছে “গা” অর্থ আকৃতি বিশাল এবং “ধা” অর্থ বুদ্ধিহীন বা স্বল্প বৃদ্ধি। আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো “ধা” শব্দটি যখন “গা” শব্দটির পরে ব্যবহৃত হয় তখন এর সঠিক অর্থ হয় কম বুদ্ধির প্রাণী। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি এই গাধা শব্দটি দিয়ে বিশাল আকৃতির কম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রাণীকে বুঝানো হয়েছে। এখন অবিশ্বাসীদের কাছে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নঃ যদি দা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা একজন দেবতাই না হবেন তবে তিনি সেই দুই হাজার বছর আগে কিভাবে জানলেন যে মানুষের চেয়ে বিশাল বিশাল আকৃতির তিমি মাছের বুদ্ধিমত্তা এতো কম? তিনি থাকতেন আফ্রিকার জঙ্গলে যেখানে তিমি মাছ দেখা অসম্ভব। তাহলে না দেখেই তিনি কিভাবে বললেন যে তিমি মাছের আকৃতি বিশাল হওয়া হত্তেও সেটির মস্তিষ্কের আকৃতি এতো কম? একজন আফ্রিকার স্বাধারণ মানুষের পক্ষে এই কথাটি বলা অসম্ভব। তাও আবার দুই হাজার বছর আগে। অতএব আরেকবার প্রমাণিত হলো যে দা গ্রেট পাগলা বাবা একজন দেবতা সমতুল্ল ছিলেন অর্থাৎ একজন দেবতা ছিলেন। মানুষের পক্ষে এসব কথা সেই দুই হাজার বছর পূর্বে জানা সম্ভব ছিল না।

প্রমাণ ৩
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে মানুষের ও পশুদের দেহের চামড়ায় একধরণের নার্ভ টিস্যু আছে। সেই নার্ভ টিস্যু সংকেত বহন করে মস্তিষ্কে পৌছে দেয়। এজন্যই মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণীরা স্পর্শ অনুভব করে এমনকি নানা রকমের ব্যাথা অনুভব করে এই নার্ভ টিস্যুগুলোর কারণে। আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে যে প্রাণীর চামড়ায় নার্ভটিস্যু আছে অর্থাৎ নার্ভাস সিস্টেম আছে। আর বিজ্ঞান আমাদের এটা জানিয়েছে এই কিছুদিন আগে। কিন্তু আমাদের দা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা এই তথ্যটি আমাদের জানিয়েছে সেই দুই হাজার বছর পূর্বে। তিনি বলেছেন,
“মেরে হাত ভেঙ্গে দেবো।
পিটিয়ে ছাল তুলে নিবো।
আবার করে চামরাটা তোর
গজিয়ে দেবো।”
এই বাণীটিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে দেবতা পশুদেরকে এবং যারা অবিশ্বাসী তাদেরকে শাস্তি দেবার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। যারা তার কথার অবাধ্য হবে তাদেরকে তিনি শাস্তি দেবেন। তাদের শাস্তির পরিমাণ এতো বেশী হবে যে তাদের শরীরের চামড়া অর্থাৎ ত্বক পর্যন্ত উঠে যাবে। এবং আবার নতুন চামড়া বা ত্বক গজানো হবে যাতে আবার করে শাস্তি দেওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো সেই দুই হাজার বছর আগের একজন আফ্রিকার জঙ্গলের মানুষ কিভাবে জানতে পেরেছিল যে চামড়ার নিচেই নার্ভটিস্যু আছে। মানুষের শরীরে যে নার্ভাস সিস্টেম আছে সেটি কি দুই হাজার বছরের পূর্বের কোন মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব? সে সময়তো মানুষ শুধু চামড়া বা ত্বককেই দেখতে পেতে। সেই সময়ের মানুষের পক্ষে কি জানা সম্ভব যে চামড়াতে নার্ভ টিস্যু থাকে যা প্রাণীকে ব্যথার অনুভূতি দেয়। এটা একমাত্র কোন অতি ক্ষমতাবাণ দেবতারই জানা সম্ভব। যে তথ্যটি বিজ্ঞান আবিষ্কার করলো এই সেদিন সেই তথ্যটিই কিনা দেওয়া আছে সেই দুই হাজার বছর পূর্বের একটি গ্রন্থে। চিন্তা করে দেখেন!

