স্বাধীন দেশের পরাধীন গণমাধ্যম ও শহীদ রমেল চাকমা


রমেলের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি ট্রাক পোড়ানো ও দুটি বাস লুটের মামলার আসাম রমেলকে গত ৫ এপ্রিল আটক করা হয়েছিল। সেদিনই তাকে নানিয়ারচর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।


পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে রমেল চাকমা হত্যাকান্ড; তুলনামুলক বিশ্লেষণঃ

১। ইত্তেফাক ২৩ এপ্রিল ১৭ (বিশেষ প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি);
রাঙ্গামাটিতে রমেল চাকমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অবরোধ পালিত হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সশস্ত্র গ্রুপ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য প্রপাগাণ্ডা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তারা রোমেল চাকমার লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুড়িয়ে ফেলেছে বলে প্রচার চালিয়েছে।

তবে সাধারণ পাহাড়িদের দৃষ্টি কাড়ার জন্য এসব চালানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। সরেজমিনে জানা গেছে, যেভাবে প্রপাগান্ড চালানো হচ্ছে ব্যাপারটি আসলে এমন নয়। নানিয়ার চর থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, গত শুক্রবার রমেল চাকমার বাবা বিনাই কান্তি, তার মামা কোনেন্দ্র চাকমা, চাচা বিজয় লাল চাকমা এবং তিনজন স্থানীয় ইউপি সদস্য- অংশু প্রো মারমা, শফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. নেখজান তাদের উপস্থিতিতে রমেল চাকমার সৎকার শেষ করে। বেলা ১টা ৪০ থেকে ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তার সৎকার চলে। এ সময় পুলিশ পাহারায় ছিল।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন, রমেলের লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুড়িয়েছেন এ খবর ভুয়া। এটা সঠিক নয়। আমরা সাধারণ মানুষ, শান্তি চাই।

উল্লেখ্য, ইউপিডিএফ সশস্ত্র রিবেন গ্রুপের সদস্য রমেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয় ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, ইউপিডিএফ।

গত ৫ এপ্রিল গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রমেল চাকমাকে গ্রেফতারে নানিয়ারচরে অভিযান চালায়। রমেল চাকমা দৌড়ে পাহাড়ের উপরে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করলে পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে চলন্ত বেবিটেক্সির সাথে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিত্সক তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ১৯ এপ্রিল রমেল মারা যান তিনি। ময়নাতদন্তের পর রমেলের মামা তার লাশ গ্রহণ করে।

২। বিডিনিউজ ২১ এপ্রিল ১৭,
রমেলের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি ট্রাক পোড়ানো ও দুটি বাস লুটের মামলার আসাম রমেলকে গত ৫ এপ্রিল আটক করা হয়েছিল। সেদিনই তাকে নানিয়ারচর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

“পুলিশের হেফাজতেই সে চিকিৎসাধীন ছিল। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মৃত্যুর বিষয়টি ঠিক নয়, এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ,” বলেন এই সেনা কর্মকর্তা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নানিয়াচর থানা পুলিশ, কাউখালির ইউএনও, আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে গত শুক্রবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে তাদের ধর্মীয় রীতি অনুসারে রমেলকে দাহ করা হয়।

৩। ডয়েচে ভেলে (নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গণমাধ্যম) ২২ এপ্রিল ১৭;
এদিকে, নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা রমেলকে আটক করিনি এবং হাসপাতালেও ভর্তি করিনি৷ আমরা পাঁচলাইশ থানা পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে গিয়ে লাশের সুরতহাল ও ময়না তদন্তের পর লাশটি গ্রহণ করি৷ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সিএমপির পাঁচলাইশ থানা এলাকায়৷ কিন্তু রমেল চাকমার বাড়ি নানিয়ারচরে হওয়ায় লাশ আমাদের নানিয়ারচরে নিয়ে আসতে হয়েছে৷”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘রমেলকে আমরা গ্রেপ্তার করব কেন? তার নামেতো কোনো মামলা নেই৷ তাকে কারা আটক করেছে সেটা আর্মির অফিসাররা বলতে পারবেন৷ তাকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসপতালে ভর্তি করেন৷ প্রথমে নানিয়াচর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়৷ তারপর পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়৷”

