মানুষ গড়ার কারিগর

শিক্ষা প্রদান একটি শিল্প, আর শিক্ষকই এই শিল্পের কারিগর। নিজ পেশাকে চাকরি নয়, ব্রত হিসেবে নিতে হবে। হতে হবে আন্তরিক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়তে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিমিত সম্পর্ক। শিক্ষার্থীদের ভাল মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাবেন শিক্ষক।


একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে পিতামাতার চেয়ে শিক্ষকদের অবদান কম নয়। যে জাতি যত শিক্ষিত, সেই জাতি তত উন্নত। আর শিক্ষকরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। এক কথায় বলা যায়, শিক্ষক মানুষ গড়ে তোলেন। যার মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে নীতি-নৈতিকতা ও জীবনাদর্শের বলয়ে একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ও কর্মময় জীবনকে মুখরিত করে।

একজন আদর্শ শিক্ষক তিনিই, যার শিক্ষা ও স্মৃতি দীর্ঘকাল শিক্ষার্থীর মনে গেঁথে থাকে।

আমাদের শিক্ষকদের বৃহত্তর অংশ শিক্ষকতা পেশায় আসেন কেবল জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে। পেশাটির প্রতি ভালবাসা ও গভীরভাবে পেশাটাকে মহিমান্বিত করার উৎসাহ আগ্রহ তাদের অনেকের মধ্যে খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি শ্রেণীকক্ষে ঢুকে একজন শিক্ষক প্রথমে যে কাজটি করেন, তা হচ্ছে বোর্ডে তার কোচিং সেন্টারের ঠিকানাটা লেখা। এ কাজে ড্রয়িং শিক্ষক থেকে বাংলার শিক্ষক কেউ বাদ যান না। তারা যে বিষয়টি এই কোচিং সেন্টারে পড়ান, তা ক্লাসে কেন পড়াতে পারেন না? এই প্রশ্নের কোন জবাব কিন্তু তাদের কাছে কখনও পাওয়া যাবে না। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষণা করে, তাদের কলেজে পড়লে প্রাইভেট কোচিংয়ের প্রয়োজন হয় না। যে কথাটি তারা বলে না, এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ক্যাম্পাসে কোচিং বাবদ বছরের শুরুতেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বাংলাদেশে শিক্ষার যদি কেউ সর্বনাশ করে থাকেন, তাহলে তার দায়-দায়িত্ব ওই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।

আমাদের সমাজে বাবা-মায়ের পর শিক্ষকদের গুরুজন হিসেবে শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। দেশে আজ পরিমলদের মতো শিক্ষকরা তাদের পিতৃতুল্য মর্যাদার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ছাত্রীদের যেভাবে অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করেছে তা যে কোন মূল্যায়নে গর্হিত অপরাধ। প্রাইভেট পড়ার সময় ছাত্রীদের কেউ কেউ অনৈতিক আচরণের শিকার হয় এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। শিক্ষকতার মহান পেশাকে কলঙ্কিত করছে কিছু নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ। প্রয়োজনীয় সব গুণসম্পন্ন একজন শিক্ষক দেশ ও সমাজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। শিক্ষা প্রদান একটি শিল্প, আর শিক্ষকই এই শিল্পের কারিগর। নিজ পেশাকে চাকরি নয়, ব্রত হিসেবে নিতে হবে। হতে হবে আন্তরিক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়তে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিমিত সম্পর্ক। শিক্ষার্থীদের ভাল মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখাবেন শিক্ষক। তার পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যক্তিত্ব দেখে শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে শিক্ষকের মতো হতে চাইবে। পেশায় ও কর্তব্য পালনে শিক্ষক হবেন আদর্শবান, সত্যপ্রিয় অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। শিক্ষক হবেন রোল মডেল বা আদর্শ, জ্ঞানের উৎস, আনন্দের ভান্ডার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 1