আমরা বুশের পক্ষে নই, ফরহাদ মজহারের পক্ষেও নই

যুক্তরাষ্ট্র সারা দুনিয়াতে যে ‘ইসলামপন্থি’ ‘সন্ত্রাসী’দের সঙ্গে যুদ্ধ করার নামে দেশ দখল করছে তা হলো দেশটির ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিতে গতি আনার জন্য। পুঁজিবাদী অর্থনীতির গোলকধাঁধা হলো এটাই সে-অনিবার্য মন্দায় পড়বেই। সে মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিশ্বযুদ্ধও বেধেছে, আজকের যুগে বিশ্বযুদ্ধ সীমিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। কারণ বিশ্বযুদ্ধে অনেক বেশি বিপদ। ফলে আজকের যুগে যারা ‘ইসলাম’ আক্রান্ত বলছেন, তারা মূলত বুশ ব্লেয়ারের ছানাপোনা, তারা মূলত ট্রাম্পের লোক, তারা মূলত পেন্টাগনের যুদ্ধ অর্থনীতির সাফাই গাওয়ার পক্ষে প্রোপাগান্ডা মেশিন মাত্র। বাংলাদেশে ‘ইসলামপন্থি’ রাজনীতি যারা করতেন, তারা এলিট বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে ইসলামকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার শাসনতন্ত্রের ডিসকোর্স হিসেবে হাজির করতে পারেনি, এখনো পারছে না।

কিন্তু মার্কস-এঙ্গেলস-মাও সেতুং আর ফুকো দেরিদা পড়া মানুষজন সহজেই নানান বিষয়কে সমাজের চলতি বির্তকের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে আলোচনা করছে, আর গণহারে বিরোধীমতকে ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছেন।

একটি সমাজে যখন বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় ‘পপুলার চিন্তা’ বা মতের বিরোধী হিসেবে যাকে তাকে চিহ্নিত করা হয় তখন এই রোগটাই ফ্যাসিবাদের রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরী হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, আপনি যা বললেন আমার তা পছন্দ হলো না, আমি আপনাকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে একটা বিশেষণ দিলাম। এতে মূল আলোচনা ভেস্তে গেলো। আর আপনি ধরাশীয় হলেন। কারণ স্বাধীনতা একটি পপুলার চিন্তা। এভাবেই যুগে যুগে ভিন্নভিন্ন নামে সারা দুনিয়াতে ভিন্নমতকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। পাকিস্তানপর্বে বামপন্থিদের আন্দোলন সংগ্রাম ও জাতীয় আন্দোলনকে পাকিস্তানী সরকারগুলো দমিয়েছে ‘ইসলামের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র’ হিসেবে। বাংলাদেশ পর্বে এখন বামপন্থিদের ‘উন্নয়ন বিরোধী’ আর বিএনপিসহ তার মিত্র শক্তিদের ‘স্বাধীনতা বিরোধী’ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়। আর জামাতসহ ইসলামপন্থি দলগুলোর পক্ষ থেকে বামপন্থিদের বলা হচ্ছে ‘ইসলাম বিদ্বেষী’। এই গণহারে ইসলাম বিদ্বেষী চিহ্নিত করার যে চেষ্টা তা মূলত নিজের বাইরের মতকে বুদ্ধিবৃত্তিক কায়দায় মোকাবেলা করতে না পারার ব্যর্থতা। আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো আক্রমণ করা, আর আক্রমণের হাতিয়ার ধর্ম। এই ধর্মকে আবার পাকিস্তানী শাসকগোষ্টি যত্রতত্র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলো।