প্রমাণ ৪
আধুনিক বিজ্ঞান মাত্র কিছু কাল আগে আবিষ্কার করেছে যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকৃতির। প্রাচীন কালের মানুষ ভাবতো তারা যেমনটা দেখে যে পৃথিবী সমতল ঠিক তেমনি পৃথিবীর আকৃতি সত্যিই সমতল। এই ভ্রান্ত ধারণাটি দুই হাজার বছর আগে কেউ জানতো না। এই মাত্র কয়েক শতক আগে মানুষ প্রমাণ পেয়েছে যে পৃথিবী সমতল নয়। বরং পৃথিবী হলো গোলাকৃতির। দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা বলেছেন,
“গোল মাথাটা তোর এত্তো বড়; গোটা পৃথিবীর
সমান।”
এই বাণীটিতে বলা হয়েছে প্রাণীদের মাথার আকৃতি যেমন গোল ঠিক একই ভাবে পৃথিবীর আকৃতিও গোল বা গোলাকৃতির। শুধু তাই নয় বলা হচ্ছে গোলাকৃতির পৃথিবীর আকৃতি বিশাল। এখন আপনার একটু চিন্তা করে দেখুন যদি এই বাণী কোন দেবতার না হতো তবে কিভাবে এই অতিসাম্প্রতিক আবিষ্কারটির কথা সেই দুই হাজার বছর আগের কিতাবে লেখা থাকে? অবশ্যই এই বাণীটি কোন মানুষের নয়। দুই হাজার বছর আগের কোন মানুষ জানতোই না যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকৃতির। বরং তখন সবাই ভাবতো পৃথিবীর আকৃতি সমতল। অথচ দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের বলছেন যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকৃতির মাথার মতই গোল। আপনারা জানেন যে পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ন গোল নয়। এর মাঝের অংশ গোল এবং দুই পাশে সামান্য চ্যাপ্টা। একদম মাথার আকৃতির মতো। মাথা যেমনটা মাঝের অংশ গোল এবং উপর ও নিচে বর্তুলাকার ঠিক একই ভাবে পৃথিবীর আকৃতিও বর্তুলাকার। অর্থাৎ দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা সেই দুই হাজার বছর আগেই বলে গেছেন যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার। অথচ বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে কিছুদিন আগে।

প্রমাণ ৫
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে যে পশুপাখিদেরও ভাষা আছে। তবে তাদের ভাষা মানুষের ভাষার মত নয়। তারা নানা রকমের শব্দ করে তাদের ভাব প্রকাশ করে। বিজ্ঞানীরা এই সেদিন আমাদের জানিয়েছে যে ছোট ছোট প্রাণীদেরও একটি বিশেষ ধরনের ভাষা থাকে। প্রাণীজগতেও যে মানুষের মতো ভাষা আছে সেটি প্রাচীণকালের মানুষের জানা ছিল না। এই কিছুদিন আগেই মাত্র মানুষ জানতে পেরেছেন যে প্রাণীদেরও ভাষা আছে। অথচ সেই দুই হাজার বছর আগে দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের বলে গেছেন যে,
“সারাদিন ডাকাডাকি করস জানুয়ার কোথাকার?”
এই বাণীটিতে বলা হয়েছে প্রাণীরাও কথা বলে। তারা নানা ভাষায় ডাকাডাকি করে যা তারা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য করে। এই বাণীটিতে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হলো জানোয়ার। আফ্রিকা জঙ্গলের ভাষা অনুযায়ী জানুয়ার শব্দটির অর্থ হলো পশু ও পাখি। জানুয়ার শব্দটি এসেছে “জান” অর্থ প্রাণ এবং “য়ার” অর্থ সকল। আর জানুয়ার শব্দটি দিয়ে যখন ডাকাডাকা বুঝানো হয় তখন এর অর্থ হয়ে যায় সকল প্রাণী। আর আফ্রিকা জঙ্গলের ভাষায় ডাকাডাকি শব্দটি দিয়ে কথা বলা বা ভাবের আদান প্রদাণ বুঝানো হয়। অর্থাৎ এই বাণীর সঠিক অর্থ হলো পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুলের মধ্যে ভাষা বিদ্যমান। চিন্তা করে দেখুন যা বিজ্ঞান আবিষ্কার করলো এই কিছুদিন আগে সেটা দুই হাজার বছর আগের একজন মানুষের পক্ষে বলা কিভাবে সম্ভব? এটি শুধু কোন অতিক্ষমতাবাণ দেবতার পক্ষেই বলা সম্ভব।

