ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্ট প্রদানে সরকারি গোপন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী ৫ পাহাড়ি নারী সংগঠনের

ধর্ষণের মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানে সরকারের গোপন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে খাগড়াছড়ি সদরে ৫ নারী সংগঠনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

সকল প্রকার নারী নির্যাতন ও খুনের বিচার কর ও রমেল চাকমার খুনী সেনা কর্মকর্তাদের বিচার কর এবং ধর্ষণের মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট প্রদানে পার্বত্য চট্টগ্রামে জারিকৃত সরকারী নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবীতে আজ (২৮ এপ্রিল ২০১৭) খাগড়াছড়ি সদর ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে চৌরাস্তা মোড়ে সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলনরত ৫ নারী সংগঠন।

পাঁচ নারী সংগঠন হলো হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, সাজেক নারী সমাজ, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও নারী আত্মরক্ষা কমিটি।

হিল উইমেন্স ফেডারেশন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক চৈতালি চাকমার সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিরুপা চাকমা’র সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফ-এর জেলা সংগঠক মিঠুন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, পিসিপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিপুল চাকমা ও পার্বত্য নারী সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজলী ত্রিপুরা।

সমাবেশে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ ভন্ডুল করে দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী বহু চেষ্টা চালিয়েছে। সাজেক, দীঘিনালা, গুইমারাতে সেনাবাহিনী বিভিন্ন কায়দা কৌশলে বাধা প্রদান করার চেষ্টা চালিয়েছে। হুমকি দিয়েছে এবং ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। পানছড়ি, মহালছড়ি থেকে আসা আমাদের নেতাকর্মীদের গাড়ি আটকে দেয়া হয়েছে। সকাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের হুমকি বা ভয় দেখানো হয়েছে। সমাবেশ না করার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে।’

সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, সমতলে নারী ধর্ষণ ও হত্যার কয়েকটি বিচার ও রায় কার্যকর হতে দেখা গেলও পার্বত্য চট্টগ্রামে এযাবৎকালে যতগুলো অপহরণ, ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার বিচার তো দূরে থাক কোন সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। সেকারণে পাহাড়ি নারীদেরকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা অধিকমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, আর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো ধর্ষণের শিকার পাহাড়ি নারীদের মেডিকেল রিপোর্ট প্রদানে সরকারের গোপন নির্দেশনা রয়েছে। উক্ত নির্দেশনার ফলে আজ পর্যন্ত কোন পাহাড়ি নারী ভিকটিম-এর ক্ষেত্রে সঠিক মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

সমাবেশ থেকে বলা হয়, খাগড়াছড়িতে কয়েকমাস আগে ইতি চাকমা নামে একজন কলেজ ছাত্রীকে খুন করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ড সমাজে নারীদের নিরাপত্তাহীনতার কথা চোখের সামনে তুলে ধরে। এই হত্যায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে বা তাদের খুঁজে বেড় করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে। তবে এজন্য কোনো নিরপরাধী বা হত্যার সাথে জড়িত নয় এমন কাউকে হয়রানি করা চলবে না।

সমাবেশ থেকে গোপনে জারিকৃত ধর্ষণের মেডিকেল রিপোর্ট প্রদানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান হয় এবং এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ও পিসিপি নেতা রমেল চাকমার হত্যার সাথে জড়িত সেনাসদস্যের বিচারের দাবী জানান নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে শহরের একটি মিছিল বেড় করা হয়। মিছিলটি সমাবেশ স্থল থেকে শুরু হয়ে জেলা পরিষদ, রেড স্কোয়ার হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার ঘুরে পুনরায় সমাবেশ স্থানে এসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।

এমন এক দেশে বাস করি যেখানে ধর্ষিত মা-বোনের মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট পাবার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করতে হয় । ৭১ আমাদের ক্ষমা করো।

আল আমিন হোসেন মৃধা লেখক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 7