ইসলাম বিদ্বেষী বিষয়টি কী?
দুনিয়াজুড়ে ধর্ম মানুষকে আবিষ্কার করেনি, মানুষ ধর্মকে আবিষ্কার করেছে। এটাই ধর্মের ইতিহাস। মানুষের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক গোড়া থেকেই ইহজাগতিক। বাংলাদেশে প্রধান দুটি ইসলামী সম্প্রদায় রয়েছে, সিয়া ও সুন্নি। কিন্তু দুনিয়াজুড়ে ইসলামের এই গোত্র বা ভিন্ন ভিন্ন ইসলাম পালনের তরিকা কিন্তু ষাটের ওপরে। তার মানে নির্দিষ্ট এক ধরনের ইসলাম পালনে সারা দুনিয়ার ইসলামপন্থি মানুষ একমত নয়। কিন্তু যারা সারা দুনিয়াতে ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করেন তাদের একটি বড় অংশ একটা বিষয় একমত, যে তার নিয়মের বাইরে আর কোন ইসলাম নেই। আর যা আছে তা ইসলাম বিরোধী, ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের নামে এসব করছে। যেমন সুন্নিরা বলে থাকেন সিয়ারা মুসলিমই নয়।
বাংলাদেশে হরহামেশা ‘ইসলাম বিরোধী’ আখ্যা দেয়া হোত। কিন্তু সেসব ছিলো এর আগে ইসলামী রাজনীতি যারা সরাসরি করেন এমন মানুষজন। কিন্তু গত এক যুগে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ইসলামপন্থি রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা আগের চেয়ে ব্যাপক অর্থ, অস্ত্র ও প্রপোগণ্ডার জন্য দেদারাচ্ছে অর্থ ছড়াচ্ছে। ভাত ছিটালে যেমন কাকের অভাব হয় না, তেমনি অর্থ ছড়ালে বামপন্থি-ডানপন্থি বুদ্ধিজীবী মেলেগা। সে কারণেই গত একযুগে কোনরকম রাখঢাক না রেখেই এককালিন কবি ও বামপন্থি বুদ্ধিজীবী, সংগঠক ফরহাদ মজহার ইসলামি রাজনীতির বিপ্লবী সিলসিলা তৈরীর চেষ্টা করছে, তত্বায়ন করছেন। আর যারাই এ পথের বিরোধীতা করছেন তাদেরকেই তারা ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। সম্প্রতি ফরহাদ মজহারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন পিনাকি ভট্টাচার্য।

এখন মূল প্রশ্নটা হলো, ইসলাম বিদ্বেষটা আসলে কী এটা একটু খোলসা করে শুনতে চাই। কারণ বাংলাদেশে সিয়া ও সুন্নি প্রধান মাহজাব কি শিয়াদের স্বীকার করে? করে না। তারা শিয়াদের তাজিয়া মিছিল এমন কী মিলাদ পড়াকে ইসলাম সম্মত নয় বলে মনে করেন। আহালে হাসিপন্থিরা ইসলাম সম্মত নয় এমন তরিকার লোকদেরতো পারলে কতল করে। তাহলে ইসলাম সম্মত বলিয়া বাস্তবে আসলে কী আছে? সেই যে একদা আন্দোলন শুরু হয়েছিলো, ফরাজি আন্দোলন-আমরা এখন সেই আন্দোলন করবো? নাকি নানান ধরনের চিন্তার সঙ্গে ঐক্য তৈরীর চেষ্টা করবো?


পুঁজিবাদের বিপদ থেকে বাচার জন্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

পৃথিবীটা বহু আগেই মানুষের নিখাদ ভালোবাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে পুঁজি দাসত্বের কারাগারে লীন হয়ে গেছে। সে আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার অন টেরর প্রযুক্তির একালের কথায় কথায় অপরকে ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ হিসেবে ট্যাগ দেওয়া ফরহাদ মজহার-পিনাকি ভট্টাচার্য জুটি বলেন। আর এই বিশাল বিশাল তর্কের মধ্যে শ্রেণি সংগ্রামের নেতৃত্বাধীন পার্টির ডাকে জাতীয় মুক্তি হয়ে সমাজতন্ত্র কমিউনিজমের পথগুলো স্রেফ রূপকথার গাল গপ্পে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, এ দেশের বিশাল জনগোষ্টি যারা ফেসবুককে সর্বশ্বোস হিসেবে আকড়ে ধরে, বাথরুম পি করতে করতে কিম্বা পি’র বড়টো করতে গিয়ে চোখের সামনে ফেসবুক ধরে তুমুল তর্ক বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন তারা মূলত মূল লড়াই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপ্রয়োজনীয় একটি প্রক্সি ওয়ার বা ছায়াযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশে ‘ইসলামপন্থি’ নামে ফরহাদ মজহার দেশের তরুনদেরকে ‘ইসলাম, জেহাদ, ক্রসেড, শ্রেণি সংগ্রাম’ নামের এক বিপ্লবের সোমরস পান করিয়েছিলেন। সেই সোমরস দিনে দিনে বড় হয়ে তা হলি আর্টিজান পর্যন্ত পৌছে গেলো। এখন প্রশ্ন তুলতেই পারেন, তাহলে হলি আর্টিজানের হামলায় কি ফরহাদ মজহারের সম্পর্ক আছে? এ প্রশ্নের সিদা উত্তর অবশ্যই আছে। তা হলো, সাংগঠনিকভাবে সম্পর্ক না থাকলেও এ ধরনের হামলা ও রাজনীতির উত্থানে যে দার্শনিক ভিত্তি ও প্রপোগণ্ডা আছে তার পেছনে সরাসরি মদদ ছিলো, এখনো আছে।

ফরহাদ মজহারের সঙ্গে হালে যুক্ত হয়েছেন ডা: পিনাকি ভট্টাচার্য। এই ভদ্রলোক অবশ্য খুবই ‘সুবিধাবাদী’ চরিত্রের। সুবিধাবাদী বলার কারণ হলো এটি, সকালে তিনি যদি বলেন, ফরহাদ মজহার ইসলাম বিদ্বেষী, তাহলে বিকালে বলবেন যারা ফরহাদ মজহারের বিরোধীতা করে তারাই ইসলাম বিদ্বেষী। লা জবাব!