প্রমাণ ৬
আধুনিক বিজ্ঞান আজ আমাদের জানাচ্ছে যে আমাদের এই পৃথিবী স্থির নয়। প্রাচীণকালের মানুষ যেমনটা মনে করতো যে আমাদের এই পৃথিবীটা বুঝি স্থির। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের পৃথিবীটা স্থির নয়। বরং এটি প্রতিনিয়ত সূর্যের চারপাশে ঘুরছে। দুই হাজার বছর পূর্বে দ্যা গ্রেট দেবতা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে পৃথিবী চক্রাকারে ঘুরছে। তিনি বলেছেন,
“এমন ঘুষি দিবো সারাদিন খালি কাটবি চক্কর।”
দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের জানাচ্ছেন যে তার ক্ষমতা অসীম। সে চাইলেই যে কাউকেই যা খুশি তাই করতে পারেন। তিনি চাইলে সবাইকে সঠিক পথে আনতে পারেন। তার ক্ষমতা অসীম। তিনি আরো বলেছেন যে তিনি তার বল প্রয়োগের মাধ্যমে পৃথিবীকে চক্রাকারে ঘূর্ণনশীল করে তৈরি করেছেন। যা প্রাচীণকালের মানুষ জানতো না।
এই বাণীটিকে দেবতার শক্তি বুঝতে ‘ঘুষি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। আফ্রিকা জঙ্গলের ভাষায় ‘ঘুষি’ শব্দটি এসেছে ‘পুষি’ শব্দটি থেকে। আর আফ্রিকার ভাষায় ‘পুষি’ অর্থ শক্তি বা ক্ষমতা। এই বাণীতে দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি তার ক্ষমতা বলে পৃথিবীকে এমন অবস্থা করেছেন যে তা শুধু সারাদিন অর্থাৎ সব সময় সূর্যের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরছে। “সারাদিন খালি কাটবি চক্কর” অর্থাৎ পৃথিবী সব সময়ই চক্রাকারে ঘুরবে। আফ্রিকা জঙ্গলের ভাষায় ঘুষি শব্দটি যখন চক্রাকারে ঘুরার অর্থে ব্যবহৃত হয় তখন এর দ্বারা গোলাকার কোন বৃহৎ কিছুর চক্রাকারে ঘুর্নন বুঝায়। অর্থাৎ দ্যা গ্রেট দেবতা সেই দুই হাজার বছর পূর্বেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার এবং এটি চক্রাকারে সূর্যের চারপাশে ঘুরছে। এখন আপনারা চিন্তা করে দেখুন যে সেই দুই হাজার বছর আগের একজন স্বাধারণ মানুষ কিভাবে জানলো যে আমাদের পৃথিবী শুধু গোলাকারই নয় বরং এটি সূর্যের চারপাশে প্রতিনিয়ত চক্রাকারে ঘুরছে। কোন মানুষের পক্ষে কি এমন কথা বলা সম্ভব যা বিজ্ঞান মাত্র কিছুদিন আগে আবিষ্কার করেছে? এর উত্তর হলো দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা কোন মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন দেবতা।

