শরীরটি নারীর কিন্তু মস্তিষ্কটি পুরুষের

ছেলেরা একটু অগোছালোই হয়, উদাসী মন ছেলেদের এতোটাই বিক্ষিপ্ত করে তোলে যে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থাকার প্রয়োজন বোধ করে না, রান্নাবান্না তো ছেলেদের জন্য নয়, পরিবার থেকে দূরে থাকলে ছেলেরা একটু কাজেকর্মে খামখেয়ালী করবেই- এই ধরণের কথাবার্তা, চিন্তাধারা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত। এই ধরণের চিন্তাধারা একদিনের নয়; শত, হাজার বছর ধরে লালিত ও পালিত পুরুষতন্ত্রের সোনালী ফসল।

পৃথিবীর এই উন্নত ও আধুনিক সময়ে এমন চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দিয়ে যাওয়া বড্ড বিপদজনক। মূলত এটি নারীদের বন্দী রাখার একটি কৌশল। পুরুষেরা চায়- নারীরা সারাদিন ঘরবাড়ি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, রান্নাবান্না করে সময় অপচয় করবে, স্বামী-পুত্রের অগোছালো স্বভাবকে তোয়াক্কা করবে না। নারীরা খুব গোছানো হয়, নারীরা খুব পরিষ্কার হয়, নারীর মধ্যে সংসার জ্ঞান ভালো থাকে- এই সব নাটক হাজার বছর ধরে চিত্রায়িত হয়ে চলছে। অধিকাংশ নারী এমন প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ এক সময় সেইসব নারীদের জীবনে নিজস্ব স্বপ্ন ছিল, আশা ছিল। কিন্তু পুরুষতন্ত্রের চক্রে পিষ্ট হয়ে নারীর শরীরই শুধু নারী বহন করে থাকে কিন্তু মস্তিষ্কটি থাকে পুরুষের।

নারীদের বন্দি রাখার জন্য পুরুষেরা কাল্পনিক রচনা লিপিবন্ধ করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে, সচেতনতার অভাব। সুস্থ চিন্তার অভাব। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার অভাব। পুরুষের যেমন প্রয়োজন নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার, তেমনই নারীর প্রয়োজন নিজের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন ও স্পষ্ট ধারণা রাখার।

মা সন্তানকে ভালোবাসবে এটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনই স্বাভাবিক সন্তান সচেতন হবে নিজের পরিবেশ ও চিন্তাধারা সুস্থ এবং স্বাস্থ্যকর করার। মা অর্থাৎ নারীর একমাত্র দায়িত্ব নয় যে ঘরবাড়ি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার। পুত্রেরও সেই পরিমাণ দায়িত্ব অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন স্বভাবকে পরিবর্তন করে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার। সচেতনতা খুবই জরুরী। পুরুষেরা অগোছালো ও খামখেয়ালী এবং অপরিচ্ছন্ন হবেই এমন ভাবনাটা পুরুষের জন্য গর্বের নয়, বরং লজ্জার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 82