সে আমি আমি সে কেউনা

এই তো সেদিন কয়েক বছরের পুরানো কিন্তু আজও প্রাণবন্ত। কিছু কিছু স্মৃতি পিন্টারেস্ট এর মতো হৃদয় বোর্ডে আলপিন দিয়ে এমন ভাবে আটকে যায় শতচেষ্টা করে তুলে ফেললেও মরিচাগুলো থেকেই যায়। তেমনিই এক মরিচাময় আর কল্পনাপ্রি় ঘটনার বিবরণ দিতে চলেছি আপনাদেরকে।
রীতিমতো রুটিন মাফিক সময় ভাগ করে নিলাম যার একভাগ প্রিয়তমার আরেকভাগ প্রিয়তমদের(বন্ধু) জন্যে।

১৪২২ হাল বৈশাখ। সকাল ৯টায় চিড়িয়াখানায় পদার্পণ প্রিয়তমার সাথে। রোমান্টিকতার রেশ মাত্রও পেলাম না সেখানে। চারিদিকে আলপিনের মতো চেয়ে আছে কিছু উসবুকের দল। বাধ্য হয়েই উদ্ভিদ উদ্যানের(বোটানিক্যাল) দিকে পা বাড়ানো। যতোই হাঁটছি ততোই ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নিয়ে চলেছি আর ততোবার তাকে একটা করে গোলাপ আর নতুন করে প্রপোজ করেই চলেছি। অবশ্য সে বিরক্ত হয়নি মোটেও বরং আমার মাথার চুলগুলোকে বিলিকেটে দিচ্ছিল আর বলছিল এভাবেই যদি গোন্ডা গোন্ডা ফুল সব আমাকেই দাও তাহলে অন্য কাপলরা কি কচু ফুল দিয়ে প্রপোজ করবে??

পারলে তাই করবে পৃথিবীর যত গোলাপ সব তোমার জন্য ফোটে আর কারো জন্যে নয়। এই কথার আদতে সে ললাটে একটা রক্তিম মৃদু স্পর্শ উপহার দিল আমাকে। এভাবে করে সব কয়টা ফুল (১২টা ফুল) দিয়ে প্রপোজ শেষ হলে ফিরে আসা তাড়া করে বসে দুজনকেই। কিন্তু দু’জোড়া চরণ যে আর চলতে চাইছে না।

ইচ্ছে করছিলো গুগলে একটা সার্চ দেই এই বলে যে, হাটতে হাটতে কষ্ট হয়ে গেলে কি করবো? অবশ্য গুগল মামা ভাল একটা উত্তর দিতো কিন্তু এয়ারটেল মামা যে বোটানিক্যালের অতো গভীরে পৌছাতে পারবে না সেটা কে জানতো? অবশেষে উপায় বের হলো।
কোনো কারণ ছাড়াই বলে উঠলাম “অই তুই যে এতো খারাপ মেয়ে সেটা তো আগে জানতাম না? তুই ঐ ছেলের সাথে উল্টা পাল্টা করে বেড়াতিস??? তোর সাথে আজ থেকে ব্রেকাপ। আরও অনেক খারাপ খারাপ কথা বলতেছিলাম(বুকটা ফেটে যাচ্ছিল কথাগুলো বলার সময়)”। কিন্তু আমি নিরুপায় বোটানিক্যালের এতো গভীর থেকে বের হতে আমাকে এই পথই বেছে নিতে হয়েছিল। কথাগুলো শোনার পর প্রিয়তমা আমার দ্রুত হাটতে লাগলো। আর তার পিছে পিছে আমি নিজেও।

এভাবে কিছুক্ষণ হাটতে হাটতে দেখলাম বোটানিক্যালের গেট দেখা যাচ্ছে। ব্যাস আমার ঔষধ কাজে দিছে তাহলে, বলে চিৎকার করে উঠলাম। ও বলল মানে? আমি বললাম একটু শান্ত হয়ে আমার কথা শোনো। ব্যাপারটা তাকে বুঝিয়ে বললাম যে এতো পথ হেঁটে আসা আমাদের দুজনের পক্ষে সম্ভব ছিল না তাই তোমাকে রাগিয়ে আমি এত দ্রুত হাঁটতে পেরেছি আর সাথে তুমিও। এটা শুনে প্রিয়তমা আমার রাগে ফেটে যাচ্ছিল। আর আমি বোকার মতো দু’কান ধরে হাঁটু গেড়ে সরি বলে চলেছি… । হঠাৎ কোমলতার স্পর্শে হুস ফিরলো দেখি প্রিয়তমা আমার কেঁদে কেঁদে বলছে “অনেক ভালবাসি তোমাই”। অতঃপর পাঁজরে পাঁজর মিলে একাকার। এভাবেই কেটে গেল আমাদের একটি বৈশাখ।

১৪২৩ হাল বৈশাখ। একা একা রেললাইন দিয়ে হাটতে হাটতে বৈশাখী মেলাতে ঘুরতে গেল ছেলেটা। মেলায় গিয়ে ঘোরাঘুরি করতে করতে এক বন্ধুর সাথে দেখা। তারপর দুই বন্ধু মিলে জমিয়ে আড্ডা।
এক সময় ঘরে ফেরার উদ্যোগ। যেতে যেতে কি যেন মনে করে শীতল বায়ু উপভোগের নেশায় অন্ধকারে রেললাইনে বসে পড়া।

তারপর গল্প,আড্ডা,গান। একসময় দুজন ফোনে ব্যস্ত। একজন ফোনে কথা অন্যজন ফেসবুকিং। বাহিরের পরিবেশের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই কারোর।
.ভাই…ট্রেন…! ভাই…ট্রেন…! দূর থেকে এই শব্দ শুনে কিংকর্তব্যবিমুঢ় দুই বন্ধু। মাত্র ১০ ফুট দূরে ট্রেন দেখে ঝাপ দেয় ঝোপের কাটার মধ্যে। অল্পের জন্য অবশেষে বেঁচে ফেরা!

১৪২৪ হাল বৈশাখ। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বুয়া আসেনি। আবারো ঘুম। ঘুম থেকে উঠে দেখি দুপুর হয়ে গেছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই রুমমেট বাজার করে নিয়ে এসে রান্না করলো। আইটেম কি কি ছিল সেটা জানতে চেয়ে লজ্জা পাবেন না। এভাবেই হয়তো কেটে যাবে ছেলেটির প্রতিটি পহেলা বৈশাখ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + = 7