১ মে, পানছড়ি গণহত্যা দিবস

১ তারিখ সেনা-বিডিআর ও সেটেলাররা পাহাড়ি গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে এবং ১৫-২০ জনের মতো পাহাড়িকে হত্যা করে। গ্রামগুলোর মধ্যে ছিল গোলকপতিমাছড়া, কালানাল, ছোটকর্মপাড়া, শান্তিপুর, মির্জিবিল, হাতিমুক্তিপাড়া, স্বর্বেস্বর পাড়া, নাপিদা পাড়া ও দেওয়ান বাজার। প্রত্যক্ষদর্শীরা ১৬টির মতো লাশ গণনা করতে পেরেছিলেন আর বাকি লাশগুলো গণনা করার মতো অবস্থায় ছিল না। ৫০ জনের মতো নিহতের কথা বলা হলেও আসলে সঠিকভাবে কতজন নিহত হয়েছিলেন সেটা জানা যায় নি।


১৯৮৬ সালে আজকের দিনে সেটেলার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিতভাবে পাহাড়িদের উপর গণহত্যা চালায়। ২৯ এপ্রিল শান্তিবাহিনীর তিনটি দল আসালং, ছোট আসালং ও তেন্দং এ বিডিআর চেকপোস্টে হামলা চালায়। এর বিপরীতে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সেনাবাহিনী-বিডিআর-আনসার ও সেটেলাররা পাহাড়িদের উপর হামলে পড়ে।

১ তারিখ সেনা-বিডিআর ও সেটেলাররা পাহাড়ি গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে এবং ১৫-২০ জনের মতো পাহাড়িকে হত্যা করে। গ্রামগুলোর মধ্যে ছিল গোলকপতিমাছড়া, কালানাল, ছোটকর্মপাড়া, শান্তিপুর, মির্জিবিল, হাতিমুক্তিপাড়া, স্বর্বেস্বর পাড়া, নাপিদা পাড়া ও দেওয়ান বাজার। প্রত্যক্ষদর্শীরা ১৬টির মতো লাশ গণনা করতে পেরেছিলেন আর বাকি লাশগুলো গণনা করার মতো অবস্থায় ছিল না। ৫০ জনের মতো নিহতের কথা বলা হলেও আসলে সঠিকভাবে কতজন নিহত হয়েছিলেন সেটা জানা যায় নি।

আর এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করেছিল ১৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, পানছড়ি আর্মি জোন। আর সে সাথে বিডিআর ও আনসারও যুক্ত হয়। পরবর্তীতে হামলায় অংশ নেয় সশস্ত্র সেটেলাররা। একজন ৭০ বছর বয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী জানানঃ
“As soon as the raid on my village began, people (other villagers) began to shout asking everybody to leave the village. But most people could gather their senses, the soldiers and Ansars had come. They were followed by several hundred Muslims settlers…… they immediately began to ransack the village.
The soldiers asked the men and women to stand separately…. one old woman, Phoidebi has troubled getting up and joining the group outside. A soldier shot her at close range.
(Reference: Page no. 19, Unlawful killing and torture in the Chittagong Hill Tracts,Amnesty International, 1986. AI Index ASA/31/21/86)

এই হত্যাযজ্ঞ শুধুমাত্র একদিনেই সীমাবদ্ধ থাকে নি, এর ব্যাপ্তি ২ মে তারিখেও ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন পাড়ায় হামলা চালানো হয় একইভাবে। শুরুতে আর্মি-আনসাররা গ্রামে রেইড দিয়ে প্যানিক সৃষ্টি করে এবং সেটেলাররা প্রবেশ করে গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয় ও অনেক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণ করা হয়। দেওয়ান বাজারে আর্মি কমান্ডার প্রথমে প্রবেশ করে গ্রামের মুরুব্বিদের ডেকে শান্তিবাহিনী ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগের জন্য অভিযুক্ত করেন। সকলে এর প্রতিবাদ করলে সবাইকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পেটানো হয়।

কালানাল এলাকায় শান্তিবাহিনীর সদস্য খোঁজার নামে আর্মি-সেটেলাররা প্রবেশ করে এবং পাশ্ববর্তী বৌদ্ধ মন্দির জ্বালিয়ে দেয়। বিহারের পূর্ণনন্দ ভিক্ষুকে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং এরপর তাকে জীবন্ত অবস্থায় আগুনে নিক্ষেপ করে সেটেলাররা। একই গ্রামের দুইজন ছোট বাচ্চা মেয়েকে রেপ করার পর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয়। জয়ন্ত কুমার চাকমা নামে একজনকে মারার পর তার দুই ছেলে সুনন্ত (৮) ও কৃপাচন্দ্র (২)কে মেরে ফেলে সেটেলাররা।

