বিবর্তনবাদ

বিজ্ঞানী ডারউইন এর বিবর্তনবাদের কথা মোটামুটি আমরা সবাই শুনেছি। এটা নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের বিতর্কও। এ ক্ষেত্রে যদি ডারউইনের বিবর্তনবাদ সত্যি হয়ে থাকে তবে সৃষ্টি নিয়ে সকল ধর্মীয় মতবাদ গুলো মিথ্যা প্রমানিত হবে।
আজকে আমি বিবর্তনের স্বপক্ষে জীবাশ্মঘটিত কিছু প্রমান নিয়ে আলোচনা করবো।
সাধারনভাবে জীবাশ্ম বলতে ভূত্বকের মধ্যে বন্দি জীবদেহ বা তার অংশবিশেষের অবশেষ বা ছাপকে বুঝায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে প্রত্নজীববিজ্ঞানীগণ জীবাশ্মের উপর ভিক্তি করে অভিবেক্তি ধারার একটি পর্যায়ক্রমিক সজ্জাক্রম খাড়া করেছেন, তবুও এখানে ব্যবধান রয়ে গেছে। কেননা অতীতকালে জীবজন্তুর অতি সামান্য অংশই জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে।
এখানে জীবাশ্মের উদাহরণ হিসেবে আমি সরীসৃপ এবং ঘোড়ার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করবো।
আরকিওপটেরিক্স নামক এক প্রকার অতি প্রাচীন কালের পাখির জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।
১। এদের চোয়ালে সরীসৃপ এর মতো দাঁত রয়েছে।
২। লম্বা লেজ আছে এবং পাখির ন্যায় পালকযুক্ত ডানা রয়েছে।
৩। এদের হাড়গুলো পাখির ন্যায় ফাঁপা নয় এবং কীলযুক্ত বুকের হাড়ও নেই।
৪। ডানায় তিনটি যুক্ত নখর আছে।

এসব বৈশিষ্ট্য হতে বিজ্ঞানীগণ মন্তব্য করেন যে গৌরবান্বিত সরীসৃপই হচ্ছে পাখি।

ঘোড়াঃ
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ঘোড়ার পূর্বসূরিদের ২৬০টি জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। জানা গেছে যে প্রায় ৬ কোটি বছর পূর্বে ঘোড়ার আবির্ভাব হয়েছিল এবং ইয়োহিপ্পাসকে (হাইরাকোথেরিয়াম) প্রাচীন নতুন পূর্বপুরুষ বলে বিবেচনা করা যায়।
১। আকৃতি ছিল শৃগাল এর মত।
২। উচ্চতা ছিল প্রায় ১ ফুট, দাঁত ছিল ৪৪টি।
৩। সামনের পায়ে ৪টি ও পিছনের পায়ে ৩টি আঙ্গুল ছিল।

অভিবেক্তির ইতিহাসে ঘোড়ার ২য় আদিতম পূর্বপুরুষ হচ্ছে অরোহিপ্পাস। তার-
১। আকৃতি ছিল কুকুরের মত,
২। উচ্চতা ছিল ১৩.০৫ ইঞ্চি, দাঁতগুলো ছিল নিচু ক্রাউন বিশিষ্ট।
এখান হতেই পর্যায়ক্রমিক ভাবে সৃষ্টি হয় ২ফুট উঁচু ভেড়াকৃতি মেজোহিপ্পাস ও প্যারাহিপ্পাস। এগুলোর আবির্ভাব হয়েছিল ওলিগোসিন ও মিয়োসিন যুগে। এদের পরবর্তী পূর্বপুরুষটি হলো গাধাসদৃশ ও ৪০ ইঞ্চি উঁচু মেরিচিপ্পাস। একেই সাধারনত ঘোড়ার পূর্বপুরুষ বলে ধরা হয়।
১। এদের করোটি ও দাঁতগুলো অনেকটা আধুনিক ঘোড়ার মতো ছিল।
২। এরা তিন আঙ্গুলীয় হলেও মধ্যমাঙ্গুলীই দেহের ভার বহন করতো এবং ক্ষুরবিশিষ্ট ছিল।
৩। পার্শ্ববর্তি অঙ্গুলি দুটি তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল বলে ভূমি স্পর্শ করতো না। কাজেই তা নিষ্ক্রিয় পথগামি ছিল।
মেরিচিপ্পাস হতেই প্লিওহিপ্পাসের আবির্ভাব হয়। এদের উচ্চতা ছিল ৫০ ইঞ্চি।
১। আকৃতিতে এগুলো অনেকটা আধুনিক ঘোড়ার মতো ছিল।
২। এদের পা ছিল এক ক্ষুরীয় ও দাঁত উঁচু ক্রাউনবিশিষ্ট ছিল।
এখান হতেই প্লিস্টোসিন যুগে বর্তমান ঘোড়া ইকুয়াসের উদ্ভব হয়।
[ বিদ্রঃ ঘোড়ার ক্রমবিকাশ সম্পূর্ণভাবে অভিযোজনপ্রসূত ও ধারাবাহিক। এদের উদ্ভব আমেরিকায় হলেও পরে এরা সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পরে।]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

90 − = 88