ইভ টিজিং !!! এইই সমস্যার জন্য কে দায়ী? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

সবচেয়ে জটিল একটি প্রশ্ন। এই সমস্যাটি আজকালকার সমাজে অনেক জনপ্রিয়। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারাও পর্যন্ত এই সমস্যা পতিত হন। খুব কম সংখ্যক মেয়েকেই পাওয়া যাবে যারা এই সমস্যার শীকার হন নি। এমনকি গৃহিণীরাও রেহাই পাননি এই জটিল সমস্যা থেকে। এই সমস্যার জন্য আসল কালপ্রিট কে?

প্রশ্নটা অনেক জটিল হলেও হুজুর-মাওলানা থেকে শুরু করে প্রায় সকল ছেলেদের মতে এই সমস্যার জন্য দায়ি হচ্ছে মেয়েরা। তাদের চাল-চল, পোশাক-আশাক কেই তারা বেশী দায়ী করে থাকে। সবাই আবার এই রকম ভাবেন না। তাদের মধ্যে ডিফারেন্স নামক জিনিসটা কাজ করে।

কিছু ছেলে আছে যারা নিজেরাই ইভ টিজিং করে আবার দোশ দেয় মেয়েদেরকে। সোজা কথা যত দোষ নন্দ ঘোষ। তার কথা একটাই মেয়েরা উগ্র পোশাক পড়ে বলেই তাদের টিজ করা হয়। আর কোন কারন নেই। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “তোমার মাকে বা বোনকে যদি কেউ টিজ করে বলে তোরা মায়ের পোশাক খারাপ, তখন তুমি কি বলবা? চু*না?”

একবার এক ছেলেকে দেখেছিলাম উপস্থিত বক্তৃতায় এই বিষয়ে কথা বলতে। তার দুই মিনিটের বক্তৃতায় শুধু শুনেছিলাম মেয়েদের পোশাক নিয়ে কড়া কড়া কথা। সার-সংক্ষেপ এই যে মেয়েরা যদি ইসলামের পথে চলে ইসলামের শরীয়া মরে ‘বোরকা’ পড়ে চলে তাহলে তাদের কেউ টিজ করবে না। এই বক্তৃতা দেয়ার পর খুব হাততালি পড়েছিল ছেলেদের দিক থেকে। মেয়েদের দিক থেকে মনে হয় ছুটেছিল গালির তুবরি।

আসুন দেখি ইসলাম কি বলে? ইসলামে সর্ব প্রথম ‘বোরকা’ বলে কোন শব্দ নাই। যেটা আছে সেটা হল ‘হিযাব’। ‘বোরকা’ হল উর্দু (!) শব্দ। ও একটা কথা ঐ ছেলেটাই এখন আবার হেফাজত নিয়ে কথা বলে, কিছুদিন আগে বলেছিল সাঈদীর পক্ষ নিয়ে। যাক সেটা বিষয় না। বিষয় হচ্ছে কোন মেয়ে যদি ‘হিযাব’ পড়ে তাহলে কি তাকে কেউ টিজ করবে না? অনেকেই না জেনেই বলে বসবেন যে, “করবে না” । কথা টা বলার আগে আপনার এমন কোন বান্ধবীকে জিজ্ঞাসা করুন যে ‘হিযাব’ পড়ে। সে একবার হলেও ইভ টিজিং এর শিকার। সে হিযাব পড়ে থাকা অবস্থাতেই। এটা কেন হল? মেয়েটাতো সম্পুর্ন ইসলাম বিধান মেনে চলেছে কিন্তু তাকে কেন ইভ টিজিং এর শিকার হতে হল? ফলাফল কেন শুন্য? উত্তর পাওয়া যাবে না।

আসুন দেখি কোর’আনে কি বলা হয়েছে। সূরা আন-নূর এর ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “(হে নবি,) তুমি মমেন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে (নিম্নগামী ও) সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানসমূহ কে হেফাযত করে; এটাই (হচ্ছে) তাদের জন্য উত্তম পন্থা; (কেননা) তারা (নিজেদের চোখ ও লজ্জাস্থান দিয়ে) যা করে, আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে পূর্ণাংগভাবে অবহিত রয়েছেন।”