ছোট কর্মপাড়ায় হত্যা করা হয় পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সেক্রেটারি ভক্তিধর চাকমাকে। হত্যা করা হয় রমেশ চন্দ্র চাকমা, চন্দ্রালেখা চাকমা, রূপবতী চাকমাসহ আরো অনেককে। প্রত্যক্ষদর্শীরা শুধুমাত্র কয়েকজনের মৃতদেহই দেখতে পান এবং দ্রুত পালিয়ে যান।

১-২ তারিখের পর ৭ তারিখেও হামলা চালানো হয়, এবার পুজগাং ও লোগাং গ্রামে। অসংখ্য পাহাড়িকে হত্যা করা হয় এখানে।

এসব হামলার পর বিপুল সংখ্যক পাহাড়ি সীমানা অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যান। ৭ মে, ১৯৮৬ তারিখে ভারতের টেলিগ্রাফ পত্রিকা ছাপায় “Over 8000 tribal refugees from Bangladesh’s Chittagong Hill Tracts have crossed into South Tripura since 29 April, official sources said here today.

পরবর্তীতে আরো অনেক পাহাড়ি ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ১৯৯০ সালে দেখা যায় শরনার্থী পাহাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। একজন শরনার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের ঘটনাঃ

“…the Bangladesh army came to our house as part of a combing operation to find the Shanti Bahini. They came to the village and asked my husband to go with them to show the way around to find the Shanti Bahini fighters. Although my husband was very sick and unable to move, because he could not co-operate he was beaten mercilessly. My father-in-law begged mercy for his son not to be taken away. In this condition they took my husband for their purpose while they Ieft behind my father-in-law in a corner of the house, beaten up and about to die. The next morning at around 9 o’clock my husband was brought to our house by some people in the village as they found him unable to move as he had been severely beaten by the soldiers all over his body. He also received a blow on his teeth and as a result more than two teeth were displaced.”
(Reference: Life is not ours, Page no. 20. The Chittagong Hill Tracts Commission, 1990)

এটি ছিল পাহাড়ের ইতিহাসের অন্যতম এক জঘন্যতম হত্যাকান্ড। সেদিন শুধু পানছড়িতে নয়, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গায় যে হত্যাকান্ড চলে সেটি ইতিহাসে ৮৬’র গণহত্যা নামে পরিচিত। এই দিনটিকে স্মরণে রিনিপুদী চাঙমা একটা কবিতা লিখেছেন,

চড়নিরে তুমি যদি চেবার চ’
হাগারাছড়রি পানছড়তি শান্তপিুরত য’
তারা অলাক তনি ভইে বোন
চড়নি বড়নি কনারাম
বাপ্পো নাঙান আনন্দ
নক্কে অল দয়ালচান।।
দুগর সংসারত নত্যি আগে অভাব অনটন,
সত্তিুন বচে দুগ তার তা হয়িার ঘা-আনত।
৮৬ সালর ১লা মে’র ঘটনার স্বাক্ষী তে জ্বালজ্বল্য প্রমাণ
বাজি আগে হোন রকম জদো মরা চান।।
হদক দুগ পইিয়ে মত্তে মত্তে বাচ্চে
বাঙাল্যার হুবত গত্তানা অদ্ধকে সান্যে
তোয় পরানান রইয়ে।।
বাঙাল্যা নাঙান সরবত আলী ওমর পুরত ঘরবাড়ী
চনিা চনিি আগন,বড়ে চড়েইয়ে হয়িন
পো-ছাউন রাগে দে-দি গজ্যন
যক্কেনেে তে জল্লাদ অইয়ে, পরচিয় পুরি ফলেয়ে
আত্জুর গুরি হদক দা, দা, দাগলি
অসুরবো তার ভইে ন’অল ।।
(কবিতাটি নেয়া হয়েছে ঠোঁটকাটা থেকে, অন্য রকম মে দিবস। লেখক: উমে মারমা)

তিনজন গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীর ইন্টারভিউ পড়ুন ঠোঁটকাটার লিংকেঃ অন্য রকম মে দিবস, খাগড়াছড়ির গণহত্যা (১৯৮৬) দিবস

(লেখাটি নেয়া হয়েছে Hill Blogger & Online Activist Forum এর ফেইসবুক পেজ থেকে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 8