শৃঙ্খলিত প্রেম, উন্মোক্ত যৌনাচারের অবাধ তথ্যপ্রবাহের কুফল

‘প্রণয় এইরূপ! প্রণয় কর্কশকে মধুর করে, অসৎকে সৎ করে, অপুণ্যকে পুণ্যবান্ করে, অন্ধকারকে আলোকময় করে।’ – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

এর চেয়ে সত্য আর কিছু নাই। তবে বর্তমানে আমরা যে প্রণয় লীলা দেখি তা কি প্রণয়? যদি ইহাকে প্রণয় বলা হয় তবে সে প্রণয় কয়জন কর্কশ, অসৎ, অপুণ্যকবান আর, অন্ধকারাচ্ছন্নকে মধুর, সৎ, পুণ্যবান্ আর আলোকময় করিয়াছে?

হেনকালের প্রণয়, আসলে প্রণয় নহে, ইহার বেশীরভাগই হৃদয়হীন অযাচার, যৌনবিকৃতি, মনকে অগ্রাহ্য করে শরীরের রঙ্গ লীলা। তবে ইহার পেছনেও সুদীর্ঘ সামাজিক কারন রহিয়াছে।

প্রথমত, সমাজে মানুষের (নারী-পুরুষের) প্রণয়কে কঠিন অন্যায়, অন্যায্য বলিয়া ইহাকে দমনের খড়গ সদা উন্মোক্ত রাখেন। ধর্মীয় দৃষ্টিতে ইহা কঠিন পাপ বলিয়া বিবেচিত হয়। যদিও কাসেম বিন আবুবাকার নান্মী তৃণভোজী শ্রেণীর ধর্মীয় যৌন লীলার লেখকেরা বোরকা পরে ডেটিংয়ে গিয়ে চুম্বন করাকে শরীয়ত স্বীকৃত করিবার অপচেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ইহা যে ঐ ধরনের লেখকদের যৌন বিকৃতিরই বহিঃপ্রকাশ তা সহজবোধ্য। এরা প্রণয় বলতে শুধু শারীরিক চাহিদাকেই বুঝে থাকে। যার কারনে সমাজের এ অধঃপতন।

দ্বিতীয়ত, এমন সামাজিক আর ধর্মীয় শৃঙ্খলের মাঝে থেকে আর তথ্য প্রবাহের ঝড়ো গতি উচ্চ নীচ, ধনী দরিদ্র, শিক্ষিত অশিক্ষিত সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সমভাবে উপস্থিত হয়ে তাবৎ দুনিয়ার সব কিছুই সবার সামনে উন্মোক্ত হয়ে পরেছে; যার ধাক্কা সামাল দেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে নহে। কোন তথ্যে কাহার কতটুকু অধিকার, তাহা তাহারা বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছেন না। অনুকরণ প্রিয় যুব সমাজ বুঝিয়া কিংবা না বুঝিয়া অনুকরণ করিতে গিয়া লেজেগোবরে অবস্থার সম্মুখীন হইয়া পড়িতেছেন।

এক দিকে সামাজিক শৃঙ্খল, অপর দিকে অবাধ, উন্মোক্ত যৌনাচারের তথ্য প্রবাহ! এর পরিণাম ভয়াবহ। একদিকে প্রেম বা প্রণয় শৃঙ্খলিত, অপর পক্ষে যৌনতা, অযাচার কিংবা উহার তথ্যসকল উন্মোক্ত। লুকিয়ে চুপিয়ে যে যেখানে, যেভাবে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই তারা উন্মোত্ত অযাচার, যৌনতায় গা ভাসাচ্ছে। যার সাক্ষাত মেলে কুঁড়ে ঘরের কোন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে কিংবা উন্মোক্ত পার্কের কোনে। উন্মোক্ত তথ্য তা ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে। সেখানে কিন্তু প্রেম বা প্রণয় হচ্ছে না হচ্ছে ক্ষণিকের শারীরিক দাপাদাপি।

এই যে সামাজিক অবক্ষয় এর রাশ টানিয়া সৎচিন্তাশীল মানুষ, মহৎ সমাজ গড়িতে হইলে প্রেম বা প্রণয়কে করিতে হইবে বন্ধনমুক্ত, শৃঙ্খলিত করিতে হইবে অনৈতিক, অযাচার, বিকৃ্তযৌন ক্রিয়ার অবাধ তথ্য প্রবাহের।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 8 = 16