সংস্কারবাদীদের সিংহাসন লাভ ।

••••• ২০০৭ এর শুরুতে প্রায় গৃহযুদ্ধের সামনে থাকা একটি দেশে সেনাবাহিনীকে সামনে রেখে তিন বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহনের পর দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলেই হঠাত উদ্ভব হয় “সংস্কারবাদির”. যারা কাজ করেছিল এবং চেয়েছিল যে রাজনৈতিক দলগুলিতে যেন একনায়িকাতন্ত্র আর না থাকে । দুটি রাজনৈতিক দলের নেতারাই তখন সাধারন ও সংস্কারবাদী এই দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায় একনায়িকাদের কারাবন্দির কারনে । কারাবন্দি থাকাকালীন নিজের মুসলমানির পরীক্ষায় এগিয়ে ছিলো বর্তমান হেড অব দা কালসাপ ও ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠি ওলামা লীগ/হেফাজতের মহিলা আমির মোসাম্মত শেখ হাসিনা ।

••••• ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে নি তাই বিএনপির সংস্কারবাদিরা আম আর ছালা দুটোই হারিয়েছে । তবে কোনঠাসা অবস্থায় থাকার পরও আওয়ামি মুসলিম লীগের সংস্কারবাদিরা “রাজনীতিতে বেঁচে থাকার মতন অক্সিজেন” পেয়ে যাচ্ছিলেন ক্ষমতায় নিজের সমর্থিত দল থাকার কারনেই , যদিও এদের দলীয় পদ থেকে অবনমন করা হয়েছিল ।

••••• ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আব্দুল জলিল, শেখ সেলিম এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত , এরাই হলেন সেই সময়ের আওয়ামি মুসলিম লীগের সংস্কারবাদী যারা একনায়িকাতন্ত্রের শেষ চেয়েছিলেন দলীয় গঠনতন্ত্রে সংস্কারের মাধ্যমে । এই ৭ জনের মধ্যে তিন জন বর্তমানে জীবিত নেই । তবে এদেরকে বেঁচে থাকার সময়ও এমন অসম্মানের মুখোমুখি করা হয়েছে যে স্বাভাবিক থাকাটাও এদের কাছে তখন অস্বাভাবিক । যদিও সবচেয়ে বড় কোপটা গেছে মালাউন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের উপর দিয়েই ।

••••• ২০০৯ এ আওয়ামি মুসলিম লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সংস্কারবাদিদের জায়গা হয় নি মন্ত্রিসভায় তবে মিডিয়াতে দিনের পর দিন চৌকষ ও মন ভোলানো সিনেমেটিক বক্তৃতা দিয়ে একটা সময় ঠিকই মন্ত্রিত্ব কব্জা করে নেয় নোয়াখাইল্যা হিজড়া ওবায়দুল কাদের । পরে ধীরে ধীরে মন্ত্রিত্ব পায় তোফায়েল, আমু এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত । তোফায়েল তো মিডিয়াতে যখন তখন কান্নাকাটিই করতো যদি একটি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রিত্ব পায় কোনমতে !!

••••• যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অধীনে থাকতো যে রেলবিভাগ ঐ রেলকেই আলাদা মন্ত্রনালয় হিসেবে দাঁড় করিয়ে এর প্রথম মন্ত্রির দায়িত্ব সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দেয়া হয় । কথাবার্তায় চৌকস এবং চিকন বুদ্ধির লোক , নোয়াখাইল্যা রয়াল ডিস্টিকের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট হিজড়া ওবায়দুল কাদের এটা মেনে নিতে পারে নি প্রকাশ্যে । তাই হয়তো রাতের বেলায় দাবার চাল এবং এক চালেই সুরঞ্জিতের কুপোকাত ।

••••• হ্যাঁ, সুরঞ্জিত বাদে অন্য সংস্কারবাদিরা মুসলিম বলেই তারা এখনো সিংহাসনে । নাটের গুরু হিজড়া ওবায়দুলও মস্ত বড় পদে । আওয়ামি মুসলিম লীগের একনায়িকাতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সংস্কারবাদি ওবায়দুল এখন ব্যস্ত বাংলাদেশের সংস্কার নিয়ে । আগা কাটা মুসলমান ওবায়দুলের কাছে এই বাংলাদেশ , বাংলা ভাষা আর ভালো লাগে না । মোহাম্মদ ওবায়দুল কাদের আর তার একনায়িকা চায় যে করেই হোক বাংলাদেশকে যেন সংস্কারের মাধ্যমে সাচ্চা মুসলমানের দেশ হিসেবে দাঁড় করানো যায় এবং এটা সম্ভব কেবলমাত্র ইসলামের পথে চললে, মদিনা সনদের পথে চললে , সৌদির গ্র্যান্ড মুফতির উপদেশ মতন চললে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 1 =