রোমেল চাকমা কিংবা খরগোশের গল্প

run, not walk, to the nearest desert island- James Thurber.

মিথ্যাকে সত্য বলে চাপিয়ে দেওয়ার যে রাজনীতি সেটা বিশ্বের সকল দেশেই কম বেশি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই কাজটি এদেশের রাজনীতিক ও আমলারা অনেকটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

সাম্প্রতিককালে পাহাড়ে রোমেল চাকমা নামক একজন নাগরিককে- উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, প্রতিবন্ধি ও আদিবাসী- সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে অকথ্য নির্যাতনের পর হত্যা করলো। উপরন্তু তার লাশটাও তার পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে, নিজেরাই লাশটি পুড়িয়ে ফেললো। সেনাবাহিনী ও দেশের প্রশাসনযন্ত্র বলছে, রোমেল সন্ত্রাসী ছিল- নাশকতার উদ্দেশ্যেই সে রাঙ্গামাটির ন্যানারচর নামক ঐ স্থানে ঘাটি গেড়েছিল- আপনারা (জনগন) জানেন যে, রোমেল চাকমারা অসভ্য- বর্বর, তারা দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরুপ। অতএব, দেশের সকল জনগন তথা আপনাদের স্বার্থে, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের স্বার্থে তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রাখাই আমাদের দায়িত্ব, কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখাই আমাদের কর্তব্য এবং যদি প্রয়োজন হয় তবে তাদের পিটিয়ে- পুড়িয়ে- গুলি করে মেরে ফেলাও দেশের আইন অনুযায়ি নাজায়েজ নয়। যদি তারা এর প্রতিকারে প্রতিরোধ করার সাহস প্রদর্শন করে, তবে এর পরিণামে গোটা কমিউনিটির উপরেই ভয়াবহ পরিণাম অপেক্ষা করছে। যারা এর প্রতিবাদ করবে, এমনকি যারা তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলবে প্রকান্তরে তারাও দেশ ও জাতির শত্রু। অতএব, তোমরা আম জনতা এইসব বিষয়ে হুজুগে মেতো না- আমাদের কথা শোন- সুখে এবং শান্তিতে বসবাস কর। মোটাদাগে এই হল সরকার ও সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনযন্ত্রের বয়ান।

আসুন এখন আমরা একটি খরগোশের গল্প শুনি। এই ধরনের গল্পকে সাহিত্যের ভাষায় ফেবল বা কথারুপক বলা হয়। লেখক জেমস থার্বার ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে যখন এটি প্রকাশ করেন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে। সেই সময় ফ্যাসিস্ট হিটলারের নাজি বাহিনী কতৃক ইহুদিদের উপর যে অবর্ণনীয় ও বর্বর নিপীড়ন চালানো হয় এবং সেগুলো জাস্টিফাই করার জন্য নাজিদের তরফ থেকে যে ধরনের যুক্তি- তর্ক উপস্থাপন করা হয়; সেগুলোকেই এই ফেবলের মধ্য দিয়ে প্রতিকীভাবে লেখক উপস্থাপন করেছেন। গল্পটি এইরকম—

“নেকড়ে অধ্যুষিত এলাকায় খরগোশদের একটা পরিবার বাস করতো; যা নেকড়েদের বিশেষ একটা পছন্দ নয়। নেকড়েরা তাই তাদের জানিয়ে দিল যে, ওহে, খরগোশ! তোমাদের জীবনযাপনের যে শ্রী! তা মোটেও সভ্য ও মার্জিত সমাজের রীতি- নীতির সাথে যায় না।

যেমন, এক রাতে ভূমিকম্পের কারনে একদল নেকড়ে মারা পড়লো। এর দায় কিন্তু খরগোশদের উপরেই বর্তায়। কেননা, সবার জানা যে, খরগোশরা পিছনের পা দিয়ে মাটি আচড়ায় ফলে ভূমিকম্প ঘটে।
আরেক রাতে বজ্রপাতে নেকড়েদের আরেকজন মারা পড়লো। এর জন্যও কিন্তু ঐ খরগোশরাই দায়ী। কারন সবাই জানে যে, লেটুস পাতা যারা খায় তাদের কারনেই বজ্রপাত হয়।

এইসব দেখে- শুনে একদিন খরগোশদের সভ্য ও পরিপাটি করার জন্য নেকড়েরা জরুরি সভা আহবান করল এবং সারা দুনিয়ায় -এই সমস্যা প্রতিকারের লক্ষে- সকলের মত তৈরি করা হল।

