হুলিয়া

১.
মঘের শীতে বাঘও কাঁপে ! আর
উত্তরবঙ্গের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মাঝে মড়ক
নামে।প্রত্যন্ত – অবহেলিত -দরিদ্র
গ্রামগুলোতে শীতের তীব্রতায় সন্ধ্যার পর
থেকে বাড়ির বাইরে বেরুনো অসম্ভব হয়ে
পড়ে। এশার নামাজের পরপরই পুরো গ্রাম
নীরব হয়ে যায়।

সুবহে সাদিকের সময় যখন মুয়াজ্জিনের
কণ্ঠ ‘আস-সালাতু খায়রুম মিনান নাউম ‘-
বলে নামাজের জন্য ডাক দেয় ঠিক তখনি
কোনো না কোনো বাড়ি থেকে কান্নার
আওয়াজ ভেসে আসে। বোঝা যায়, কেউ
দুনিয়া থেকে বিদায় নিল। মহিলারা
শোকের গীত গাইতে শুরু করে। প্রতিবেশী
নারীরা এসে তাদের জড়িয়ে ধরে সান্তনা
দেয়।
কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধরা অযু-তায়াম্মুম
করে মসজিদের দিকে যায়। অনেকদিন পর
তরুণদের মনেও মৃত্যুভীতি জাগ্রত হয়।সদ্য ঘুম
ভাংগা বাচ্চা ছেলেটা কিছু বুঝতে না
পেরে ক্রন্দনরতা মায়ের দিকে অবাক
চোখে তাকিয়ে থাকে।

মসজিদে ইমাম সাহেব কাতার সোজা
করতে বলে সামনে এগিয়ে যান। মুসল্লিরা
তার পেছনে নামাজে দাঁড়ায়। আল্লাহর হুকুম
পালন শেষে ইমাম সাহেব কোরান-হাদিস
থেকে তেলাওয়াত করে মুসল্লিদের কাছে
মর্মার্থ ব্যাখ্যা করেন।বৃদ্ধরা ভক্তি
সহকারে ইমামের কথা শোনে।মাঝে মাঝে
বেশখ্ বেশখ্ বলে ইমামের কথাকে সমর্থন
জানায়।

কাছেই কোথাও থেকে ট্রেনের
হুইসেলের শব্দ ভেসে আসে। ইমাম সাহেব
জোরে বলে উঠেন -‘প্রত্যেক মানুষকেই
মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ বৃদ্ধরা
কাঁপতে থাকে। কাঁপুনিটা কি ইমামের মুখে
মৃত্যুর কথা শুনে নাকি শীতের প্রকোপে তা
বোঝা যায়না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “হুলিয়া

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =