ভবঘুরে স্মৃতি

ঠিক এক বছর আগে… নাহ! দু’বছর। কী! দু’বছর হয়ে গেছে? এতটা সময় কখন পার হল? কে জানে? সময়টাই এমন। সে সব সময় একই গতিতে যায়, অথচ আমরাই বলি সে দ্রুত সে শ্লথ।

অনেক অনেক কাল আগে যে কালের ব্যাপ্তি পুরো দুই বছর, এক দেশে দু’টো ছেলে বাস করত। গল্পের স্বার্থে আমরা একজনের নাম ধরে নিই ‘বৈশাখ’ আর একজন ‘রৌদ্র।’ গল্প লিখতে হলে যেমন বিশেষত্ব থাকতে হয় তেমন কিছুই ছিল না তাদের। তাদের বিশেষত্ব ছিল একটাই, তারা হাঁটত। সময়ের চেয়েও দ্রুত, কালের চেয়ে শ্লথ গতিতে তারা হাঁটত “সাত নদী তের সমুদ্দুর” পেরিয়ে তেপান্তরের নিকষ স্তব্ধতায়।

দু’টো ভবঘুরে।

ওহ! গল্পের শুরুতে একটা ভুল করেছি। দু’জনের আলাদা কোন নাম দেবার দরকার ছিল না। দু’জনে একই সত্ত্বা। তাদের একটাই নাম: VABAGHURE. কী যেন একটা Elaboration ছিল নামটার; Very Abstruse Beauty was Accepted… কী কী যেন। সেগুলো এখন অতীত। সময় কচ্ছপের মত গতিতে অনেক দুরে চলে গেছে। খরগোশটা দু’টো লাফ দিয়েই মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তার সেই অখণ্ড অবসর আর পুরো খিলগাঁওটা চষে বেড়ানো সময়গুলো আজ নিঃসীম ব্যস্ততার আড়ালে ঢাকা পড়েছে। তবুও “ফুল ফুটুক বা না ফুটুক, আজ বসন্ত” এর মত করে বলতে হয়, “হাঁটা হোক বা না হোক, আজ বিশ্ব ভবঘুরে দিবস।”

রৌদ্র তোর কী সেটা মনে আছে??? নিশ্চয় নেই। তোকে এখন আর ভবঘুরে সেজে থাকা সাজে না। তোর এখন নিজের একটা জগত হয়েছে। তাকে সময় দিতে হয়। জানিস? আমিও না প্রচণ্ড ব্যস্ত। আজ কলেজ থেকে ফিরেই নেয়ে-খেয়ে কোচিংয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। কাল একই সময়ে হয়তো সাভারের জন্য টাকা তোলায় ব্যস্ত থাকব। পরশু অন্য কোন কাজে। আলসেমিটাকে অনেক মিস করি এখন।

মিস করি এখন কারণ এখন রাস্তায় ধরে হেঁটে যাবার সময় কোন মেয়েকে দেখে বলা হয় না, “ভাব মারে ক্যান এত! দেখতে তো পেত্নীর মত।” এখন আর কখনও পাশে তাকানোও হয় না। ব্যস্ত ভঙ্গিতে সব এড়িয়ে যাই। তাই কখনও বলা হয় না, “মামা ওইটারে দেখ, সিরাম।”

জীবনটা আশ্চর্য ছন্দবদ্ধ। কিন্তু, তুইই বল ভবঘুরেদের জীবনে কি কখনও কোন ছন্দ থাকে। কিন্তু, ছন্দ এখন চারপাশ থেকে জাপটে ধরে। আমি চিৎকার করে তার থেকে মুক্তি পেতে চাই। কিন্তু, পাই না। শৃঙ্খল আমাকে আরও শৃঙ্খলিত করে। জীবনটা এখন আশ্চর্য রকমের অসাড়।

প্রতিদিন ঘুমোবার আগে পা’দুটো ছটফট করে। মনে হয়, আজ কী যেন হয় নি। পুরো দিনপঞ্জি মিলিয়ে দেখি। নাহ! সবই তো ঠিক আছে। সকালে চোখ ডলতে ডলতে ঘুম থেকে উঠে কলেজে গিয়া ঘুমটা শেষ করা। তারপর বাসায় ফিরে কোনমতে নেয়ে-খেয়ে কোচিংয়ের জন্য বেরিয়ে যাওয়া। তার মাঝে সময় করে ফেসবুক আর ব্লগ। সমস্যাটা কোথায়? কোন সমস্যা নেই। সেটাই সমস্যা।

জানিস তো? এখনও শাহবাগ গেলে হেঁটে যাই। কিন্তু, অনুভূতিটা হয় না। সুতোটা কোথায় যেন কেটে গেছে? ঘুড়িটা ছিড়ে গেছে। একটা জোড়াতালি দিবি? তারপর কি আর ঘুড়িটা আগের মত উড়বে? বোধ হয় না। “মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।” আমরা বেঁচে ছিলাম। তাই বদলে গেছি। বিবর্তন সামনে এগিয়ে যায়। পেছনে ফেরে না। স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি দিয়ে ভবিষ্যতে যাওয়া যায়। অতীতে না। ভবঘুরে আর কোনদিন হতে পারব না। তবু হতে বড় ইচ্ছে হয়। বড্ড বেশি ইচ্ছে হয়!

তোর কী ইচ্ছে করে আবার ভবঘুরে হতে? আমার কিন্তু প্রচণ্ড ইচ্ছে করে। জানি, আর কোন দিন হয়তো হওয়া হয়ে উঠবে না। মধ্যবিত্ত জীবনে ভবঘুরে হবার ইচ্ছে এক লাগামছাড়া বিলাসিতা। তবু, মাঝে মাঝে সেই বিলাসিতাটা করতেই প্রচণ্ড ইচ্ছে হয়। হোক না ভবঘুরে-বিলাস…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “ভবঘুরে স্মৃতি

  1. মধ্যবিত্ত জীবনে ভবঘুরে হবার

    মধ্যবিত্ত জীবনে ভবঘুরে হবার ইচ্ছে এক লাগামছাড়া বিলাসিতা। তবু, মাঝে মাঝে সেই বিলাসিতাটা করতেই প্রচণ্ড ইচ্ছে হয়। হোক না ভবঘুরে-বিলাস…

    অসাধারন…

  2. আপনার লেখাগুলো মুগ্ধতা নিয়ে
    আপনার লেখাগুলো মুগ্ধতা নিয়ে পড়ি। এক্সপেক্টেশন বাড়ছে। ব্লগে ঢুকেই খুঁজি ক্লান্ত হয়ে কালবৈশাখী কোন নতুন ঝড় তুলল কিনা? আপনার লেখা দিনদিন আরও মানসম্পন্ন হয়ে উঠুক। শুভকামনায়… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. শৃঙ্খল আমাকে আরও শৃঙ্খলিত

    শৃঙ্খল আমাকে আরও শৃঙ্খলিত করে। জীবনটা এখন আশ্চর্য রকমের অসাড়।

    সিম্পলি অসাম । :তালিয়া: :তালিয়া:

    1. (No subject)
      :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 6 =