তারে নিয়া বাণিজ্য করিস না বাপ।

ভাইপো; হন্তদন্ত হয়া ছুটি আসি কলোঃ- এ কাহা, টাকা লাগবি। ৫০০ ডা ট্যাকা দাও।

আমি কলাঃ- কেনে; ৫০০ টাকা দিয়া কি করবু?

ভাইপোঃ- পূর্ব পাড়ায়; মন্দির তুলতিছে; তাই সিখানে দেয়া লাগবে ১০০ টাকা, পশ্চিম পাড়ায়; মসজিদ হচ্ছে; ওখানে দেয়া লাগবে ১০০ টাকা, উত্তর পাড়ায়; প্যাগোডা হবে; ওতে দেয়া লাগবে ১০০ টাকা আর; দক্ষিণ পাড়ায় চার্চ হবি; সিখানেও দেয়া লাগবে ১০০ টাকা।

আমিঃ- তালি পরে ৪০০ টাকা হয়, তুই; ৫০০ টাকা খুজলি কেনে?

ভাইপোঃ- আরে কাহা; আমরা যারা চান্দা তুলতিছি; আমগের; খাওয়া দাওয়া করা লাগবি তো; তাই আরো ১০০ টাকা।

আমিঃ- অ বুইঝলাম, তা এসকল যেখানে উঠতিছে; এগুলার মালিক কিডা হবে?

ভাইপোঃ- মালিক কিডা হবে মানে? মালিক তো; উপরঅলা, খালি তার হয়ে; আমাগের কয়েকজন সেসব দেখভাল করবে। যারা জমি দিছে তারাও থাকবে, রক্ষণাবেক্ষণ করা লাগবি তো।

আমিঃ- তাই নাকি? তা; এগুলার সোল এজেন্ট কবে হলি?

ভাইপোঃ- এ কাহা, ভালো হচ্ছে না; কয়া দিলাম। নাস্তিকগো; লাহান উল্ডাপাল্ডা কথা কবানা।

আমিঃ- নাস্তিকগো মত কি কলামরে? এই দুনিয়াডা যে বানাইছেন; তারেই তোরা মিল্লা চাইর দেয়ালের ঘরে বন্দী কইরা থুইবার চাচ্ছিস। কেউ মূর্তি বানায়া; আবার; কেউ ভাস্কর্য বানায়া, সিখানে আবার ব্যবসা করবার চাচ্ছিস। মুখে কচ্ছিস; ওডা উপরওয়ালার ঘর, কিন্তু; সিখানে তোগের ইচ্ছার বাইরে; কেউ যাবার পারবে না। তোগের; রীতির বাইরে কিছু করা যাবে না। ফল দিবি, ফুল দিবি, দুধ দিবি, আতর ঢালবি; আর; সামনে একখান দানবাক্স বসায়া খয়রাত নিবি; কিন্তু তগের ঐসবের সামনে ভুখা-নাঙ্গা লাইন ধইরা পইড়া থাকলে তাগের কিছু দিবি না। পারলে পরে, ঐ ভুখাগো থাকি ট্যাক্সও নিবি। উপরওয়ালারে পণ্য বানায়া; ব্যবসা করবি; আর; আমি তা কতি গেলেই নাস্তিক হয়া যাব? উপরওয়ালা; তার বইতেই তো কইছেন; উনি সবখানেই আছেন, তাইলে পরে; এ আলাদা কইরে এসব করার কি দরকার? উনিই তো সবাইরে সৃষ্টি করিছেন; তাইলে আবার; তগের এতো জাত-পাত ভেদ কেন? উনার জন্যি ঘর বানাবি; কিন্তু; উনার নামে কি রেজিস্ট্রি দিস?

তগের মাঝে; আর; ঐ জামাতীগো মাঝে পার্থক্য কনে? জামাতীরা; মাজার পূজায় বিশ্বাস করে না; কিন্তু মাদ্রাসা পুজা করে। মসজিদ-মাদ্রাসা; বানাবার নাম কইরে; চান্দা আনে আর; সেই টাকা দিয়া জঙ্গী বানায়। অদিকে হেফাচুতীয়াগের দেখ; সমাবেশ করার সময়; জাতীয় পতাকা দিয়ে চান্দাবাজি করছে; কিন্তু; ফতোয়া দিছে ইসলামের। এসব কতি গেলে পরেই; আমি নাস্তিক; আর যদি; তগের সাথে “জ্বী হুজুর” করি; তালি পরে আস্তিক তাইনে!!

তয়; এসব কইরে একখান সুবিধে হয়, সিটা হলো; উপরওয়ালার সাথে সহজেই আমরা; এক্সচেঞ্জ অফারে আইসবার পারি। উপরওয়ালারে কতি পারি; তিনি যদি আমাগের এটা দেন; তালি পরে আমরা ওটা করবু। না দিলে পরে করবু না। আর; সেখানে তগের মতো যারা থাকে; তারা একখান সিরাম জোব্বা; পিনতে পারলেই হয়া গেল; তারে আর ঠেকায় কে?

শোনেক; বিশ্বাস করা ভালো; কিন্তু; এই বিশ্বাসরে দিয়া বাণিজ্য করা ঠিক না। আইজ চায়া দেখ; যেই লালন সাঁই; সারাজীবন এসবের বিরুদ্ধে ছিলো; আজ তারে দিয়া বাণিজ্য করা হচ্ছে। মাজার বানায়ে; ব্যবসা হচ্ছে। এসব ছাড়, উপরওয়ালার দেয়া দুই হাত-পা আর মাথার ঘিলুরে কামে লাগা। সেইখান দিয়া কামাই কর; আর; যহন সময় হইবে তারে স্মরণ কর। তারে নিয়া বাণিজ্য করিস না বাপ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “তারে নিয়া বাণিজ্য করিস না বাপ।

  1. আমার কথা এইটাই, ধর্ম পালন কোন
    আমার কথা এইটাই, ধর্ম পালন কোন প্রবলেম না, প্রবলেমটা হয় তখনি যখন ধর্মটা নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =