সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বহুল আলোচিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতাবিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা ঋণ সহায়তাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এছাড়া আর যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে তার মধ্যে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, আণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, পরমাণু নিরাপত্তা, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিচারিত ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নৃ-বিদ্যা ও ভূবিদ্যা বিষয়ে সহযোগিতা, গণমাধ্যম ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বর্ডার হাট, ট্রেন ও মোটরযান চলাচল ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এবার রাষ্ট্রপতি ভবনে আতিথেয়তা দেয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রটোকল ভেঙ্গে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সময় এই সম্মান পান। এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পেলেন সেই বিরল সম্মান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিস্তা চুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে সমর্থন দিয়েছে ভারত। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে সাড়ে ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিবে ভারত। সামরিক কেনাকাটায় দিবে আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ। চুক্তি হয়েছে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনে। আরও কিছু সীমান্ত হাট চালু করতে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কলকাতা-খুলনা-ঢাকা বাস চলাচল, খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচল ও রাধিকাপুর-বিরল রেললাইন উদ্বোধন হয়েছে। এ ছাড়া আরও বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেবে ভারত। নিকট প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের যেকোন সময়ের তুলনায় ভাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত সহায়তা করেছে। এ দেশের মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। কাজেই এ সম্পর্ক আগামী দিনে নিঃসন্দেহে আরও উচ্চমাত্রায় পৌঁছবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে যে উষ্ণতা প্রকাশ পেয়েছে, তার ভিত্তিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিও দ্রুত হয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশ এগিয়ে চলছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − = 49