ইজতেমা ফ্যাক্ট

বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের ৬৫ টি দেশের হাজার হাজার অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা আসেন অনেক কষ্ট করে। আবার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব আনাচেকানাচের মুরুব্বিরা প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে, রাস্তার ঝক্কিঝামেলা পেরিয়ে কত যন্ত্রনা সহ্য করে তারপর উপস্থিত হয় টংগীর তুরাগ নদীর তীরে। উদ্দেশ্য নামাজ কালাম পড়ে, দোয়াদরুদ পড়ে অসীম সওয়াব অর্জন করে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন সুন্দর করা। এবার আসি কি কামাই হলো এটা একটু ভাবি।

পরকালে কি হবে এটা কেউ জানেনা। সেটা মরার পরেই বোঝা যাবে। তবে আখেরি মোনাজাত সহ সকল মোনাজাতেই কিন্তু পরকাল ও ইহজগৎ দুই কালেরই কল্যাণ কামনা করা হয়।
মোনাজাতে অংশ নেয় লাখো লাখো হাজ্বী,মুফতি-মুহাদ্দিস,আলেম-ওলামা সহ প্রায় সকল শ্রেনী-পেশা এবং সকল বয়সের মানুষ।যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করতে না পারে তারা টিভি দেখে অথবা মোবাইলের মাধ্যমে মোনাজাত করে চোখের পানিতে বুক ভিজায়। উদ্দেশ্য আগেই বলেছি। ওই মোনাজাতে ওখান থেকে বিশ্বের আনাচেকানাচের যত জায়গা আছে সবার জন্য,জীবিত-মৃত সকল মুসলিমদের জন্য,দাদা-দাদী,নানা-নানীসহ সকল আত্মীয়-স্বজনের জন্য।ওই সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সকল বালামুসিবত দূর করার জন্য মহান আল্লাহতালার কাছে আবেদন করা হয়। আবেদনের বিষয়বস্তুতে কোন কিছুই বাদ থাকেনা। অনেক পোলাপানের হাত ব্যথা হয়ে যায় মোনাজাত ধরে থাকতে থাকতে।

এইবার আসি আসল কথায় আমি খুবই আশাবাদী যে এবার একটা কিছু হতে পারে।আমি যেকোন কারণে মোনাজাতে এটেন্ড করতে পারি নাই। আশা করি সেটা কোন ফ্যাক্ট না আমার মতো একজন না থাকলেও তেমন কিছু ক্ষতি না।কিন্তু জানি আমার ফ্রেন্ডলিষ্টের অনেকেই আখেরী মোনাজাত ধরতে পেরেছেন।অনেকে পিকচারও আপলোড দিয়েছে দেখলাম তাদের কাছে জানতে চাই মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, বসনিয়া, চেচনিয়া, মিশর, চীন, সুদান, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তান, লেবানন প্রভৃতি দেশগুলোর নির্যাতিত মানুষগুলোর মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়েছে নাকি শুধু নিজেদের কবরকে বেহেশত বানানোর দোয়াই করা হয়েছে? আর যদি দোয়া করা হয়ে থাকে তাহলে তো আশা করতে পারি আমাদের ১৬০ কোটি জাতির কপাল খুলল বলে। আর যদি নির্যাতন না কমে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে তাহলে কি ভাববো যে আল্লাহ্‌ শুধু বেছে বেছে পরকালভিত্তিক দোয়াগুলোই বেছে নিয়েছেন? নাকি ইহকাল পরকাল দুটোকেই রিজেক্ট করে দিয়েছেন? জানতে চাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1