নিরুপায়, অসহায় খরগোশরা তাদের সমূহ বিপদ বুঝতে পেরে নিকটবর্তী কোন দ্বীপে পালিয়ে যাবার জন্য মনস্থির করল। কিন্তু অন্যান্য প্রতিবেশি অনেক জন্তু- জানোয়ারই এই দেখে তাদের ভর্তসনা করে বললো- তোমরা যেখানেই আছো বুকে সাহস বেধে সেখানেই থাকো। এই পৃথিবীটা ভিতু- কাপুরুষদের জন্য নয়। যদি সত্যি সত্যি নেকড়েরা তোমাদের উপর আক্রমন করে আমরাও নাহয় এগিয়ে আসবো তোমাদের হয়ে।

সকলের কথায় আশ্বস্ত হয়ে খরগোশরা না পালিয়ে আবারো নেকড়েদের পাশে বসবাস করতে থাকলো। এরপর একদিন এক ভয়াবহ বন্যা হলো, সেই বন্যায় আবারো নেকড়েদের অনেকেই মারা পড়লো। যথারীতি দোষ গিয়ে পড়লো ঐ খরগোশদের উপর। কারন সবাই জানে যে, যারা গাজড় কুরে কুরে খায় এবং যাদের বড় বড় কান আছে তাদের কারনেই বন্যা হয়। এতকিছুর পর নেকড়েরা আর সহ্য করল না। তারা দল বেধে, খরগোশদের- তাদের ভালোর জন্যেই- ধরে নিয়ে গেল এবং তাদের নিরাপত্তার জন্যেই একটি অন্ধকার গুহায় তাদের আটকে রাখলো।

যখন কয়েক সপ্তাহ খরগোশদের কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। তখন অন্যান্য জন্তু- জানোয়ারেরা খরগোশদের ব্যাপারে জানতে চাইলে নেকড়েরা জানালো যে, খরগোশদের সাবাড় করা হয়ে গেছে। যেহেতু তারা সাবাড় হয়ে গেছে সেহেতু এটা এখন তাদের একান্ত নিজেদের বিষয়। কিন্তু সকলে যখন -এর উপযুক্ত কারন না দেখাতে পারলে- একজোট হওয়ার হুমকি দিল। এই পরিস্থিতিতে নেকড়েদের একটি যুতসই কারন দর্শাতেই হলো। তারা বললো- “খরগোশরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তোমরা ভাল করে জানো যে পলাতক- কাপুরুষদের জন্য এই দুনিয়া না।”

গল্পটির সাথে যদি উপরে রোমেল চাকমার ঘটনার একটা তুলনামূলক বিচার- বিশ্লেষণ করি, তাহলে এই রাষ্ট্র কতৃক পাহাড়ি আদিবাসিদের উপর যে ধরনের আগ্রাসন ও নিপীড়ন চালানো হয় সেটিকে তার রুপকগল্প বা এলিগরিক্যাল টেল হিসেবে দেখতে পারি।

পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় সেনা বাহিনী বিভিন্ন অজুহাতে তাদের শাসন ও আধিপত্য কায়েম করে রেখেছে যুগের পর যুগ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাদের উপর নির্যাতন- নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। যখনই সেখানকার স্থানীয় মানুষসহ সারা দেশের বিবেকবান মানুষ এর প্রতিবাদ করেছে- উপযুক্ত কারন জানতে চেয়েছে- এর বিচার দাবি করেছে। তখনই তারা তাদের অসভ্য- বর্বর- সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছে, সকল সমস্যার কারন হিসেবে তাদের চিহ্নিত করেছে এবং বয়ান হাজির করেছে যে তারা সাধারন মানুষের স্বার্থেই, দেশ- জাতির ভালোর জন্যই এই সকল সন্ত্রাসী, দুস্কৃতিকারীদের শায়েস্তা করার কাজে নেমেছে। ঠিক যেমন খরগোশদের ক্ষেত্রে নেকড়েরা বলেছে যে, তাদের ভালোর জন্যই তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই ধরনের বয়ান কেউ মানছে, কেউ মানছে না। কিন্তু বোঝার বিষয় হল, এই ধরনের মানা বা না- মানা এই রাষ্ট্রের নীতি সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় না। তারা শত সমালোচনার মধ্যেও তাদের আধিপত্য ও নিপীড়ন ঠিকই চালিয়ে আসছে। ভূমিকম্প কিংবা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্যেও পৃথিবীর সবচেয়ে নিরীহ প্রানী খরগোশকে দায়ী করা হয়েছে। এটা আবস্যার্ড আমরা জানি। কিন্তু তবুও প্রতিবার বলা হয়েছে- ‘সবাই জানে যে, যারা গাজর কুরে কুরে খায় এবং যাদের বড় বড় কান আছেতাদের কারনেই বন্যা হয়।’ অর্থাৎ ঘোষনার মধ্যেই বলে দেওয়া হচ্ছে যে, তোমার (জনগন) মানা বা না- মানাতে এই রাষ্ট্রের কোনকিছু যায় আসে না, কেননা বিষয়টা সবাই জানে! এভাবেই একটা মিথ্যাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সত্য বলে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এইধরনের আগ্রাসী ও একদেশদর্শী বিদেশনীতি আমরা মূলত আমেরিকার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে দেখি। আমেরিকা বিভিন্ন অজুহাতে আফগান- ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালিয়েছে। যখনই এর উপযুক্ত কারন জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, তারা বিশ্বের ভালোর জন্যই সন্ত্রাস নিধনে নেমেছে। এবং তারা এর নাম দিয়েছে “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”। কিংবা বিগত ঊনিশ শতকে আদিবাসী রেড ইণ্ডিয়ানদের যেভাবে আমেরিকানরা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল, তার সাথেও এর তুলনা চলে। বাংলাদেশে শুধু পাহাড়ি আদিবাসী নয়, গত কিছুদিন আগে গাইবান্ধার বাগদা ফার্মের শাওতালদের গুলি করে মেরে যেভাবে তাদের নিজেদের ঘর- বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, সেখানেও একই নীতির সফল প্রয়োগ আমরা দেখেছি। অতএব, দেশ- কালভেদে দূর্বল, পশ্চাতপদ ও সংখ্যালঘু মানুষের উপর ক্ষমতাবান কতৃক এই ধরনের আধিপত্যবাদি ও আগ্রাসি নীতির প্রয়োগই আমরা সবসময় দেখি।

গল্পটির শুরুতেই যেমন বলা হয়েছে, ওহে, খরগোশ! তোমাদের জীবনযাপনের যে শ্রী! তা মোটেও সভ্য ও মার্জিত সমাজের রীতি- নীতির সাথে যায় না। মজার বিষয়, আমরাও সাধারন মানুষ- রাষ্ট্রীয় ও সাম্রাজ্যবাদি বয়ানে- সাধারনত বিশ্বের সকল রোমেল চাকমাদেরই অসভ্য ও বর্বর হিসেবেই আখ্যায়িত করি। আগে পিছে খুব বেশি চিন্তা- ভাবনা করি না। কেননা, টিভি, মিডিয়াসহ যত প্রচার ও প্রপাগাণ্ডা মাধ্যম আছে তারা সকলেই রোমেল চাকমাদের- রাষ্ট্রীয় ও পূজির পৃষ্ঠপোষকতায়- এভাবেই উপস্থাপন করে। এভাবেই আমাদের চিন্তার জগতে একটা ভূল ও মিথ্যা ধারনাকে বদ্ধমুল করে প্রবেশ করানো হয়।

পূজির দাসত্ব করা এই সমাজে রোমেল চাকমারা কেন অসভ্য ও বর্বর তার একটা যুতসই ব্যাখ্যা আমরা পাই হেনরি লুইসের বক্তব্যে। হেনরি লুইস, ১৮৮০ দশকে আমেরিকান রেড ইণ্ডিয়ানদের (শেরোকি) যৌথ মালিকানাধীন জমিগুলোকে প্রাইভেটাইজেশন করার যে আইন হয় -আমেরিকান কংগ্রেসে- তার আইনপ্রণেতা ছিলেন। তিনি বলছেন, “নিজের একটা বাড়ি নেই এমন মানুষ এই জাতির মধ্যে খুজে পাওয়া দূষ্কর, তাদের মধ্যে কোন ভিক্ষুক নেই, কারো কাছে কারো ঋণ নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের স্কুল এবং হাসপাতাল গড়ে তুলেছে। তারপরও এদের সমাজের সীমাবদ্ধতা বেশ স্পষ্ট। এরা সবাই মিলে যতটা উতপাদন করে ততটুকু নিয়েই এরা সন্তুষ্ট, কারন এদের জমিগুলো সব যৌথ মালিকানাধীন। নিজে আলাদাভাবে উন্নতি করবার স্পৃহা তাদের নেই। তোমার বাড়িটা যে তোমার প্রতিবেশির চাইতে আরো সুন্দর হতে পারে এই বোধই তাদের মধ্যে কাজ করে না। তাদের ভিতর স্বার্থপরতার কোন বোধ নেই অথচ স্বার্থপরতাই তো সভ্যতার ভিত্তি”।