কিন্তু প্রশ্নটা হলো, প্রবল ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ ট্যাগ ও আলোচনার মধ্যে জাতীয় প্রশ্নে তরুনদের কর্তব্য, শ্রেণি সংগ্রামে আজকের মধ্যবিত্ত কিভাবে শ্রমিকদের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলবে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে শ্রমিক শ্রেণি ছাড়াও এবং শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টি অন্যান্য শ্রেণির মানুষদের এই লড়াইয়ে নিয়ে আসবে। এ ছাড়া অমিমাংসিত জাতীগত সমস্য (পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জাতীগোষ্টি ছাড়াও সমতলের ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জাতীগোষ্টি) সমাধান ও বৃহত্তর লড়াই কিভাবে শুরু করা যায় তার পথ বাতলে দেয়া। পথ

বাংলাদেশে আইএস নেই এমনটিই বলছে সরকার। এর কারণ হলো, আইএস আছে এটি স্বীকার করলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আন্তর্জাতিক যুদ্ধ রয়েছে তার অংশ হয়ে যাবে। তবে সরকার স্বীকার করুক বা নাই করুক দেশে আইএস আছে। এরা বিদেশ থেকে আসেনি। এরা এদেশেরই মানুষ। আগে যারা হিযবুত তাহরীর করতেন তারাই এখন আইএস। সরকার আইএস না বলে কৌশলগত কারণে বলছে, এরা আইএস নয় নব্য জেএমবি।
যারা আজকের আইএস হিসেবে বাংলাদেশে যারা কাজ করছে তারা হিযবুত তাহরীর সদস্য। দুনিয়াজুড়ে আইএস বাস্তবে হিযবুত তাহরীর লোকেরা। হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ হওয়ার আগে বহু সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠকে ফরহাদ মজহারকে আলাচক হিসেবে নিয়ে গেছেন। ফরহাদ মজহার সরাসরি হিযবুত তাহরীর পক্ষে ওইসব সভা সেমিনারে বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে সামাজ্যবাদকে কিভাবে রুখতে হবে তার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। এখন সেই তরুণরা হলি আর্টিজানে কি মানুষ মারলেন। আর যাদের মারলেন তাদের ভাষায় কতল করা। তারা ইসলাম বিদ্বেষী, তারা বিধর্মী। বা! দারুন। ওস্তাদ ও সাকদেরদের মধ্যে ভাষায়ও দারুন অন্তমিল। এখন ওস্তাদ গংরা মাঠে নেমেছেন, বামপন্থিদের ইসলামি বিদ্বেষী বলছেন। কল্লা কি নিবেন বামদের?

কারণ ইতিহাস তাই বলছে। নেসার আহমেদের একটি গবেষণাগ্রন্থ নাম ‘ক্রসফায়ার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’। এ গ্রন্থটিতে ফরহাদ মজহার ভূমিকা লিখেছেন। নেসার আহমেদ আমাদের জানাচ্ছেন যে, র‌্যাব গঠনের পর মাত্র ৩ বছরের মাথায় র‌্যাব ও পুলিশের হাতে ৫’শ বামপন্থি নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তখন জামাত ও ইসলামপন্থিদের কেউ ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন এটা শোনা যায়নি। তবে এ হিসেব মাত্র ৩ বছরের।
আর যারা মারা গেছেন তারা হলেন বামপন্থি নয়টি পার্টির নেতাকর্মীরা। এই নয়টি পার্টি হলো,

১. পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল),
২. পূর্ব বাংলার কমিউস্টি পার্টি (এম-এল) (জনযুদ্ধ),
৩. পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) (লাল পতাকা),
৪. পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি),
৫. পূর্ব বাংলার সর্বহারা পাটি (এমবিআরএম),
৬. বাংলাদেশের বিপ্লবী কউনিস্ট পার্টি (এম-এল),
৭. শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলন
৮. নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি এবং
৯. জাসদ গণবাহিনীর প্রাক্তন কিছু সদস্য

