প্রশ্নোত্তর

তোমাকে প্রশ্ন করলাম
তুমি কেন আর আগের মতো হাস না?

তুমি উত্তরে বললে;
চাঁদের বুকে জ্যোৎস্নার জোয়ার দিলাম
বিজলীকে চকিত আলো,
আর বিকেলকে সোনা রোদ,
তারপর আর কতো থাকে হাসি বলো?

তোমাকে প্রশ্ন করলাম
তোমাকে তো কাঁদতেও দেখি না কোনোদিন!

তুমি বললে; আর কতো কাঁদা যায় বলো?
ঝর্ণাধারায় যতো জল সে তো আমারই
নদীর বুকে যতো জল সেও তো আমার
আর সাগর সেও নিল আমার কাছে,
বৃষ্টিধারা ও মেঘ তারাও তো আমার
কাছেই ঋণী।

আবার প্রশ্ন করলাম
কেন তুমি সবাইকে এমন করে
বিলিয়ে দিলে তোমার প্রাণের প্রাচুর্য?

তুমি একটু থেমে বললে;
এযে প্রাচুর্য নয় কবি
এ আমার যন্ত্রণা ও আনন্দের দান।
আমার এই দু’চোখে ;একবুকে আর কতো সয়?
তাই তো পাহাড়ের কাছে দিলেম ঝর্ণা,
নদীর বুকে ঢেউ,
সাগরের বুকে উদ্দামতা।
বিজলীকে চকিত হাসি,
বিকেলকে রোদ,
চাঁদকে জ্যোৎস্না।

আমি আবার প্রশ্ন করলাম
তোমার নিজেকে শূন্য মনে হয় না?
তুমি বললে;
আমার শূন্যতা দান করেছি মহাশূন্যকে
তাই তো সে আমারই বেদনার আভায়
হয়েছে নীলিম নীলিমা।

কবি,আর কোনো প্রশ্ন নয়
শোন বলি;ঝড়ের কাছে দিয়েছি
আমার হাহাকার।
ব্রর্জের কাছে শক্তি,
রাত্রির কাছে স্তব্ধতা।

এক বুকে আমার আর কতো সয় বলো?
আমি আর কোনো প্রশ্ন করি না
না জানি আর কতো কী তোমার
আছে অব্যক্ত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

68 − = 60