লুইস হেনরি আমাদের সভ্যতার মূল ভিত্তি কি সেটি কোন রাখ- ঢাক না রেখেই শিখিয়ে দিলেন এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষনা করলেন যে, ‘স্বার্থপরতাই’ সভ্যতার মূল চাবিকাঠি। স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার উন্মেষের মধ্য দিয়ে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছে, সেখানে খুব স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে মুনাফার লাগামহীন প্রবৃত্তি জন্ম নিয়েছে। আর এই প্রবৃত্তিই জন্ম দিয়েছে মানুষের উপর মানুষের সীমাহীন নিপীড়ন, শোষন, বর্বরতা ও জন্ম দিয়েছে আধিপত্যবাদি, আগ্রাসী শাসননীতি, জন্ম দিয়েছে নির্মম সাম্রাজ্যবাদ। অতএব, রোমেল চাকমারা এই কারনেই অসভ্য যেহেতু তাদের মধ্যে সভ্যতার ভিত্তি ‘স্বার্থপরতা’ এখনো ভালভাবে প্রবেশ করে নি। তারা এখনো যৌথ জীবন- যাপন করতে চায়।

এইরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কিংবা সারাবিশ্বের রোমেল চাকমারা তাহলে কি করবে! তারা কি কোন দেশের সভ্য(!) সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে তাদের নাগরিক অধিকার পাবে না! নাকি পূজির দাসত্ব করা এই সমাজে তথাকথিত মানবিক সহানুভূতির দৃষ্টিভঙ্গিই হবে তাদের বেচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সেই প্রশ্নের মীমাংসা জরুরি।

আমরা জানি বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক রোমেল চাকমারা এখনো দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক, তাদের এখনো আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নি। বন্দুকের নলের সামনে, সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের ঘেরাটোপে প্রতিনিয়ত আশঙ্কার মধ্যে তাদের বন্দি জীবন- যাপন করতে হয়। যেকারনে একদল শুধু মারে যতটুকু ইচ্ছা, আরেকদল শুধু মার খেয়ে যায় যতটুকু না খেলেই নয়। দ্বিতীয় দলে থাকে রোমেল চাকমারা, যাদের অধিকার কেবল মানবিকভাবেই স্বীকৃত হয়- অনেকসময় তাও হয় না- যাদের করুনার দৃষ্টিতেই দেখা হয়।

আমরা চাই রাষ্ট্রীয় এই বৈষম্যের অবসান হোক কিংবা এই সমস্যার সমাধান হোক। এটা আমাদের প্রত্যাশার কথা। কিন্তু ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষায় দেয় যে, নিরীহভাবে চাইলেই কেউ কাউকে অধিকার দেয় না। এই রাষ্ট্র রোমেল চাকমাদের এইভাবেই নিপীড়ন করতে চায়, বঞ্চিত করতে চায়, যতদিন সম্ভব। সেই লক্ষে তারা রোমেল চাকমাদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে দিবে না। তথাকথিত সভ্যতার চাবিকাঠি ‘স্বার্থপরতা’র বীজ তাদের মগজেও বপন করা হয়েছে এবং তা অব্যাহতভাবে বাড়তেই থাকবে। তবুও আমরা মনে করি রোমেল চাকমারা একদিন সত্যি সত্যিই একত্রিত হবে, সকল বিবেকবান মানুষও তাদের সাথে থাকবে এবং সেদিন নিশ্চয়ই তীব্র প্রতিরোধ ও গণ- আন্দোলনের স্রোতে সকল বৈষম্যমূলক শাসন- শোষনের অবসান হবে। কেননা, এর কোন বিকল্প নেই। তা না হলে একদিন রোমেল চাকমারাও সাবাড় হয়ে যাবে খরগোশদের মতোই। এবং নেকড়েদের মতই সভ্যতার রক্ষক(!) বেনিয়ারা বলবে, “রোমেল চাকমারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তোমরা ভাল করে জানো যে পলাতক- ভীতু, কাপুরুষদের জন্য এই দুনিয়া না।”

সহায়ক গ্রন্থঃ
১। The rabbits that caused all the trouble- James Thurber.
২। Columbus and the Indians- Howard Zinn.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 − = 81