এতো গেলো শুধু বিএনপি জামাত আমলে বামপন্থি নিধনের হিসেব। এর আগে স্বাধীনতার পর যে হত্যার শিকার হয়েছেন রাজননৈতিক কর্মীরা তারা কিন্তু ইসলামপন্থিরা নয়, তারাও বামপন্থি কর্মী।
সে সময় তিনটি বামপন্থি দলের নেতা কমীরা নিহত হয়েছেন ক্রসফায়ারে কিম্বা রাষ্ট্রায়ী অত্যাচারে। এই তিনটি পার্টি হলো,
১. পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)
২. পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এবং
৩. পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নেতা ও কর্মীরা
জরুরী তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ক্রসফায়ারে নিহত হন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এম এল-লাল পতাকা) সাধারেণ সম্পাদক কমরেড ডা: মিজানুর রহমান টুটুল।

এ সরকারের আমলে কী কমিউনিস্টরা ক্রসফায়ারে নিহত হচ্ছেন না? আলবৎ হচ্ছেন। প্রতিনিয়ত হচ্ছেন। কিন্তু তারা গ্রামগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষ, রাষ্ট্র তাদের নাম দিয়েছে চরমপন্থি। সে কারণে গাও গ্রামের চরমপন্থি কম্যুনিস্টরা মরলে হাউখাউ নেই।

সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্স রিভিউ’র তথ্যমতে, ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বামপন্থি কম্যুনিস্ট পার্টির ৬৭২ জন নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সরকারের আমল ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বামপন্থি পার্টির নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ২৩৮ জন।

এ সময় শুধু বামপন্থি দলগুলোর নেতা কর্মীরাই নিহত হননি, এ সময় ইসলামী দল ও ‘ইসলামী জঙ্গি’ সংগঠনের নেতা কর্মীও নিহত হয়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামী দল ও ‘ইসলামী জঙ্গি’ সংগঠনের ২৯২ জন নেতা কর্মী নিহত হয়েছেন। এখন প্রশ্ন তোলা যেতে পারে যে হারে এ সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হাতে বামপন্থি নেতা কমীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন তার চেয়ে ৫৪ বেশি নিহত হয়েছেন ইসলামী দল ও ‘ইসলামী জঙ্গি’ সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা। অর্থাৎ, নিহতের হারে বামপন্থিদের হটিয়ে কিছুটা উপরে আছেন ইসলামী দল ও ‘ইসলামী জঙ্গি’ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

ইসলামী দল ও ‘ইসলামী জঙ্গি’ সংগঠনের নেতা কর্মীদের সংখ্যা বিচারে মৃত্যুর হার নির্নয় করেন তাহলে ইসলামীপন্থিদের মৃত্যুর হার বামদের তুলনায় কম। কারণ হেফাজতে ইসলামের অনুসারি, জামাতের অনুসারি, হিযবুত তাহরীর অনুসারিসহ সব ইসলামিক দলগুলোর অনুসারি যোগ করে দেখুন তাদের কত সদস্য। সে তুলনায় বামদেরতো অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হয়। সেই অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে গুনেগুনে বামদের হত্যা করা হয়েছে সব আমলে, এ আমলেও হচ্ছে।
ফলে ফরহাদ মজহার ও পিনাকীরা আসলে কি বলতে চান? রাষ্ট্রের যে হত্যালীলা তাতে শুধু ইসলামপন্থিরাই আছেন, বিপ্লব তারাই করছেন আর অন্যরা পান টান করে সেতারা শুনছেন?

হিযবুত তাহরীর-আইএস যে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ অস্ত্র দেয় তার একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ আমার রয়েছে। এ বিষয়ে আমি দু’কিস্তির প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। প্রতিবেদনটি দুটি আমি যে পত্রিকার রিপোর্টার সেখানে প্রকাশিত হয়নি। অপ্রকাশিত লেখাটি হাতে থাকায় এ লেখার তথ্য নিয়ে পরবর্তী কিস্তিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত লিখবো। আপাতো পৃথিবীতে চলমান ‘ইসলামি বিপ্লব’ নিয়ে আমরা সারকথাটি এখানে বলে রাখলাম, তাহলো এসব বিপ্লবের ওপরে যত ত্যাগ আর রঙ তার পেছনের মাস্টার মাইন্ডার হলেন পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে ফরহাদ মজহার যতই বলেন ইসলাম ক্রসেড জেহাদ শ্রেণি সংগ্রাম ততোই আমার বুশের কথা মনে পড়ে যায়। আর তাহলো ‘হয় তুমি আমার পক্ষে (মানে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের) আর না হয় তুমি সন্ত্রাসীদের পক্ষে (মানে ইসলামিপন্থি যুদ্ধবাজ, যাদের আবার আমেরিকা টাকা দেয়)। আর এই দুইপক্ষ মিলে যে একপক্ষ সেটাই আমরা বলি। সে কারণে আমরা বুশের পক্ষেও নই, আমরা ফরহাদ মজহারের পক্ষেও নই।

যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইসলামীপন্থিদের হাতে টাকা পৌছায়?
এ বিষয়ে এর পরের কিস্তিতে লিখবো। কিন্তু এ কিস্তিতে কিছু বিষয়তো বলতেই হবে। ফরহাদ মজহার গত এক যুগ ধরে ‘ইসলামি বিপ্লব’ নিয়ে বহু কথাবার্তা বলছেন। এ সময় যদি লক্ষ্য করুন তাহলে দেখতে পাবেন ফরহাদ মজহার পরিচালিত এনজিও উবিনিগ ও নয়াকৃষি আন্দোলনের প্রধান ডোনার কারা? ফরহাদ মজহারকে আমাদের কৃষি বাঁচাতে যারা টাকা দিচ্ছেন তারা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তহবিল ইউএসআইডি। যারা আমাদের কৃষি ধ্বংস করছে তারাই আমাদের কৃষি বাঁচাতে টাকা দিচ্ছে। বেশ দারুন না!

ফরহাদ মজহার একটি প্রপঞ্চের নাম!
আমার মাস্ট্রাসের ক্লাস শুরু হয় ২০০৭ সালে। এ সময় দেশে বহুল আলোচিত ওয়ান ইলেভান ঘটে। সে সময় ওয়ান ইলেভানের রাজনীতি, অর্থনীতি, গণতন্ত্রের বিকাশ নিয়ে মাস্ট্রাসে থিথিস লিখি। এ থিথিসে আমি দেখিয়েছিলাম, দেশের পুঁজির একটি পর্যায় গিয়ে যখন শিল্প পুঁজির দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিলো তখনি সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্র ও ভারত-মার্কিন নেতৃত্বে ক্যু সংগঠিত হয়। এ থিথিসে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য করনীয় প্রসঙ্গে একটি চ্যাপ্টার ছিলো, সেখানে ফরহাদ মজহারের পদ্ধতিতে প্রপঞ্চ বলেছিলাম। এ সিরিজের পরবর্তী লেখায় পুরানো লেখাটি যুক্ত করে দিবো।

কবি হুমায়ুন কবির হত্যার সঙ্গে ফরহাদ মজারের সম্পর্ক রয়েছেন এমনটি মনে করতেন ফরহাদ মজহারের গুরু আহমদ ছফা। ছফার ভক্ত ফরহাদ এটি কোন গোপন কথা নয়।

‘ভাত খেলাম। কাপড় ধুয়ে দিলাম। ঘুমোলাম। মনওয়ার এবং মসি এসে জাগালো। মসি ছেলেটাকে আমি ভয়ঙ্কর অপছন্দ করি। মনে হয় ছেলেটা কি একটা মতলবে ঘুরছে। আমার ধারণা হুমায়ুনের মৃত্যুরহস্যটা সে জানে। দিনে দিনে এ ধারণাটা আমার মনে পরিষ্কার রূপ লাভ করছে। কেমন জানি মনে হয়, ছেলেটার হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে। এ ধরনের ছেলেদের কি করে এড়িয়ে চলবো সেটা একটা সমস্যা। রেবুদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে সম্ভবত। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করতে পারিনি। আশা করছি এরই মধ্যে নতুন কোনো তথ্য জেনে যাবো। ফরহাদ মজহারের আমেরিকা পলায়ন, সালেহার সঙ্গে স্বামীর পুনর্মিলন এসবের সঙ্গে বোধ হয় হুমায়ুনের মৃত্যুর একটা সম্পর্ক জড়িত রয়েছে।’ আহমদ ছফার ডায়েরিটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে ‘খান ব্রাদার্স এ্যান্ড কোম্পানি’ থেকে। সম্পাদনা করেছেন নূরুল আনোয়ার।

এক সময় সর্বহারা পার্টি দিয়ে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছেন ফরহাদ, এখন দেখছেন হেফাজত নিয়ে। এক সময় হিযবুত তাহরীর বা আজকের আইএস দিয়েও বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছেন। এতো স্বপ্ন দেখলেতো তা ‘দোষ’ এ পরিণত হওয়ার কথা। ফরহাদের ক্ষেত্রেও তা হয়েছে।

ফরহাদ মজার এখন আওয়ামী লীগ বিরোধী ভয়াবহভাবে। কিন্তু এই শাসক সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর কিন্তু তার গোপন প্রেম ছিলো। সেই প্রেমি নিয়ে সম্ভবত তিনি আওয়ামী লীগ লাইনে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। কিন্তু সুবিধা না পাওয়ায় তিনি চরম দক্ষিণে ঝুকেছেন। ফরহাদ মজহারের ‘রাজকুমারী হাসিনা’ বইয়ে উৎসর্গ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ বইয়ে তিনি ‘দ্বিতীয় খণ্ড সাঁটলিপি প্রকাশের ছুতোয় কিছু বাড়তি কথা’ শীর্ষক ভূমিকায় লিখেছেন,