প্রমাণ ৭
দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদেরকে সেই দুই হাজার বছর আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দুধ হয় পেটের ভিতর থেকে। আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে যে মানুষ এবং প্রাণীদের মধ্যে যারা দুধ প্রদান করে তাদের দুধ তৈরী হয় তাদের পেটের খাবার থেকে উৎপন্ন পুষ্টি থেকে। দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের জানাচ্ছেন যে,
“লাত্থি দিবো পেটে, দুধ হবে না তোর।”
অর্থাৎ দ্যা গ্রেট দেবতা আমাদের জানাচ্ছেন যে হে দুগ্ধ প্রদানকারী মানব ও পশুগণ তোমরা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো এবং আমার উপাসনা করো। যদি তোমরা তা না করো তবে তোমাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করবো। আমি তোমাদের পেটে আঘাত করবো ফলে তোমরা খাদ্য হজম করতে পারবে না। ফলে তোমরা দুগ্ধ উৎপাদন করতে পারবে না।
মানুষ ও পশুরা যে খাবার খায় তা থেকে যে দুধ তৈরি হয় সেটা আগেকার দিনের মানুষরা জানতো না। তারা ভাবতো যে দুধ হয় বিশ্রাম নেবার কারণে। আর আধুনিক বিজ্ঞানের দুধ বিষয়ক আবিষ্কারের আগে কোন মানুষই জানতো না যে কিভাবে মায়ের দুগ্ধ উৎপন্ন হয়। অথচ সেই দুই হাজার বছর পূর্বেই দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের সে সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে গেছেন। যা পাগলা বাবা বলেছেন সেই দুই হাজার বছর আগে আর বিজ্ঞান সেটা আবিষ্কার করেছে এই কিছুদিন আগে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন সেই দুই হাজার বছর আগে যেখানে বিজ্ঞানের জ্ঞান পৌছাতেই পারেনি সেখানে একজন মানুষ কিভাবে বিজ্ঞানের আধুনিক কালের আবিষ্কারের কথা জানতে পারলো? এর কারণ হলো দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা ছিলেন একজন সর্বজ্ঞানী দেবতা।

প্রমাণ ৮
আগেকার দিনের মানুষ ভাবতো যে মানুষের বুদ্ধিমত্তা থাকে তার বুকে। আধুনিক কাল পর্যন্ত ইউরোপিয়ান বিজ্ঞান আমাদেরকে জানিয়েছে যে মানুষের বুদ্ধি থাকে তার বুকের ভিতরে। অথচ আধুনিক বিজ্ঞান এই কিছুদিন আগে আবিষ্কার করেছে যে মানুষের বুদ্ধিমত্তা তার বুকে থাকে না। বরং মানুষের বুদ্ধিমত্তা থাকে তার মাথায়। তার মস্তিষ্কে। দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের জানিয়েছেন যে,
“বুকের মধ্যে বুদ্ধি তোর দিবো করে বের।”
অর্থাৎ দ্যা গ্রেট দেবতা মানুষ ও পশুদের বুদ্ধিমত্তা বুকে রাখেননি। তাহরে কোথায় রেখেছেন? আগেই বলেছি দ্যা গ্রেট দেবতা ‘মাথা মোটা’ বলেছেন। অর্থাৎ পশু ও মানুষের বুদ্ধিমত্তা মাথায় থাকে। মাথার ভিতরে যে মস্তিষ্ক আছে সেখানেই মানুষের বুদ্ধিমত্তা থাকে। দ্যা গ্রেট দেবতা আমাদের দুই হাজার বছর আগেই বলে দিয়েছন যে তোমরা মানুষের বুকের ভেতর বুদ্ধি মত্তা খুজো না; কারণ দ্যা গ্রেট দেবতা বুদ্ধিমত্তা বুকের ভিতর থেকে বের করে দিয়েছেন। এবং বুদ্ধিমত্তা মাথার মস্তিষ্কের ভেতরে রেখেছেন। যা আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করলো এই সেদিন অথচ দ্যা গ্রেট দেবতা তা বলেছেন সেই দুই হাজার বছর পূর্বেই।

প্রমাণ ৯
প্রাচীণকালের মানুষ ভাবতো তারা দৈহিক মিলনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম দেয়। তাদের বিশ্বাস ছিল একমাত্র দেবতা ছাড়া কোন নারীই পুরুষের সাথে মিলন ব্যতিত বাচ্চা জন্ম দিতে পারে না। এবং তারা মনে করতো বাচ্চা জন্ম দানে কোন রক্তের দরকার হয় না। এবং বাচ্চা শুরুতেই পূর্নরুপে পেটে সৃষ্টি হয়। অথচ আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে যে বাচ্চা পূর্ণরুপে পেটের মধ্যে তৈরী হয় না। বরং এটি তৈরি হয় রক্তের মাধ্যমে। পুরুষের শুক্রানু এবং নারীর ডিম্বানু পরস্পরের সাথে মিলে যায় এবং রক্ত ও পুষ্টির মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম নেয়। একই কথা আপনারা পাবেন আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার বাণীতে। তিনি বলেছেন-
“এমন ঘুষি খাবি,
সব রক্ত বের করবো, বাচ্চা কোথাও না পাবি।”
এই বাণীটিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে যদি নারীর শরীরের সব রক্ত বের করে দেওয়া হয় তবে সে আর সন্তান জন্ম দিতে পারবে না।
আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষায় রক্ত শব্দটি এসেছে “র”-এর ভক্ত (অর্থাৎ রক্ত) শব্দটি থেকে। আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষায় “র” দিয়ে এক বিশেষ বস্তু কে বুঝায় যা নরম তুলতুলে কেঁচুর মতো ঝুলন্ত বস্তুকে বুঝায়। আর যখন “র” শব্দটি দিয়ে ভক্তকে বুঝায় (যেমন “র”-এর ভক্ত) তখন এর অর্থ হয়ে যায় তুলতুলে নরম শিশু স্বদৃশ্য সুন্দর সৃষ্টি। অর্থাৎ দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার পবিত্র বানী সেই দুই হাজার বছর আগেই বলেছে যে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্ম কিভাবে হয়। প্রাণীদের এবং মানুষের বাচ্চা জন্মের সময় বা সৃষ্টির সময় নরম তুলতুলে কেঁচুর মতো পদার্থের থাকে সেটা দুই হাজার বছর আগের কোন মানুষের জানা সম্ভব ছিল না। দ্যা গ্রেট দেবতা কি সেই দুই হাজার বছর আগে মানুষের পেটে কিভাবে বাচ্চার সৃষ্টি হয় সেটা দেখেছিল?
আধুনিক বিজ্ঞান বলে মানব ভ্রুণ দুই সপ্তাহ বাদে নরম তুলতুলে কেঁচুর মতো ঝুলন্ত বস্তু স্বদৃশ্য হয়ে যায়। দুই হাজার বছরের পুরোনো আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার বাণীতে লেখা আছে যে মানব সন্তান জন্মের সময় কেঁচুর মতো নরম তুলতুলে ঝুলন্ত বস্তুতে পরিণত হয়। অর্থাৎ দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার মানব জন্ম পদ্ধতির সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের হুবহু মিল রয়েছে।
মানুষের সন্তান যে রক্ত ছাড়া বাঁচতে পারবে না সেটা আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে এই কিছুদিন আগে। যা আধুনিক বিজ্ঞান জানলো এই কিছুদিন আগে সেটা দুই হাজার বছরের পুরোনো বাণীতে কিভাবে লেখা থাকে!

প্রমাণ ১০
আজ থেকে দুই তিন হাজার বছর আগে মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করতে করতে জীবন অতিবাহিত করেছে। তার কোন প্রযুক্তির জ্ঞান ছিল না। তারা মানুষের তৈরি অস্ত্র শস্ত্র ব্যবহার করতো। তারা তীর ধনুক, তলোয়ার বর্শা ইত্যাদি ব্যবহার করতো। তারা জানতো না যে মানুষ এক সময় এতো উন্নত হবে যে তারা বন্দুক, কামান, এমনকি বোমা আবিষ্কার করবে। এবং তারা পুরো পৃথিবীকেই শাসন করবে। তারা পৃথিবীর সব প্রাণীর চেয়ে শ্রেষ্ট হবে এবং সমস্ত পৃথিবীর সব প্রাণীকেই বশ করতে পারবে। শুধু তাই নয় প্রকৃতির বড় বড় প্রাণী যেমন হাতি বা তিমিকে যে মানুষ বশ করতে পারবে সেটা দুই হাজার বছর আগের মানুষের জানা ছিল না।
এ সম্পর্কে দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের বলেছেন-
“ভাবছিস কি শক্তি বেশী পাবো না তোর সাথে।
একদিন আমি শক্তি পাবো শাসন করবো তোকে।”
“এমন জিনিস বানাবো যে তোর মাথাটা নত হবে।
জগতে আর আমার মতো কাউকে না আর পাবি!”
এই বাণী দুটোতে বলা হয়েছে যে প্রাচীনকালে মানুষের বাহুবল কম ছিল। তারা প্রকৃতিতে বিদ্যমান শক্তিশালী প্রাণী যেমন বাঘ, সিংহ ইত্যাদির সাথে পেরে উঠতো না। সেই সময়ের মানুষ যে আজকের দিনের আধুনিক শক্তিশালী প্রযুক্তিতে উন্নত মানুষে পরিণত হবে সেটাই এই বাণীটিতে বর্ননা করা হয়েছে। সেই দুই হাজার বছর পুর্বেই দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে মানুষ এক সময় আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র আবিষ্কার করবে। তারা রকেট, এটমিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, ইত্যাদি আবিষ্কার করে পুরো পৃথিবীকেই শাসন করবে। মানুষ এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করবে যে পৃথিবীর সব প্রাণী মানুষের কাছে মাথা নত করবো।
চিন্তা করুন, দুই হাজার বছর পূর্বের একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কি কখনও জানা সম্ভব ছিল যে এক সময় মানুষ এতো এতো প্রযুক্তি আবিস্কার করবে? রকেট, মহাকাশ যান, বোমা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের কথা বলা হয়েছে সেই দুই হাজার বছর আগে অথচ আধুনিক বিজ্ঞান তা আবিষ্কার করলো এই সেদিন।