৪। বিবিসি ২৩ এপ্রিল ২০১৭,
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে রমেল চাকমা নামের ঐ ছাত্রের মরদেহ নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সে সময় বাবা-মা সহ পরিবারের কাউকে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি।

তবে বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনে রমেল চাকমার হত্যাকে কথিত হত্যাকান্ড বলে উল্লেখ করা হয়।

‘রোমেল চাকমার কথিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌ ধর্মঘট।

৫। মানবজমিন ২৩ এপ্রিল ১৭;
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান মানবকণ্ঠকে বলেন, অপরাধীকে ধরা হলো ভালো কথা। কিন্তু তার জন্য তো আইন আছে। সে অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু তাকে নির্যাতন করে পুলিশের কাছে আনা হলো। তার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশ তাকে গ্রহণ করেনি। পরে সে মারা গেল। কিন্তু দোষ দেয়া হচ্ছে পুলিশের ওপর। মানুষ মরেছে অবরোধ হবে স্বাভাবিক। এখানে মারপিট করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হলো। ফলে পরিবহন ধর্মঘট যোগ হয়েছে। এখন পুলিশকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যা হয়েছে এখানে পুলিশের কোনো হাত নেই। যদি আমাদের দায়ী করা হয় তাহলে তদন্ত করে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যায়কে পুলিশ কখনো প্রশ্রয় দেবে না।

মনিরুজ্জামান মহসিন রানা বলেন, শান্ত এলাকাকে হঠাৎ অশান্ত করা হয়েছে। এটি আমরা কখনো কামনা করি না। অস্বাভাবিক মৃত্যু পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের কাম্য নয়। আমাদের বাপ-দাদার আমলে পাহাড়ের যে শান্তির পরিবেশ ছিল সেই পরিবেশ আমরা চাই।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জুয়েল দেওয়ান বলেন, এ পরিবেশ কামনা করছি না। অশান্ত মানুষকে শান্ত করার জন্য প্রশাসনকে কিছু একটা করতে হবে। নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে এটির অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।।

এছাড়াও জাতীয় কয়েকটা গণমাধ্যামে রমেল চাকমা হত্যাকান্ড সরাসরি এড়িয়ে না গিয়ে (আলোচিত ঘটনার নিউজ না করলে সমালোচিত হতে পারে বলে) নিউজ করেছে,
“সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পাহাড়ি ছাত্র রমেল চাকমা হত্যার দাবী কয়েকটি সংগঠনের।”

উপরের সংবাদ মাধ্যমের কয়েকটা আলোচিত তথ্য তুলে ধরা হলোঃ

♦ সেনাবাহিনী বলছে রমেল চাকমার বিরুদ্ধে ট্রাক পোড়ানো ও বাস লুটের মামলা আছে, এজন্য তাকে আটক করা হয়েছিল।

নানিয়াচর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন রমেল চাকমাকে আমাদের গ্রেপ্তার করার প্রশ্নই ওঠে না। তাকে গ্রেপ্তার করবো কেন তার নামে তো কোন মামলায় নাই।

♦ সেনাবাহিনী বলছে রমেল চাকমাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি, রমেল গ্রেপ্তার এড়াতে দৌড়ে পাহাড়ে উঠতে গেলে পড়ে গিয়ে ব্যবিট্যাক্সির সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়।
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার বলছে, অপরাধীকে ধরা হলো ভালো কথা। কিন্তু তার জন্য তো আইন আছে। সে অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু তাকে নির্যাতন করে পুলিশের কাছে আনা হলো। তার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশ তাকে গ্রহণ করেনি। পরে সে মারা গেল। মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়েও টানাটানি।

♦ সেনাকর্তারা বলছে আটকের দিনই পুলিশের কাছে রমেল চাকমাকে হস্তান্তর করা হয় ও পুলিশী হেফাজতেই রমেল চাকমাকে চিকিৎসা করানো হয়েছে এবং পুলিশী হেফাজতেই মেডিকেলে তার মৃত্যু হয়।

