ওরা তো লিভ-ইন করে!

ওরা তো লিভ-ইন করে!
কি! একথা শুনেই ঠোট টিপে হাসি আর চোখ ঘুরিয়ে ফিসফিস করে কটূ কথা বলা হয়ে গেল তো?
ভাই, থামেন। বিয়ে করে বউয়ের সাথে পঞ্চাশ বছর সংসার করার থেকে বিয়ে না করে কোন স্বাথর্ সিদ্ধির চিন্তা ছাড়া একবছর একই ছাদের তলে কারো সাথে বসবাস করা হাজার গুণ কঠিন কাজ।
বিয়ে করা মানেই হাজার লোককে ডেকে, কব্জি ডুবিয়ে খাইয়ে, রেশমী কাপড়ে আর অলংকারে মুড়ে জুবুথুবু বউকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা।
স্বামীর ঘর মেয়েদের আসল ঘর আর বেহেশতের অবস্থান ওই স্বামী বেচারার পায়ের নীচে- একথা মেনেই নিজের ঘর আর পরিবার ছাড়তে বাধ্য হয় ওই জুবুথুবু মেয়েটি। একখানা কাগজে নিজের নামটা লিখে চিরতরে বাবার নাম- পরিচয় হারায় আপনার বিয়ে করা বউ।

সাহস থাকে তো ছিঁড়ে ফেলেন ওই কাগজ খানা। মাথা উঁচু করে বলেন, আজ থেকে নেই কোন কাগজের সম্পকর্, তুমি একা আমিও একা। এবার আসো একসাথে থাকি। বাঙালি এঁদো সমাজের চোখ রাঙানি না থাকলে কজনের বউ তার সাথে লিভ-ইন করবে তা সন্দেহের উদ্রেক করে বৈকি।

এই কাগজহীন সম্পকর্ কেবলি টিকে থাকে যদি ভালোবাসা থাকে, আর থাকে বিশ্বাস। এই সম্পকর্ে অভ্যাস গুটিসুটি হয়ে ঢুকে পড়ে না কখনো, যে আমার হয়েও পুরোপুরি আমার নয়; তাতে অভ্যস্ত হওয়া যায় না। এই সম্পকর্ টেকাতে দুজনকেই পরিপূরক হতে হয়, সম্পকর্ের বিপ্রতীপ কোণে দাঁড়িয়েও সমতা নিশ্চিত করতে হয়। কাগজহীন সম্পকর্ রক্ষা করা যে কোন কাগুজে সম্পকর্ের চেয়েও কঠিনতর কাজ।

শিকলে বাঁধিতে আমি চেয়েছিনু যারে, শিকল চরণে তার হয়েছে নুপূর।
ধরার বাঁধনে সে তো ধরা দেয় না।।

(মধ্যরাতের এলোমেলো ভাবনা)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

97 − = 87