আমি-ই শ্রমিক

আমার প্রতিটি রক্ত ফোটা থেকে বেরিয়ে আসে বিন্দু বিন্দু ঘাম
আমার প্রতিটি বিন্দু বিন্দু ঘামে তোমার সভ্যতা
আমি-ই শ্রমিক।

আমার গাঁদার পিঠ খাটিয়ে চুক্তির সে অল্প মাইনে
দিন ফুরোলে ছুড়ে মার মুখে
আমি-ই শ্রমিক।

আমার দুর্বল ঘাড়ে চেপে দাও তোমার জগদ্দল পাথর
চুক্তি করেছি, হোক বিষম ব্যথা
আমি-ই শ্রমিক।

আমার ঘাড়ের পাথরে গড়ে উঠে
তোমার অট্টালিকা
ব্যতিক্রমে পড়লে পাথর
আবার তুমি-ই মটকে দাও সে ঘাড়
আমি-ই শ্রমিক।

আমার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে তোমার আভিজাত্য
এই নগরে তুমি কোট-টাই পড়া ভদ্দর নোক
সে আমার পরনে তোমার দয়া-দাক্ষিণ্য
আমি-ই শ্রমিক।

আমার অনাবৃত দেহ
পরনে ছেড়া বস্ত্র
একটি অভিমানের সংসার
তোমার এলিট ফ্যাশন
দাম্ভিক জীবন
আমি-ই শ্রমিক।

আমার পেশিবলে ভর করে
তোমার পুঁজিবল
সে পুঁজির কিয়দংশ দিয়ে
আমাকে কর তৃপ্ত
আমি-ই শ্রমিক।

আমার অল্প পুঁজিতে চিরকালে যে আমি তৃপ্ত
সে তুমি-ই সর্বকালেই থেকে যাও
আমার রক্ত শোষণে অতৃপ্ত
আমি-ই শ্রমিক।

আমি অর্ধোন্মাদ পুঁজিহীন জন্মপাপী দাস
তুমি পুঁজিপতি অর্থভারে পূণ্য
তুমি প্রথিতযশা প্রভু
আমি-ই শ্রমিক।

আমার যেটি হৃদয়
বুকের বামপাশে তোমার সেটি পাথর, তথাপি বলছি
আমি-ই শ্রমিক।

এবার দায়িত্ব দাও আমায়
বলে দাও তোমার বুকের
বাম পাশের সে পাথরটি সড়াতে
কারণ
আমি-ই শ্রমিক।

নচেৎ
তোমার শোষক মন আর অভিলাষ চিন্তায়
আমার রক্ত শোষে তোমার
যা কিছু অর্জন
গল্প শেষে তোমার অট্টালিকায়
সে আমার-ই মূত্র বিসর্জন।।

(উৎসর্গঃ বাংলাদেশের স্বরণকালের সেরা ট্রাজেডি, ধ্বসে পড়া রানা প্লাজায় আহত-নিহতদের। তাবৎ পৃথিবীর শোষিত-নিপীড়িত প্রতিটি শ্রমজীবিকে।)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 21 = 22