নানিয়াচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন আমরা রমেল কে আটক করিনি ও হাসপাতালেও ভর্তি করিনি।
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার বলছে রমেল চাকমাকে নির্যাতনের পর আমাদের কাছে আনা হলে আমরা গ্রহণ করিনি এবং হাসপাতালেও ভর্তি করিনি। এখন শুধু শুধু আমাদের (পুলিশের) উপর দায় চাপানো হচ্ছে।

♦ রমেল চাকমা হত্যার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে তার অন্ত্যেস্টিক্রিয়া নিয়ে। ইত্তেফাক পত্রিকার রাঙ্গামাটির বিশেষ প্রতিনিধি সরেজমিনে জেনেছেন,

“রমেল চাকমা হত্যাকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র গ্রুপ অস্থিতিশীল করার জন্য প্রপাগাণ্ডা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তারা রোমেল চাকমার লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুড়িয়ে ফেলেছে বলে প্রচার চালিয়েছে।

তবে সাধারণ পাহাড়িদের দৃষ্টি কাড়ার জন্য এসব চালানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। সরেজমিনে জানা গেছে, যেভাবে প্রপাগান্ড চালানো হচ্ছে ব্যাপারটি আসলে এমন নয়। নানিয়ার চর থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, গত শুক্রবার রমেল চাকমার বাবা বিনাই কান্তি, তার মামা কোনেন্দ্র চাকমা, চাচা বিজয় লাল চাকমা এবং তিনজন স্থানীয় ইউপি সদস্য- অংশু প্রো মারমা, শফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. নেখজান তাদের উপস্থিতিতে রমেল চাকমার সৎকার শেষ করে। বেলা ১টা ৪০ থেকে ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তার সৎকার চলে। এ সময় পুলিশ পাহারায় ছিল।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন, রমেলের লাশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুড়িয়েছেন এ খবর ভুয়া। এটা সঠিক নয়। আমরা সাধারণ মানুষ, শান্তি চাই।”

কিন্তু বিবিসি বলছে ভিন্ন কথা, “পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে রমেল চাকমা নামের ঐ ছাত্রের মরদেহ নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সে সময় বাবা-মা সহ পরিবারের কাউকে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি।”

রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার বলছে, “তার শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশ তাকে গ্রহণ করেনি। পরে সে মারা গেল। মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়েও টানাটানি। এখন দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে পুলিশের ওপর।”

♦ রাঙ্গামাটির ঢাকাস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ণরত চাকমা শিক্ষার্থীদের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে যতটুকু জেনেছি তার সবাই বলেছে সেনা সদস্যরা রমেলের লাশ পরিবারকে না দিয়ে জোর করে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে ফেলেছে।

♦ একমাত্র ইত্তেফাক পত্রিকাতেই লেখা হয়েছে, “উল্লেখ্য, ইউপিডিএফ সশস্ত্র রিবেন গ্রুপের সদস্য রমেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয় ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, ইউপিডিএফ।”

♦ রাঙামাটির এইচ এস সি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমা হত্যার ঘটনার তদন্ত করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আজ সোমবার সংবাদপত্রে পাঠানো কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এ হত্যার তদন্তে কমিশন একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি করেছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটি এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

আমরা প্রত্যাশা করি মানবাধিকার কমিশনে সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্তে রমেল চাকমা হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।

সম্মানিত পাঠক আমাদের আস্থাশীল এই পত্রিকার কথা আপনারা ভুলে যাবেন না নিশ্চয়। ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বাধীন করা রাক্তাক্ষরে লেখা বাংলাদেশ আর এটাই এই মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের স্বাধীন গণমাধ্যম।

আল আমিন হোসেন মৃধা
লেখক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “স্বাধীন দেশের পরাধীন গণমাধ্যম ও শহীদ রমেল চাকমা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 + = 94