এর পরের আয়াতে অর্থাৎ সূরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “(হে নবী, একইভাবে) তুমি মোমেন নারীদেরও বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়, তবে তার (শরীরের) যে অংশ (এমনিই) খোলা থাকে (তার কথা আলাদা), তারা যেন তাদের বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখে, তারা যেন তাদের স্বামি, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুর, তাদের ছেলে, তাদের স্বামীর (আগের ঘরের) ছেলে, তাদের ভাই, তাদের ভাইয়ের ছেলে, তাদের বোনের ছেলে, তাদের (সচরাচর মেলামেশার) মহিলা, নিজেদের অধিকারভুক্ত সেবিকা দাসী, নিজেদের অধীনস্ত (এমন) পুরুষ যাদের (মহিলাদের কাছ থেকে) কোন কিছুই কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানে না- (এসব ,মানুষ ছাড়া তারা যেন) অন্য কারোর সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, (চলার সময়) যমীনের ওপর তারা যেন এমন ভাবে নিজেদের পা না রাখে- যে সৌন্দর্য তারা গোপন করে রেখেছিল তা (পায়ের আওয়াযে) লোকদের কাছে জানাজানি হয়ে জায়; হে ঈমানদার ব্যাক্তিরা, (ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য) তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র দরবারে তওবা করো, আশা করা যায় তোমরা নাজাত পেয়ে যাবে।”

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হল প্রথমে ছেলদের বলা হচ্ছে তাদের নজর ঠিক করতে তারপর বলা হচ্ছে মেয়েদেরকে !! অর্থাৎ আগে ছেলেদেরকে বদলাতে হবে তারপর মেয়েদেরকে বদলাতে বলুন। আপনি নিজে যদি কোর’আনের এই বানী মেনে থাকেন তাহলে কখনই আপনি বলতেন না যে ইভ টিজিং এর জন্য মেয়েরা দায়ী। আপনি বলতেন মেয়ে ও ছেলে উভয়েই দায়ী। মেয়ে এবং ছেলে সকলেই যদি কোর’আনের কথা মেনে চলে অথবা শুধু ছেলেরাই মেনে চলে তবেই ইভ টিজিং বন্ধ হবে। ছেলেরা না বদলালে কোন মেয়েকে যদি বস্তা দিয়ে পেচিয়ে তার উপর লেপ-তোশকো চড়ান হয় তাও ছেলেরা ইভ টিজিং করবে কারন এটা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

এই ইভ টিজিং যখন বিষয় তখন হেফাজুতা ইসলামের একটা দফার কথা মনে পড়ে গেল। সেটা হচ্ছে মেয়েদের অবাধে বিচরন সম্পর্কে। তারা যদি অবাধে বিচরন করে তাহলে নাকি তাদের ইভ টিজিং হবে। আর বিচরন না করলে তাদের সাথে কিছুই হবে না। তারা ইসলামী শরিয়ত মানলে তাদের দিকে কেউ নাকি চোখ তুলে তাকাবে না। বললাম ত ছেলেরা যদি না বদলায় তাহলে মেয়েদেরকে ঘরের আলমারির সিন্দুকের মধ্যে আটকে রাখলেও তারা ইভ টিজিং এর শিকার হবে।
তাই বলে মেয়েরা দায়-ভার মুক্ত না।

তাহলে শেষ পর্যন্ত জানা গেল কারা দায়ী। দায়ী আমরা সকলে। কারন এই সমস্যার সমাধান কি সেটা জেনেও আমরা সমাধানের চেস্টা করি না। সেলকাস !! পাছে যদি কিছু হয় !!!!!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩১ thoughts on “ইভ টিজিং !!! এইই সমস্যার জন্য কে দায়ী? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

  1. অর্ধেক দোষ করিয়াছে নারী…
    অর্ধেক দোষ করিয়াছে নারী… অর্ধেক তার নর!!
    কাল একটা জিনিস অবাক করল… পাকিস্তানের নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়া মেয়েরা বেশির ভাগ বোরকা পরেনি!

  2. দোষ যদি সব মেয়েদেরই হয় তাহলে
    দোষ যদি সব মেয়েদেরই হয় তাহলে শিশুরা ধর্ষণের শিকার কেন হয়? ছেলেদের জানোয়ারসুলভ পৈশাচিক মানসিকতা পরিবর্তন না হবে ততদিন এই অপরাধ চলবেই। লেখকের ভাষায়-

    ছেলেরা না বদলালে কোন মেয়েকে যদি বস্তা দিয়ে পেচিয়ে তার উপর লেপ-তোশকো চড়ান হয় তাও ছেলেরা ইভ টিজিং করবে

  3. ছেলেরা না বদলালে কোন মেয়েকে

    ছেলেরা না বদলালে কোন মেয়েকে যদি বস্তা দিয়ে পেচিয়ে তার উপর লেপ-তোশকো চড়ান হয় তাও ছেলেরা ইভ টিজিং করবে কারন এটা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

    এই যে ছেলে মেয়েদের কি করা উচিত তা যে ইসলাম বর্ণনা করেছে, তাতে কিন্তু অসুস্থ মানুষিকতার মানুষরা ব্যাখ্যা করবে এইভাবে যে মেয়েরা বোরখা পরলে ছেলেরাও নজর সংযত রাখবে।
    যে বুঝে সে নিজের বিবেকের তাড়নায় ইভ টিজিং করবে না। যে নষ্ট তাকে স্বয়ং ঈশ্বর এসে বললেও কোন লাভ হবে না।