‘রাজকুমারী হাসিনা : রাজনীতির প্রতীকী ও ঐতিহাসিক বিরোধ’’ খণ্ডটি প্রকাশের পরিকল্পনার সময়েই মনে হয়েছিল একটু ধীরেসুস্থে বের করব। এর কারণ হোল, আমার আশা ছিল একটু সময় নিলে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভাল কিছু দিক আমাদের চোখে পড়বে এবং এই ভূমিকাপত্রে সে কথা খুশি মনে লিখা যাবে। আমি যে এই রকম আশা করেছিলাম সে কথা খোলাসা করেই বললাম। জানি, আমার ‘সমাজতন্ত্রী’ বা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বন্ধুরা আমার চামড়া আর আস- রাখবেন না। আওয়ামী লীগের ওপর আশা! এটা কি হয়!! (রাজকুমারী হাসিনা)

‘‘আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতির ওপর ভরসা করে আমি ভুল করেছি কি না সেটা আমি এখন আর নিজে বিচার করবো না। সেই বিচারের ভার আমি আওয়ামী লীগকে যারা অপছন্দ করে বা যারা আওয়ামী লীগের দুষমন তাদের মুখেও শুনতে চাই না। কারণ তাঁরা সত্যি কথা বলবেন না। আমি শুনতে চাই আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছে। আওয়ামী লীগের কর্মী-যাঁরা ছেঁড়া কাপড় পরে, না খেয়ে, কোন রাজনৈতিক ফায়দা লুটবার চেষ্টা না করে, পারমিট পাওয়ার আশা না করে, আবছা হলেও একটা আদর্শের জন্য এই দলটি করেন। আসলেই আমি কি ভুল করেছি? আসলেই কি আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা করে নিজে একটা মহা স্টুপিড বনেছি? আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমি সমাজতন্ত্র চাই না, এমনকি গণতন্ত্রও চাই না- কারণ এর একটিও আওয়ামী লীগ দিতে পারবে না। দিতে পারত বলে আমি কখনো বিশ্বাসও করি নি। শুধু চাই রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা হোক। এটা আওয়ামী লীগ পারবে বলে ভরসা করেছি।’’
(রাজকুমারী হাসিনা)

পিনাকী ভট্টাচার্য ফরহাদ মজহারের সঙ্গে গাটছড়া বেধেছেন। এর আগে তিনি বিট্রেন প্রবাসী এক সময়ের ডাকসু নেতা মাসুদ রানা ওরফে রানা ভাইয়ের সঙ্গেও বেধেছিলেন। সে সময় তিনি রানা ভাইয়ের সাথে পার্টি করতেও চেয়েছিলেন। রানা ভাই ভট্টাচারিয়ার সঙ্গে পার্টি করার জন্য লন্ডন থেকে ঢাকায় উড়ে এসেছিলেন। সে সময় আমি এই পার্টি গঠন নিয়ে ফেসবুকে দু চার লাইন লিখেছিলাম। এইসব লেখালেখির কারণে আমার পরিচিতরা পিনাকী ভট্টাচায্যের সেই রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে হাজির হননি। সে সময় বেশ কিছু লোক দিয়ে আমাকে তাদের বিরুদ্ধে লিখতে নিষেধ করা হয়েছিলো। যা হোক, পিনাকী ভট্টাচায্যের লেখালেখি বিষয়ে খুব আমলে নেবার নেই। কারণ এসবের মধ্যে সারবস্ত নেই বললেই চলে। অধিকাংশই মিথ্যা, প্রপগণ্ডা টাইটের। তালপট্টির নিচে ১০০ টিসিএফ গ্যাস রয়েছে এমন প্রচারণা চালিয়ে তিনি ধরা খেয়েছিলেন। সে সময় এটির বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ দিয়ে দুটো ব্লগ লিখেছিলাম। এ ছাড়া বহু বিষয় আছে যা তিনি সকালে একটা বলেন, তো বিকালে আরেকটা বলেন। অস্থির মস্তিষ্ক। এটা তিনি রমেল চাকমার ক্ষেত্রেও করেছেন। রমেল তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। এর মাধ্যমে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্টি সম্পর্কে তার দার্শনিক ভিত্তিটিও নগ্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে তিনি প্রতি নিয়ত নগ্ন হচ্ছেন বা আর অবশিষ্ট নেই। পাহাড়ে বা সমতলে সবজায়গাতে ফরহাদ মজহার সোচ্চার থাকলেও হাওর এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের বিষয়ে তার লেখা এখনো পাইনি। আমি তার মতের পক্ষের মানুষ নই। কিন্তু তার লেখা পড়ার জন্য উদগ্রিব হয়ে থাকি। এটি সম্ভবত বিপরীতের ঐক্যের প্রতি যে সহজ ভালোবাসা ও সাধনা সেটাই কারণ হতে পারে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “আমরা বুশের পক্ষে নই, ফরহাদ মজহারের পক্ষেও নই

  1. ফরহাদ মজহার একজন চতুর মানুষ।
    ফরহাদ মজহার একজন চতুর মানুষ। নিজে ভালো ব্যবসা বোঝেন। ব্যবসা না থাকলে তিনি সেখানে যান না। আ.লীগ লাইনে ব্যবসা না থাকায় সেখানে সম্ভবত তিনি যাননি। ইসলামী রাজনীতিতে ব্যবসা দেখছেন এ জন্য দৌড়াইছেন। আর এইসব বিপ্লব টিব্লব হলো স্রেফ ফালতু কথাবার্তা।
    তিনি আমেরিকার নাগরিক ছিলেন। প্রতি বছরে কিছুদিনের জন্য সে কারণে আমেরিকাতে গিয়ে থাকতে হতো। এখনো আছেন কিনা জানা নেই।
    তার বড় ভাই ছিলেন দারুন মানুষ। তিনি গত কয়েক বছর আগে নিজের বাড়িতে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। শেষ জীবনে খুবই আর্থিক কস্টে ছিলেন। এই বড় ভাইয়ের কাছ থেকেই ফরহাদ কম্যুনিস্ট হবার ঝোক পান। যাই হোক, বড় ভাইয়ের একটা আধপাগলা মেয়ে আছেন। সেই মেয়েকে খুবই কম টাকায় বলতে পারেন পিয়ন চাপরাশির টাকায় চাকরি দিয়েছেন নিজের প্রতিষ্ঠানে। বড় ভাইয়ের খারাপ সময় ফরহাদ কোন অর্থ ব্যয় করেনি। ঘরের মধ্যে সাম্যতা নেই বাইরে কিভাবে সাম্যবাদ?
    লালন ফকিরের নামে দেশের আনাচে কানাচ থেকে ফকির ধরে আনেন, তাদের জাপানে পাঠান। মোটা মোটা ফান্ড নেয় কিন্তু ফকিরদের তিনি ঠকান। এই হলো এককালের সর্বহারা নেতা।
    এই লোকটা আগা গোড়া ভন্ড মনে হয়।

  2. আমার মন হয় দরকার আছে। এ কারনে
    আমার মন হয় দরকার আছে। এ কারনে যে, এরা কমবুঝজ্ঞানদের ভ্রান্ত পথে নিচ্ছে। এদের কারণেই সমাজে আইএস হচ্ছে। হিযবুত তাহরীর পক্ষে ফরহাদ মজহার বহু বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছে। সে হিযবুত তাহরী এখন হলি আর্টিজা ঘটাচ্ছে।
    সামনে আরও খারাপ সময় আসছে। কথায় কথায় পিনাকী অন্যদের নাস্তিক বলে। ওরে বলেনতো, হিন্দুদের যে কোটি খানেক গড আছে ও সেগুলোকে মান্য করে কিনা? বা ইসলামি পদ্ধতিতে জীবন পালন করে কিনা? এসবের উত্তর না দিয়ে সে ফুকো দেরিদা কপচাবে। মানে তুই পরলোকে বিশ্বাস রাখিস অথবা রাখিস না? দেখেন প্রশ্ন করে কি উত্তর দেয়।

  3. ‘সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্স
    ‘সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্স রিভিউ’র তথ্যমতে, ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বামপন্থি কম্যুনিস্ট পার্টির ৬৭২ জন নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সরকারের আমল ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বামপন্থি পার্টির নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ২৩৮ জন।’
    – আপনি কি অনুগ্রহ করে সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্স রিভিউ’র যে সংখ্যা থেকে এই তথ্য পেয়েছেন তার কোন লিঙ্ক বা ফাইল(পিডিএফ/ইমেজ) দিতে পারেন?

  4. ১.’ পিনাকী ভট্টাচায্যের
    ১.’ পিনাকী ভট্টাচায্যের লেখালেখি বিষয়ে খুব আমলে নেবার নেই… রমেল তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন।’
    -আমি তার ফেসবুক খুজে এসেছি, পাইনি, আপনি কি লিঙ্কটি দিতে পারেন যেখানে তিনি রমেল কে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?