প্রমাণ ১১
আজ প্রযুক্তি এতো উন্নত হয়েছে যে মানুষ আজ ঘরে বসেই সারা পৃথিবীর খবর জানতে পারছে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে যুগাযুগ করতে পারছে মুহুর্তেই। শুধু তাই নয় মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর সব তথ্যই দেখতে পাচ্ছে হাতের মুঠোর মধ্যে থাকা মোবাইল ডিভাইসটির মাধ্যমে। আজ এমন প্রযুক্তি রয়েছে যে মানুষ আজ কোন মানুষের অবস্থান যেকোন জায়গায় থেকেই বের করতে পারে। সে শুধু তার মোবাইল ফোনটিতে সার্চ দিবে আর তার দরকারী মানুষের অবস্থান সে জেনে যাবে। অথচ এই তথ্যটি দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা সেই দুই হাজার বছর আগেই দিয়ে গেছেন। দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা তার বাণীতে বলেছেন.
“পুরো পৃথিবী মুঠোয় নিয়ে
দেখবো আমি উকি দিয়ে।
লুকালি তুই কোথায় গিয়ে?”
এই বাণীটিতে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে যে মানুষ এক সময় এমন এক যন্ত্র আবিষ্কার করবে যা দিয়ে সে যে কাউকেই খুজে বের করতে পারবে। সে কোথায় আছে বা কোথায় লুকিয়েছে সব তথ্যই সে যন্ত্রটির মাধ্যমে বের করতে পারবে। অর্থাৎ দুই হাজার বছর আগেই দ্যা গ্রেট পাগলা বাবা আমাদেরকে জানিয়ে গেছেন যে মানুষ এক সময় স্মার্ট মোবাইলফোন আবিষ্কার করবে।
শুধু তাই নয় মানুষ যে এক সময় ঘরে বসেই পৃথিবীর সব খবর জানতে পারবে এবং পৃথিবীটা যে তার হাতের মুঠোয় চলে আসবে সেটিই এই বাণিটির মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা। আধুনিক বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করেছে এই সেদিন সেটা পাগলা বাবা বলেছেন দুই হাজার বছর আগে। চিন্তা করে দেখুন!

