হেফাজতের ১৩ দফা এবং মুহাম্মদ ও তার উম্মতদের সৃষ্টিকর্তা শানে বেয়াদবি

২০১৩ সালে সারাদেশ যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল ঠিক তখনই যুদ্ধপরাধিদের বাঁচাতে কৌশল পরিবর্তন করে হেফাজতে ইসলামের উত্থান।কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনটি শাহবাগ আন্দোলনকে বানচাল করার অপচেষ্টা থেকে ব্লগারদের নাস্তিক ঘোষণা করে তাদের ফাঁসির দাবিতে পাল্টা শাপলা চত্বর,মতিঝিলে অবস্থান নেয় । এরপর ইসলাম ও রাসুলকে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবী করে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে।

এর মধ্যে ২য় দাবিতে তারা ইসলাম নিয়ে কতুক্তি করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চায়। তাদের কথা শুনলে মনে হয় ব্লগাররা শুধুমাত্র আল্লাহ ও মুহাম্মাদকে গালি দেয়। অথচ মুসলিমরা আল্লাহকে গালি দেয় বলে মুহাম্মাদ স্বয়ং দাবি করেছেন।

সহীহ হাদীসে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আদম সন্তান আমাকে পীড়া দেয়। কারণ, সে যুগ বা সময়কে গালি দেয়। অথচ আমিই হচ্ছি [যুগ] সময়। আমিই [সময়ের] রাতদিনকে পরিবর্তন করি’। [সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৪৭২৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৪৬]
অন্য বর্ণনায় আছে, ‘তোমরা যুগকে গালি দিওনা। কারণ, আল্লাহই হচ্ছেন যামানা’। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৪৬]

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যুগ বা সময়কে গালি দেওয়া মানে আল্লাহকেই গালি দেওয়া।আর এই কাজটা আমাদের মুমিন ভাইরা অহরহ করে থাকে।

অবিশ্বাস্য হলেও একই কাজ আল্লাহর সাথে অপমানজনক শব্দের ব্যাবহার স্বয়ং মুহাম্মাদও করেছিলেন।মুহাম্মাদের মতে আল্লাহ আল মুয়াখখির অর্থ পশ্চাদবর্তীকারী,আদ দার অর্থ অকল্যাণকর্তা ,আল্লাহ মুন্তাকিম অর্থ প্রতিশোধগ্রহণকারী( আল্লাহর ৯৯ নাম দ্রষ্টব্য )।প্রিয় মুমিন ভাইয়েরা মহাবিশ্ব সৃষ্টিকারী ঈশ্বরের জন্য একথাগুলো কি অপমানজনক নয়?

তবে কেন মুহাম্মদের নামে কেউ ফাঁসির দাবি তুলে না।এটা কি মুসলিম সমাজের কপটতা না দ্বিমুখী আচরন ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 16