কার্ল হাইনরিশ মার্ক্সঃ২০০ তম জন্মদিন ও বাংলাদেশে মার্ক্স



১৮১৮ সালের ৫ই মে প্রুশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।ইতিহাসে যে কজন নেতৃত্ব জনগনের পক্ষে সারাজীবন কাজ করে গেছেন তাদের মধ্যে মার্ক্স একজন।হ্যা মার্ক্স একজন মানুষ।সেকারনেই মার্ক্সকে খেতে হতো,চলাফেরা করতে হতো, দেখতে হতো,অন্যান্য সকল মানুষ যেভাবে নিজের কাজ করতো মার্ক্সও তেমনি ছিলেন।কিন্তু অন্যান্য সবার থেকে মার্ক্স যেখানে নিজেকে আলাদা করেছিলেন তা হলো প্রশ্ন করতে শেখা।মার্ক্স প্রশ্ন করেছিলেন মানুষ কেন খায়?আর এই খেতে যেয়েই যে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার ইতিহাস কি? তিনি চলতে গিয়েও ঠিক করে নিয়েছিলেন কাদের সাথে চলতে হবে,কার পক্ষে দাঁড়াতে হবে। মানুষ যেভাবে দেখে ঠিক সেভাবেই মার্ক্স দেখেছিলেন তবে তিনি শুধু দেখার জন্যই দেখেন নি।তিনি দেখতেন পাল্টানোর জন্য।তিনি তা করেছেনও। আর এজন্যই অন্যান্য মানুষের মধ্যে একজন মার্ক্স একই সাথে মানুষ আবার একই সাথে আমাদের নেতা।

আজ এই মানুষটির ২০০ তম জন্মদিন।তাকে নিছক লাল সালাম জানিয়ে যে আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না তা তিনি আমাদের খুব ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।মার্ক্স একটি জীবন্ত সত্ত্বা।যুগে যুগে যখনই কোন আন্দোলন গড়ে ওঠে সেখানেই মার্ক্স জন্মলাভ করেন।মার্ক্স বলেছিলেন যে,পৃথিবীকে শুধু ব্যাখ্যা করলেই হবে না একে পাল্টাতে হবে।আমাদের দায়িত্ব তাই পালটানো।কিন্তু দূর্ভাগ্যের কথা হলেও সত্য যে,মার্ক্সকে নিয়ে এখানে এখন বিপ্লবের ব্যবসা হয়।যেই মার্ক্স বিপ্পবের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ঠিক সেই মার্ক্সকে নিয়েই সংসদে ধনীদের সাথে সংসর্গে ব্যস্ত একদল “মার্ক্সবাদী “।বিশ্বের দেশে দেশে যারা বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষণ করেছেন তারাই মার্ক্সবাদী হয়ে টিকে রয়েছেন।কিন্তু এই হরেক রকমের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও এখানে খুব তৎপর।তারা মার্ক্সের নাম করেই দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যবসাটি করছেন।যে মার্ক্স মুনাফার বিরুদ্ধে দাড়িয়েছেন সেই মার্ক্সকে নিয়েই মুনাফা করেন তারা।

আমাদের বাংলাদেশে মার্ক্সের অনুসারী নামে একদল বুর্জোয়াদের অবৈধ প্রেমিকরা রয়েছেন।যারা প্রতিনিয়ত মার্ক্সকে বলাৎকার করে চলেছেন।মার্ক্সের শিক্ষার নাম করে ভোটের রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরে ‘গণবিপ্লব’ করছেন।তারা বাংলাদেশের জনগনের কাছে মার্ক্সকে এতটায় ঠুনকো বানিয়ে ফেলেছেন যে,আরেকদল মার্ক্সকেই খারিজ করে দিচ্ছেন পাবলিক খায় না বলে।গতকালই কথা হচ্ছিলো একজনের সাথে, তিনি বলছিলেন মার্ক্সবাদ আর মানুষ খায় না! তো মানুষ কি খায় এখানে? এখানে মানুষ বাংলাদেশ খায়! এটাই নাকি তাদের নেতাদের বক্তব্য।মার্ক্সবাদ খাওয়ারই জিনিস বটে।এই সমস্ত বিষয়গুলো তখনই আসে যখন মার্ক্সকে খাওয়ানোর সাথে সাথে নিজের আখের গোছানোর প্রশ্ন থাকে।

মার্ক্স এর নাম করে আরেকদল আছেন যারা জীবনভর মার্ক্সকে নিয়ে গবেষণা করে চুল পাকিয়ে দিলেন কিন্তু মার্ক্সকে জীবন্ত করতে পারলেন না।তারা শুধু টিভি চ্যানেলগুলোকেই জীবন্ত করে তুললেন।আগেই বলেছি মার্ক্স দুনিয়ার প্রতিটা যৌক্তিক আন্দোলনে জন্ম নেয়।কিন্তু বাংলাদেশে মার্ক্সবাদী নামের কুলাঙ্গারগুলো টক শোতে মার্ক্সের জন্ম দেন।মার্ক্সকে টেনে হিঁচরে নিয়ে যান তারা গুলশান ও বনানীতে।কেউ কেউ তো আবার মার্ক্সের মতবাদ নিয়েই সন্দেহ পোষণ করেন।তা করা ভালো।কিন্তু মার্ক্স যেভাবে পৃথিবী পাল্টানোর কথা বলেছেন তা নিয়ে এদের কোন বক্তব্যটি নেই।শুনতে যাবেন তো আপনাকে মার্ক্সের একগাঁদা ভুল ধরিয়ে দেবে আপনার হাতে।যখন বলবেন তাহলে উত্তরণের উপায় কি? তখন উত্তর পাবেন, তা তো আমি বলে দিতে পারি না।প্রত্যেকটি মানুষ স্বাধীন কিনা!মশায় আবার ক্যাম্পাসে বসেই স্বাধীনতা ঝাড়েন বটে!
এখন প্রশ্ন করবেন আসল মার্ক্সবাদী কে তাই তো? মার্ক্সবাদী তারাই যারা মানুষের মাঝে মার্ক্সকে নিয়ে যাওয়ার এখনো সেই চেষ্টাটি করে যাচ্ছেন।যারা মার্ক্সকে শুয়োড়ের খোয়ার(সংসদ) এ তোলার চেষ্টা করেন না।যারা মার্ক্সকে গ্রামের কৃষকের মাঝে জমির লড়াই হিসেবে নিয়ে যেতে চান।যারা মার্ক্সকে শ্রমিকের এক ঘরে ১২ জন থাকার কারণ উদঘাটন করতে সচেষ্ট রয়েছেন।যারা পরিবর্তনের নামে পরিবর্তন রুখে দিতে চান তাদের সাথে মার্ক্সবাদীদের খুব স্পষ্টতই এই সমস্ত পার্থক্য তৈরী হয়ে যায়।এটা সত্য এই সংখ্যা নেহাতই নগন্য।আর মার্ক্সই আমাদের শিখিয়েছেন স্রোতের বিপরীতে দাঁড়াতে। তাই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই আবার মার্ক্সকে প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন এখানে মৌলিক প্রশ্ন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 7