প্রমাণ ১২
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এতো এতো উন্নত যে মানুষ যেকোন রোগেরই চিকিৎসা করাতে পারে। ৯৯% ক্ষেত্রে মানুষের রোগ ভালো করার ক্ষমতা মানুষের আছে। এছাড়া ভয়ংকর রকমের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগীকেও বাঁচিয়ে তুলতে পারে। ভালো চিকিৎসা দিয়ে যেমন মৃতপ্রায় মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে ঠিক একই ভাবে মানুষের আয়ু দীর্ঘ করার ক্ষমতাও মানুষ লাভ করেছে। এখন মানুষ আগের তুলনায় অনেক দিন বাঁচে। অর্থাৎ মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়ে গেছে।
দ্যা গ্রেট দেবতা আমাদের বলেছেন,
“বুঝবি তখন আমি কি না করতে পারি।
তোর জন্ম মৃত্যু বেঁচে থাকা
বশ্ করতে না ছাড়ি।”
এই বাণীর মাধ্যমে দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে মানুষ এব সময় চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক উন্নতি সাধন করবে। তারা প্রযুক্তিতে ও বিজ্ঞানের আবিষ্কারে অনেক উন্নতি সাধন করবে। তারা এতোটাই উন্নত হবে যে তারা অনেক আপাত অসম্ভব কিছুকে সম্ভব করতে সক্ষম হবে। এটা আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা সেই দুই হাজার বছর আগেই বলে গেছেন। আর আজকে আধুনিক বিজ্ঞান তা সত্য বলে দেখিয়েছে।
দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা আরো বলেছেন, মানুষ এক সময় চিকিৎসা বিজ্ঞানে এতোটা উন্নতি সাধন করবে যে তারা মানুষ সহ সব পশুপাখিদের জন্ম মৃত্যু নির্ধারন করতে পারবে। তারা মৃত্যু প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রন করার মতো ক্ষমতা রাখবে। আজ আমরা দুই হাজার বছর পরে এসে দেখতে পাচ্ছি যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মানুষকে কৃতিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। যা আমাদের গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা দুই হাজার বছর পূর্বেই বলে গেছেন। মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করা, জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা আবিষ্কার এবং কৃতিম ভাবে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ধারণা সেই দুই হাজার বছর আগেই আমাদের গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা দিয়ে গেছেন। আর সেই ধারণা অনুসরন করেই আধুনিক বিজ্ঞান এসব আবিষ্কার করেছে।

তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার রয়েছে সবগুলোরই ইঙ্গিত আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা সেই দুই হাজার বছর আগেই দিয়ে গেছেন। আর সেটা পড়ে এবং অক্ষরে অক্ষরে অনুসরন করে মানুষ গবেষনা করে এসব আবিষ্কার করেছে। অর্থাৎ পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীরাই আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার বাণীগুলো পড়েই এইসব আবিষ্কার গুলোর ইঙ্গিত পেয়েছে এবং সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো করেছে। অর্থাৎ একথা নির্দ্বিধায় প্রমাণিত হয় যে আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার বাণীগুলো আধুনিক বিজ্ঞানে সাথে একদম মিলে যায়। যেহেতু বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করার দুই হাজার বছর আগেই পাগলা বাবা এগুলো বলে গেছেন তাই এটা নিঃসন্দেহেই প্রমাণীত হয় যে আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কারই আমাদের গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার বাণীগুলো নকল করেই করা হয়েছে।
আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার মাত্র একটি বাণীকাব্য (সুরা) থেকে বিজ্ঞানের এতো এতো আবিষ্কারের কথা জানতে পারছি। তাহলে আপনারাই চিন্তা করুন যে আমাদের দ্যা গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার সম্পুর্ণ বাণীগুলো পড়লে কি পরিমাণ বিজ্ঞানের অনুসন্ধান পাওয়া সম্ভব!
আর তাই একথা নির্দিধায় বলা যায় যে আমাদের গ্রেট দেবতা পাগলা বাবা একজন অতিক্ষমতাবান দেবতা। এবং তার প্রবর্তিত ধর্ম জংলী ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম। যারা এই ধর্ম অনুসরণ করবে তাদের জন্য রয়েছে একশো সত্তরটি স্বর্গের অসীম সুখ। আর যদি তারা এই ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে তবে তাদের জন্য রয়েছে একশো বাহাত্তরটি নরকের অসীম যন্ত্রনা। অতএব সবারই উচিত দলে দলে জংলী ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা। পৃথিবীর সব শিশুই জংলী ধর্মের অনুসারী হয়ে জন্মে। পরবর্তীতে তার বাবা মা তাকে ভিন্ন ধর্মে কনভার্ট করে ফেলে। এজন্যই সবার উচিত জংলী ধর্মে সামিল হয়ে অশেষ পুন্য অর্জন করা।
যারা জংলী ধর্মের সমালোচনা করবে তাদের জন্য রয়েছে একশো বাহাত্তরটা নরকের শাস্তি। এবং আমাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেবার জন্য রয়েছে ইহজগতে ধর্ম অবমাননার শাস্তি।
আমাদের ধর্ম জংলী ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকেই আধুনিক বিজ্ঞান জন্ম নিয়েছে; যা প্রমাণ করে আমাদের ধর্মটিই একমাত্র সত্য ধর্ম।
(বলুন গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার জয়!)

