কাশেম বিন আবু বাকার এবং তার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম

#বুক_রিভিউ
বই:ফুটন্ত গোলাপ
লেখক: কাশেম বিন আবু বাকার
পৃষ্ঠা:১৩৭
মুদ্রিত মূল্য:১২০ টাকা মাত্র
ধরণ:রোমান্টিক উপন্যাস

সম্প্রতি বিদেশি মিডিয়ায় সাক্ষাতকার দিয়ে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন হিসেবে পরিচিতি পেলেন কাশেম বিন আবু বাকার।তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘ফুটন্ত গোলাপ’। বইয়ের ভূমিকায় লেখক কুরান হাদিসের বাণী শুনিয়ে লিখেছেন,বর্তমান সমাজের অবনতি দেখে এবং বিদেশি শিক্ষার প্রভাব দেখে তার প্রাণ প্রিয় উপন্যাস’ফুটন্ত গোলাপ’ লিখেছেন।তিনি আশাবাদী তার বইটা পড়ে তরুণ সমাজ ইসলামের পথে ফিরে আসবে।
বুক রিভিউ লিখতে গেলে বইয়ের কাহিনী ছোট্ট আকারে দেওয়া নাকি বাধ্যতামূলক। তবে আমি এক্ষেত্রে কাহিনী বলতে আগ্রহী নই।নব্বইয়ের দশকের যেকোন বাংলা সিনেমা দেখলেই এর কাহিনী বুঝা যাবে।তবুও একটু বলি।আল্ট্রা মডার্ন ফ্যামিলির হ্যান্ডসাম,কারাতে জানা ছেলে সেলিম।আর গরিব ঘরের মেধাবী কন্যা লাইলী যে কিনা সব সময় বোরকা পড়ে এবং দীনি হুকুম মেনে চলে।ভার্সিটি তে একদিন হঠাত করেই দুজন ধাক্কা খেয়ে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে প্রেমে পড়ে যায়।লাইলী পড়ে সেলিমের ফিগারের প্রেমে আর সেলিম? এত রুপসী মেয়ে সে তার জীবনে কোনদিন দেখেনি।ধাক্কা খাওয়ার পর থেকে তার মনে শুধু লাইলীর সেই ফর্সা লাল গোলগাল মুখের ছবি ভাসতে থাকে। এ যেন ফুটন্ত গোলাপ! এভাবেই কাহিনীর শুরু। কাশেমের ছোট ভাই আরিফ বাড়ির সবার অমতে ভারতে যায় ইসলামি শিক্ষা নিতে। সেখানে রচিত হয় আরেক কাহিনী। পুরা উপন্যাসেই মোটামুটি বাংলা সিনেমার কাহিনী আছে। যেমন ধরেন লাইলীকে রেপ করার উদ্যেশ্যে কয়েকজন গুন্ডা কিডন্যাপ করে। লাইলী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা শুরু করে।ঠিক সে সময়ে উদ্ধারকর্তা হিসেবে সেলিম আবির্ভূত হয়।এভাবেই কাহিনী চলতে থাকে।তবে ফুটন্ত গোলাপ পড়ার সময় কাহিনী পরিচিত হলেও আপনি একবার ও বিরক্তি বোধ করবেন না।এখানেই লেখকের কৃতিত্ব। লেখকের মধ্যে যে রোমান্স কাজ করে সেটাই সাধারণ কাহিনীকে পাঠকপ্রিয় করে তোলে। তবে লেখক সিনেমা থেকে কাহিনী ধার করেছেন আমি তা মনে করিনা।উপন্যাস পড়লেই বোঝা যায়,কাহিনী রচনার দক্ষতা লেখকের আছে।আমার ত মনে হয় বাংলা সিনেমার কাহিনী নেওয়া হত ফুটন্ত গোলাপ থেকে।
কাশেম সাহেবের চিন্তা-ভাবনাই অন্য রকম।উপন্যাসজুড়ে তিনি বারবার মানুষকে ইসলামের পথে আনতে চেয়েছেন।এক্ষেত্রে তার পদ্ধতি অতি রোমান্টিক। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন বোরখা পড়া ইসলামি চিন্তাধারার মেয়ের মাঝেই রয়েছে আসল সুখ।বইটা পড়ার পর আমি লাইলীর প্রেমে পড়ে গেছি এবং বোরখা পড়া মেয়ে ছাড়া অন্য কারো প্রেমে পড়ব না এমন ডিসিশন ও নিয়েছি।

শুধু একটা জিনিস আমার সহ্য হয়নি তা হল পাতায় পাতায় বানান ভুল।
ফুটন্ত গোলাপ প্রায় ৫ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে এর পেছনের কারণ আমি বুঝতে পেরেছি।তরুণ তরুণীদের লেখক বুঝাতে চেয়েছেন, সেলিম, তুই লাইলীর সাথে সারাদিন প্রেম কর, তার শরীর টাচ কর কিন্তু সে সময় যেন লাইলীর গায়ে বোরখা থাকে!!!! মাঝে মাঝেই আল্লাহকে স্মরণ করে প্রেম ভালোবাসা করাকে জায়েজ ঘোষণা করেছেন কাশেম বিন আবু বাকার। শিখিয়েছেন প্রেমের ইসলামি তরিকা।একারণেই আধুনিক পোলাপানের পাশাপাশি তিনি সারা ফেলতে পেরেছেন ইসলাম পন্থি তরুণদের মাঝেও।

কাশেম সাহেবের কে এখনো নাকি তরুণীরা নিজেদের রক্ত দিয়ে দিয়ে চিঠি লিখে পাঠায়।তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এগুলার সত্যতা জানিনা।তবে পাতায় পাতায় সুড়সুড়ি দিয়ে কাশেম বিন আবু বাকার ৩য় শ্রেণির পাঠককে ধরে রাখতে পেরেছেন এটা নিশ্চিত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =