বানিজ্য উন্নয়নে আন্ত যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই

আজকের দিনে কানেকটিভিটি বা আন্ত যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে যান চলাচল শুরু হলে এই তিন দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো অন্য দেশের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা গেলে তা থেকে প্রতিবছর প্রচুর রাজস্ব আদায় হবে। ভারত ও নেপালের পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহনের অনুমতি দিয়েও রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। তাই আজকের দিনে অবাধ বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জোটবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিবেশী দেশগুলো পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক যেমন উন্নত করেছে, তেমনি আন্তর্দেশীয় বাণিজ্যে পারস্পরিক লেনদেন বাড়িয়েছে। অভিন্ন মুদ্রাব্যবস্থার উদাহরণও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে চালু আছে। আমাদের কাছাকাছি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো আন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালও এ বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছে অনেক আগে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আন্ত যোগাযোগ বা কানেকটিভিটি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এ নিয়ে এসব দেশের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। ২০১৫ সালের জুন মাসে এই চার দেশ নিজেদের মধ্যে মোটরযান চলাচলের একটি চুক্তি করেছিল, যা বিবিআইএন এমভিএ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল এ চুক্তি অনুমোদন করলেও ভুটানে অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের কারণে তা অনুমোদিত হয়নি। ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে বিবিআইএন মোটরযান চুক্তি বাস্তবায়নে সবুজ সংকেত মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এরই আলোকে এই তিন দেশের মধ্যে দ্রুত যান চলাচল শুরু করা যাবে। এ সড়ক যোগাযোগ চালু হলে সবচেয়ে লাভবান হবে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। খুলনা-কলকাতা, ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি ও কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালু হলে যোগাযোগব্যবস্থায় দুই দেশেই পরিবর্তন আসবে। নেপালের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা চালু হলে চীনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের পথও খুলে যাবে বলে ধারণা করা যেতে পারে। ভুটানের অনাপত্তি এখন সড়ক যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে এর জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন। দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তিন দেশের ওপর চলাচলের জন্য যানবাহনের ফি নির্ধারণ করতে হবে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যান চলাচল যত দ্রুত চালু করা যাবে ততই মঙ্গল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 7 =