জংলী ধর্মের অনুসারীর লেখা বইটি পড়ে বিজ্ঞানীরা প্রতিবাদ করে বলতে লাগলো এটাতো ভূল কথা বলেছে। এই বাণীগুলোতে বিজ্ঞানের কিছুই বলা নেই। বরং নানা রকমের ভূল কথা বলা হয়েছে। প্রাচীণকালের সাধারণ মানুষের বলা কিছু কথার অর্থকে বদলে দিয়ে এবং নানা রকমের ভিন্ন ব্যাখ্যা এনে এর সাথে বিজ্ঞানের মিল দেখানো হয়েছে। নানা রকমের তুচ্ছ কথাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বিজ্ঞানময় বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই বাণীগুলোর সাথে বিজ্ঞানের কোনই মিল নেই। এগুলো প্রাচীণকালের মানুষের লেখা কিছু অস্পষ্ট বুলি মাত্র। এর সাথে বিজ্ঞানের কোনই মিল নেই। এই লেখক যেভাবে দাবী করেছে যে এই বাণীগুলোর সাথে বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মিল রয়েছে সেটা পুরোটাই বানানো কথা। বরং নানা রকমের গোজামিল দিয়ে পৃথিবীর সব ধর্মের অনুসারীদের মতই তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিজ্ঞানময় দাবী করা হয়েছে। ধর্মগ্রন্থের সাথে বিজ্ঞানের মিলের যে দাবী করা হয় তা সম্পূর্ণই মিথ্যা।

এই বক্তব্য শুনার পর জংলী ধর্মের অনুসারীরা রে রে করে উঠলো। তারা ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার অপরাধে বিজ্ঞানীদের উপর আক্রমন করে বসলো।
একদল বললো, ধর্মানুভূমিতে আঘাত করা উচিত নয়। অন্যদল বললো, ধর্মগ্রন্থগুলোকে জোর করে বিজ্ঞানময় বানানোর চেষ্টা করাটাও অন্যায়।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই পোস্টে গৃহীত অনুবাদগুলো আমরা করিনি। অনুবাদগুলো করেছে জংলী ধর্মের অনুসারীরাই। তাই অনুবাদ ঠিক হয়নি, সঠিক অনুবাদ জানতে হলে আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষা জানতে হবে মার্কা (কু) যুক্তি দিয়ে মন্তব্য করলে আমার বলার কিছুই নেই। অনুবাদ আমি করিনি তাই এর দায় সম্পূর্ণ জংলী ধর্মের অনুসারী অনুবাদকের। অনুবাদের দায় আমার নয়।

জংলী ধর্মের অর্থাৎ গ্রেট দেবতা পাগলা বাবার অনুসারীদের মধ্যে অনেকে অভিযোগ তুলেছিল যে আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষাটির অনুবাদ সঠিক হয়নি বলে মানুষ বুঝতে পারেনি যে পাগলা বাবার বাণীতে কতটুকু বিজ্ঞান লুকিয়ে রয়েছে। তাদের মতে যদি আফ্রিকার জঙ্গলের ভাষায় লিখিত পাগলা বাবার বাণীগুলোর অনুবাদগুলো যদি সঠিক ভাবে করা হয় তবে সেই অনুবাদে স্পষ্ট ভাবেই নাকি বিজ্ঞান বেড়িয়ে আসবে।
কিন্তু যেহেতু অনুবাদ এই পোস্টের লেখক করেনি তাই অনুবাদের দায় লেখককে দেওয়া যাবে না। অনুবাদ করেছে জংগী ধর্মের জৈনেক অনুসারী। যাদের অনুবাদ জনীত অভিযোগ আছে তারা অতি সত্তর জংলী ধর্মের অনুসারীদের সাথে সাক্ষাত করুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

98 − = 90