এখন আমাকে আর কোনো কিছুই অবাক করেনা!

পাকিস্তানের মারদানে ‘আব্দুল ওয়ালি খান ইউনিভার্সিটি’ তে মাশাল খানকে খুব নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এক সপ্তাহ হয়ে গেল। তার নির্মম মৃত্যুর ঘোর এখনো কাটেনি। এই শোক আমাকে এখনো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে আমার বিবেককে। গত বুধবারে পাকিস্তানের মারদানে আব্দুল ওয়ালি খান ইউনিভার্সিটিতে মাশাল খানের পোষ্ট নিয়ে তারই সহপাঠীরা ক্যাম্পাসে তাঁর সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়, এর পরদিন বৃহঃস্পতিবার সকালের পর সেই বুদ্ধিদীপ্ত তরুন মাশাল খান ছবি হয়ে গেল! এক রক্তাক্ত লাশ হয়ে গেল! দুর্বল কাপুরুষ ধর্মান্ধ সবাই মিলে তাঁকে পিটিয়ে মারল।


পাকিস্তানের মারদানে ‘আব্দুল ওয়ালি খান ইউনিভার্সিটি’ তে মাশাল খানকে খুব নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এক সপ্তাহ হয়ে গেল। তার নির্মম মৃত্যুর ঘোর এখনো কাটেনি। এই শোক আমাকে এখনো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। খুঁড়ে খুঁড়ে খাচ্ছে আমার বিবেককে। গত বুধবারে পাকিস্তানের মারদানে আব্দুল ওয়ালি খান ইউনিভার্সিটিতে মাশাল খানের পোষ্ট নিয়ে তারই সহপাঠীরা ক্যাম্পাসে তাঁর সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়, এর পরদিন বৃহঃস্পতিবার সকালের পর সেই বুদ্ধিদীপ্ত তরুন মাশাল খান ছবি হয়ে গেল! এক রক্তাক্ত লাশ হয়ে গেল! দুর্বল কাপুরুষ ধর্মান্ধ সবাই মিলে তাঁকে পিটিয়ে মারল। কি নিদারুণভাবে মাশাল খানকে তাঁর সহপাঠীরা খুব উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে হত্যা করল! নিমিষেই ব্যাপারটা যেন খুব সহজ একটা ব্যাপার। একজন তার অবিশ্বাসের ধারণা থেকে ইসলামের সমালোচনা করে ফেইসবুকে পোষ্ট দিল, অমনি ধর্মান্ধরা গন হামলা করে তাঁকে মেরে ফেলল! একজন মুক্তচিন্তককে হত্যা করে তার মুখ বন্ধ করে দেয়া এই যেন ইসলামানুসারীদের মৌলিক অধিকার! ঘটনাটা কি বাঁধাহীন ভাবে ঘটে গেল।

মাশাল খানের মৃত্যুটি আমাকে মনে করিয়ে দেয় আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে ২০১২ সালে আমার জীবনে এর চেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি এসেছিল। এখন মাঝে মাঝে অবাক হই আমি কি করে সেই পরিস্থিতি থেকে উতরে গিয়ে বেঁচে ফিরেছিলাম। -আমার দোকানের সামনে শতের কাছাকাছি তরুন আমাকে হত্যা করার জন্য উদ্ধত। তবুও আমি নির্ভীক নির্ভয়ে আমার কথাগুলো বলছিলাম। আমার যুক্তিতে আমি অটুট ছিলাম। আমাকে তওবা করে নাকে খত দিয়ে মসজিদে আল্লাহ ও নবীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়, আমি খুব দৃঢ়তার সাথে বলেছিলাম, ক্ষমা আমি চাইব না! তারপরও আমি কিভাবে বেঁচে ফিরেছিলাম তা আমার আত্নজীবনী “এক নাস্তিকের জবানবন্দি” সিরিজে উল্লেখ করেছি। যার ৬টি পর্ব লেখা হয়েছে মাত্র। আমি নিশ্চিত যে, তা যদি আজকের বাংলাদেশ (১৩ সালের পরের বাংলাদেশ) হতো আমার পক্ষে বেঁচে ফেরা কখনোই সম্ভব হতো না। কারণ তখন আওয়ামিলীগের সেক্যুলার আদর্শ অতোটা পঁচে যায়নি। আওয়ামিলীগ তখনো ইসলামিক দল হওয়ার জন্য অতোটা নিচে নামেনি। আজ আওয়ামিলীগ ৯০% ধর্মান্ধ মুসলমানের সমর্থন পাবার নেশায় সেক্যুলার পতিত মত্ত একটা দল। যেখানে আওয়ামিলীগ গনতন্ত্র আর লেখকের বাক স্বাধীনতাকে মোটেও পরোয়া করেনা।


