কেমন আছে তোমার আমার বাংলাদেশ?

প্রচণ্ড ক্ষোভে ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে থাকে নিরুপায় জনগণ। ইচ্ছে হয়, ’পিলার ধরে নাড়াচাড়া করে’ সব অনিয়গুলি ধ্বসিয়ে দিই!

মিডিয়াগুলিকে শক্ত বাঁধনে বেঁধে রাখার পরও কীভাবে লক্ষ লক্ষ হেক্টর ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে যায় তা এক বিস্ময়! দেশের কর্ণধারেরা তাই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন! ততোধিক দাম্ভিকতায় হুংকার ছাড়েন, রামপাল টা এবার চালু করে দাও। ’মিডিয়াগুলি’ ধানক্ষেত থেকে ওঠে সুন্দর বনে যেয়ে মরুক!

কিন্তু মিডিয়াগুলি উজানের তেড়ে আসা পানির স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে কিনারা আর খুঁজে পায় না। একের পর এক লক্ষ কোটি টাকার ‘বালির বাঁধ’ ভেঙে যাওয়ার দু:শ্চিন্তায় ডুবে মরে দেশের জনগণ। আর মনে মনে ভাবে, ”ভাতের বদলে আলু খাওয়ার‘’ শুরু বুঝি এখন সময়ের দাবী!

এদিকে এক শ্রেণীর নাগরিক নাকি হায়-হুতাশ করে মরছে! দেশের এই এলোমেলো পরিস্থিতির প্রেসার নিতে না পারায় হাওড়ের মাছগুলি-হাঁসগুলি গণহারে হার্ট অ্যাটাক করেই যাচ্ছে! অথচ, জ্ঞানী জনগণ কিনা বলে উজানের পানিতে বিষাক্ত কিছু ছিল!! সরকারি মেধাবী বিজ্ঞানীগণ প্রমাণ করেছেন যে, আসলে জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। ’আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে’, উজানের পানিতে কোনো প্রকার প্রবলেম নেই! যা কিছু রটেছে তার সবই ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’!

অবশ্য নাছোড়বান্দা জনগণ হাল ছাড়তে চায় না! কী দিয়ে কী টেস্ট করেছেন ’বিশেষজ্ঞ জ্ঞানীরা’ তা জানার অপেক্ষায় থাকে এরা। কিন্তু ’গডো আসবে আসবে বলে আর আসে না’!

তবুও অপেক্ষায় থাকে বোকা নাগরিক! দ্বিতীয়বার ময়না তদন্ত ছাড়া যে সত্যি কখনো মুখ খোলে না তা আমরা যেমন জানি, ঠিক তেমনটাই জানেন ’রাউধার বাবাও’। রাউধার বাবা হয়তো এজন্যেই প্রথমবারের ময়না তদন্তের বেলায় বুঝেশুনেই চুপ করে ছিলেন (!)

আর এদিকে, রমেল চাকমাদের দ্বিতীয় ময়না তদন্তের তো কোনো সুযোগই নেই! যেখানে দুর্নীতি আর অনিয়মের নথি থাকে, আগুনের শিখা সেখানেই স্পর্শ করে। তাই রমেল চাকমাদের লাশ অার বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি অজ্ঞাত কারণে পুড়তেই থাকে!

কষ্টের সব নারকীয় বচনের মাঝে দেশের গল্পগুলি এখন মৃত্যুশয্যায় শোয়া মুমূর্ষু রোগীর মলিন হাসির মতোই দেখায়।

‘লুকিং ফর শত্রুজ’ বাস্তবে এখন আর দেখা মেলে না! চোরে চোরে সব মাস্তুতু ভাই! ঘরের ভেতরের বিভীষণরা আজ সর্ষের ভুত হয়ে দাপড়ে বেড়ায়। শেভরন এই দেশের (গ্যাস ক্ষেত্র) সম্পদের সবটা চীনের কাছে বেচে দেওয়ার পরও পেট্রোবাংলার ’ইহারা’ ’কিছুই জানে না’!! তাতে কার কী আসে যায়?

প্রচণ্ড ক্ষোভে ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে থাকে নিরুপায় জনগণ। ইচ্ছে হয়, ’পিলার ধরে নাড়াচাড়া করে’ সব অনিয়মগুলিকে ধ্বসিয়ে দিই!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 10 = 12