ধর্মবিকৃতি থেকে নাস্তিকতাঃ(২য় পর্ব)

আমি যদি বলি যে আমার বাবা অত্যন্ত ধার্মিক তাহলে আমার বাবার সমন্ধে আপনাদের মনে কি চিত্র ফুটে উঠতে পারে? আমার বাবার মুখভর্তি সাদা দাড়ি,গায়ে ইয়াবড় জোব্বা,মাথায় পাগড়ী, চুলে মেহেদী,হাতে তসবিহ,বগলে জায়নামাজওয়ালা একজন জবুথবু ব্যক্তি মোটকথা সিনেমার দরবেশ এর মতো তাই নয় কি?
আসলে কি এটাই ধার্মিকের ইউনিফর্ম? এই বৈশিষ্টের ধার্মিক লোকটা কি সমাজে কোন কাজে আসবে বলে মনে হয়? তার দ্বারা কৃষিকাজ করানো সম্ভব? তার দ্বারা বিজ্ঞান গবেষণা সম্ভব?তার দ্বারা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সম্ভব? কোনকিছুই সম্ভব না।বড়জোর তাকে দিয়ে বগলে গাট্টি-বদনা নিয়ে এলাকায় এলাকায় তাবলীগ করানো সম্ভব।তাহলে একজন তরুন, বিজ্ঞানমনষ্ক ছেলে কিভাবে এটাকে মেনে নিতে পারে।আসলে কি ইসলাম সূচনালগ্নে এমন ছিল? রাসূল(সাঃ) এমন একটি অন্তঃমূখী ইসলাম রেখে গিয়েছিলেন জাতির জন্য? না অবশ্যই না তার প্রমাণ ইতিহাস।

ইতিহাস স্বাক্ষী সেই ইসলাম এত গতিশীল ছিলো যে অল্প সময়ের মধ্যেই অর্ধেক পৃথিবী শাসনের সক্ষমতা অর্জন করেছিলো।এরকম দরবেশ টাইপ ইসলাম হলে এত বিস্তৃত হতো না।হাতেপায়ে ধরে মানুষকে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়নি। আবার জোর করেও মুসলিম বানানো হয়নি।মানুষ ইসলামের তেজ দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে।কারণ কেউ জীর্ণতাকে আগলে রাখতে চায়না।সবাই উত্তমটাকে গ্রহণ করে।

দুর্ভাগ্যবশত সেই ইসলামকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে নিজেদের বিশ্লেষণক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে সুক্ষ্মভাবে ইসলামের কিছু বিষয়কে গবেষণা করতে করতে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা পালন করতে গিয়ে বিপাকে পরতে হয়।এই ত্যানাপ্যাচানির ফলে ইসলামের উপকারতো হয় নাই অবশ্যই বরং বিশাল ক্ষতি হয়েছে।অধিকাংশ মানুষ না বুঝে চোখকান বন্ধ করে মেনে নিয়ে তা পালন করছে অন্ধভাবে আর বিপদে পরেছে নাস্তিকরা।তারা এত পরিমাণ গলদ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে নাস্তিকতার পথ বেছে নেয়।ইসলামের এই পুরোহিতশ্রেণিদের চেয়ে এদের বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা বেশি হওয়ায় এরা কখনো ওই শ্রেণীর যুক্তি মেনে নিতে পারেনা।কারণ তারা যেভাবে বুঝাবে তা আসলে মেনে নেওয়ার মতো না।কথিত আলেমশ্রেণির জ্ঞান ওই কিছু কিতাবভিত্তিক যা বিজ্ঞানের বিপরীত এমনকি কোরানের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বরং কোরানের সাথে অনেক জিনিসের মিল নেই।এরা কোরানকে বিচার করে হাদিস দিয়ে যেটাই সমস্যার মূল কারণ।একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যেমনঃ কোরানে বলা আছে তোমরা এমনভাবে পর্দা করো যেন তোমাদেরকে চেনা যায়।অর্থাৎ অশ্লীল পোশাক পরবেনা আবার মাত্রাও বলা আছে যেন চেনা যায়।কিন্তু বকধার্মিকরা চায় নারীদের বস্তাবন্দী করতে।এরকম ভুরিভুরি উদাহরণ আছে যেখানে ইসলাম পূর্ণ স্বাধীন সেটা বুঝানো হয়েছে।এইরকম গোঁড়ামির কারণে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা কমতে কমতে একপর্যায়ে ঘৃণায় পরিণত হয়েছে এবং যার ফলাফল নাস্তিকতা।
সুতরাং প্রচলিত ইসলামের দ্বারা প্রগতিশীল কিছু করা বা ভাবা সম্ভব নয়।যার ফলে প্রগতিশীল,বিজ্ঞানমনষ্করা স্বাভাবিকভাবেই এটা বর্জন করেছে।তারা কিন্তু একদিনেই নাস্তিক হয়নাই।এরকম শতশত উল্টাপাল্টা কাজকর্ম, রীতিনীতি এবং পুরোহিত শ্রেণির এহেন কাজকর্মই তাদেরকে একসময় ধর্মবিদ্বেষীতে রুপান্তর করেছে যার পরবর্তী রুপ নাস্তিকতা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

59 − 51 =