“মা সমাচার”

আমার কবিতাঃ

“মা সমাচার”

মিঠুন রাজ

গিন্নিবিবি বসে আছে
মুখটি কালো করে
সকালবেলা সেই যে গেল-
সাঁঝ গড়িয়ে রাত্রী হলো
আহাম্মকটা আসছে নাতো ফিরে।

কলিংবেলের শব্দ পেয়ে
কাজের মেয়ে দৌড়ে গিয়ে
দরজা খুলে দিলো-
এতবেলা পরে বুঝি
আসার সময় হলো?

ও এসেছে বুঝতে পেরে
গিন্নী এসে বলে-
‘সারাবেলা কোথায় ছিলে,
গাড়ি নিয়ে কোথায় গেলে?
বলো একটু শুনি-
আমার ভাগ্যে সুখ হবেনা
আগে থেকেই জানি।
আমি ছাড়া অন্য কেউ
তোমার বউ হলে
লাথি দিয়ে বিদায় হতো
এই সংসার ফেলে।’
বেচারা স্বামী ক্লান্ত হয়ে
সোফায় বসে বউকে বলে-
‘আমার কথা শোনো,
গাড়ির ভিতর মা আছে
তাকে গিয়ে আনো।’

মায়ের কথা শুনে বিবি
মাথায় দিলো হাত
ঠিক যেন মাথার উপর
হলো বজ্রপাত।

বলি তোমার বুদ্ধিশুদ্ধি
একেবারেই গেলো?
মাসের শেষে উনাকে
আনার সময় হলো?

তোমার ভাইয়েরা সব কি করে
তাদের কিছু নাই?
তোমারই বা কত আছে
কয় টাকা কামাই?
অতশত বুঝিনা-
কোনকিছু জানিনা
আজকের মতো বিদায় করা চাই।

তোমার বোনের তো বাসা আছে
খুব দূরে নয় এইতো কাছে।
পারবো না ভাত
হাড়ি হাড়ি রান্না করতে
তুমি একটু বুঝিয়ে বলো
কয়েকটাদিন ওখানে থাকতে।

উনিই বা কেমন মানুষ
কেমন চিন্তা করে?
একবারও ভাবলেননা,
এত ছোট বাসার ভিতর
থাকবো কেমন করে?

স্বামী বেচারা নির্বিকার হয়ে বসে আছে
বউয়ের কথা শুনলোনা বলে,
বউ বেচারি নিজে বলতে
ছুটলো গাড়ির কাছে-
স্বামী তখন দৌড়ে গেলো
বউয়ের পিছে পিছে।

কি যে কান্ড ঘটবে আজ!
সে জানে তার বউয়ের মেজাজ
দেখি খেলা কোনদিকে গড়ায়
ঝামটা মেরে দরজা খুলে
মুখটি হলো হা-
গাড়ির ভিতর আছে বসে
তার নিজেরই ‘মা’।

“ওমা তুমি এলে কখন
কেন করোনি একটু টেলিফোন?”
মা বলে’,তারও আছে কারন
জামাই বাবা ফোন করতে
করেছিলো বারণ।’

বউ বলে চলো মা
আগে ভিতরে যাই
স্বামীকে বলে শুনছো নাকি
লাগবে কিন্তু বাজার সদাই।

ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে
বাজার আনতে যাও
রান্না করবো চিংড়ী-ইলিশ
আর মোরগপোলাও,
নিয়ে এসো ভালো যদি
দেশী মুরগী পাও।

মিঠুন রাজ
৭ বৈশাখ ১৪২৪
সাভার,ঢাকা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 9