  4. যত দোষ নন্দ ঘোষ
    আপনার লেখা

    যত দোষ নন্দ ঘোষ

    আপনার লেখা পড়ে মনে হল সব দোষ ছেলেদের , মেয়েদের কোন দোষ নেই ।

    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  5. ছেলেরা না বদলালে কোন মেয়েকে

    ছেলেরা না বদলালে কোন মেয়েকে যদি বস্তা দিয়ে পেচিয়ে তার উপর লেপ-তোশকো চড়ান হয় তাও ছেলেরা ইভ টিজিং করবে কারন এটা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

    হাহামগে

  6. বোরকা, হিজাব, আইন-কানুন,
    বোরকা, হিজাব, আইন-কানুন, ধর্মীয় শিক্ষা কোন কিছু দিয়েই এই অপরাধ বন্ধ হবে না। বাস্তবতা তাই বলে। বোরকা হিজাব দিয়ে হলে, সৌদিতে প্রতিনিয়ত মেয়েরা ধর্ষনের স্বীকার হতো না নিজ গৃহেই। আইন-কানুন দিয়ে হলে, আমেরিকা ইউরোপের মতো দেশ যেখানে আইনের প্রয়োগ কঠোর সেখানেও এটা হয় কেন? ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে হলে, মাদ্রাসার হুজুর বা মসজিদের ইমামা দ্বারা যেই ঘটনা গুলা ঘটে সেটাও হওয়ার কথা ছিলোনা।
    মূল বিষয় হচ্ছে বিবেব এবং মানসিকতা। এটা ঠিক না হলে কোন কিছু দিয়েই কিছু বন্ধ করা যাবে না।

  7. কৃষিসভ্যতার পর থেকে যখন
    কৃষিসভ্যতার পর থেকে যখন নারীরা ক্রমেই বন্ধী হতে লাগল তখন থেকেই তাদের ব্যক্তিস্বত্বা আর স্বকীয়তা ভুলন্ডিত হয়ে অবিরত রবীঠাকুরের হৈমন্তীর মত শোপিস এবং সম্পদের সত্ত্বায় বিকশিত হতে থাকল।
    আজ পাশ্চাত্য দর্শনের একদল দার্শনিক বা সমাজবিজ্ঞানী মনেকরে মানবজাতি হোমো-স্যাপিয়েন্স থেকে আরও আধুনিক একশ্রেণীর মানুষে পরিণত হবে যেভাবে হোমো ইরেক্টাস হোমো স্যাপিয়েন্স এ উন্নীত হল! আমার মনে হয় নারী আজ হয়ত হোমো-স্যাপিয়েন্স থেকে আলাদা কিছু অর্থাৎ হোমো ইরেক্টাস রয়ে গেছে বা তারা হোমো স্যাপিয়েন্স থেকে যাবে অর্থাৎ চিন্তা চেতনায় নারীরা অনগ্রসর থেকে যাবে আর পুরুষেরা আরও অগ্রসর একশ্রেণীর মানবজাতির সৃষ্টি করবে, যা হবে মানবসভ্যতার জন্যে ভয়ংকর… আমাদের যুগপৎ এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নাই… এর জন্যে আমদের পুরুষতন্ত্রই দায়ী

  8. ইভ টিজিং এর জন্য মানসিকতা আর
    ইভ টিজিং এর জন্য মানসিকতা আর অতি আধুনিকতা দায়ী । বাই দা ওয়ে পোস্ট টা মজার হয়েছে । শুভেচ্ছা রইল । :ফুল:

  9. হারিয়ে যাওয়া মানুষ ফিরে আসলে
    হারিয়ে যাওয়া মানুষ ফিরে আসলে সে আর আগের মত থাকে না….. কেমন জানি অচেনা অজানা হয়ে যায় । সবই হয়তো ঠিক থাকে কিন্তু কি যেন নাই…… কি যেন নাই……

  10. আতিক ভাইয়ের সাথে আমি
    আতিক ভাইয়ের সাথে আমি একমত।পুরোটাই আমাদের মানসিকতা,চিন্তা চেতনা,বিবেকের উপর নির্ভর করছে।

  11. গুরুত্বপূর্ণ টপিক কিন্তু
    গুরুত্বপূর্ণ টপিক কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উপায় বের করা উচিত আর দরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া কিন্তু সর্বপোরি মানসিকতা পরিবর্তন দরকার আর সামাজিক আইনের যথার্থ প্রয়োগ…………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1