ক্ষতিগ্রস্ত হাওড়াঞ্চলের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওড়াঞ্চলের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। হাওড়াঞ্চলের ছয় জেলায় তিন লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। ১০০ দিন পর্যন্ত এ সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা দেয়া হবে। গত মাসের ২৯ তারিখে পাহাড়ী ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওড়াঞ্চল প্লাবিত হয়। হাওড়াঞ্চলের ছয় জেলার মধ্যে চারটি (সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট) জেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকের বেশিরভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে। সেখানকার মানুষ একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল। আর ১০-১২ দিনের মধ্যে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারতেন। আগাম বন্যা ও বৃষ্টির কারণে তা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এসকল জনগণের কথা বিবেচনায় রেখে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস ১০ দিন অর্থাৎ ১০০ দিনের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১০ থেকে ২০ হাজার বাড়তেও পারে। এখানে ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। শুধু চাল দিলেই হবে না; তেল, ডাল, নুন, মরিচ কেনার জন্যও টাকা দরকার। সে লক্ষ্যে মাসে ৫০০ করে টাকাও দেয়া হবে। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যায় করা হচ্ছে। যারা রিলিফ নেবে না, যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভাল, সেখানে ছয় জেলায় এক লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ পরিবারকে ওএমএসের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হবে। এছাড়া সুলভমূল্যের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিও অব্যাহত থাকবে। হাওড়ে মাছ মরে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরাও পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় আসবে। কৃষকদের মাথা থেকে হাত না নামা পর্যন্ত এবং আগামী ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। খাদ্যের কোন অভাব নেই। কেউ না খেয়ে থাকবে না। ত্রাণের কাজ চালু রাখা হয়েছে। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে তিন থেকে ছয় মাস খাদ্য দিয়ে সহায়তা করার দাবি ছিল। সেখানে সরকার তিন মাস না, ছয় মাসও না বরং যতক্ষণ পর্যন্ত এই অঞ্চলের জনগণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে না পারবে, ততক্ষণ খাদ্য ও নানান সাহায্য ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার। প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটা চালের হিসাবে ছয় লাখ টনের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হাওড়ের বাইরে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তাই এখানে যেটা ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে নেয়া যাবে। আউশ ও আমন চাষের এলাকা বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হবে। এতে উৎপাদন বেড়ে যাবে। বাঁধ ভেঙ্গে হাওড়ের মানুষের দুর্গতির পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমান বিপদে এ থেকে শিক্ষা নেয়া ছাড়া করার কিছু নেই। বন্যায় দুর্গত মানুষের জন্য সরকারের এই সকল উদ্যোগ যুগোপযোগী ও প্রসংশনীয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 + = 55