বাহুবলী সিনেমা এবং নির্যাতিত মঙ্গল শোভাযাত্রা

বাহুবলী সিরিজের মুভির ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও তুমুল জনপ্রিয়তা আমরা আঁচ করতে পারছি।
যদ্দুর জানা,মিথোলজিক্যাল কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই মুভির অনেক উপাদান হিন্দুশাস্ত্রীয় পুরাণ থেকে তুলে আনা হয়েছে।স্বাভাবিক বিষয়,তবু ফ্যাক্টটা এখানেই!

মঙ্গল শোভাযাত্রাকে এদেশের এক বিরাট অংশ অবৈজ্ঞানিক,কুসংস্কারাচ্ছন্ন,শিরক বলে নিষিদ্ধের ঘোষণা জানালেও বাহুবলীতে টু শব্দটি করে না।বরং ৪০ জন ঢাকঢোল পিটিয়ে মুভি দেখার উদ্দেশ্য ভারতে যায়।

প্রতিক্রিয়াশীলদের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে নিষিদ্ধ করার দৃষ্টিকোণে বাহুবলীকেও নিষিদ্ধ বলা যায়।মজার ব্যাপার হল,এখানে বিনোদন মিলে।দিনশেষে কোন মানুষই বিনোদনের ঊর্ধ্বে নয়।ভারতবিদ্বেষ মনোভাবও উবে যায় বিনোদনের তাগিদেও।
মঙ্গল শোভাযাত্রা বাহুবলী বা তার সমগোত্রীয় মুভির মত গ্ল্যামারাস নয়, নয় নায়িকার ভাজে ভাজে লুকানো সৌন্দর্য অবলোকনের আদর্শ প্লেস।ফলে ‘কাটাপ্পানে বাহুবলীকো কিউ মারা’র জন্য যত উদ্বেগ ও চিন্তা;মঙ্গল শোভাযাত্রাকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে রিজেক্ট করার আগে কেউ একআনাও ভাবে না নিজস্ব সংস্কৃতির শিকড়ের তেজ আর মহিমা কতটুকু!মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে সাম্প্রদায়িক জটলাকে উপড়ে ফেলতে পারে।এইধরণের আচার-অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক মূল্য যে কতটুকু তা ভুলেও ভাবি না আমরা।

আমরা কোন শোভাযাত্রারই মঙ্গল চাইনা,উলটো প্রতিক্রিয়াশীলদের সাপোর্ট দেই।মুক্তমনাদের গালি দিয়ে ভন্ড প্রমাণের চেষ্টা করি।অথচ সেই একই যুক্তিতে ‘হিন্দুয়ানি মুভি’র ক্ষেত্রে সাতটা খুন মাফ?
রন্ধ্রে রন্ধ্রে হিপোক্রেসি চলে এলে জাতি একসময় প্যারালাইজড হয়ে যায়,হোক সচেতনভাবে কিংবা অচেতনে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 2 =