কয়েক মাস আগে লিমন ফকির নামে একটা ছেলে ফেইসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করায় চরমোনায় পীরের গ্রুপের হুমকির শিকার হয়। তারপর সেই বাধ্য হয়েই ভারতে চলে যায়। এরপর চরমোনায় পীরের মুরিদরা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলে। পরিবার হুমকীর মধ্যে আছে জেনে লিমন ভারত থেকে চরমোনায়ের মুরিদদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে। তারা তাঁকে আশস্থ করেছে যে, সেই যদি ইসলামের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়, ইসলামের প্রতি পুনরায় আনুগত্য পোষন করে, তবে সেই বাংলাদেশে ফিরে এলে তাঁকে কিছুই করবে না। তার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেবে। কয়েক দিন আগে লিমন ধর্মান্ধ চরমোনায়ের মুরিদদের উপর আস্থা রেখেই বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিল, কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ দুয়েক দিন আগে লিমনকে ব্লাসফেমী সম কালো আইন ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করে যথার্থ তৎপরতার পরিচয় দিয়েছে! কিন্তু হোলি আর্টিজানের জীবিত জঙ্গিরা সন্ত্রাসীর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পরও এদেশের পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় ভাটা পড়ে। উল্টো জঙ্গিদের কিছুদিন জামাই আদর করে খুব যত্ন করে নিরাপত্তার সাথে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন তারা। এদেশের পুলিশ প্রশাসন ও আইন- প্রয়োগকারীরা এতোটা বিশ্বাসঘাতক আর কদর্য হয়েছে যে, লিমন ফকির ছেলেটি দেশের আইনের উপর আস্থা রেখে, তাঁর আস্থা রাখতে হয়েছে কিছু বুনো সহিংস শুয়োর ধর্মান্ধ মুসল্লির উপর। দেশ এখন দেশ নেই। সব সুবিধাবাদী ধর্মান্ধ জোচ্চোর আর খচ্চরদের করতলে গেছে!


আমাদের সেনাবাহিনীদের হাতে সদ্য নিহত আদিবাসী কৈশোরোত্তীর্ণ রোমেল চাকমাকে নিয়ে বিশেষ বলার কিছু নেই। এই যেন বাঙালী সেনাবাহিনীদের হাতে আদিবাসীদের প্রতিনিয়ত মৃত্যু হওয়াটাই স্বাভাবিক। এগুলি আমাকে আর উত্তেজিত করে না। মাশাল খানের হত্যার ভিডিও দেখে কিছুক্ষন স্তম্ভিত ছিলাম। ইসলামের নামের গত কয়েক বছরে কতো হত্যা গনহত্যা হয়ে গেল। আল্লাহু আকবরের নামে কতো মানুষ জবাই হলো, কতো নারী ধর্ষণের যন্ত্রনায় চৈতন্য হারালো, আমাকে আর কোনো কিছুই অবাক করেনা। সইতে সইতে সয়ে গেছি। ১০ বছর আগে লেখা কবিতাটা আজো আমার প্রাসঙ্গিক মনে হয়——

প্রতিনিয়ত
—————-
ধর্ষিতা নারীর চিৎকার আমাকে আর অবাক করেনা
আদিবাসী পাহাড়িদের বোবা কান্না আমাকে আর ব্যথিত করেনা
ধর্মের জাতিভেদ বর্ণভেদ ও সাম্প্রদায়িকতা আমাকে মোটেও স্তব্ধ করেনা
সন্ত্রাসীর নগ্ন আচরনে আমি বিস্মৃত নই
সরকারের চরম দুর্নীতি আমাকে আর হতাশ করেনা
শিক্ষাঙ্গনে দলীয় সংঘর্ষে আমি আর বিচলিত নই
প্রশাসনের হয়রানীতে আমি মোটেও উত্যক্ত নই
জাতির লজ্জায় আমি আর লজ্জিত হই না
বুদ্ধিজীবী হত্যা আমাকে আর বিমর্ষ করে না
ইতিহাস বিকৃতিতে আমি একটুও চিন্তিত নই
দেশের দারিদ্রতা নিয়ে আমার আর কষ্ট হয়না
প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুতে আমার আর দুঃখ হয়না
দু’দলের রক্তারক্তিতে আমি আর আশ্চর্য হইনা
ওদের রাজনীতি দ্বন্দ্ব নিয়ে আমি আর মাথা ঘামায় না!

যদি প্রশ্ন থাকে কেন?

কারণ আমি এই অরাজকতা দেখছিই প্রতিনিয়ত!

২০০৬সাল

১৯–৪–১৭ইং

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − = 37