    ২.’সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্স রিভিউ’র তথ্যমতে, ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন বামপন্থি কম্যুনিস্ট পার্টির ৬৭২ জন নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সরকারের আমল ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বামপন্থি পার্টির নেতা কর্মী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ২৩৮ জন।’
    – আপনি কি অনুগ্রহ করে সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্স রিভিউ’র যে সংখ্যা থেকে এই তথ্য পেয়েছেন তার কোন লিঙ্ক বা ফাইল(পিডিএফ/ইমেজ) দিতে পারেন?
    ৩. ‘…ফরহাদ মজহারের আমেরিকা পলায়ন, সালেহার সঙ্গে স্বামীর পুনর্মিলন এসবের সঙ্গে বোধ হয় হুমায়ুনের মৃত্যুর একটা সম্পর্ক জড়িত রয়েছে।’
    – আপনি কি খেয়াল করছেন, ছফা ‘বোধ হয়’ শব্দটি ব্যবহার করছে? সে ক্ষেত্রে ‘সম্পর্ক রয়েছেন এমনটি মনে করতেন ফরহাদ মজহারের গুরু আহমদ ছফা’ বাক্যটি কি যায়? সন্দেহ করাই কি সম্পর্ক তৈরি করে ফেলে?

    1. আপনি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
      আপনি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন দয়া করে। আমি বলেছি যে, ‌”রমেল তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন।”
      তিনি ওয়াহিদুজ্জামানের একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। এটি তার ওয়ালে গিয়ে দেখেন।
      সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্ট রিভিউ’র সাইটের ঠিকানা http://www.satp.org/
      আর কতজন কম্যুনিস্ট প্রতি মাসে ক্রসফায়ারে মারা যাচ্ছেন এটা দেখার জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাইটে যাবার দরকার নেই। বাসায় যে পত্রিকাটি রাখেন তার মফস্বলের পাতাটি একটু মন দিয়ে পড়বেন। তাহলে প্রতিমাসে কতজন ‌’চরমপন্থি’ ক্রসফায়ারে খতম হলো তার হিসেব আপনি নিজেই করতে পারবেন।
      আর ছফা ভাইতো নিজে দেখেননি যে, ফরহাদ মজহার হুমায়ূন কবিরকে হত্যা করেছে। ফলে যদিইতো বলবে। কিন্তু তার বাক্য গঠন, বিশেষনের ওপর বিশেষ জোর দেয়ার ধরন যদি দেখেন তাহলে ছফা ভাই বিশ্বাস করতেন যে, হুমায়ূন কবিরের মৃত্যুর সাথে ফরহাদ মজহারের সম্পর্ক রয়েছে।

      1. ওয়াহিদুজ্জামান আমাকে ব্লক
        ওয়াহিদুজ্জামান আমাকে ব্লক করেছেন, সুতারাং তার পোস্ট আমি দেখতে পারছি না।
        সাউথ এশিয়ান ইন্টেলিজেন্ট রিভিউ’র সাইটের ঠিকানা দিলেন, আপনি সে সাইটের কোন লেখা থেকে দিলেন সেটাতো বললেন না, আপনি বিশিষ্ট লেখক, এই সাধারন বিষয়টা আপনার জানা উচিৎ যে , লেখক কে পূর্ন রেফারেন্স দিতে হয়, দয়া করে পূর্ণ রেফারেন্স দিন।

  5. ধরুন, কেউ যদি কোন পত্রিকার
    ধরুন, কেউ যদি কোন পত্রিকার রেফারেন্স দেয় তখন পৃষ্টার নাম উল্লেখ করে দেয় না। নেট দুনিয়ায় আপনি এতোটুকু খুজে নিতে পারবে না যে, এসব তথ্য ওই সাইটের কোথায় আছে? গুগল প্রজন্ম এতোটুকু কস্ট করবে না, নাকি সে একটি সাইট থেকে কিভাবে কোন ক্যাটাগরিতে তথ্য থাকে তাও বুঝতে পারে না? তারপরও আপনার জন্য সেটুকুও করলাম। আশা করি এবার বুঝবেন।
    আমার ফেসবুক নেই। কিন্তু যাদের আছে তারা দেখিয়েছি। আর এটি নিয়ে বাকি বিল্লাহসহ বহু লোক লিখেছে। নেটে খুজলে স্ক্রিন শর্টও পাবেন। নিশ্চয় আমার কাছে স্ক্রীন শর্ট চাইবেন না।
    http://www.satp.org/satporgtp/countries/bangladesh/database/Fatalities-%20Left-wing%20Extremism%202010.htm
    http://www.satp.org/satporgtp/countries/bangladesh/database/Fatalities-Islamist%20Terrorism%202010.htm

    এরপ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 42 = 43